এইতো বেশ কিছুদিন আগে আমার এক কাজিন আমাকে একটি মেসেজ পাঠাল। মেসেজের মুল কথা, “আপু আপনি সংসার আর কারিয়ার ক্যামনে করেছেন, যখন আমার আম্মুকে দেখি ঘরের কাজে সারাদিন কেটে যায়।” ওর মেসেজ পেয়ে নতুন করে ভাবতে বসলাম আমাকে, আমার অতীত আর বর্তমানকে । আমি কোন সফল মানুষ না। “I have miles to go before I sleep” and “I did not pick up all apples from my tree,” অবস্থা আমার, আমার প্রিয় কবিদের একজন রবার্ট ফ্রস্টের মতো। আমি চাই আমাদের পরিবারের মেয়েরা জ্ঞানে কাজে ঐতিহাসিক মুসলিম নারীদের পথে এগিয়ে যাক। এই চাওয়া একটি অন্তর্গত বিষয়। এই বিষয়টি ভাবতে বসলে নিজের গল্প আসে। আসে এজন্য যে, এটা কোন ইউনিক গল্প নয়। একটি সাধারণ গল্প যেটি অনেকের গল্প, কিন্তু বলছি আমি। আর এই বলা এজন্য যে, পরিবারের এই ছোট ছোট বোনরা যাতে একটি ডিরেক্সান পায়। একটু আশান্বিত হয়–ইয়েস, আই কান ডু দাট। তবে এই প্রশ্নের এক কথায় ঊত্তর দেয়া কঠিন, তাই অনেক কথা আনতে হলো। একটি হোলিসটিক পিকচার এর জন্য।
মাঝে মাঝে আমি ভাবি, আমি কি? তখন কেন যেন মনে হয়, আমি মোটামুটি মানের একজন সমন্বয়সাধনকারী (reconcliator) এবং আলাপ আলোচনাকারী (negotiator). আমি জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে কথা বলা, আলোচনা করা, মীমাংসা করতে চাই, আমাদের সামনে সবচেয়ে ভালো লক্ষ্যকে এবং ফলাফলকে সামনে রেখে। আমি কোন কিছু চাপিয়ে দেয়াকে পছন্দ করিনা এবং এর চেয়ে ভালোবাসি যে কোন ক্রিটিকাল মুহূর্তে সমস্যার বেষ্ট সমাধান কি তা বের করে নিতে।
বাংলাদেশের সামাজিক, পারিবারিক, এবং সাংস্কৃতিক প্রেক্ষাপটে মেয়েদের জন্য এটা অসম্ভব এবং একটু আইডিয়ালিষ্কিটিক কিন্তু দুর্লভ নয়। এমন অনেকেই আছে যারা অনেক কম কালচারাল এবং পারিবারিক ক্যাপিটাল নিয়ে অনেক কিছু করেছে। আমার জীবনে আমার লক্ষ্যগুলো ছিলো স্থির বা বলতে পারি ক্রমান্বয়ে সাজানো। এটা নয় যে, আমি যখন টীনএজার ছিলাম, লিখে রেখেছিলাম কি হবো কি করবো ইত্যাদি । কিছু সপ্ন, কিছু ইচ্ছা, কিছু ভিন্ন কিছু করা যা আমার পরিবাররের মেয়েরা করেনি মনের ভেতর আসতো। আমি ভাবতাম, কি করে তাদের পূর্ণতা দেয়া যায়। কখনো কখোনো চারপাশের অবস্থা দেখে এমন কঠিন লাগতো, আমি মন খারাপ করতাম, হতাশ হতাম। তবুও ভাবতাম, আমি পারবো। আবার কখনো ভাবতাম, আচ্ছা, নাই ই পারলাম, জীবন না হয় হলোই অন্যরকম, যেমন আমি চাইনা। হয়ত সেটাই ভালো। আমি তো জানিনা!
