Salma's Poems

একদিন বছর শেষে

একদিন ঠিক ঠিক আয়নার সামনে গিয়ে দাঁড়াবো
না না লিপিষ্টিক দিতে নয়
স্বচ্ছতার উপর জমে থাকা ধূলো মুছে
মুখোমুখি দাঁড়াতে একান্ত নিজের সামনে
চাইলে হাপুস নয়নে কাঁদতে
কিংবা হাসতে পরিহাসের লম্বা হাসি
হা হা হা।‌

যদি সাহস হয়।

এখন আমি যেন একটি ঐতিহাসিক স্হান
সব কথা সব ভাবনা ঠিক এখানেই পৌঁছে:
"আগে এমন ছিলাম।‌"
"আমার এই ছিলো ঐ ছিলো সেই ছিলো"।
প্রতিটি পদক্ষেপ যেন মনে করিয়ে দেয়
আমি নামের যে প্রানটাকে পিতা-মাতা একটা পরিচয়ে চেহারায় চৈতন্যে বাড়িয়ে তুলেছিলেন
তা এখন ক্ষয়িত ইতিহাস
শরীরে সৌন্দর্যে
মননে মৌনতায়।

এই এই যে আমার দেহ...
এখন অনেকটাই নড়বড়ে
সৌন্দর্য এখানে ওখানে হয় স্হূলকায় হয়ে জমে আছে না হয় ভাঁজ হয়ে আছে কুঁচকে যাওয়া কামিজের মতো
চোখের দ্যুতি বাস্পায়িত চশমার মতো ঝাপসা
চুলের অরন্যে এক ভীষণ ভীতিকর ক্ষরা
কাজের ক্লান্তি শ্রান্তি ও কি কম?
সেই সাথে অসুখ অসুবিধা ঔষধ...

এই মন? মনটাও যেন শরীরের এক প্রিয় বন্ধু।
ভুলে যাওয়া খেয়াল না করা মনোযোগের অভাব
যেন নিত্যদিনকার সাথী।

ধারালো সেই মেয়ে
ভোতা হয়ে থমকে দাঁড়ায় কি আলামত পেয়ে?

এইতো কয়েক বছর আগেও কি ভীষণ জ্যন্ত ছিলাম। ভালোবাসা ভালোলাগা আশা আর
হবে সব হবে পারবো আমি সব পারবো
এইসব পাহাড়ভাঙা ঝর্না কলকল ছলছল করতো।

একটুও কি ভেবেছিলাম
যে আগ্নেয়গিরি জ্বলে চলেছে অবিরত
হয়ে পড়বে মনোলিথিক পাথুরে স্টেনথ্রপ?
যে নদী ছুটছে পাহাড় ভেঙে বালিয়াডী চিরে
হয়ে পড়বে ক্লান্ত পরিশ্রান্ত ক্ষীন ধারা?
যে হাত ছুটে বেড়ায় কাজের কাজে
সে আজলা মেলে আঙুলের ক'রে হিসেব করবে,
হায়, কত গেছে কত আছে ?

তো এই আমি
কি করে নিজের সামনে দাঁড়াই ?
চোখের উপর চোখ রেখে দেখি
একটি প্রানবন্ত মানুষ দিন দিন হয়ে পড়ছে শতাব্দীর ধূলোজমা একটি ফসিল?
সময়ের সাম্যতায় ।

৩০/১২/২০২৩.








Leave a comment