চার্লস ডারউইনের নাম কেনা জানে! বিশ্বাসী অবিশ্বাসী সবার কাছে নামটি এত পরিচিত যে, সেই বুদ্ধি বুঝের কাল থেকে দেখে আসছি, থেয়িষ্টরা এই নামটা শুনলেই আঁতকে উঠে এবং এথেয়েষ্টিরা যাষ্ট পুজো করে আর ওর বিবর্তনবাদ ( theory of evolution) নিয়ে রীতিমতো তাদের অপোনেন্টদের ঘায়েল করে। ইংরেজি সাহিত্যের সমালোচনা (criticism) এবং এর সাথে সম্পৃক্ত লাইফ ফিলোসফি পড়তে গিয়ে প্রায়ই একটা তথ্য ক্রিটিক্যাল পারস্পেকটিভ হয়ে চলে আসতো, “What about the human history and culture if a monkey/ ape stands in the entrance of its existence? এথেয়িষ্টরা তৃপ্তির ঢেঁকুর তুলে, যাক বিজ্ঞান পাওয়া গেল ধর্মকে রিপ্লেস করতে। আর থেয়িষ্টরা কি বলবো! এই বিষয়ে কথা বলতেই নারাজ। পাছে বিশ্বাস ভেঙ্গে পড়ে। অনেকেই দেখেছি বেচারা ডারউইনকে তুলোধুনো করে।
এত কথা কেন বলছি জানেন? ঠিক গতকাল রাতে The Origin of Species সম্পর্কে জেনে ঠিক নিজেকেই জিজ্ঞেস করলাম, “আচ্ছা এই বইটি ঠিক কজন পড়েছে?” আদৌ কি পড়েছে? গতকাল ভিক্টোরিয়ান সাহিত্যের গবেষক এবং শিক্ষক ড মেলিসা ডিকসনের একটা লেকচার শুনছিলাম George Eliot এর The Mill on the Floss এর উপর। এই লেখিকা কিভাবে তার সময়কার বিজ্ঞান, বিশ্বাস আর মানবিক সম্পর্ক কে ভিক্টোরিয়ান সাইন্সের আলোকে দেখেছেন সেটা বোঝাতে গিয়ে তিনি ডারউইনের বিবর্তনবাদ তত্ত্ব ডিবাংক করেছেন এবং দেখিয়েছেন যেটা এই লোক বলেননি বা আদৌ তার রিসার্চের বিষয় ছিলো না তা তার উপর কিভাবে চাপানো হয়েছে। যা করেছে হারবার্ট স্পেনসার তার Social Darwinism তত্ত্বের আবিষ্কার করে। আর এই “Social Darwinism” দিয়েই ব্রিটিশ ইম্পেরিয়াল এবং কলোনীয়াল মাষ্টাররা race ladder এবং race theory তৈরি করে আমাদের মতো এখনো নতজানু ( still enslaved) জাতি তৈরি এবং শাসন করেছে।
এই শোনার পর থেকেই আমার ঘুম নেই। আমি খুব এক্সাইটেড, আচ্ছা, theory of evolution কি বলে? এ সপ্তাহে George Eliot পড়াবো, আমার না জেনে ক্লাসে যাওয়া ঠিক হবে না। ঘাটতে ঘাটতে যা পেলাম, theory of evolution যেটা প্রাণীদের উপর রিসার্চ করে দেয়া হয়েছিল সেটার দুটি হাইপোথিসিস আছে,
১. Struggle for existence: the competition that ensues among each species ( he did not include human beings) on Earth to maintain themselves in a given environment, to survive and to reproduce of their kind
২. Natural selection: the principal by which, within the struggle for existence, certain types and species thrive and others perish
এই দুটি হাইপোথিসিস তাকে নিয়ে যায় আরেকটি আইডিয়াতে যেখানে তিনি দেখেছেন এই পৃথিবীকে ‘ a tangled bank” হিসেবে যেখানে সব গাছপালা পশুপাখি একটা ইন্টারডেপেনডেন্ট সম্পর্কে জড়িয়ে আছে এবং একটি অলিখিত সিষ্টেম অনুযায়ী চলছে।
তো এখানে বিবর্তনবাদ তত্ত্ব কি শেখায়? কোন supreme intelligence নেই? Supreme being নেই? বা God নেই? God is dead? এই লেখক নিজেও এথিষ্ট ছিলে না। তিনি Christianity র মানুষ কেন্দ্রীয় একচেটিয়া চিন্তা কে প্রশ্ন করেছেন এবং দেখিয়েছেন যে মানুষ নামক এই প্রানী কুল মাখলুকাতের সবার মধ্যে একটি মাত্র প্রানী। স্বাভাবিক বারবার নিজেদের সুবিধার জন্য পরিবর্তন করা একটি কিতাবের ধারক বাহকেরা কেমনে সেটা মেনে নেবে? তাদের এতদিনের ক্ষমতা প্রতিপত্তি সব খতম হয়ে যাবে না? তাইতো তাকে অপছন্দ করার কারনো বহু এবং লুফে নেয়ার কারনো বহু। তার মধ্যে একটি হলো, রেঁনেসাকালীন God-centred মানব জাতির ধারনা থেকে Man-centred যুগের আবির্ভাব যেখানে সব সুন্দর including women হোয়াইট আলফা মেইলের ভোগ্যপন্যে পরিনত হয়। আর তার ঐতিহাসিক বাই প্রোডাকট হিসেবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ফেমিনিষ্ট মুভমেন্ট তৈরি হবে সেটা কি খুব অস্বাভাবিক?
জর্জ এলিয়ট তার Mill on the Floss এ ডারউইনের বিবর্তনবাদ তত্ত্ব নিয়ে একটি এক্সপেরিমেন্ট করেছেন। একদল ডিফরমড, বিউটিফুল, ব্লাক, এবং ক্যাপাবেল চরিত্র এনে তিনি দেখিয়েছেন বেঁচে থাকার লড়াই এ ন্যাচারাল সিলেকশন কাজ করলে কেউ survive করে, কেউ thrive করে, এবং কেউ ডাইভ করে। তো এ থেকে বাঁচার উপায় হলো মানুষের একে অপরের সাথে সম্পৃক্ততা এবং নির্ভরতাকে মূল্যায়ন করা এবং পড়ে যাওয়া মানুষকে ফেলে না দিয়ে তাদের পথ চলতে সহযোগিতা করা। জীবনের যুদ্ধ থাকবেই কিন্তু প্রকৃতির মতো জীবন হতে হবে “a tangled bank.” আর এটাই জর্জ এলিয়টের মোরাল ফিলোসফি।
উম্মে সালমা, ১৬/০৫/২০২৪
