Reflections

আফটার আগস্ট ৫ঃ আবেগ ও নৈতিকতার দোলাচল ? একটি রিফ্লেক্সসন

আগস্ট ৫। নিঃসন্দেহে বাংলাদেশের মানুষের জন্য একটি নতুন দিন। একটি নতুন ইতিহাস। এই দিনটি ফ্যাসিবাদের পতনের মাধ্যমে নতুন এক স্বপ্নের সুচনা করে, প্রায় দেড় হাজারের বেশী শহীদ এবং ত্রিশ হাজারের ও বেশী মানুষের আহত হবার মাধ্যমে । এটি একটি দারুণ জাগরণ । নানা রকম দুঃশাসনে ১৬ টি বছর জর্জরিত মানুষ এই দিনে সাম্য, ন্যায়বিচার এবং মানবিক মর্যাদা নিয়ে নতুন করে বাঁচার স্বপ্ন দেখতে শুরু করেছে ।

কিন্তু chaos এবং organic প্রসেসের মাধ্যমে আচানক উঠে আসা আন্দোলন কি আচানক সব প্রত্যাশা পুরন করতে পারে? পারবে? এ নিয়ে যখন ভাবি, ফ্রেন্স রেভুলিউশন (French Revolution) এর কথা মনে পড়ে। ফ্রেন্স রেভুলিউশন খুব জটিল এবং বহুমুখী একটি রাজনৈতিক আন্দোলন ছিল। এর মূলমন্ত্র হিসেবে ছিলো স্বাধীনতা (liberty), সমতা (equality), এবং ভ্রাতৃত্ব (fraternity)। এত সুন্দর মটোগুলো! একসময় খুব অল্প বয়সে যখন এগুলো পড়েছিলাম কি অসাধারণ যে লাগতো! মনে মনে ভাবতাম, আহা! যদি সত্যি এরকম হতো একটি সমাজ! স্বাধীনতা, সমতা, এবং ভ্রাতৃত্ব !

কিন্তু ১৭৮৯ এর পরে ফ্রান্সে ঘটে যাওয়া নানা অঘটন যেমন নেপোলিয়নের স্বৈরাচারী হয়ে ওঠা, রবেসপিয়ারের এক্সিকিউশন, রেইন অফ টেরর এবং কাউন্টার রেভুলিউশনের সাসপেকট হিসেবে বহু মানুষের শাস্তি, হত্যা, জেল, জুলুম, নারীদের সমতার জন্য লড়াই ইত্যাদি,  যা একের পর এক দানা বেধেছিলো ১৮৩৪ সাল পর্যন্ত, সত্যি ভয়াবহ। এগুলো আমার বুক কাঁপিয়ে দেয়। যত পড়ি, তত দেখি, ইতিহাসবিদরা এই বিপ্লব নিয়ে বিশ্লেষণ করতে গিয়ে কিছু কমন কথা বলেন যা সারমর্ম হোলো, পরিবর্তনের পজিটিভ উদ্যোগ নেয়া এবং তার বাস্তবায়নের চেয়ে যে কোন মোনারকির বিরোধীতা করা সহজ । গরীবদের প্রতি সহানুভূতি সবার থাকে কিন্তু “existing social system significantly” পরিবর্তন করার ইচ্ছা এবং সক্ষমতা বিপ্লব পরবর্তী প্রভিশানাল সরকারের থাকে না। তারা দেখে যে একটি সাংবিধানিক সংসদ আসা পর্যন্ত তাদের মূল ভূমিকা হলো অর্ডার আর এডমিনিষ্ট্রেশন চালিয়ে রাখা । তারা আর কোনো ভায়লেন্স চান না তাই এক্সিস্টিং “authorities” এবং “bureaucratic system and organisations” টিকিয়ে রাখেন। তো, বিপ্লব পরবর্তী সময় হয়ে ওঠে আরো কেয়টিক।‌

বাংলাদেশে যা ঘটছে প্রতিনিয়ত যা প্রতিনিয়ত আমাদের নতুন নতুন প্রশ্নের জন্ম দিচ্ছে নতুন নতুন অপোজিশনের জন্ম দিচ্ছে এটা আসলে ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি। যদিও বাংলাদেশে এখন রেইন অফ টেরর জাতীয় কিছু হয়নি বা হবার সম্ভাবনা নেই (পুরাদাগে একটা plurality এবং reconcliation এর আবহের জন্য), যেটা দেখা যাচ্ছে সেটা হলো, কাউন্টার -বিপ্লবের ক্রম শক্তি প্রদর্শন এবং বিপ্লব বেহাত হবার ভয়। এর পেছনে কাজ করছে একটি বংশগত এবং সামাজিক লতায়-পাতায় জড়ানো সামাজিক সম্পর্ক যা দক্ষিণ এশিয়ায় বিরাজ করে। প্রত্যেক মানুষ প্রত্যেক পরিবার প্রত্যেক সামাজিক লেনদেন ব্যবসা বানিজ্য “inter-political programme” এর সুতোয় বাঁধা।

এই বিষয়টি আমাকে ২০১৩ সালে থেকে ভাবাতো। যখন শাহবাগ আন্দোলন হচ্ছিল এবং পুরো বাংলাদেশ জুড়ে শুরু হলো বিভক্তির এবং প্রতিহিংসার রাজনীতি, আমার তখনকার লেখা কবিতায় (“সংসার এবং সহবস্থান” ) এটা নিয়ে একটা আলাপ উঠে এসেছিলো । আমি বুঝতে পারতাম না কিভাবে একটা সমাজে এই জড়াজড়ি (entanglements) খুলে নির্মূলের রাজনীতি করা যাবে?

পুরো ফ্যামিলিতে আমাদের অঙ্গনে আমরা কখনো রাজনীতি দিয়ে বিভাজন দেখিনি। নানাজন নানা দল সাপোর্ট করতো কিন্তু একে অন্যকে শুধু “রাজনীতির চোখ” দিয়ে দেখা এটা ছিলোনা। কিন্তু বাংলাদেশের দুর্ভাগ্য যে ২০১৩ সালে এটা আমদানী হয় দেশীয় অঙ্গনে আওয়ামী এবং বামধারার রাজনীতির হাত ধরে এবং তার পর তো আমরা সবাই জানি……নোয়াখালীর ভাষায় এদেরকে বলে, “চোখ খাটা তেলী”। আওয়ামী এবং তার দোসররা চোখ খেটে মানে চোখ বন্ধ করে তারা ছাড়া সবাইকে শেষ করার পথে নেমেছিল এবং শেষ মূহুর্ত পর্যন্ত শেষ করে ক্ষমতায় থাকতে চেয়েছিল।

এসব বলার মানে এই যে, বিভাজনের রাজনীতি তৈরি করা দল এবং মানুষ গুলো আজ যখন বিপদে, যখন তাদের ব্যক্তিগত এবং আইনগতভাবে কাঠগড়ায় দাঁড়ানোর সময়, তখন কিছু দল এবং মানুষের মাঝে সেই রাজনীতির উর্ধ্বে ওঠার একটা প্রবনতা এবং এবং তার সাথে ন্যায় বিচারের একটা সুত্র তৈরি করার চেষ্টা লক্ষ্য করা যাচ্ছে । ক্ষমা, রাজনীতির নানা অধিকারের বয়ান, অপরাধ লঘু করে দেখা, কিংবা আওয়ামী সমর্থকদের প্রতি (গোপন?) সমবেদনা ইত্যাদি সেরকম কিছুর বহিঃপ্রকাশ। অনেকে আবার এটা মক্কা বিজয়ের পরবর্তী সাধারণ ক্ষমার বয়ান দিয়ে ব্যাখ্যা করতে চান। কেউ কেউ আবার “শাস্তি এবং ক্ষমা”র একটি অসম বণ্টনে এক ধরনের বিচারের কথা বলেন।

স্বাভাবিক ভাবেই সেটা বিপ্লবের সেনটিমেন্টে তীব্র আঘাত। কারণ যারা ইচ্ছে করে জমিনে বিপর্যয় সৃষ্টি করে এবং সেটা জাষ্টিফাইড করে এবং করেই যায় কোন রকম অনুশোচনা এবং তাওবা না করে, তাদের বিচারই ন্যায়বিচার। casualties হয়ে যাবার একটা শঙ্কা এখানে আছে, যেমন থাকে সব বিচারে, কিন্তু তারপরও দুঃসহ দেশ সৃষ্টিকারীদের বিচার আবশ্যক ।

অভ্যুত্থান পরবর্তী এই সময়ে , এই একটু softness, একটু reconciliation একটু বিভাজন মানুষকে confused এবং ambivalent করে তোলে । আশা আনন্দ দুরাশা দুশ্চিন্তা এককথায় একধরনের সার্বক্ষণিক দোলাচলের জন্ম দেয় মানুষের মনোজগতে।‌ মানুষের সামনে আরেকটি পরিবর্তিত পৃথিবী এবং পরিস্থিতিতে আগের নৈতিক ফ্রেমে দেখা পরিস্কার ছবির (যেখানে সত্য/মিথ্যা জালিম/মজলুম বাইনারি একদম ক্লিয়ার ছিলো) মূল্যায়নে একটি ধাঁধা লেগে যায়।‌ প্রতিদিনের নতুন নতুন ইস্যুতে বিপ্লব বিষয়ক আবেগ অনুভূতি ত্যাগ তিতিক্ষার একনিষ্ঠ সমর্থক এবং সহযোগীরা প্রত্যাশা আর প্রাপ্তির হিসেব কষতে গিয়ে দুলতে থাকে নানাবিধ দোলাচলে। কোনটি সঠিক কোনটি বেঠিক কে ঠিক বলছে কে ভুল বলছে কোনটি উপকারী কোনটি অপকারী এর চিহ্নিত করণ এবং মেজাজ বোঝা অনেক সময় জন্য কষ্টসাধ্য হয়ে পড়ে।‌ তারা বুঝতে পারে না যে মানুষগুলো দুদিন আগেও বিপ্লবের পক্ষে কাজ করেছে তাদের সম্পর্কে রটে যাওয়া কথাগুলো কতটুকু সত্য ??? যে যায় লঙ্কায় সে ই কি রাবণ হয়ে উঠে ??? নাকি এটা আবার কোন বিশাল ফাটলের লক্ষণ?

