তোমার জন্য আমার ফটো এ্যলবাম
আলমারির এক তাকে
এবং
ফেসবুকের এক কোণে
আপলোড করে রেখেছি
যদি কখনো সময় হয় একটু ঘুরে এসো
আমার শেলফ
আমার ওয়াল
দেখে এসো
তুমি যে বার বার বলো,
“না, মনে নেই”
“সব ভুলে গেছি”
“আমার এত কিছু মনে থাকেনা”
সেটা আমার হৃদয়ে কতটুকু রক্তক্ষরণ করে
কতটুকু কান্না বিলাসী ভোমরার মতো উড়ে বেড়ায় চোখের অরণ্যে।
মানুষের জীবনে বর্তমান টা আর কতটুকু ই বা স্থায়ী!
সকালের স্বাদ কি তরতরিয়ে
দুপুরের তিক্ততা
বিকেলের ব্যস্ততা
আর রাত্তির মৌনতায় ডুবে যায় না?
একমুঠো নীলাকাশ কি এক লহমায়
একটি রংধনু হয়ে ওঠে না?
একটি সুশান্ত সাগর মূহুর্তেই কি অশান্ত হয়ে সব তছনছ করে দেয় না?
তাহলে?
তাহলে যা নিয়ে আমরা বাঁচি
তা কি বর্তমান?
নাকি তার নাম অতীত
প্রতিমুহূর্তে যার জন্ম প্রতি মূহুর্তে যার জমা জমায়েত স্মৃতি নামক এক দুঃসহ এ্যলবামে
স্মৃতি: কোথায় থাকে এই এলবাম?
কালবে? না মস্তিষ্কে?
আবেগে না যুক্তিতে?
স্মৃতি: কোথায় থাকে এই স্টোরেজ?
মনে না মননে
দৃষ্টিতে না দর্শনে?
আমি বুঝতে পারি না
আর এই না বুঝতে বুঝতে আর্তনাদ করি
তোমার ভুলে যাওয়ার মতো করে
আমি ভুলতে পারিনা কেন?
কেন আমার অশরীরের কোন খাঁজে ছোট ছোট ফাইল হয়ে জমে ওঠে
দিনযাপনের দিনগুলি
কেন আমি গেয়ে উঠি
দিনগুলি মোর সোনার খাঁচায় রইল না
কিংবা
জীবনের সোনাঝরা দিন গুলো হায় শীতের পাতার মতো ঝরে যায়
কেন আমি মোবাইলে ফেসবুকে অবিরত খুলতে থাকি স্মৃতির খাতা?
আর এইভাবে কি শিখা যায়?
কিভাবে ভুলে গিয়ে ভালো থাকা যায়
কিভাবে ভুলে গেলে জীবন স্বাভাবিক লাগে
কিভাবে মানুষ বরফের মতো বর্তমানে
হেসে খেলে বেঁচে থাকে!
উম্মে সালমা, ১১/০৬/২০২৫, টুঅং