কিন্তু হাল ছাড়তাম না। একটি মজার, দুঃখের এবং হতাশার বিষয় হলো, বিয়ের ব্যাপারটা। আমি বিয়েকে আমার জীবনের একটি turning point মনে করতাম। মনে করা ছাড়া উপায় ছিলোনা। ছিলো কি? এটি বাঙালি মেয়েদের একটি সাধারণ ব্যাপার। বড় মেয়ে, বিয়ে করাটা পারিবারিক আর সামাজিক একটা রীতি এবং দায়িত্ব ! না চাইলেও বিয়ে করতে হতো। তাই বিয়ে করবো না–একথা বলার আমার সুযোগ ছিলো না, আমার কিছু বন্ধুদের মত, যারা বিয়ে করতে চায়নি এবং করেনি। বিয়ের করতে চেয়েছে, হয়নি, এরা এই দলে না।
যাই হোক, বিয়ের জন্য আমার মনে একটা ধারনা এবং একটা ঝাপসা ম্যাপ ছিলো। ব্যাপারটা এরকম, ইস যদি এমন হতো! জীবন সঙ্গির অনেক এসেঞ্চিয়াল ফিচার এর মাঝে একটি অতি গুরুত্বপূর্ণ ছিলো আমার কাছে, টাকা নয়, পয়সা নয়, বাড়ি নয়, জমি নয়। সেটা হলো আমাকে পড়াশোনা করার সুযোগ দেবে এমন একজন। এটা শুধু এটা না যে, যাও পরো টাইপ। এটা হলো সবরকমের সহযোগিতা। জীবনযাপনের অনেক অনেক কাজের মাঝে আমার প্রয়োজনকে প্রাধান্য দেয়া। আমার “আমি” তাকে স্পেস দেয়া । বিয়ের সময়, একটা কথা খুব শুনতাম, “ভালো বর ভালো ঘর” । যারা এই ক্রাইটেরিয়াকে সামনে এনে আমার কাছে বিয়ের কথা বলতো, আমি দেখতে পেতাম এই কথাটার মানে কি গলদপূর্ন। এক ছেলের যদি চরিত্রে সমস্যা থাকে এবং এটা যদি একশত ভাগ সত্য হয়, তবু দেখলাম তাকে ভালো বরের কাতারে সামিল করা হচ্ছে। তাদের আমি প্রশ্ন করতাম, এ কেমনে ভালো বর হয়, অনেকে থতমত খেতো এবং অনেকে আমাকে নিয়ে খুব বিরক্ত হতো। কেউ কেউ এটাও বলতো, আমি অহংকারী।
যাইহোক, ভালো বরের কাতারে আমি তাদের ফেলতাম যাদের ভালো চরিত্র আছে, ভালো মন আছে এবং যারা ভালো মুসলিম হবার নিয়ত রাখে, তার জন্য সাধনা করে। জানিনা, কে কতটুকু ভালো। শুধু জানি, এই পর্যন্ত এরকমই পেয়েছি তাকে। আল্লাহু আলম। ফিরে যাই সেই কথায়, এমন একজন চেয়েছি যে আমাকে পড়তে দেবে এবং চাকরি করতে দেবে। এবং এটা পেলে, সেজন্য যে কোনো ধরনের প্লানিং এবং মানাজমেন্ট এর জন্য প্রস্তুত ছিলাম।