একটা কথা নিদারুন সত্য যে সাধারণ মানুষের বিপ্লবে যতৈ অবদান থাকুক, কোন দেশ তো সবাই মিলে শাসন করা যায় না। হাতে গোনা কয়েকজন (always only a few) ক্ষমতা পায় এবং বাকিরা তাদের নিত্যদিন একি রকম জীবন যাপন করতে ঘরে ফিরে যায়। সুতরাং বিপ্লবী-দিনের ইউফোরিয়া কমে আসার বাস্তবতায় “জীবন কতটুকু পরিবর্তন হলো” (“how far our life has changed/ improved”) এই প্রশ্ন বারবার মাঠে ঘাটে অফিসে বাজারে প্রতিনিয়ত মানুষকে ভাবাতে থাকে, কারণ বিপ্লব হয়েছে ঠিকই, কিছু মানুষ পালিয়ে আছে/গেছে, কিন্তু the old structure is still intact, a structure which sheer gathering of a mass cannot dissolve and resolve. It needs a systematic functioning by a group of skilled persons which is rather a slow process and a job, again, of a very “few” in power, law, administration, and bureaucracy. আর এই বুরোক্রাটিক ব্যবস্থা ১৯৪৭ ব্রিটিশরা এবং ১৯৭১ এ পাকিস্তানীরা চলে যাবার পর যে সমস্যা ফেস করেছিলো মোটাদাগে সেটাই ফেস করছে । আন্দোলন পরবর্তী অনেক অনেক গুলো পজিটিভ উদ্যোগ নেয়া হলেও এবং কিছুক্ষেত্রে নতুন নতুন ব্যবস্থা/ রদবদল হলেও বুরোক্রাটিক ব্যবস্থা এবং ওভারোল জাতি এখন ও বিপদ্গ্রস্থ। একসাথে কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে একমত হয়ে সাধারণ মানুষকে স্বস্তি দেয়া, জীবন যাপনের একটি গুনগত পরিবর্তন এটা এখনও দেখা যাচ্ছে না।

তাই সাধারণ মানুষেরা আন্দোলনের ফসল সহসাই ঘরে তুলতে পারবে না বলেই মনে হচ্ছে।‌ বিভিন্ন স্থানে যখন বিভিন্ন গ্রুপে গ্রুপে “processes of resistance” চলছে, কিন্তু এসবের ভেতরেও সবখানে আশা নিরাশার দোলাচল। এখনো অনেক বিষয়ে বিষয়ের এত এত জটলা আর জটিলতা যে আমাদের মনোজগত একদম টালমাটাল। ফ্যাসিবাদের পতনে আমরা খুশি কিন্তু ফ্যাসিবাদের অবশিষ্ট/রেসিডু কিভাবে মোকাবেলা করে সার্বিকভাবে শান্তিময় দেশ হবে সেটা মনে হচ্ছে যেন ইউটোপিয়া। এই সময়ে তাই Animal Farm আবার যেন প্রাসঙ্গিক হয়ে উঠে । আমাদের মতো সাধারণ মানুষদের Boxer and Clover এর মতো মনে হয়। বার বার আহত হয়েছেন তাদের মানুষগুলোর খবর এবং ছবিগুলো দেখি এবং নিদারুন কস্ট লাগে। সবাই কত বিষয় নিয়ে কাইজ্যা করছে, আর তারা? কষ্টে কষ্টে পারে করছে প্রতিটি মুহূর্ত ! এদের দিকে তাকিয়ে হলেও দেশটাকে কি একটু শান্তি দেয়া যায় না? জুলাই বিপ্লবের/ অভ্যুত্থানের লক্ষ্য সামনে রেখে সব কাজ করা যায় না? এসব ভাবি আর মনে হয়, আমাদের সামনে এখনো বোধয় সীমাহীন পথচলা।

উম্মে সালমা, ১৬/১০/২০২৪

Reflections

“মব” শব্দটির সমস্যা কোথায়?

অনেকেরই ধারণা যা চলছে তা হলো “মবের মুলুক”।

আসলেই কি তাই?

ইংরেজি “মব” (mob) একটি abstract ধারণা। দেশের কিছু জনগণ একসাথে হলেই তাকে মব বলা হয়।‌ এই অবস্থায় সব ধরনের মানুষের ব্যাক্তিগত পরিচয় বিলুপ্ত হয়ে যায় অথবা আড়ালে চলে যায়। কেউ বুঝতে পারে না যারা জড়ো হয়েছে তারা কে কোন মনের-ধ্যানের, কে কোন আইডোলজির, কে কোন ধর্মের, কে কোন রাজনৈতিক দলের, কে কোন লিঙের, কে কোন প্রফেশনের, কে কোন জেলার, কে কোন উদ্দেশ্যের।‌ সবাইকে একসাথে মিশিয়ে এক কাতারে নিয়ে ফেলে তাদের মোরাল প্রবলেম মাপা হয়।

আজকের বাংলাদেশে যাদের এই মুলুকের “রাজা” বা ” ক্ষমতাধর” ভাবা হচ্ছে তারা কি এসব পরিচয় থেকে মুক্ত? গত ১৬ বছরে কি একজন সাধারণ মানুষও ছিল যাদের রাজনৈতিক পরিচয় এবং দল ছিল না, ইনক্লুডিং নিপীড়িত নির্যাতিত দলগুলের মানুষ? একদিকে মজলুমের যন্ত্রণা কান্না রক্ত মৃত্যু দেখেছি আর অন্যদিকে দেখেছি সবচেয়ে গোবেচারা সবচেয়ে নিরীহ সবচেয়ে শান্তিপ্রিয় মানুষদেরও মিনমিন করে হাসিনা পূজো করতে।‌ ইঁদুরের গর্তের ইঁদুরও স্বৈরাচারের দূরতম যোগসাজশ সফট সমর্থক হয়ে উঠেছিল। সেই সময়ে আমি কাউকে কাউকে প্রশ্ন ও করেছিলাম, “আপনিও? উনিও? কিন্তু কেন?”

তো এই অবস্থায় “মব” কে কালারলেস ( colorless) বানানো কি আসলেই যুক্তিযুক্ত? এর মানে এই কথা বলা না যে, সব ধরণের মানুষ সম্মিলিতভাবে অপরাধ করতে প্রস্তুত এবং করছে? এবং এর ভেতর আমি আপনি সে তুমি সবাই আছ? বাংলাদেশের সবাই শুধু বাচ্চা, বৃদ্ধ, অসুস্থ মানুষ ছাড়া?

তাই “মব” শব্দটা শুনে আমি চমকে উঠি। আমি এই ভাষা নিতে পারি না। এটা শুনলে প্রথম যে প্রশ্ন আমাকে ধাক্কা দেয় এবং যা আমি আমাকে করি, তা হলো, “আমি কি এমন যে মানুষকে এমনি এমনি আঘাত করতে কিংবা মারতে পারি?” এরপর আমি নিজেই এর উত্তর দিই, “না, আমি পারিনা। কারণ আমি কখনো এরকম অন্যায় করা দূরে থাক, অন্যায় হবে ভাবলেই ভয়ে কেঁপে উঠি। হায় হায় করি। কষ্ট পাই। আমি এভাবে প্রোগ্রামাড না!”

আমি বলবো, যারা মবের মুলুক বলে জপ করছেন, এই একি প্রশ্ন আপনি নিজেকে করুন। তখনই বুঝতে পারবেন, আপনি ঐ “মব” শব্দ বা দলের কিনা যারা ভয়ানক সব কাজ করছে। এখানে ওখানে। যদি আপনি ঐ অপরাধী কাজ করতে পারা দলের হন ভিন্ন কথা! আর যদি এই দলের না হন, তখনি আপনার যে প্রশ্ন মনে আসবে আমি শিওর, “তাহলে এসব অরাজকতা কে করছে? কে বার বার তাদের হাত রক্তে রঞ্জিত করছে? কারা আগুন নিয়ে খেলতে থাকে? কাদের এত রাগ? এত ঘৃণা, এত হঠকারিতা?”

