Salma's Poems

দুঃসহ স্মৃতির জুলাই ২০২৪/২৫

পায় পায় পায়
গুটি গুটি পায়
জুলাই এসেছে জুলাই
রক্তের রঙ
আকাশে ছড়িয়ে
বিপ্লবী আলোয়ায়

পায় পায় পায়
গুটি গুটি পায়
জুলাই এসেছে জুলাই
শত শত নাম
ছড়িয়ে দিয়ে
শহীদী সামিয়ানায়

মনে পড়ে
মনে পড়ে বার বার
কি সময় গেছে !
প্রবাস জীবনে
আহ্, অনন্ত কারাগার

নেট হীন এক দেশ
হেলিকপ্টার থেকে গুলি
গুম খুন অত্যাচারের
কি বীভৎস দূশ্যাবলি

অসীম বেদনায়
প্রতিটি মূহুর্ত প্রতিটি ক্ষণ
নীল হয়ে গেছে
বেঁচে ছিলাম না রূহ ছিলোনা
জানি নি তখন

প্রিয়জন প্রিয় দেশ মানুষেরা
কেমন আছে এই চিন্তায়
লুট হয়ে গেছে নাওয়া খাওয়া ঘুম
কাজ কর্ম সব সবটায়

শুধু অপেক্ষা শুধু যোগাযোগ
শুধু নতুন চিন্তা ভাবনা
মৃত্যুর মিছিল ঠেকানোর দোয়ায়
সম্মিলিত অশ্রু কান্না

তবু

এই সত্য নিয়ে কারা ট্রল করে
কারা করে জুলাই কে অবমাননা

তাদের ছেড়ো না ছেড়ো না

জালিমের তেলে ভাজা মাছ খেয়ে
লোভের চকচকে সিঁড়ি বেয়ে বেয়ে
উপরে আরো উপরে উঠতে চেয়েছে
রাতকে দিন দিনকে রাত করেছে

তাদের জন্য কোন মায়া রেখো না।

মনে রেখো
ইতিহাসের পুনঃপাঠে
অত্যাচারী শাসক আর
তার সহযোগীদের প্রাপ্তির থলে
ভরে শুধু অভিশাপ
আর ঘৃণার চাষ বাসে

আস্ফালন?
ও পানিতে বুদবুদ
খানিক পিনিক ছড়িয়ে দিয়ে
হারাবেই নমরূদ।

উম্মে সালমা, ৮/০৭/২০২৫, টুঅং

Salma's Poems

তোমাকে স্বপ্ন ভেবে আমি ঘুমিয়ে ছিলাম

তুমি ছিলে মন
আমার জীবন
তোমারি রোদে বাঁচে আমারি পাতা
যেমন সবুজ হয়ে থাকে উদ্ভিদ-সালোকসংশ্লেষণ

আমি এই এই আমি
হাঁটতাম চলতাম কত কাজ করতাম
ভাবতাম আমার জীবন আমার সংসার
আমার ভালোবাসা আমার সকল রঙ
সবচেয়ে দামি

তোমার কাছে
তাই

চারপাশ ভুলে
নিবেদিতা চুলে
দু’চোখ আরামে মুদেছিলাম
স্বপ্নের মতো
আলোতে আনত
আমাদের রাতে ঘুমিয়ে ছিলাম

অথচ

তুমি দিশেহারা মন
আবাধ্য নয়ন
মেলে দিয়ে ছুতে গেলে
আরেক গগণ

দুর বলেই কি আরেক গগন এতো সুন্দর!
মার্চের গোলাপী আকাশের মতন?
ফরসা বলেই কি কাশ ফুলের শরীর
এত বেশী ভালোলাগে এতটা নিবিড়

কি জানি!
জানিনাতো?

শুধু জানি
পুরুষের মন
নড়বড়ে ভীষণ
প্রেমময় স্ত্রী কিডনী কিংবা জীবন
যাই দিয়ে যাক
মুল্য তার নেই নেই নেই কানা কড়ি পন।

নারীর মূল্য আসলে কি
বুঝতে শরৎ বললেন,
যারে সমাজ পুজা করে
আহা!
তার জন্য সহমরণ !