আমি খুব পরিশ্রমী ছিলাম। বলতে দ্বিধা নেই আজ। একটা কাজের পর একটি কাজ আর তার উপর আমার নিজের কাজ সব মিলিয়ে কাজ: আমার দিন গুলো এভাবে ছক বাঁধা ছিলো। কোন কাজ দেখে আমি ভয় পাইনি। কাজ করেছি। নিজের সমস্যা হলে বিরক্ত হয়েছি। মন খারাপ করেছি। কিন্তু চেয়েছি, অন্যের যদি আমাকে দিয়ে উপকার হয় আর আমার যদি শারীরিক, মানসিক আর আর্থিক সামরথে কুলোয়, আমি আছি। কথা, কাজ, পরামর্শ যেম্নে পারি, সাহায্য করে যাবো। শাড়ী চুড়ি গহনা মার্কেট কেনা কাটা অযথা ঘুরাঘুরি আমি খুব কমি করেছি। এসব আমার জায়গা না। আমার জন্য না। আমার কাজের ক্ষতি হয়, আমি লক্ষ্যচুত হই, এরকম কিছু আসলেই তাকে ডিলেট করে দিতে চেয়েছি।
আমি বলবো না, আমি সবক্ষেত্রে তা পেরেছি। কখনো কখনো অনুরোধে ঢেকির জায়গায় আমি জাহাজও গিলে ফেলি। সাধ্যে যা কুলায় তার চেয়ে বেশী করতে হয়েছে। পরিবার, মা, বোন, ননদ, দেবর, এবং স্বামী সবার সাহায্য চেয়েছি। সবাই সাহায্য করেছে সেটা সংসারের কাজ হোক বা বড় পরিবারের বা আমার পড়াশোনা কিংবা অফিস সংক্রান্ত। কখনো বলেনি, তোমারে কে কইছে পড়তে, কে কইছে চাকরি করতে, কে কইছে বাচ্ছা নিতে ইত্যাদি । আমার চারপাশে বেশীর ভাগ বউরা এগুলো শুনে। তাদের কাজের কোন recognition নেই। তাদের কাজের কোন দাম নেই। কিনতু আলহামদুলিল্লাহ, আমার সব কাজের দাম সবার কাছে ছিলো, দাম পেয়েছি।
এর একটি কি এই যে, আমার সংসার, পরিবার, আর আশপাশের মানুষের জন্য কিছু কাজ করার দুর্দান্ত আগ্রহ আর ইচ্ছা। “আমার একলা ঘরের আগল ভেঙ্গে বিশাল ভবে, প্রানের রথে বাহির হতে পারব কবে?” কি সুন্দর লাইনগুলো বাজত শুধু মনের কোণে । এই আমি কেন যেন খুব ঘর পাগল, ট্রাডিশানাল বাঙ্গালী নারীদের মত, একটি সুন্দর ঘরের জন্য সবসময় আকুল। যা ছিল, ছোট বড়, এটা মুছতাম, এটা গুছাতাম, এটা সরিয়ে এখানে, ওটা সরিয়ে ওখানে । To make change, to increase beauty, to polish. আমি অনেক নারী দেখি, যাদের ঘর খুব ময়লা, অগোছালো, আর তাদের নানা ধরনের কারন বলে এর পক্ষে। আমি জানিনা। শুধু জানি, আমি তাদের মতো না। আমি পারি না। আমি এরকম। আমাকে এরকম দেখে কেউ যে বিরক্ত হয়নি তা না, এব্যাপারে আমার ব্যাপার ছিলো, আমি করবো, পারলে সাহায্য করুক কেঊ। না পারলে থাক। পরে পরে দেখি, আমাদের ঘর সুন্দর লাগার জন্য আমরা সবাই এক পায়ে খাঁড়া । এজন্য কভিড-১৯ এর সময় অনেকের মতো ঘরে আটকা পড়ে আমি বিরক্ত হইনি। আমার ভালো লেগেছে হঠাত থেমে যাওয়া !