স্বাগতম, অপরাধ এবং অপরাধী সনাক্ত করার প্রথম স্তরে আপনি পৌঁছেছেন।‌
আর এসব প্রশ্নের মাধ্যমে আপনি বুঝতে পারবেন, অপরাধীরা “মব” নয়, “মব” থাকে না। তাদের রঙ, আইডোলজি, দল, মোটিভ, এবং প্রফেশন আছে। তাদের নিজস্ব স্টেক আছে তাদের কাজকর্মের জন্য। আর এই চিহ্নিতকরণ হলো বিচারের পথ উন্মুক্ত হোয়া।অপরাধ ব্যক্তিগত দায় থেকে শুরু হয় এবং এর শাস্তিও ব্যক্তিকে ব্যক্তিগতভাবে ভোগ করতে হয়।‌

একটা ঘটনা বলি বেশ কয়েকদিন আগে, বাংলাদেশী এক স্টুডেন্ট অষ্ট্রেলিয়ায় একটি আইনি ঝামেলায় পড়ে যায়। সে যেখানে কাজ করতো সেই রেস্টুরেন্টে নিজের হেডম দেখাতে গিয়ে বাংলাদেশে তার স্কুল কলেজের সহপাঠীদের সাথে কি কি করতো তার এক সহকর্মীকে বলে। তার কাজের ফিরিস্তি শুনে এ দেশী ছেলেটি খুব ভয় পেয়ে যায়। সে ম্যানেজারের কাছে সব বলে এবং ম্যানেজার পুলিশ কে জানায়, বাংলাদেশের এক অপরাধী এখানে চলে এসেছে। তখন পুলিশ তাকে গ্রেফতার করে।

এই ঘটনা পড়ে আমি খুব খুব অবাক হয়েছিলাম। কেন জানেন? আমাদের ইয়াং জেনারেশনকে গত ১৬ বছর কিংবা তারোও আগে ক্রাইমের সাথে অভ্যস্ত করে তোলা ছিল শাসকদের একটা গুরুত্বপূর্ণ কাজ। একপর্যায়ে তারা ভুলে গেছে অপরাধ কোনটা? কোনটাতে হেডম দেখাতে হয়! দলীয় সরকারের অধীনে দলের রাজনীতিতে ন্যায় অন্যায়ের যে নূন্যতম সংজ্ঞা এবং সেনস সেসব তাদের কাছ থেকে কেড়ে নেয়া হয়েছিল। এজন্য “এই মার এই ধর” বললে একদল না জেনে না শুনে ঝাপায়ে পড়ে এবং অপরাধ করতে পিছপা হয় না।

এরা “মব” না। এরা বিশেষ কেউ। এদের অবশ্যই রঙ আছে। তাই মব বলে বলে আমি অপরাধীদের রঙহীন করতে পারিনা। বিচারের পথ ধোঁয়াশা এবং বন্ধ করতে পারিনা। তাই এখন যা চলছে, তা গভীরভাবে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত কর্মকাণ্ড। দুঃখজনক হলেও সত্যি।

উম্মে সালমা
২১/০৯/২০২৪

Reflections

একটি কবিতা, মূরের শেষ দীর্ঘশ্বাস এবং কিছু কথা

The Last Sigh of the Moor

Theophile Gautier

The cavalier who hastes the height to gain,
Pale and with trembling knees,
Is Boabdil, king of the Moors of Spain,
Who could have died, yet flees.
To Spaniards now Granada is restored,
Crescent doth yield to cross,
By Boabdil, with tears not blood deplored,
Is his dear city’s loss.
Upon a rock, Sigh of the Moor, they call,
Boabdil sat, and cast
On far Granada and Alhambra’s wall
A long look and the last.
“There I was caliph yesterday,
Lived like a very god below;
The Generalife wooed my stay,
And then the Alhambra’s blazing glow.
Clear, floating baths were mine, and there
Sultanas, my three hundred fair,
Bathed, all secure from impious stare.
My name on all the world cast fear.
Alas! my power is now brought low,
My valiant army flies the foe, —
With none to follow me I go,
Save my own shadow, ever near.
Dissolve, dissolve in tears, my eyes!
Up from my armor heave the steel,
Ye deep heart-sighs that now arise!
He conquers to whom Christians kneel!
I go; adieu, fair sky of Spain,
Darro, Jenil, the verdant plain,
The snowy peaks with rosy stain;
Farewell, Granada! loves, adieu!
Sunny Alhambra, vermeil towers,
Fresh gardens filled with wondrous flowers,
In vigils and in dreaming hours,
Absent, I still shall look on you!”

[The Last Sigh of the Moor, or in Spanish, El último suspiro del Moro, is the pass over the Sierra Nevada where Boabdil, the defeated Moorish King of Granada, turned for his last glimpse of his lost realm.]

উপরের কবিতা যতবার পড়েছি ততবার কেমন যেন খুব খুব কষ্ট লেগেছে। গ্রানাডার পতনের পর তার শেষ রাজা আবু আবদিল্লাহ মুহাম্মদ XII যিনি বোয়াবডিল নামে পরিচিত ছিলেন তার প্রিয় প্রাসাদ “আলহামবরা” বা লাল মাটির বাড়ি ছেড়ে চলে যাচ্ছেন। তিনি মরে যেতে পারতেন। কিন্তু না। তিনি পালিয়ে যাচ্ছেন। স্পেন এখন স্পেনিয়াডদের। ক্রুশের কাছে চাঁদের পতন হয়েছে।

বোয়াবডিলের পাহাড়ে চড়তে তার খুব কষ্ট হচ্ছে। তার চেহারা মলিন। চলে যেতে পাহাড়ের চূড়ায় বানানো অত্যাধুনিক কমপ্লেক্স যা সূর্যের আলোয় লাল হলুদ বর্ণ ধারণ করছে তার দিকে তাকাচ্ছেন। সাথে কেউ নেই। নেই পরিবারের সদস্যরা নেই সৈন্য সামন্ত। পরাজয়ের গ্লানি তাকে কুরে কুরে খাচ্ছে… তিনি ভাবতে পারছেন না এই আলহামবরাকে এই সৌন্দর্য এই বাগান এই টাওয়ার তিনি কিভাবে ভুলবেন? পারবেন না… যেখানে যাবেন তার মন থাকবে এখানে… “Absent, I still shall look on you.” আহা!

কিন্তু কবিতা পড়তে পড়তে ওরিয়েন্টালিজমের গন্ধ পাই। তিনি চলে যাচ্ছেন আর নাকি ভাবছেন, আমি গতকালও এই প্রাসাদে দুনিয়ার “প্রভু” হিসেবে শাসন করেছি। আমার তিনশত সুন্দরী সুলতানাদের খারাপ নজর থেকে রক্ষা করেছি, সেই সুলতানাদের যারা এই “ভাসমান বাথরুমে”(floating baths) গোসল করতো। সিরিয়াসলি? এই যে মুসলিম শাসকরা নিজেদের প্রভু মনে করতো কিংবা তাদের সেক্সুয়াল প্রফলিগেছি এটাই ছিল Orientalist প্রোপাগান্ডা। এই প্রোপাগান্ডা চালিয়ে এরা ব্রিটিশ ইম্পেরিয়াল শাসন পাকাপোক্ত করেছে এবং দীর্ঘসময় এই পৃথিবীতে self/ other binary সৃষ্টি করেছে, যা এখনো শেষ হয়ে যায়নি।

আবার অপর দিকে ভাবি, কেন এই ক্রুসেডার ক্রিশ্চিয়ানরা মুসলিমদের এত কাছ থেকে দেখার পরো ইসলামে যে শাসক প্রভু হয় না এটা বুঝতে পারেনি? কেন নারীদের দিয়ে বেষ্টিত দেখিয়ে তাদের মোরালিটি খুব প্রশ্নবোধক করে রেখেছে? এটা কি বুঝের অভাব? না পলিটিক্স এবং ন্যারেটিভ নির্মাণ? নাকি মুসলিমরা তখন আমাদের মতো নামসর্বস্ব মুসলিম ছিলো। তাদের দেখে ইসলাম বোঝার উপায় ছিলো না? ইসলামী রাজ্য শাসনের মূলনীতি কি করে বুঝবে?

দি এজ অফ এম্পায়ার আসলেই খুব ইন্টারেস্টিং। দ্বন্দ্ব যুদ্ধ জয় পরাজয় প্রাসাদ দখল টাওয়ারে আটকে রেখে শাস্তি অথবা নির্বাসন…এ যেন আরেক পৃথিবী।

উম্মে সালমা
২৮/০৫/২০২৪

Reflections

বিবর্তনবাদ তত্ত্ব কি বলে? জর্জ এলিয়ট কিভাবে তা সাহিত্যে এনেছেন?

