Reflections

স্রী কি সেবাদাসী? সেবাদাস আসলে কি?

একটি বিশেষ দল যখন নারী বিষয়ে সক্রিয় হয়ে উঠে এবং ছলে বলে কলে কৌশলে তাদের একসপায়ারড নারী বিষয়ে জগাখিচুড়ী মার্কা বয়ান হাজির করে নারী পুরুষের কম্প্রোমাইজিং দাম্পত্য সম্পর্ককে নাবোধক ভাবে প্রচার করে আমি বেশ মজা পাই। কারণ পষ্টভাবে দেখি অদৃশ্যমান ঢাবির পদপ্রার্থী নারীকে যখন পোশাক দিয়ে ডিমোনাইজ করা হয় এবং তাসনিম যারা কে সহ দৃশ্যমান নারীকে যখন তার প্রাইভেট পার্টস তুলে গালিগালাজ করা হয় তাদের মুখে টু শব্দটি শোনা যায় না।

তবে বাংলাদেশের দৃশ্যমান (visible) এবং অদৃশ্যমান (invisible) নারীদের রাজনৈতিক এবং সামাজিক অঙনে যেভাবে চিত্রায়িত করা হয়েছে এবং হচ্ছে তা থেকে একটা বিষয় স্পষ্ট তাহলো নিজেদের পাওয়ার, দক্ষতা এবং এজেন্সি নিয়ে নারীরা যখন এগিয়ে আসে তখন প্রতিপক্ষের কাছে তারা হয় হোর (whore) না হয় উইচ (witch)!

আপনাকে যখন দেখা যাবে, আপাদমস্তক চোখ দিয়ে মাপা যাবে, তখন আপনি তাদের পছন্দের এদিক ওদিক হলেই হবেন হোর। আর না দেখা গেলে, ঢাকা থাকলে, পরিস্কার বোঝা না গেলে গড়নগাড়ন কেমন, তাহলে আপনি দানব। সাথে সাথে মা রিলেটেড সমস্ত গালিতে ওরা সয়লাব করে দেবে পৃথিবী…

এ এক অদ্ভুত সমাজ সংস্কৃতি…এই সংস্কৃতি রাত দিন মায়ের মহিমা প্রচার করে। গান গল্প নাটক উপন্যাস কবিতা সিনেমা সব জায়গায় মা একটি glorified icon, আবার সেই মা জাতকে যখন marginalised and vilify করার দরকার হয় মা আর তার প্রাইভেট পার্টস গালির খিস্তি খেউরের মূল ইমেজ আমেজ হয়ে যায়!

সবচেয়ে দুঃখজনক হচ্ছে তথাকথিত নারীবিষয়ক চিন্তাবিদরা মুসলিম নারী পুরুষের পারিবারিক সম্পর্কের ধরণ নিয়ে সমালোচনা করতে গিয়ে বেমালুম ভুলে যান যে তাদের পরিমন্ডলে নারীও সেবাদাসী। তার সেক্স এবং বায়োলজি তাদের কাছে দিনের আলোর মতো এতোই পরিস্কার যে তাদের সহযোগী নারীর গায়ে হাত দেয়া, তাদের যৌন আহ্বান এবং তাদের যথেচ্ছ ভোগ করা তাদের রক্ষণশীলতা থেকে নারীকে বের করার একটা জঘন্য ফিলোসফি। আর সেই দর্শন দিন শেষে যেই লাউ সেই কদু… নারীকে সেই একই… সেবাদাসীতেই পরিণত করে।

শুধু পার্থক্য হচ্ছে ঘরে যদি একজনের সেবাদাসী হয় বাইরে হয় বহুজনের…এই নির্মম বাস্তবতা যারা চোখ বুজে অস্বীকার করে বিয়ের মাধ্যমে গড়ে ওঠা নারীর স্ত্রীর অবস্থান নিয়ে হাউকাউ করে তাদের জন্য একমুঠো করুণা।

আসলে “সেবাদাস” (সেবা+ দাস) শব্দটি খুব মজার। বেশ Productive। একটু লেনস ঘুরিয়ে দিন, আপনি দেখবেন জগৎ সংসারের নারী এবং পুরুষ যারা নানা social action এ থাকে তারা কোন না কোন ভাবে সেবাদাস এবং সেবাদাসী। আজকাল modern slavery এর কথা শোনা যায়… সেই হিসেবে দেখলে আমরা সবাই কোনো না কোনো ভাবে সেবা দেয়ার দায় নিয়ে ভৃত্যের ভূমিকা পালন করে যাচ্ছি।

অফিস সবচেয়ে বড় কর্মকর্তা কি কোন না কোন সেবা দিচ্ছেন না? অফিসের ঝাড়ুদার সেও কি কোন না কোন সেবা দিচ্ছেন না? তারা চাইলে কি এককথায় সব বন্ধ করে দিয়ে “আমি স্বাধীন” ঘোষণা দিয়ে সবকিছু থেকে বের হয়ে যেতে পারবেন?

যে নারী পুরুষ ধর্ম সমাজ সংস্কৃতি কে তোয়াক্কা না করে একে অন্যের সাথে আবেগের কোন অঙ্গীকারে আবদ্ধ হয় তারা কি একে অপরের কোন না কোন সেবা দিয়ে যাচ্ছে না? তাদের কোন একজন কি হঠাৎ করে কোন রকম কথা বার্তা ছাড়া হুট করে সব ছেড়ে ছুড়ে চলে যেতে পারে এই বলে যে, আমি মুক্ত?

যদি সব হিসাব এতো সহজ হতো উন্নত দেশগুলোতে সহ সবখানে কেন এত কাউন্সিলরের চাহিদা? কেন মানুষ এখনো কাঁদে? কেন ভেঙে পড়ে? কেন মানুষ কাউকে পাশে চায়? কেন মানুষ চায় তাকে কেউ বুঝুক আর তার কথা শুনুক? এটা কি এক ধরনের সেবা নয়?

আসলে সেবা করা, সেবা করার মানসিকতা, সেবা করার সুযোগ এগুলো মহৎ মানব গুণ। এর কোন জেন্ডার বা সেক্স নেই। একে বলে ethics of care। বাংলাদেশের এবং বিশ্বের শত শত নারী প্রিয় পরিবার, প্রিয় পুরুষ, প্রিয় সন্তানের জন্য শর্তহীন প্রশ্নহীন এই সেবা অকাতরে দিয়ে যাচ্ছে।

দুকলম পড়ালেখা করে স্পেসিফিক সমস্যা চিহ্নিত না করে প্রগতির নামে সুশীলতার নামে স্বাধীনতার নামে যারা একে তুচ্ছতাচ্ছিল্য করে একে উপহাস করে তারা অবশ্যই একদিন সমাজ সংস্কৃতি থেকে ছিটকে পড়বেই।

উম্মে সালমা, ১/১০/২০২৫, টুঅং।

Leave a comment