কি পরিহাস! কি পরিহাস!
জাতি সংস্কৃতি নির্বিশেষে
নারীর প্রতি অবিচারের এ কেমন প্রকাশ?
এই পথে নয় ঐ পথে
এক না এক উপায়ে
নারীর, স্ত্রীর কিংবা সতীর জীবন
হয়ে উঠবে ভঙ্গুর দুঃখের নিঃশ্বাস ?

কেন?কেন? কেন?

শুধু
তুমি হবে মন
পুরোটা জীবন
শুধু
এই ইচ্ছায়
শুধু
এই ব্যবস্থায়
নারী কি প্রতারিত হবে?
বেহেস্তে জন্ম নেয়া
প্রাগৈতিহাসিক
এই লিঙ্গের জীবন
শোক রক্তে ভেসে যাবে?

বার বার বার বার বার বার

কত কত বার?

উম্মে সালমা, ৫/০৭/২০২৫, টুওং
[ স্বামীকে কিডনি দান করা বাংলাদেশী স্ত্রীর নির্যাতিত এবং প্রতারিত হবার কষ্ট দেখে আমার এই poetic reflection]

Salma's Poems

After Smashing

You’ve smashed my love
My loving fold
Panic attacks I suffer now
Non-seasonal cold
You’ve shattered my heart
golden olden days
The Sun set long, long ago
Birds tweet no lays
My heart is now a broken mirror
shards and pieces
I only long for healing, dealing
In Rosy kisses In God’s blisses

I want to rise again like a sphinx
I want to rise
Even when love shatters open’d the ties
I want to feel again like a human being
I want to feel
I want to shout alone, alone I to sing.

Umme Salma, 10/03/2025

Salma's Poems

আমি কাঁদলে তোমার গানের কোন কলি থেমে যায়


আমি কাঁদলে
তোমার গানের কোন কলি থেমে যায়
আমি কাঁদলে
তোমার লেখার কোন বুলি ঘেমে যায়
আমি কাঁদলে
তোমার বুকের কোন পালে লাগে ব্যথা
আমি কাঁদলে
তোমার চোখের কোন কোণে জললতা?

নাকি কান্না আমার ক্ষুদ্র পিপিলীকা
চুপচাপ শুধু হাঁটে
নাকি কান্না আমার কালো মৌমাছি
ভাষার বিভ্রাটে

জানিনা আমি জানি না
সংসারের এসব হিসেব নিকাশ
সংসারের এসব বিশ্রী বিন্যাস
মানি না মানি না।

স্বৈরাচারী দলীয় ভালোবাসা না না না।

উম্মে সালমা, ১০/৪/২০২৫, টুঅং

Salma's Poems

শব্দগুলো হারিয়ে গেছে

শব্দগুলো হারিয়ে গেছে
কষ্ট নামক মেলায়
রঙিন ফিতে মিষ্টি ঝুটি
নাগরদোলা খেলায়

তোমরা তারে দেখলে কোথাও
নিয়ে এসো বাড়ি
আমার দুয়ার দখিন খোলা
সুখের সাথে আড়ি।

শব্দ সাথী
শব্দ সাথী
কোথায় আছো তুমি
জোনাক বাতি
জোনাক বাতি
জ্বালছে বনভূমি।

কষ্ট নামক মেলায় যদি
এমন হয়ে যায়
শব্দ কেন পড়লো ভেসে
দুখু কবির পায়?

উম্মে সালমা, ১৬/০৪/২০২৫

Salma's Poems

হে আল্লাহ্‌ মন ভালো নেই

মন ভালো নেই
শরীরো
ওদের কি আর দোষ দেবো
ভেতরে জমে থাকা অজস্র দুঃখ
কটকটির মতো শক্ত হয়ে উঠেছে
ভালোবাসার কোন উত্তাপ তাকে গলাতে পারেনি।

মন ভালো নেই
ঈদ এসেছে
মন ভালো নেই
সবাই ঘর গুছাচ্ছে
মন ভালো নেই
সবাই বেড়াতে যাচ্ছে
মন ভালো নেই
সবাই ছুটি কাটাচ্ছে
রক্ত কমে যাচ্ছে
হিমোগ্লোবিন আর অক্সিজেন নিয়ে ঘুরতে পারছে না শরীরে
মাথা ঘুরছে চারপাশ ঝিম ঝিম ঝিম
যেন চবির শাটল ট্রেন আমার পাশ দিয়ে চলে গেল