চার্লস ডারউইনের নাম কেনা জানে! বিশ্বাসী অবিশ্বাসী সবার কাছে নামটি এত পরিচিত যে, সেই বুদ্ধি বুঝের কাল থেকে দেখে আসছি, থেয়িষ্টরা এই নামটা শুনলেই আঁতকে উঠে এবং এথেয়েষ্টিরা যাষ্ট পুজো করে আর ওর বিবর্তনবাদ ( theory of evolution) নিয়ে রীতিমতো তাদের অপোনেন্টদের ঘায়েল করে। ইংরেজি সাহিত্যের সমালোচনা (criticism) এবং এর সাথে সম্পৃক্ত লাইফ ফিলোসফি পড়তে গিয়ে প্রায়ই একটা তথ্য ক্রিটিক্যাল পারস্পেকটিভ হয়ে চলে আসতো, “What about the human history and culture if a monkey/ ape stands in the entrance of its existence? এথেয়িষ্টরা তৃপ্তির ঢেঁকুর তুলে, যাক বিজ্ঞান পাওয়া গেল ধর্মকে রিপ্লেস করতে। আর থেয়িষ্টরা কি বলবো! এই বিষয়ে কথা বলতেই নারাজ। পাছে বিশ্বাস ভেঙ্গে পড়ে। অনেকেই দেখেছি বেচারা ডারউইনকে তুলোধুনো করে।

এত কথা কেন বলছি জানেন? ঠিক গতকাল রাতে The Origin of Species সম্পর্কে জেনে ঠিক নিজেকেই জিজ্ঞেস করলাম, “আচ্ছা এই বইটি ঠিক কজন পড়েছে?” আদৌ কি পড়েছে? গতকাল ভিক্টোরিয়ান সাহিত্যের গবেষক এবং শিক্ষক ড মেলিসা ডিকসনের একটা লেকচার শুনছিলাম George Eliot এর The Mill on the Floss এর উপর। এই লেখিকা কিভাবে তার সময়কার বিজ্ঞান, বিশ্বাস আর মানবিক সম্পর্ক কে ভিক্টোরিয়ান সাইন্সের আলোকে দেখেছেন সেটা বোঝাতে গিয়ে তিনি ডারউইনের বিবর্তনবাদ তত্ত্ব ডিবাংক করেছেন এবং দেখিয়েছেন যেটা এই লোক বলেননি বা আদৌ তার রিসার্চের বিষয় ছিলো না তা তার উপর কিভাবে চাপানো হয়েছে। যা করেছে হারবার্ট স্পেনসার তার Social Darwinism তত্ত্বের আবিষ্কার করে। আর এই “Social Darwinism” দিয়েই ব্রিটিশ ইম্পেরিয়াল এবং কলোনীয়াল মাষ্টাররা race ladder এবং race theory তৈরি করে আমাদের মতো এখনো নতজানু ( still enslaved) জাতি তৈরি এবং শাসন করেছে।

এই শোনার পর থেকেই আমার ঘুম নেই। আমি খুব এক্সাইটেড, আচ্ছা, theory of evolution কি বলে? এ সপ্তাহে George Eliot পড়াবো, আমার না জেনে ক্লাসে যাওয়া ঠিক হবে না। ঘাটতে ঘাটতে যা পেলাম, theory of evolution যেটা প্রাণীদের উপর রিসার্চ করে দেয়া হয়েছিল সেটার দুটি হাইপোথিসিস আছে,

১. Struggle for existence: the competition that ensues among each species ( he did not include human beings) on Earth to maintain themselves in a given environment, to survive and to reproduce of their kind

২. Natural selection: the principal by which, within the struggle for existence, certain types and species thrive and others perish

এই দুটি হাইপোথিসিস তাকে নিয়ে যায় আরেকটি আইডিয়াতে যেখানে তিনি দেখেছেন এই পৃথিবীকে ‘ a tangled bank” হিসেবে যেখানে সব গাছপালা পশুপাখি একটা ইন্টারডেপেনডেন্ট সম্পর্কে জড়িয়ে আছে এবং একটি অলিখিত সিষ্টেম অনুযায়ী চলছে।

তো এখানে বিবর্তনবাদ তত্ত্ব কি শেখায়? কোন supreme intelligence নেই? Supreme being নেই? বা God নেই? God is dead? এই লেখক নিজেও এথিষ্ট ছিলে না। তিনি Christianity র মানুষ কেন্দ্রীয় একচেটিয়া চিন্তা কে প্রশ্ন করেছেন এবং দেখিয়েছেন যে মানুষ নামক এই প্রানী কুল মাখলুকাতের সবার মধ্যে একটি মাত্র প্রানী। স্বাভাবিক বারবার নিজেদের সুবিধার জন্য পরিবর্তন করা একটি কিতাবের ধারক বাহকেরা কেমনে সেটা মেনে নেবে? তাদের এতদিনের ক্ষমতা প্রতিপত্তি সব খতম হয়ে যাবে না? তাইতো তাকে অপছন্দ করার কারনো বহু এবং লুফে নেয়ার কারনো বহু। তার মধ্যে একটি হলো, রেঁনেসাকালীন God-centred মানব জাতির ধারনা থেকে Man-centred যুগের আবির্ভাব যেখানে সব সুন্দর including women হোয়াইট আলফা মেইলের ভোগ্যপন্যে পরিনত হয়। আর তার ঐতিহাসিক বাই প্রোডাকট হিসেবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ফেমিনিষ্ট মুভমেন্ট তৈরি হবে সেটা কি খুব অস্বাভাবিক?

জর্জ এলিয়ট তার Mill on the Floss এ ডারউইনের বিবর্তনবাদ তত্ত্ব নিয়ে একটি এক্সপেরিমেন্ট করেছেন। একদল ডিফরমড, বিউটিফুল, ব্লাক, এবং ক্যাপাবেল চরিত্র এনে তিনি দেখিয়েছেন বেঁচে থাকার লড়াই এ ন্যাচারাল সিলেকশন কাজ করলে কেউ survive করে, কেউ thrive করে, এবং কেউ ডাইভ করে। তো এ থেকে বাঁচার উপায় হলো মানুষের একে অপরের সাথে সম্পৃক্ততা এবং নির্ভরতাকে মূল্যায়ন করা এবং পড়ে যাওয়া মানুষকে ফেলে না দিয়ে তাদের পথ চলতে সহযোগিতা করা। জীবনের যুদ্ধ থাকবেই কিন্তু প্রকৃতির মতো জীবন হতে হবে “a tangled bank.” আর এটাই জর্জ এলিয়টের মোরাল ফিলোসফি।

উম্মে সালমা, ১৬/০৫/২০২৪

The Way The Quran Reaches Me

একটি ব্যবসা: প্রতারণার, নির্বুদ্ধিতার আর ঠাট্টার?

সূরা বাকারা পড়তে গেলে কিছু আয়াতে সবসময় চোখ আটকে যায়। আয়াত গুলো হলো আট থেকে বিশ। যতবার পড়ি ততবারই মনে হয় এই উপমা আর রুপকতা মন্ডিত কথাগুলো সত্যি কি আমি বুঝি? উপমা নিয়ে রিসার্চ করা আমি বারবার ফিরে ফিরে যাই আয়াত গুলোতে। দেখতে চাই কি ভীষণ জীবন্ত সেই মেটাফোরিকেল ইমাজারি, চোখের সামনে ভেসে ওঠে আবার হারিয়ে যায়, মনে হয় এ দৃশ্য আমি কোনদিন দেখেনি বলেই কি এটা একসাথে ভয়, বিষাদ, আর হাহাকার তৈরি করে?

আয়াতগুলোর সরল অনুবাদ বা আরবী ভাষা জানা সবার কাছে অর্থ একেবারেই পরিস্কার। আলীফ লাম মীম ( মাদ দিয়ে টেনে পড়ুন) দিয়ে শুরু হয়ে দুই থেকে সাত নম্বর আয়াত পর্যন্ত কুরআনকে মানুষের সাথে পরিচয় করিয়ে দেয়া হয়েছে এবং বলা হয়েছে এই মানুষরা কি কি বৈশিষ্ট্য থাকলে মুত্তাকী হতে পারে। সেই সাথে বলা হয়েছে যে সব মানুষ এসব মেনে নিতে পারেনা, তাদের সাবধান করলে ও কিংবা না করলেও তারা মেনে নেবে না। বারবার নিজের অন্তরের গভীরে থাকা আল্লাহর অস্তিত্ব রেখে ঢেকে রাখার কারণে আল্লাহ একসময় তাদের মন এবং কানের যে বুঝক্ষমতা তা সিলগালা করে দিয়েছেন। তাদের চোখের উপর এখন একটি আবরন পড়ে গেছে । তারা আর কিছুই অনুধাবন করতে পারবেনা।