আমি দীর্ঘ দশ বছর বিশাল ফ্যামিলির জন্য রান্না করেছি। মিড-বিশে বিয়ে হয়, কিন্তু রাঁধতে জানতাম না। একটু কিছু নাস্তা বানানো ছাড়া। আমার রান্নার টিচার হলো, আমার মা, আমার ননদ, আর আমার ফুফু শাশুড়িরা। একটু একটু করে শিখেছি। বিরক্ত হইনি। আমি রাঁধতাম ফজরের পর। দিনে একবার, বেশী করে। যাতে আর রান্না ঘরে যেতে না হয়। আমার helping hand দের আমি আমার বাসা থেকে বের হবার পর আর রান্না ঘরে যেতে দিতে চাইতাম না, যখন ওরা ছোট ছিল এবং পরে আমার বাচ্চারা ছোট ছিল। আমার কাজ দেখে আমার ঘরের মেয়েরা কখনো বসে থাকেনি। তারা আমার সাথে সারা বছর কাজ করেছে যে যতটুকু পেরেছে, কখনো কেউ কারো দোষ ধরিনি, কারো উপর কিছু ছাপিয়ে দিইনি। এমন কিছু করিনি যেন আমার/ওদের পড়াশোনার ক্ষতি হয়। আজ কেউ কেউ ( যে আমার জীবন দেখেনি / আমার সাথে বাস করেনি) যখন বলে, আমাকে নাকি এমনি এমনি আমার শ্বশুরবাড়ির মানুষ (?) সহযোগিতা করে উপরে তুলে দিয়েছে, তখন বুঝিনা হাসবো না কাঁদবো । নিজের অপারগতা আর ব্যর্থতা ঢাকতে অন্যের ব্যাপারে অনায্য কথা বলা কি ঠিক?
রান্না আমাদের জীবনের অংশ। কিন্তু এটা জীবন না। রান্নাঘরে সময় কাটাতে চাইলে সারাদিন দেয়া যায়। কিন্তু রান্নাকে জীবনের মূলমন্ত্র মূলভিত্তি মূলবিন্দু হতে সরাতে হবে। আমি মহিয়শী নারীদের কাছ থেকে এটা শিখেছি। আমি তাই করেছি। রান্না করি নিয়মিত এবং পরিমিত। রান্না করি সুযোগ পেলে অনেক বেশী। এটা সেটা বানাই। মনের মাধুরী মিশিয়ে। কিন্তু, রান্নাঘর আর ঘরের কাজে সারাদিন দেই না। কয়েক ঘন্টা উইকডেতে আর তার চেয়ে বেশী উইক এন্ডে। রান্নাঘর শুধু আমার জীবন নয়। আমার প্রফেসান আমার কাছে যা আমার ঘরের মতো সমান দরকারী। তাকে গড়তে আমার প্রচুর সময় দিতে হয়েছে এবং এখনও হয়। আমি তাকে ছাড়া incomplete, selfless, and non-agentive. তাই আমি প্রানপনে তাদের মঝে negotiate করি। একটার জন্য অন্যটাকে ফেলে দিইনা, অবহেলা করিনা। আমি রান্না না করলে খাবো কি? না খেলে কাজ করবো কি করে? একটি মনের মতো ঘর না থাকলে থাকবো কোথায়? কোথায় ফিরবো কাজ শেষে ? ঘর তো আমার কাছে একটা স্টাকচার না, এটা নিলয়, এটা মায়া-মমতার কোল, একটি নীড়। আমার চাকরী তো শুধু চাকরি না, এটা আমার আবেগ, আমার পরিচয়, আমার অস্তিত্ব । তাহলে? কেন আমি এদের মাঝে বিরোধ রাখবো?