আমাকে পরিত্রাণ দাও হে আল্লাহ্‌
আমার মন ভালো করে দাও
আমার চোখের ভেতর অপার্থিব আলো জ্বেলে মন খারাপের নর্দমায় বৃষ্টি ঢেলে দাও
এক মুষুলধারের বৃষ্টি সবকিছু ধুয়ে মুছে সাফ করে দিক!
নিদারুণ রহমতের বৃষ্টি।

উম্মে সালমা
৬/৬/২০২৫

Salma's Poems

ভুলে গিয়ে ভালো থাকা

তোমার জন্য আমার ফটো এ্যলবাম
আলমারির এক তাকে
এবং
ফেসবুকের এক কোণে
আপলোড করে রেখেছি
যদি কখনো সময় হয় একটু ঘুরে এসো
আমার শেলফ
আমার ওয়াল
দেখে এসো
তুমি যে বার বার বলো,
“না, মনে নেই”
“সব ভুলে গেছি”
“আমার এত কিছু মনে থাকেনা”
সেটা আমার হৃদয়ে কতটুকু রক্তক্ষরণ করে
কতটুকু কান্না বিলাসী ভোমরার মতো উড়ে বেড়ায় চোখের অরণ্যে।

মানুষের জীবনে বর্তমান টা আর কতটুকু ই বা স্থায়ী!
সকালের স্বাদ কি তরতরিয়ে
দুপুরের তিক্ততা
বিকেলের ব্যস্ততা
আর রাত্তির মৌনতায় ডুবে যায় না?
একমুঠো নীলাকাশ কি এক লহমায়
একটি রংধনু হয়ে ওঠে না?
একটি সুশান্ত সাগর মূহুর্তেই কি অশান্ত হয়ে সব তছনছ করে দেয় না?

তাহলে?
তাহলে যা নিয়ে আমরা বাঁচি
তা কি বর্তমান?
নাকি তার নাম অতীত
প্রতিমুহূর্তে যার জন্ম প্রতি মূহুর্তে যার জমা জমায়েত স্মৃতি নামক এক দুঃসহ এ্যলবামে

স্মৃতি: কোথায় থাকে এই এলবাম?
কালবে? না মস্তিষ্কে?
আবেগে না যুক্তিতে?

স্মৃতি: কোথায় থাকে এই স্টোরেজ?
মনে না মননে
দৃষ্টিতে না দর্শনে?

আমি বুঝতে পারি না
আর এই না বুঝতে বুঝতে আর্তনাদ করি
তোমার ভুলে যাওয়ার মতো করে
আমি ভুলতে পারিনা কেন?
কেন আমার অশরীরের কোন খাঁজে ছোট ছোট ফাইল হয়ে জমে ওঠে
দিনযাপনের দিনগুলি

কেন আমি গেয়ে উঠি
দিনগুলি মোর সোনার খাঁচায় রইল না
কিংবা
জীবনের সোনাঝরা দিন গুলো হায় শীতের পাতার মতো ঝরে যায়
কেন আমি মোবাইলে ফেসবুকে অবিরত খুলতে থাকি স্মৃতির খাতা?

আর এইভাবে কি শিখা যায়?
কিভাবে ভুলে গিয়ে ভালো থাকা যায়
কিভাবে ভুলে গেলে জীবন স্বাভাবিক লাগে
কিভাবে মানুষ বরফের মতো বর্তমানে
হেসে খেলে বেঁচে থাকে!

উম্মে সালমা, ১১/০৬/২০২৫, টুঅং

Reflections

ভালোবাসার সংসারের সম্পর্ক: আত্মসম্মানবোধ নাকি আত্মসমর্পণ?