কিন্তু ম্যাজিকেল আয়াত গুলো তার পর পরই। আল্লাহ তারপরি দুই দল মানুষের কথা বলেছেন। তিনি তুলনা করছেন ঈমান এবং কুফরকে কে একটি ব্যবসা হিসেবে। ব্যবসা বাণিজ্য একটি লেনদেন লাভ ক্ষতিকে ঘিরে আবর্তিত। এই ব্যবসায় মানুষ যে পন্য দুটো কিনতে পারে বিক্রি করে মুনাফার জন্য সেগুলো হলো: হেদায়েত আর গোমরাহী। যারা আল্লাহ প্রথম সাত আয়াতে মুত্তাকীদের যে বৈশিষ্ট্য বর্ণনা করেছেন তা অস্বীকার করে তারা কিনে নেয় গোমরাহী। জীবনভর এই ব্যবসা বাণিজ্য করতেই থাকে। শেষ পর্যন্ত দেখে, হায়! তার ব্যবসায় মারাত্মক ক্ষতি আর ধ্বস।

সবচে ইন্টারেস্টিং যে বিষয় হলো এই মানুষরা আসলে কারা। তারা কি এমন করে যে তাদের ব্যবসা যে অলাভজনক হয়? এটা বুঝতে গিয়ে আমার চোখ আটকে যায় জন্য তিনটি শব্দের দিকে: প্রতারনা, নির্বুদ্ধিতা, আর ঠাট্টা। প্রতারনা কি? যা দেখি যা দেখায় তা যখন মিথ্যে হয় তখন তাকে প্রতারনা বলে। এসব মানুষ মুখে মুখে বলে তারা আল্লাহ যা যা বলেছেন সব বিশ্বাস করে। কিন্তু আসলে তা নয়। তাদের কাজ প্রমান করে তারা অন্যরকম। কিন্তু তারা স্বীকার করতে চায় না। জমিনের উপর সব ধরনের বিপর্যয় করতে থাকে আর জিজ্ঞেস করলে বলে, তারাতো সবার ভালো চায়। তারা জমিনকে শান্তিতে ভরিয়ে রাখতে চায়।

তারপর আরেকটা ধাপ অতিক্রম করে তাদের যদি বলা হয় ঈমান আনো। এরা নিজেদের বুদ্ধিমান বলে দাবি করে। আর ঈমানদারদের বলে নির্বোধ। আসলে বোকা বা নির্বোধ কে? যার বুদ্ধি কম। যারা বুঝে না। এরা ভাবে আরে আমরাতো বুদ্ধিমান, আমরা কেন এ কাজ করবো? যা দেখিনা তা বিশ্বাস করবো? নিজের টাকা থেকে অন্যের জন্য খরচ করবো? নো ওয়ে।

এর পরেরটা হলো, ঠাট্টা করা। উপহাস করা। এরা সময় সময় যখন ঈমানদারদের সাথে মেশে, বলে আমরা তোমাদের সাথে আছি। আবার যখন তাদের মতো লোকের সাথে বসে বলতে থাকে, ওদের সাথে তারা মজা করছে। তাদের চোখে মুখে থাকে আত্মতৃপ্তির আভা। তারা জোক আর মোক করতে পেরে হেসে লুটোপুটি খায়।

এই দৃশ্য যখন আমার মনের চোখ দেখে আমার বুক কাঁপে। আমি কি এদের মতো কেউ? নিজেকে খুব বুদ্ধিমতি ভাবি আর প্রতারণা করি ঠাট্টা করি সত্যের সাথে? এর অনূভুতি তীব্র হয় যখন উপমাতে এসে থেমে যাই। আমি দেখি, এক লোক আলো জ্বালছে। সে আলো জ্বালাতে কত কিছুর আয়োজন করলো। আলো ও জ্বলল। কিন্তু আলো দেখার আগেই তার চোখ অন্ধ হয়ে গেল। এখন চেরাগের বাতি হোক কিংবা ইলেকট্রনিক লাইট সে কিছুই দেখতে পায়না।

অথবা খুব ঝড় বৃষ্টির রাত। বিদ্যুত চমকাচ্ছে। এক লোক এর মধ্য দিয়ে পথ চলছে। বজ্রপাত আর বিদ্যুৎ চমক হলে সে এত ভয় পায় সাথে সাথে কানে আঙ্গুল দেয় এবং চোখ বুজে ফেলে। আবার যখন ওসব একটু থামে একটু আলো ঝলকানি দেয় সে একটু হাঁটে। তারপর আবার ভয় পায় এবং আবার থামে। আবার একটু চলে। আবার থামে। এই অবস্থায় যদি এমন হয় যে বিদ্যুৎ তার চোখের দৃষ্টি ছিনিয়ে নেয়, সে কি করবে?

আল্লাহ বলছেন, এই হলো এই অলাভজনক ব্যবসায়ে নিমজ্জিত লোকদের জীবন। এরা ভাবে আমার চোখ আমার মন আমার কান সবকিছু আমার। এরা ভাবে আমি যেমন চাই তেমনি আমার এই শরীর কন্ট্রোল করতে পারি। আমার জীবন নির্বাহ করতে পারি। আসলে কিন্তু তা নয়। অন্ধকার রাত কিংবা ঝড় বৃষ্টির রাতের মতো আমাদের এই জীবনে আল্লাহ সব কিছুর উপর ক্ষমতাবান। তিনি চাইলে আমাদের চোখের দ্যুতি নিয়ে নিতে পারেন আমাদের পথ থমকে দিতে পারেন আমাদের বুঝক্ষমতা কেড়ে নিতে পারেন।

কিন্তু তিনি গোমরাহীর বিজনেস ম্যাগনেটদের সাথে তৎক্ষণাৎ তা করছেন না। তিনি তাদের অবকাশ দিচ্ছেন। দেখছেন নিজেকে ধোঁকা দিয়ে নিজের সাথে ঠাট্টা করে শেষ পর্যন্ত এই মানুষেরা কোথায় গিয়ে পৌঁছায়। তাদের বিদ্রোহ তাদের কত দিন তাদের উদ্ভ্রান্ত করে রাখে।

এখানে এসে আমি আবার থমকে যাই। হে প্রভু!কেন সব মানুষকে তুমি হেদায়েতের ব্যবসা বাণিজ্য করতে দাও না? তখনি আমার চোখের সামনে ভেসে ওঠে মানুষের এজেন্সির আইডিয়া। মানুষের আছে ইচ্ছাশক্তি। আছে ইনটেনটেনশন, ডিসিসান নেবার এবং পছন্দ করার ক্ষমতা। যে এই ক্ষমতাকে কাজে লাগিয়ে গোমরাহীর ব্যবসা করছে, তাকে জোর করে হেদায়েতের ব্যবসা বাণিজ্যে লাগানো কি ইনজাষ্টিস নয়? ইচ্ছা স্বাধীনতার অবমূল্যায়ন নয়? ইনইকুয়ালিটি নয় ? ইনিকুইটি নয়? এটা কেমনে হয় একটা মানুষের কমলালেবুর চাহিদা নেই, আর আমি তাকে জোর করে কমলালেবু খাওয়াচ্ছি…

মানুষদের কুরআন একদম শুরুতে মানুষকে (আই রিপিট, মানুষ নামের প্রাণীটিকে, বিশ্বাসীদের না, মুসলিমদের না) ডাকছে। ডেকে ডেকে বলছে, “দেখো, তুমি চাইলে এরকম হতে পারো। চাইলে ওরকম হতে পারো। তুমি হলে গিয়ে ব্যবসায়ী। সিদ্ধান্ত নাও তোমার প্রভুর সাথে তুমি কি নিয়ে ব্যবসা বাণিজ্য করবে। কি পন্য কিনে তুমি তোমার জীবনের দোকান সাজাবে, জীবনের মার্কেটে কি দ্রব্য তুমি লেনদেন করবে? The choice is yours. You can use your full potential to do anything ( mocking, deciting, or priding). But keep in mind, Allah is in the rear.”

কুরআন আমাকে বলে, আপনাকেও কি? আসুন একটু ভাবি।

উম্মে সালমা, ১২/৩/২০২৪

Reflections

শুরুটাই অসুন্দর


আমাদের বাংলাদেশী সংস্কৃতি তে পারিবারিক সম্পর্কের শুরু হয় বিয়ের মাধ্যমে। অভিভাবকদের পছন্দেই হোক বা ছেলেমেয়েদের প্রেমে হোক, বিয়ের মাধ্যমে একটি মেয়ের, একটি ছেলের এবং দুটি ফ্যামিলির কালচারাল শিফট ঘটে। এটা যুগ যুগ ধরে চলে আসছে।


অথচ এই চলে আসা জীবনধারা আমাদের সমাজে একটি অভাবনীয় নেতিবাচক আলোচনার বিষয়। আমি মাঝে মাঝে হিসেব করি, আমার চেনা শোনার মাঝে এমন কি কেউ আছে যে পরিবারের সম্পর্ক আর সদস্যদের নিয়ে তৃপ্ত? সত্যি কথা বলতে কি কাউকেই মনে করতে পারিনা। কারন সাধারণ মানুষ হতে শুরু করে এমনকি যারা খুব ধর্ম চর্চা করে তারা সবাই একি ধাঁচের। সরাসরি বা আকারে ইঙ্গিতে যেভাবেই হোক নিজের কমফোর্ট জোনে তারা গল্পের ঝুলি নিয়ে বসে, কার শ্বাশুড়ি কেমন, কার জামাই কতটা মা ন্যাওটা, এটা হয় বৌদের গল্প আর এর বিপরীত হয় শ্বাশুড়িদের গল্প। এই গল্পে জামাই শ্বশুরদের ও ভাগ থাকে। তারা এ পক্ষ ও পক্ষ নিয়ে পরিবারটা কে একটা concentration camp বানাতে সহযোগিতা করতে থাকে।


