Reflections

শুরুটাই অসুন্দর


আমাদের বাংলাদেশী সংস্কৃতি তে পারিবারিক সম্পর্কের শুরু হয় বিয়ের মাধ্যমে। অভিভাবকদের পছন্দেই হোক বা ছেলেমেয়েদের প্রেমে হোক, বিয়ের মাধ্যমে একটি মেয়ের, একটি ছেলের এবং দুটি ফ্যামিলির কালচারাল শিফট ঘটে। এটা যুগ যুগ ধরে চলে আসছে।


অথচ এই চলে আসা জীবনধারা আমাদের সমাজে একটি অভাবনীয় নেতিবাচক আলোচনার বিষয়। আমি মাঝে মাঝে হিসেব করি, আমার চেনা শোনার মাঝে এমন কি কেউ আছে যে পরিবারের সম্পর্ক আর সদস্যদের নিয়ে তৃপ্ত? সত্যি কথা বলতে কি কাউকেই মনে করতে পারিনা। কারন সাধারণ মানুষ হতে শুরু করে এমনকি যারা খুব ধর্ম চর্চা করে তারা সবাই একি ধাঁচের। সরাসরি বা আকারে ইঙ্গিতে যেভাবেই হোক নিজের কমফোর্ট জোনে তারা গল্পের ঝুলি নিয়ে বসে, কার শ্বাশুড়ি কেমন, কার জামাই কতটা মা ন্যাওটা, এটা হয় বৌদের গল্প আর এর বিপরীত হয় শ্বাশুড়িদের গল্প। এই গল্পে জামাই শ্বশুরদের ও ভাগ থাকে। তারা এ পক্ষ ও পক্ষ নিয়ে পরিবারটা কে একটা concentration camp বানাতে সহযোগিতা করতে থাকে।


এই চিত্রের পেছনে অনেক অনেক অনেক কারন আছে। এর মাঝে আজ একটা নিয়ে বলতে চাই, মেটা হলো সম্পর্কের শুরুতেই সম্পর্ক শেষ করে দেয়া। কোন বিয়েই ১০০% পারফেক্ট নয়। বিয়ের আগে এবং প্রথম প্রথম অভিভাবকদের, বিশেষ করে ছেলের অভিভাবকরা, বিয়েতে ঘটে যাওয়া তাদের অপছন্দের কাজগুলো (যা মেয়ে পক্ষই করে) কখনো ভুলেন না। সেই শোধ তারা তুলেন মেয়ের উপর। ঠেস দিয়ে কথা বলা, বিশ্রী উপনাম দেয়া, নানারকম মুখভঙ্গি, কানাকানি, ফিসফিসানী এবং জিনিস পত্রের সমালোচনা, খাদ্য আইটেমের বাচ বিচার এগুলো চলতে থাকে প্রথম অনেকদিন এবং এটা খুব সহজেই নতুন মেয়েটার মন বিষিয়ে দেয়। সে একটা চির বিরক্তিকর অনূভুতি মনের মধ্যে পুষে নেয়, যার প্রভাব থাকে মরন পর্যন্ত।


একটি বীজ বপনের সময় তাকে নষ্ট করলে তা থেকে আর কোন গাছ হয়না, তেমনি সম্পর্কের বীজ বপনে যে যত্ন আর ভালোবাসা দরকার তার অভাবে এক একটা পরিবার আজ concentration camp. আমার খুব অবাক লাগে অভিভাবকদের একগুঁয়েমি এবং আধিপত্যমূলক আচরণ দেখলে। তারা নতুন মেয়েটিকে/নতুন বৌকে নূন্যতম সম্মানটুকু দিতে চায়না। এরা ভাবে, “সে কোন লাট সাহেব তারে আমি পুছবো?” ” তার দায়িত্ব মানিয়ে নেয়া, আমি যেমন করেছি আমার শ্বশুর বাড়িতে।” ” এসব সহ্য করতে হবে”। ইত্যাদি ইত্যাদি ইত্যাদি। এর জন্যি বোধহয় দেশের বাইরে বাংলাদেশের মেয়েরা আসলে আর যেতে চায়না। অনেকের সাথে কথা বলেছি, দেখেছি তারা পলায়নপর। বলে, বহূত ভালো আছি। আর কোন ক্যাচাল চাইনা।


আমি বলছি না, নতুন বৌরা সাধু সন্ত। আমরা কেউ কি তা? আমার প্রশ্ন হচ্ছে শত কথা আর অপছন্দের মাঝে যখন সম্পর্ক হয়ে যায়, তখন সব কিছু পিছে ফেলে, আমরা সে সম্পর্ক কে কেন স্বাভাবিক, বা তার চাইতে সুন্দর বা তারও বেশী কিছু করতে পারিনা? কেন আমাদের নোংরা আবর্জনা ঘাটতে হবে আর তার গন্ধ দেশ কাল ধরে ছড়াতে হবে? কেন আমরা এত সংকীর্ণ মনের? একটা নতুন মেয়েটিকে আত্ম-উত্তীর্ন ভালোবাসলে তাকে জায়গা দিলে তাকে সম্মান দেখালে
আমাদের কি ক্ষতি হয়?


এ মুহূর্তে কুরআন এর একটি আয়াত মনে পড়ছে, “যে মনের সংকীর্ণতা থেকে মুক্ত হলো, সে সফলতা লাভ করল।” তাহলে আমরা যারা এসব কাজ করি আর তা জারী রাখি, তা কি আমাদের মানসিক সংকীর্ণতা নয়? আমরা কি তাহলে অসফল নৈ, যত ধন আমাদের থাকুক?

ড. উম্মে সালমা
২০ আগষ্ট ২০২২.

Leave a comment