আমার চেনা জানা অনেক বন্ধু, পরিজন, শুভাকাঙ্ক্ষী অনেকেই স্বপ্রনোদিতভাবে ধরে নেন যে আমার ব্রডার রিচার্স ফিল্ড ফেমিনিষ্ট স্টাটিজ। তারা আরো মনে করেন, এই ফিল্ড বলেই আমি তৃতীয় বিশ্বের হিজাব পরিহিতা মুসলিম মেয়ে হয়েও স্কলারশীপ পেয়েছি এবং সফলভাবে ডক্টরেট ডিগ্রি হাসিল করেছি। এই সূত্র ধরে অনেকে আবার আমার নারী বিষয়ক মূল্যবান (?) বক্তব্য জানতে চান। অনেকে আবার বলেই বসেন, ফেমিনিষ্ট স্টাটিজ একটি unfeasible ফিল্ড, বিশেষ করে বিশ্বাসী মুসলিম মেয়েদের জন্য। বাংলাদেশের ফেমিনিজমের সামাজিক এবং সাংস্কৃতিক দুরাবস্থা তাদের একথা বলার পেছনে একটি প্রচ্ছন্ন কারণ হিসেবে থাকে।
তাই অনেক দিন ধরে ভাবছিলাম আমার রিসার্চ আগ্রহ নিয়ে কিছু লিখবো। আমার অবস্থান এবং অবস্থা খোলাসা করবো, আমার শুভাকাঙ্ক্ষীদের জন্য। আমার রিসার্চ ফিল্ড হলো migration, culture and identity in literature ( South Asia, Bangladesh). আমি international and intra-national migration pattern এ বাংলাদেশের মানুষদের ভাষাগত, ভাবনাগত এবং সাংস্কৃতিক কি পরিবর্তন আসে বা আদৌ কোনো পরিবর্তন আসে কিনা কিংবা তাদের struggle গুলো কোথায় তা আমি দেখতে চাই সাহিত্যের মাঝে। সাহিত্য আমার কাছে একটি রিপ্রেজেন্টেশন। লেখকের ইনটেনশন এবং একটি গল্প কিভাবে মুসলিম migrant life প্রেজেন্ট করে তা আমি বুঝতে চেষ্টা করি। মুসলিম বলতে আমি একটি comprehensive but diverse range এর মানুষ বুঝি, যারা কিছু দিকে একি এবং নানা দিক থেকে ভিন্ন।
এই রিসার্চ আগ্রহে জেন্ডার বিষয়ক আলোচনা আসে। অবধারিতভাবে। কিন্তু আমি শুধু নারীদের নিয়ে নারী চরিত্র নিয়ে কাজ করিনা। আমি নারী এবং পুরুষ উভয়কেই নিয়ে কাজ করি, আর জানতে চাই তাদের জীবনের সমস্যা এবং সম্ভাবনা যখন তারা একদেশের সংস্কৃতি থেকে এসে অন্যদেশের অন্য সংস্কৃতিতে নিজেদের জায়গা করে নিতে চায়। যাকে আমি বলি, cultural placemaking. আমার এই রিসার্চ আগ্রহের একটা interesting দিক হচ্ছে, my constant search for a fair ground and point. আমার পরিচিত কেউ কেউ ফেমিনিজম নিয়ে কাজ করেন। এটা আশাপ্রদ। কিন্তু নারী অধিকার নিয়ে বলতে বলতে তাদের সবকিছুতে “নারীর চোখ দিয়ে দেখার” যে প্রবনতা তা তাদের একটি biased and parochial জায়গায় নিয়ে যায়। এটা একটা blind point. I want to save myself from that. আশ্চর্যজনক হলেও সত্যি, এমন কিছু মেন্টর পেয়েছি এখানে যারা নিজেরা ও এরকম একটা প্রপার প্লেস চান এবং তা নিয়ে কাজ করেন এবং রিসার্চ সাপোর্ট দিয়ে গেছেন।
Religion/faith/spirituality আমার রিসার্চ এর একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। যদিও পিএইচডির সল্প সময়ে এই বিষয় কিভাবে approach করবো সেটা নিয়ে আমার অনেক কনফিউশন ছিল। এর কারণ হচ্ছে, ধর্ম আর আধ্যাত্তিকতা নিয়ে আমার chaotic and restless national background. আমাদের জেনারেশন মনে হয় সবচেয়ে দুর্ভাগা যে তারা একটি বিবদমান কিন্তু চাকচিক্যময় রাজনৈতিক পরিবেশে বেড়ে উঠেছে। সেই কনফিউশন দূর হয়েছে আমার ইউ কিউর রিলিজিয়াস স্টাডিজ বিভাগে একবছর পড়ানোর মাধ্যমে। আমি আমার ফিল্ডে কাজ করার পাশাপাশি তিনটি রিলিজিয়াস কোর্স পড়িয়েছি, যা আমার culture and identity এবং former religion and spirituality জ্ঞানকে enrich and in-depth করেছে। যারা আমাকে এই সুযোগ দিয়েছেন তাদের কাছে আমি এজন্য শুকরিয়া।
আমার রিসার্চ এর আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো human agency (কর্তাসত্তা)। দেশে থাকতে এই কনসেপ্টটা আমি কখনো শুনিনি। কোন আলোচনায় আসেনি। আমার সুপারভাইজার জুলিয়ানা আমাকে এটার সাথে পরিচয় করিয়ে দেন এবং এটা নিয়ে পড়তে বসিয়ে দেন। পড়তে পড়তে অতি অদৃষ্টবাদী সমাজ হতে আগত আমি বুঝতে পারি, how understanding human agency is essential for humans and their society.
আমি খুব ক্ষুদ্র নগন্য মানুষ। আমার রিসার্চ দিয়ে মানুষ বা সমাজ পরিবর্তন করবো ভাবিনা কখনো। Who cares? একটি অবধারিত প্রশ্ন। তবে কিছু কথা কিছু ভাবনা কিছু লেখালেখি হয়তো সাহায্য বা আলোকিত করতে পারে কিছু মানুষকে যারা এইফিল্ড বা আমাকে কেয়ার করে। তবে একজন literary humanities এর মানুষ হিসেবে আমার রিসার্চ আসলে শুরু হয়েছে, know thyself ভাবনা থেকে। অনেকে অনেক কারণে রিসার্চ ডিগ্রি নেয়। আমি নিয়েছি আমাকে জানবো বলে, সেই আমি যে বাংলাদেশী, মুসলিম, নারী, কন্যা, স্ত্রী এবং মা। সেই আমি যে দুই দেশভাগেরো এক দশক পরে একটি স্বাধীন কিন্তু অস্হির অসহিষ্ণু সমাজে জন্ম নিয়ে এবং বেড়ে উঠে নিজেকে বারবার হারিয়ে ফেলেছি।
আমার রিসার্চ এর সার্থকতা আমি নিজেকে অনেকটুকু খুঁজে পেয়েছি। Now there is no bad faith (as Jean Paul Satre defined). THIS is the joy of doing a research, being a self-searching human in the world. যে নিজেকে পায় সে অবশ্যই তার স্রষ্টা এবং তার মানুষদেরও পায়। যে নিজেকে পায়না, সে সব হারায়। এটাই সত্যি।
৬ সেপ্টেম্বর ২০২২. টুঅং।