এই চিত্রের পেছনে অনেক অনেক অনেক কারন আছে। এর মাঝে আজ একটা নিয়ে বলতে চাই, মেটা হলো সম্পর্কের শুরুতেই সম্পর্ক শেষ করে দেয়া। কোন বিয়েই ১০০% পারফেক্ট নয়। বিয়ের আগে এবং প্রথম প্রথম অভিভাবকদের, বিশেষ করে ছেলের অভিভাবকরা, বিয়েতে ঘটে যাওয়া তাদের অপছন্দের কাজগুলো (যা মেয়ে পক্ষই করে) কখনো ভুলেন না। সেই শোধ তারা তুলেন মেয়ের উপর। ঠেস দিয়ে কথা বলা, বিশ্রী উপনাম দেয়া, নানারকম মুখভঙ্গি, কানাকানি, ফিসফিসানী এবং জিনিস পত্রের সমালোচনা, খাদ্য আইটেমের বাচ বিচার এগুলো চলতে থাকে প্রথম অনেকদিন এবং এটা খুব সহজেই নতুন মেয়েটার মন বিষিয়ে দেয়। সে একটা চির বিরক্তিকর অনূভুতি মনের মধ্যে পুষে নেয়, যার প্রভাব থাকে মরন পর্যন্ত।


একটি বীজ বপনের সময় তাকে নষ্ট করলে তা থেকে আর কোন গাছ হয়না, তেমনি সম্পর্কের বীজ বপনে যে যত্ন আর ভালোবাসা দরকার তার অভাবে এক একটা পরিবার আজ concentration camp. আমার খুব অবাক লাগে অভিভাবকদের একগুঁয়েমি এবং আধিপত্যমূলক আচরণ দেখলে। তারা নতুন মেয়েটিকে/নতুন বৌকে নূন্যতম সম্মানটুকু দিতে চায়না। এরা ভাবে, “সে কোন লাট সাহেব তারে আমি পুছবো?” ” তার দায়িত্ব মানিয়ে নেয়া, আমি যেমন করেছি আমার শ্বশুর বাড়িতে।” ” এসব সহ্য করতে হবে”। ইত্যাদি ইত্যাদি ইত্যাদি। এর জন্যি বোধহয় দেশের বাইরে বাংলাদেশের মেয়েরা আসলে আর যেতে চায়না। অনেকের সাথে কথা বলেছি, দেখেছি তারা পলায়নপর। বলে, বহূত ভালো আছি। আর কোন ক্যাচাল চাইনা।


আমি বলছি না, নতুন বৌরা সাধু সন্ত। আমরা কেউ কি তা? আমার প্রশ্ন হচ্ছে শত কথা আর অপছন্দের মাঝে যখন সম্পর্ক হয়ে যায়, তখন সব কিছু পিছে ফেলে, আমরা সে সম্পর্ক কে কেন স্বাভাবিক, বা তার চাইতে সুন্দর বা তারও বেশী কিছু করতে পারিনা? কেন আমাদের নোংরা আবর্জনা ঘাটতে হবে আর তার গন্ধ দেশ কাল ধরে ছড়াতে হবে? কেন আমরা এত সংকীর্ণ মনের? একটা নতুন মেয়েটিকে আত্ম-উত্তীর্ন ভালোবাসলে তাকে জায়গা দিলে তাকে সম্মান দেখালে
আমাদের কি ক্ষতি হয়?


এ মুহূর্তে কুরআন এর একটি আয়াত মনে পড়ছে, “যে মনের সংকীর্ণতা থেকে মুক্ত হলো, সে সফলতা লাভ করল।” তাহলে আমরা যারা এসব কাজ করি আর তা জারী রাখি, তা কি আমাদের মানসিক সংকীর্ণতা নয়? আমরা কি তাহলে অসফল নৈ, যত ধন আমাদের থাকুক?

ড. উম্মে সালমা
২০ আগষ্ট ২০২২.

Reflections

আমার রিসার্চ আগ্রহ


আমার চেনা জানা অনেক বন্ধু, পরিজন, শুভাকাঙ্ক্ষী অনেকেই স্বপ্রনোদিতভাবে ধরে নেন যে আমার ব্রডার রিচার্স ফিল্ড ফেমিনিষ্ট স্টাটিজ। তারা আরো মনে করেন, এই ফিল্ড বলেই আমি তৃতীয় বিশ্বের হিজাব পরিহিতা মুসলিম মেয়ে হয়েও স্কলারশীপ পেয়েছি এবং সফলভাবে ডক্টরেট ডিগ্রি হাসিল করেছি। এই সূত্র ধরে অনেকে আবার আমার নারী বিষয়ক মূল্যবান (?) বক্তব্য জানতে চান। অনেকে আবার বলেই বসেন, ফেমিনিষ্ট স্টাটিজ একটি unfeasible ফিল্ড, বিশেষ করে বিশ্বাসী মুসলিম মেয়েদের জন্য। বাংলাদেশের ফেমিনিজমের সামাজিক এবং সাংস্কৃতিক দুরাবস্থা তাদের একথা বলার পেছনে একটি প্রচ্ছন্ন কারণ হিসেবে থাকে।


তাই অনেক দিন ধরে ভাবছিলাম আমার রিসার্চ আগ্রহ নিয়ে কিছু লিখবো। আমার অবস্থান এবং অবস্থা খোলাসা করবো, আমার শুভাকাঙ্ক্ষীদের জন্য। আমার রিসার্চ ফিল্ড হলো migration, culture and identity in literature ( South Asia, Bangladesh). আমি international and intra-national migration pattern এ বাংলাদেশের মানুষদের ভাষাগত, ভাবনাগত এবং সাংস্কৃতিক কি পরিবর্তন আসে বা আদৌ কোনো পরিবর্তন আসে কিনা কিংবা তাদের struggle গুলো কোথায় তা আমি দেখতে চাই সাহিত্যের মাঝে। সাহিত্য আমার কাছে একটি রিপ্রেজেন্টেশন। লেখকের ইনটেনশন এবং একটি গল্প কিভাবে মুসলিম migrant life প্রেজেন্ট করে তা আমি বুঝতে চেষ্টা করি। মুসলিম বলতে আমি একটি comprehensive but diverse range এর মানুষ বুঝি, যারা কিছু দিকে একি এবং নানা দিক থেকে ভিন্ন।


এই রিসার্চ আগ্রহে জেন্ডার বিষয়ক আলোচনা আসে। অবধারিতভাবে। কিন্তু আমি শুধু নারীদের নিয়ে নারী চরিত্র নিয়ে কাজ করিনা। আমি নারী এবং পুরুষ উভয়কেই নিয়ে কাজ করি, আর জানতে চাই তাদের জীবনের সমস্যা এবং সম্ভাবনা যখন তারা একদেশের সংস্কৃতি থেকে এসে অন্যদেশের অন্য সংস্কৃতিতে নিজেদের জায়গা করে নিতে চায়। যাকে আমি বলি, cultural placemaking. আমার এই রিসার্চ আগ্রহের একটা interesting দিক হচ্ছে, my constant search for a fair ground and point. আমার পরিচিত কেউ কেউ ফেমিনিজম নিয়ে কাজ করেন। এটা আশাপ্রদ। কিন্তু নারী অধিকার নিয়ে বলতে বলতে তাদের সবকিছুতে “নারীর চোখ দিয়ে দেখার” যে প্রবনতা তা তাদের একটি biased and parochial জায়গায় নিয়ে যায়। এটা একটা blind point. I want to save myself from that. আশ্চর্যজনক হলেও সত্যি, এমন কিছু মেন্টর পেয়েছি এখানে যারা নিজেরা ও এরকম একটা প্রপার প্লেস চান এবং তা নিয়ে কাজ করেন এবং রিসার্চ সাপোর্ট দিয়ে গেছেন।


Religion/faith/spirituality আমার রিসার্চ এর একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। যদিও পিএইচডির সল্প সময়ে এই বিষয় কিভাবে approach করবো সেটা নিয়ে আমার অনেক কনফিউশন ছিল। এর কারণ হচ্ছে, ধর্ম আর আধ্যাত্তিকতা নিয়ে আমার chaotic and restless national background. আমাদের জেনারেশন মনে হয় সবচেয়ে দুর্ভাগা যে তারা একটি বিবদমান কিন্তু চাকচিক্যময় রাজনৈতিক পরিবেশে বেড়ে উঠেছে। সেই কনফিউশন দূর হয়েছে আমার ইউ কিউর রিলিজিয়াস স্টাডিজ বিভাগে একবছর পড়ানোর মাধ্যমে। আমি আমার ফিল্ডে কাজ করার পাশাপাশি তিনটি রিলিজিয়াস কোর্স পড়িয়েছি, যা আমার culture and identity এবং former religion and spirituality জ্ঞানকে enrich and in-depth করেছে। যারা আমাকে এই সুযোগ দিয়েছেন তাদের কাছে আমি এজন্য শুকরিয়া।


আমার রিসার্চ এর আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো human agency (কর্তাসত্তা)। দেশে থাকতে এই কনসেপ্টটা আমি কখনো শুনিনি। কোন আলোচনায় আসেনি। আমার সুপারভাইজার জুলিয়ানা আমাকে এটার সাথে পরিচয় করিয়ে দেন এবং এটা নিয়ে পড়তে বসিয়ে দেন। পড়তে পড়তে অতি অদৃষ্টবাদী সমাজ হতে আগত আমি বুঝতে পারি, how understanding human agency is essential for humans and their society.