আমরা যারা ৯০ এর বাংলাদেশের আবহে বড় হয়েছি রবীন্দ্রনাথ নজরুল বিভূতিভূষন কিংবা হুমায়ূন আহমেদের লেখা পড়ে, আমাদের অনেকের কাছে ভালোবাসাটা আত্মিক উপলব্ধির, গোপন, নীরব, গভীর। এটা এমন এক অনূভুতির যাকে ভাষায় প্রকাশ করা যায় না, স্বার্থপরের মতো দাবী করে করে জানান দিতে হয়না, বরং দ্বায়িত্ব, স্থায়িত্ব, এবং ত্যাগের বিনিময়ে ফুটিয়ে তুলতে হয়।


নজরুলের “ব্যাথার দান” যখন পড়তাম, কি গভীরভাবে আমাদের ভাবিয়ে তুলতো: না পাওয়া ভালোবাসার কষ্টের কথায়। কিংবা হিমু যখন আসবে বলে ও আসতো না, আমরা বুঝতাম, হিমু রুপা কে কি গভীর ভালোবাসে এবং ভাইসভারসা কিন্তু তারা একে অন্যের কাছে আসতে পারে না। কিন্তু তাই বলে ভালোবাসা মিথ্যা হয়ে যায় না। বরং কি এক গভীর অনিশ্চয়তায় নিমজ্জিত ভালোবাসা সম্পর্কগুলো কত সুন্দর! শত না পাওয়ার মাঝে কত টান!


মাঝে মাঝে ভাবি এইসব অতিপ্রাকৃত আয়োজনের মাঝে বেড়ে ওঠাই আমার জন্য কাল হয়েছে। আমার জীবনে বিয়ে সংসারের মাধ্যমে যে নারী পুরুষের স্বাভাবিক আকর্ষনের যাত্রা শুরু হয় তার মধ্যে এইসব কিছুটা ফিলোসফিক্যাল কিছুটা কাব্যময় কিছুটা আত্মিক কিছুটা শব্দহীন ভালোবাসা ঢুকে পড়ে গেছে।


আমি গভীর ভালোবাসতে পারি যে কাউকে কিন্তু যে নদী গভীর বেশি তার বয়ে চলার শব্দ তত কমের মতোই আমার ভালোবাসার প্রকাশ। অতি প্রদর্শনী অতি মুখরতা অতি তরতরানো দেখলে বিরক্ত লাগে এবং লাগতো। এগুলোকে বরাবরই ফেইক মনে হতো। মনে হতো, আরে, যেখানে ভালোবাসা মমতা মায়া আছে সেখানে সম্পর্ক যে কোনো মূল্যে সুন্দর হবেই। আমার সততা আমার বিশ্বস্ততা আমার অনুরাগ আমার আবেগ আমার ভালোবাসার মানুষ এবং মানুষেরা বুঝবেই! আর এইজন্য নিজের ভেতর একটা আত্মসম্মানবোধ সবসময়ই জেগে ছিল।
আমি ভাবতাম, ভালোবাসা শ্রদ্ধেয় এবং শ্রদ্ধার। এখানে পরস্পরের প্রতি শ্রদ্ধাবোধ থাকবে এবং তা থাকবে আত্মসম্মানবোধ থেকেই। মর্যাদাবোধ থেকে।

এবং ব্যাপারটা এমনো মনে হতো যে, যে আমার এই দর্শন এই গভীরতা বুঝতে পারবে না, তার আর কি যোগ্যতা ই বা আছে আমার জীবনের অংশ হবার? সে যদি বুঝতে না পারে, তাকে আমি চাই এবং তার প্রতি আমি বিশ্বস্ত, তাহলে সে আর কি বুঝে ? হতে পারে ভাষার প্রকাশ কম, হতে পারে শব্দের কোলাহল নেই: ঠিক নজরুল যেমন বলেছিলো:

যারে চাই তারে কেবলি এড়াই কেবলি দি তারে ফাঁকি
সে যদি তুলিয়া আঁখি পানে চায় ফিরাইয়া
লই আঁখি

কিন্তু ভালোবাসার এই আত্মসম্মানবোধ নিয়ে আজকাল নতুন করে ভাবতে থাকি। হুড়মুড় করে সোশাল মিডিয়ার আগমন এবং মানুষের সাথে মানুষের যোগাযোগের সহজ সুযোগ দেখে মাঝে মাঝে কিংকর্তব্যবিমূঢ় হয়ে যাই। আপনি স্যোশাল মিডিয়ায় নীরব, ভাবছেন বেঁচে গেলেন? না একদম না। আপনি আপনার ব্যাক্তিগত জীবন ফেসবুকে হাইলাইট করেন না, আপনি বেঁচে যাবেন? একদমই না।