তাই আমি বলি, থিঙ্ক বিফোর ইয়উ লিপ। ঝট করে ভেবোনা আমি কারিয়ারে যাবো, ঝট করে ভেবো না, আমি শুধু গৃহিণী হবো। সব কিছুর কিছু গুড অ্যান্ড ব্যড সাইড আছে। আছে দুর্দান্ত সংগ্রাম । আর আছে আর্থিক প্রশ্ন, আছে অনিশ্চয়তা, আছে উদ্বেগ আর দুশ্চিন্তা।
আমি দেখেছি, আমার যে বান্ধবীটা শুধু গৃহিণী হতে চেয়েছিল, সে বিয়ে করতে পারেনি বা বিয়ে করেছে, মা-ই হতে পারেনি। যে কখনো চাকরি করতে চায়নি, সে চাকরি করছে। যে যে চাকরি করতে চেয়েছে, তা পারেনি। হতে চেয়েছে ডাক্তার, হয়েছে কেমিস্ট। হতে চেয়েছে ছেলের মা, হয়েছে, মেয়ের মা। চেয়েছে বাড়ী-গাড়ী, পেয়েছে খুব সাধারন জীবন। চেয়েছে দেশী জামাই, পেয়েছে প্রবাসী চাকুরীজীবী।
So, Life is not rosy and romantic. Life is a test and highly unpredictable. We need to equip ourselves to face the unknown and unexpected and be bold and strong to pass the test. And to pass the test, we need to decide how and for what. We need to make every effort throughout our life to make wrongs right with love and care, not showing negligence, anger and selfishness. If the wrongs does not set right, we need to have to courage to delete and leave that. We need to decide what we want as a woman: a home or career? or both? If both, we need to think how to balance them in innovative and individual ways. We need to think the strategies and paths, depending on the situation and gain the capacity to negotiate and reconcile in various problems to achieve the best, the highest good. When a person works like this and with integrity, Allah never ruins her efforts and works.
আমার জীবনের প্রতিটি কাজ যততুকু করেছি আলহামদুলিল্লাহ বরকতময়। আল্লাহ সবকাজে আভাবনীয় বরকত দিয়েছেন। মানুষের পাশে দাঁড়ালে মানুষকে ভালবাসলে আল্লাহ বরকত দেন, এটা আমি সবসময় বিশ্বাস করি। তবে একটি জিনিস আমি অনুতাপ করি, তা হল, আমার জীবনে “self-care” বলে কোন শব্দ ছিলোনা। কেউ বলেনি, Take care of your health, when you are simultaneously pursuing a goal and caring a (big) family. যে জন্য আমি অনেক বেশী সিক হয়েছি। কিন্তু তাই বলে, আমি থামিনি। আবার কাজ করেছি, ভুল্গুলো শুধরে নিয়েছি এই সেলফকেয়ার বিষয়টি অবশেষে আমি শিখেছি প্রবাস জীবনে এসে। যখন “Motherhood” এর উপর একটি কোর্স করেছিলাম। শিখেছি, “You cannot serve from an empty vessel” (Eleanor Brown). সংসারের যত্ন নিতে হলে প্রথম মায়ের যত্ন নিতে হবে। কজন জানে এ কথা, কজন মানে?
তাই আমার প্রস্তাবনা হচ্ছেঃ জীবনের সঠিক দিক ঠিক করা। সঠিক সিদ্ধান্ত নেয়া। সবসময় নিজের কাজে ফোকাস থাকা। সমস্যার সময় কথা বলা, ,আলাপ আলোচনা করা এবং বেষ্ট পথ বেচে নেয়া। সবসময় প্লানিং এবং ম্যানেজমেন্টের মাঝে থাকা। কাজ এবং ঘরের মাঝে ব্যালেন্স করার চেষ্টা করা । এর জন্য সম্ভাব্য সকলের সহযোগিতা চাওয়া এবং নেয়া। এবং কখনো যদি মনে হয়, আর পারছিনা, থেমে যাওয়া যেখানেই আছি। আর সবার উপরে, নিজের মন এবং শরীরের যত্ন পর্যাপ্ত নেয়া। কারন, আর এসব কাজকে যে জিনিসটি ঘিরে রাখবে তা হলও সবসময় দুয়া করা। দুয়া ইবাদাত।
“আমার গল্প ফুরালো, নটে গাছটি মুড়ালো”।
উম্মে সালমা, টুওং, ১৪/০৫/২০২৩