আমি খুব ক্ষুদ্র নগন্য মানুষ। আমার রিসার্চ দিয়ে মানুষ বা সমাজ পরিবর্তন করবো ভাবিনা কখনো। Who cares? একটি অবধারিত প্রশ্ন। তবে কিছু কথা কিছু ভাবনা কিছু লেখালেখি হয়তো সাহায্য বা আলোকিত করতে পারে কিছু মানুষকে যারা এইফিল্ড বা আমাকে কেয়ার করে। তবে একজন literary humanities এর মানুষ হিসেবে আমার রিসার্চ আসলে শুরু হয়েছে, know thyself ভাবনা থেকে। অনেকে অনেক কারণে রিসার্চ ডিগ্রি নেয়। আমি নিয়েছি আমাকে জানবো বলে, সেই আমি যে বাংলাদেশী, মুসলিম, নারী, কন্যা, স্ত্রী এবং মা। সেই আমি যে দুই দেশভাগেরো এক দশক পরে একটি স্বাধীন কিন্তু অস্হির অসহিষ্ণু সমাজে জন্ম নিয়ে এবং বেড়ে উঠে নিজেকে বারবার হারিয়ে ফেলেছি।


আমার রিসার্চ এর সার্থকতা আমি নিজেকে অনেকটুকু খুঁজে পেয়েছি। Now there is no bad faith (as Jean Paul Satre defined). THIS is the joy of doing a research, being a self-searching human in the world. যে নিজেকে পায় সে অবশ্যই তার স্রষ্টা এবং তার মানুষদেরও পায়। যে নিজেকে পায়না, সে সব হারায়। এটাই সত্যি।
৬ সেপ্টেম্বর ২০২২. টুঅং।

Reflections

এবার নিজের কথা বলি

এইতো বেশ কিছুদিন আগে আমার এক কাজিন আমাকে একটি মেসেজ পাঠাল। মেসেজের মুল কথা, “আপু আপনি সংসার আর কারিয়ার ক্যামনে করেছেন, যখন আমার আম্মুকে দেখি ঘরের কাজে সারাদিন কেটে যায়।” ওর মেসেজ পেয়ে নতুন করে ভাবতে বসলাম আমাকে, আমার অতীত আর বর্তমানকে । আমি কোন সফল মানুষ না। “I have miles to go before I sleep” and “I did not pick up all apples from my tree,” অবস্থা আমার, আমার প্রিয় কবিদের একজন রবার্ট ফ্রস্টের মতো। আমি চাই আমাদের পরিবারের মেয়েরা জ্ঞানে কাজে ঐতিহাসিক মুসলিম নারীদের পথে এগিয়ে যাক। এই চাওয়া একটি অন্তর্গত বিষয়। এই বিষয়টি ভাবতে বসলে নিজের গল্প আসে। আসে এজন্য যে, এটা কোন ইউনিক গল্প নয়। একটি সাধারণ গল্প যেটি অনেকের গল্প, কিন্তু বলছি আমি। আর এই বলা এজন্য যে, পরিবারের এই ছোট ছোট বোনরা যাতে একটি ডিরেক্সান পায়। একটু আশান্বিত হয়–ইয়েস, আই কান ডু দাট। তবে এই প্রশ্নের এক কথায় ঊত্তর দেয়া কঠিন, তাই অনেক কথা আনতে হলো। একটি হোলিসটিক পিকচার এর জন্য।

মাঝে মাঝে আমি ভাবি, আমি কি? তখন কেন যেন মনে হয়, আমি মোটামুটি মানের একজন সমন্বয়সাধনকারী (reconcliator) এবং আলাপ আলোচনাকারী (negotiator). আমি জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে কথা বলা, আলোচনা করা, মীমাংসা করতে চাই, আমাদের সামনে সবচেয়ে ভালো লক্ষ্যকে এবং ফলাফলকে সামনে রেখে। আমি কোন কিছু চাপিয়ে দেয়াকে পছন্দ করিনা এবং এর চেয়ে ভালোবাসি যে কোন ক্রিটিকাল মুহূর্তে সমস্যার বেষ্ট সমাধান কি তা বের করে নিতে।

বাংলাদেশের সামাজিক, পারিবারিক, এবং সাংস্কৃতিক প্রেক্ষাপটে মেয়েদের জন্য এটা অসম্ভব এবং একটু আইডিয়ালিষ্কিটিক কিন্তু দুর্লভ নয়। এমন অনেকেই আছে যারা অনেক কম কালচারাল এবং পারিবারিক ক্যাপিটাল নিয়ে অনেক কিছু করেছে। আমার জীবনে আমার লক্ষ্যগুলো ছিলো স্থির বা বলতে পারি ক্রমান্বয়ে সাজানো। এটা নয় যে, আমি যখন টীনএজার ছিলাম, লিখে রেখেছিলাম কি হবো কি করবো ইত্যাদি । কিছু সপ্ন, কিছু ইচ্ছা, কিছু ভিন্ন কিছু করা যা আমার পরিবাররের মেয়েরা করেনি মনের ভেতর আসতো। আমি ভাবতাম, কি করে তাদের পূর্ণতা দেয়া যায়। কখনো কখোনো চারপাশের অবস্থা দেখে এমন কঠিন লাগতো, আমি মন খারাপ করতাম, হতাশ হতাম। তবুও ভাবতাম, আমি পারবো। আবার কখনো ভাবতাম, আচ্ছা, নাই ই পারলাম, জীবন না হয় হলোই অন্যরকম, যেমন আমি চাইনা। হয়ত সেটাই ভালো। আমি তো জানিনা!

কিন্তু হাল ছাড়তাম না। একটি মজার, দুঃখের এবং হতাশার বিষয় হলো, বিয়ের ব্যাপারটা। আমি বিয়েকে আমার জীবনের একটি turning point মনে করতাম। মনে করা ছাড়া উপায় ছিলোনা। ছিলো কি? এটি বাঙালি মেয়েদের একটি সাধারণ ব্যাপার। বড় মেয়ে, বিয়ে করাটা পারিবারিক আর সামাজিক একটা রীতি এবং দায়িত্ব ! না চাইলেও বিয়ে করতে হতো। তাই বিয়ে করবো না–একথা বলার আমার সুযোগ ছিলো না, আমার কিছু বন্ধুদের মত, যারা বিয়ে করতে চায়নি এবং করেনি। বিয়ের করতে চেয়েছে, হয়নি, এরা এই দলে না।

যাই হোক, বিয়ের জন্য আমার মনে একটা ধারনা এবং একটা ঝাপসা ম্যাপ ছিলো। ব্যাপারটা এরকম, ইস যদি এমন হতো! জীবন সঙ্গির অনেক এসেঞ্চিয়াল ফিচার এর মাঝে একটি অতি গুরুত্বপূর্ণ ছিলো আমার কাছে, টাকা নয়, পয়সা নয়, বাড়ি নয়, জমি নয়। সেটা হলো আমাকে পড়াশোনা করার সুযোগ দেবে এমন একজন। এটা শুধু এটা না যে, যাও পরো টাইপ। এটা হলো সবরকমের সহযোগিতা। জীবনযাপনের অনেক অনেক কাজের মাঝে আমার প্রয়োজনকে প্রাধান্য দেয়া। আমার “আমি” তাকে স্পেস দেয়া । বিয়ের সময়, একটা কথা খুব শুনতাম, “ভালো বর ভালো ঘর” । যারা এই ক্রাইটেরিয়াকে সামনে এনে আমার কাছে বিয়ের কথা বলতো, আমি দেখতে পেতাম এই কথাটার মানে কি গলদপূর্ন। এক ছেলের যদি চরিত্রে সমস্যা থাকে এবং এটা যদি একশত ভাগ সত্য হয়, তবু দেখলাম তাকে ভালো বরের কাতারে সামিল করা হচ্ছে। তাদের আমি প্রশ্ন করতাম, এ কেমনে ভালো বর হয়, অনেকে থতমত খেতো এবং অনেকে আমাকে নিয়ে খুব বিরক্ত হতো। কেউ কেউ এটাও বলতো, আমি অহংকারী।