বাস্তব জীবনে এমন কিছু মানুষ এবং ঘটনার সম্মুখীন হতে পারেন, সেখানে আপনি “অসুখী” ” অযোগ্য” ” ব্যর্থ” হিসেবে বিবেচিত হবেন। আপনার গোপন নীরব গভীর ভালোবাসার ফিলোসফি কে তুড়ি মেরে আপনার সঙী আত্মীয় পরিজন কে বাগিয়ে নেয়ার জন্য অথবা আপনার জীবনে বাগড়া দেয়ার জন্য একদল একদম প্রস্তুত।

ভালোবাসা যেখানে আপনার কাছে আত্মসম্মানবোধ তাদের কাছে ভালোবাসা ভালোলাগা মিথ্যা আত্মসমর্পণ। দু’ একদিনের পরিচয়েই গায়ে পড়া, ইনিয়ে বিনিয়ে মিষ্টি মধুর করে কথা, মিষ্টি নামে ডাকা, ঘন ঘন ফোন করা, মেসেজ পাঠানো, গোপন ব্যক্তিগত সুখ দুঃখের কথা শেয়ার করা…আর এসবের ফাঁকে ফাঁকে আপনি দেখতে পাবেন এরা কেমন করে আপনার জীবনসঙ্গী/পার্টনার/ ভালোবাসার মানুষের কাছে নিজেকে সঁপে দেয়। তখনি আপনি দেখবেন আপনার চেনা মুখ নতুন রঙ নিচ্ছে এবং ভাবছে, “আরে, ওতো কখনো আমার কাছে এত আত্মসমর্পণ করেনি, এমন করে আমার হাতের মুঠোয় আসেনি? এমন করে আমাকে প্রশংসা করেনি? এতো আমার সবকিছু নতুন করে পাওয়া।” তখন সে কিন্তু নিমিষেই ভুলে যেতে পারে আপনার দার্শনিক ভালোবাসা কে।

জানি এসব সব ঠুনকো, লোক দেখানো, শয়তানের ওয়াসওয়াসা এবং শেষ মেষ জঘন্য অপরাধ, তবুও এসব দেখে দেখে নতুন করে ভাবতে থাকি, ভালোবাসা সম্পর্ক মমতা মায়া এসব আসলে কি? এসব কি আত্মসম্মানবোধে মোড়ানো একটি সুন্দরের নাম না লজ্জা শরম বিহীন লোক দেখানো আত্মসমর্পণ? কোনটা আসলে ভালো? ভাষাহীন ভালোবাসা না মোহময় শব্দের বেসাতি? নাকি ভালোবাসার কোন অস্তিত্ব নেই, সব শরীরের খেলা: হরমোনের প্রভাব। মন বলে কিছু নেই। নারীর পুরুষ হলেই হয়, পুরুষের নারী। ব্যাক্তি এখানে তুচ্ছ!

জানি না, জানতে চাই না তবে কেন যেন মনে হয়, যত যাই হোক, দুনিয়ার যত পরিবর্তন আসুক, ভালোবাসার মায়ার মমতার শক্তি আর সততা সাময়িক ভূপাতিত হলেও তার মৃত্যু নেই ক্ষয় নেই পরাজয় নেই। সত্য তো চকচকে হয় না, সত্য হয় দৃঢ় ক্ষয় লয় বিহীন।সৎ মানুষের জীবনের সফলতা ওখানেই।

উম্মে সালমা, ২৫/০৬/২০২৫

Salma's Poems

তোমার চোখ যেন প্রতিদিনের কবিতা


তোমার চোখ যেন
প্রতিদিনের কবিতা
আমি পাঠ করি প্রতিদিন সকালে
যেমন আমার দাদা পাঠ করতেন:
সকালে উঠিয়া আমি মনে মনে বলি
সারাদিন আমি যেন ভাল হয়ে চলি

অথচ আমাদের পাঠশালার পাঠে কত ফারাক
দাদুর কবিতা দাদুকে ভরিয়ে তুলতো জীবনবোধে
আমার কবিতা আমাকে ভরিয়ে তুলে প্রশ্নবোধে

আর এভাবেই বুঝতে পারি
ভুল ভালোবাসা ভুল সম্পর্ক
ভুল জীবনদর্শনের জন্ম দেয়
ভুল পথে পরিচালিত করে।

উম্মে সালমা,২৬/০৬/২০২৫

Reflections

সারাজীবনের মধ্যবিত্তের গল্প


পরিচিত শুভাকাঙ্ক্ষী বন্ধু বান্ধবরা যখন সেমিষ্টারের শুরু মাঝখান এবং শেষে ছুটি পেলেই দেশের দিকে ছুটে যায়, আমি বসে বসে ভাবি, আহারে কি আনন্দ আকাশে বাতাসে! সেই সাথে নিজেকে জিজ্ঞেস করি, ইস, আমি পারিনা কেন? বেশ হতো যদি এরকম হুটহাট দেশ থেকে বেড়িয়ে আসা যেতো!

আসলেই বেশ হতো! কিন্তু সাধ আর সাধ্যের মধ্যে যে অনৈক্য তা কি আর বলতে! এই সাধ্য দায়িত্বের এবং অর্থনৈতিক। একসময় বাচ্চারা ছোট ছিল। পড়ালেখার চাপ বা প্রয়োজন অতটা ছিল না। যখন তখন হুটহাট করে ওদেরকে প্যাক করে বেরিয়ে পড়া। প্রথম প্রথম অষ্ট্রেলিয়া এসে এত ঘুরেছি আলহামদুলিল্লাহ।

অথচ এখন একপা দেয়ার আগে ওদের সাথে কথা বলতে হয়। চোখ রাখতে হয় ওদের কখন এসেসম্যান্ট কখন স্কুলে কি ব্যস্ততা!আর স্কুলের বাইরে যেহেতু এখানে বাচচাদের ফ্রেন্ডগ্রুপ নেই বললেই চলে, ওদের সব আনন্দ নিরানন্দ পড়াশোনা খেলাধুলা সব কিছু স্কুল কেন্দ্রিক। আর এখানে সিস্টেমটা এমন একটি টার্ম শুরু হলেই একটার পর একটা এসেসম্যান্ট এবং এক্সাম চলতে থাকে… ওদের এদিক ওদিক মাথা দেয়ার সময় ই হয়না! তাই ইচ্ছে করলেই বেরিয়ে পড়তে পারিনা।
তার মাঝে খরচের হিসাবো করতে হয়। দেশে যাওয়া হুট করে? মোটা অংকের টিকিটের দাম। আপনি সারা বছর অল্প অল্প করে মেপে মেপে চলে কিছু সঞ্চয় করেছেন, একবার দেশে যাওয়া মানে ঘ্যাচ! ঘ্যাচ ঘ্যাচ! দেশে গেলে হিসেবের কোন আগামাথা খুঁজে পাইনা। কোথা থেকে এত খরচ আসে জলের মতো ডলার টাকা হয়ে বেরিয়ে যায়…২০২২ এ মনে পড়ে দেশে গিয়ে আমার জমানো ডলার পাউন্ড সব খরচ করে ইসলামী ব্যাংকের জমানো টাকা খরচ করে শেষে লোন পর্যন্ত করতে হয়েছে…

প্রবাসী (নিম্ন?) মধ্যবিত্তের জীবন আসলেই বেশ ঝক্কির। শুধু হিসাব নিকাশ শুধু প্লানিং শুধু ম্যানেজমেন্ট…

এসব দেখে দেখে মাঝে মাঝে দেশের জীবন নিয়ে ভাবি। আচ্ছা, দেশে থাকতে কি জীবন অন্যরকম ছিল? দেশের উচ্চশ্রেণীর চাকরি (বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকতা) করা মধ্যবিত্তের মতোই কি ছিলাম না? ভালো বেতন ভালো বাসা ভালো খোরপোষ সামাজিক অবস্থান সবকিছু ছিল কিন্তু কোন দিক দিয়ে টাকা আসতো আর কোনদিক দিয়ে আলহামদুলিল্লাহ আত্মীয় পরিজন নিয়ে বাস করতে গিয়ে চলে যেতো মনে হয় হাতড়ে বেড়াতাম। সাঁতরে বেড়াতাম।
বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ানোর সুবাদে কখনো কখনো আমাদের হাজবেন্ড ওয়াইফের মন উড়ু উড়ু করতো–ইস, যদি উচ্চতর ডিগ্রি অর্জন করতে পারতাম। একটি পিএইচডি! না হয় একটি মাস্টার্স! উন্নত দেশে। একটি নামকরা বিশ্ববিদ্যালয়ে।

যখন দেখলাম, আরিব্বাস, এ আরেক কঠিন সংগ্রামের নাম, আমার মনে আছে, আমি ভাবতাম, থাক, ও পথে না গিয়ে, ঘরের কাছে মালয়েশিয়ায় একটি মাস্টার্স করি। হিসেব করে দেখলাম, তাও বেশ কিছু টাকা যে টাকা আমাদের কাছে নেই! এখনো মনে আছে একদিন এ নিয়ে আমাদের মধ্যে কি কথা কাটাকাটি রাগারাগী! আমি তাকে বলছি, টাকা জোগাড় করতে! সে বলছে, কোত্থেকে? সে পারবে না। ইত্যাদি ইত্যাদি। তখন
মনে হলো, এই এক জিনিস…এই টাকার জন্য জীবনে অনেক ভালো ভালো স্বপ্ন বোধহয় অধরা রয়ে যাবে!

এইসব কিছু নিয়ে যখন একসাথে করে জীবন নিয়ে ভাবি, তখন বুঝতে পারি আল্লাহ এভাবেই বিশ্বাসীদের জীবন টানাপোড়েন কষ্ট ক্লেশ পাওয়া না পাওয়া দিয়ে ঘিরে রেখেছেন। কোন কিছু চাইতে গেলে যে এই যে হাজারো হিসেবে নিকাশ হাজারো বাঁধা হাজারো প্লানিং এবং ম্যানেজমেন্ট এটাই আল্লাহর তরফ থেকে তার বান্দার প্রতি রহমত দয়া আর জীবনের পরিকল্পনা। আল্লাহ চান এই ঝক্কির মাঝে যেন আমি আমরা তাকে ইকুয়েশনে নিয়ে আসি: তার কাছে কায়মনোবাক্যে প্রার্থনা করি দোয়া করি তার কাছে সামর্থ্য চাই তার কাছে শক্তি চাই। জীবনে কিছু পাই বা না পাই জীবনের ইকুয়েশনে সৃষ্টিকর্তা আল্লাহকে ইনক্লুড করতে পারাটাই সফলতা।

কতটুকু তাকে জীবনে অন্তর্ভুক্ত করতে পেরেছি জানিনা, তবে শত শত শত সমস্যার মাঝে আমি নিজেকে ধনী বলেই মনে করি। হাদীস দ্বারা প্রমাণিত যার একদিনের খাবার আছে একটা সুস্থ শরীর আছে মাথা গোঁজার মতো ঠাঁই আছে যে একদিন সকালে কোনরকম যন্ত্রণা ছাড়া ঘুম থেকে সহজ স্বাভাবিক ভাবেই জেগে ওঠে দিনের কাজ শুরু করলো, সেই পৃথিবীর রাজা। তার জীবন রাজার মতো।

প্রতিদিন সকালে নিজেকে মনে করিয়ে দেই এই কথাটা। প্রতিদিন নিজেকে বোঝাই চেয়ে পেয়ে যাওয়ার জন্য জীবন না! জীবন পরীক্ষার কষ্টের যন্ত্রণার। নিজেকে বোঝাই, আফসোস করো না। তাকে পরিবর্তন করো শুকরিয়ায়। আলহামদুলিল্লাহ’য়। তাইলে শত শত শত অপূর্ণতার মাঝে তুমি বেঁচে থাকবে শান্তি আর স্বস্তিতে।

উম্মে সালমা, ২৭/০৬/২০২৫, টুঅং