যাইহোক, ভালো বরের কাতারে আমি তাদের ফেলতাম যাদের ভালো চরিত্র আছে, ভালো মন আছে এবং যারা ভালো মুসলিম হবার নিয়ত রাখে, তার জন্য সাধনা করে। জানিনা, কে কতটুকু ভালো। শুধু জানি, এই পর্যন্ত এরকমই পেয়েছি তাকে। আল্লাহু আলম। ফিরে যাই সেই কথায়, এমন একজন চেয়েছি যে আমাকে পড়তে দেবে এবং চাকরি করতে দেবে। এবং এটা পেলে, সেজন্য যে কোনো ধরনের প্লানিং এবং মানাজমেন্ট এর জন্য প্রস্তুত ছিলাম।

আমি খুব পরিশ্রমী ছিলাম। বলতে দ্বিধা নেই আজ। একটা কাজের পর একটি কাজ আর তার উপর আমার নিজের কাজ সব মিলিয়ে কাজ: আমার দিন গুলো এভাবে ছক বাঁধা ছিলো। কোন কাজ দেখে আমি ভয় পাইনি। কাজ করেছি। নিজের সমস্যা হলে বিরক্ত হয়েছি। মন খারাপ করেছি। কিন্তু চেয়েছি, অন্যের যদি আমাকে দিয়ে উপকার হয় আর আমার যদি শারীরিক, মানসিক আর আর্থিক সামরথে কুলোয়, আমি আছি। কথা, কাজ, পরামর্শ যেম্নে পারি, সাহায্য করে যাবো। শাড়ী চুড়ি গহনা মার্কেট কেনা কাটা অযথা ঘুরাঘুরি আমি খুব কমি করেছি। এসব আমার জায়গা না। আমার জন্য না। আমার কাজের ক্ষতি হয়, আমি লক্ষ্যচুত হই, এরকম কিছু আসলেই তাকে ডিলেট করে দিতে চেয়েছি।

আমি বলবো না, আমি সবক্ষেত্রে তা পেরেছি। কখনো কখনো অনুরোধে ঢেকির জায়গায় আমি জাহাজও গিলে ফেলি। সাধ্যে যা কুলায় তার চেয়ে বেশী করতে হয়েছে। পরিবার, মা, বোন, ননদ, দেবর, এবং স্বামী সবার সাহায্য চেয়েছি। সবাই সাহায্য করেছে সেটা সংসারের কাজ হোক বা বড় পরিবারের বা আমার পড়াশোনা কিংবা অফিস সংক্রান্ত। কখনো বলেনি, তোমারে কে কইছে পড়তে, কে কইছে চাকরি করতে, কে কইছে বাচ্ছা নিতে ইত্যাদি । আমার চারপাশে বেশীর ভাগ বউরা এগুলো শুনে। তাদের কাজের কোন recognition নেই। তাদের কাজের কোন দাম নেই। কিনতু আলহামদুলিল্লাহ, আমার সব কাজের দাম সবার কাছে ছিলো, দাম পেয়েছি।

এর একটি কি এই যে, আমার সংসার, পরিবার, আর আশপাশের মানুষের জন্য কিছু কাজ করার দুর্দান্ত আগ্রহ আর ইচ্ছা। “আমার একলা ঘরের আগল ভেঙ্গে বিশাল ভবে, প্রানের রথে বাহির হতে পারব কবে?” কি সুন্দর লাইনগুলো বাজত শুধু মনের কোণে । এই আমি কেন যেন খুব ঘর পাগল, ট্রাডিশানাল বাঙ্গালী নারীদের মত, একটি সুন্দর ঘরের জন্য সবসময় আকুল। যা ছিল, ছোট বড়, এটা মুছতাম, এটা গুছাতাম, এটা সরিয়ে এখানে, ওটা সরিয়ে ওখানে । To make change, to increase beauty, to polish. আমি অনেক নারী দেখি, যাদের ঘর খুব ময়লা, অগোছালো, আর তাদের নানা ধরনের কারন বলে এর পক্ষে। আমি জানিনা। শুধু জানি, আমি তাদের মতো না। আমি পারি না। আমি এরকম। আমাকে এরকম দেখে কেউ যে বিরক্ত হয়নি তা না, এব্যাপারে আমার ব্যাপার ছিলো, আমি করবো, পারলে সাহায্য করুক কেঊ। না পারলে থাক। পরে পরে দেখি, আমাদের ঘর সুন্দর লাগার জন্য আমরা সবাই এক পায়ে খাঁড়া । এজন্য কভিড-১৯ এর সময় অনেকের মতো ঘরে আটকা পড়ে আমি বিরক্ত হইনি। আমার ভালো লেগেছে হঠাত থেমে যাওয়া !

আমি দীর্ঘ দশ বছর বিশাল ফ্যামিলির জন্য রান্না করেছি। মিড-বিশে বিয়ে হয়, কিন্তু রাঁধতে জানতাম না। একটু কিছু নাস্তা বানানো ছাড়া। আমার রান্নার টিচার হলো, আমার মা, আমার ননদ, আর আমার ফুফু শাশুড়িরা। একটু একটু করে শিখেছি। বিরক্ত হইনি। আমি রাঁধতাম ফজরের পর। দিনে একবার, বেশী করে। যাতে আর রান্না ঘরে যেতে না হয়। আমার helping hand দের আমি আমার বাসা থেকে বের হবার পর আর রান্না ঘরে যেতে দিতে চাইতাম না, যখন ওরা ছোট ছিল এবং পরে আমার বাচ্চারা ছোট ছিল। আমার কাজ দেখে আমার ঘরের মেয়েরা কখনো বসে থাকেনি। তারা আমার সাথে সারা বছর কাজ করেছে যে যতটুকু পেরেছে, কখনো কেউ কারো দোষ ধরিনি, কারো উপর কিছু ছাপিয়ে দিইনি। এমন কিছু করিনি যেন আমার/ওদের পড়াশোনার ক্ষতি হয়। আজ কেউ কেউ ( যে আমার জীবন দেখেনি / আমার সাথে বাস করেনি) যখন বলে, আমাকে নাকি এমনি এমনি আমার শ্বশুরবাড়ির মানুষ (?) সহযোগিতা করে উপরে তুলে দিয়েছে, তখন বুঝিনা হাসবো না কাঁদবো । নিজের অপারগতা আর ব্যর্থতা ঢাকতে অন্যের ব্যাপারে অনায্য কথা বলা কি ঠিক?

রান্না আমাদের জীবনের অংশ। কিন্তু এটা জীবন না। রান্নাঘরে সময় কাটাতে চাইলে সারাদিন দেয়া যায়। কিন্তু রান্নাকে জীবনের মূলমন্ত্র মূলভিত্তি মূলবিন্দু হতে সরাতে হবে। আমি মহিয়শী নারীদের কাছ থেকে এটা শিখেছি। আমি তাই করেছি। রান্না করি নিয়মিত এবং পরিমিত। রান্না করি সুযোগ পেলে অনেক বেশী। এটা সেটা বানাই। মনের মাধুরী মিশিয়ে। কিন্তু, রান্নাঘর আর ঘরের কাজে সারাদিন দেই না। কয়েক ঘন্টা উইকডেতে আর তার চেয়ে বেশী উইক এন্ডে। রান্নাঘর শুধু আমার জীবন নয়। আমার প্রফেসান আমার কাছে যা আমার ঘরের মতো সমান দরকারী। তাকে গড়তে আমার প্রচুর সময় দিতে হয়েছে এবং এখনও হয়। আমি তাকে ছাড়া incomplete, selfless, and non-agentive. তাই আমি প্রানপনে তাদের মঝে negotiate করি। একটার জন্য অন্যটাকে ফেলে দিইনা, অবহেলা করিনা। আমি রান্না না করলে খাবো কি? না খেলে কাজ করবো কি করে? একটি মনের মতো ঘর না থাকলে থাকবো কোথায়? কোথায় ফিরবো কাজ শেষে ? ঘর তো আমার কাছে একটা স্টাকচার না, এটা নিলয়, এটা মায়া-মমতার কোল, একটি নীড়। আমার চাকরী তো শুধু চাকরি না, এটা আমার আবেগ, আমার পরিচয়, আমার অস্তিত্ব । তাহলে? কেন আমি এদের মাঝে বিরোধ রাখবো?

তাই আমি বলি, থিঙ্ক বিফোর ইয়উ লিপ। ঝট করে ভেবোনা আমি কারিয়ারে যাবো, ঝট করে ভেবো না, আমি শুধু গৃহিণী হবো। সব কিছুর কিছু গুড অ্যান্ড ব্যড সাইড আছে। আছে দুর্দান্ত সংগ্রাম । আর আছে আর্থিক প্রশ্ন, আছে অনিশ্চয়তা, আছে উদ্বেগ আর দুশ্চিন্তা।

আমি দেখেছি, আমার যে বান্ধবীটা শুধু গৃহিণী হতে চেয়েছিল, সে বিয়ে করতে পারেনি বা বিয়ে করেছে, মা-ই হতে পারেনি। যে কখনো চাকরি করতে চায়নি, সে চাকরি করছে। যে যে চাকরি করতে চেয়েছে, তা পারেনি। হতে চেয়েছে ডাক্তার, হয়েছে কেমিস্ট। হতে চেয়েছে ছেলের মা, হয়েছে, মেয়ের মা। চেয়েছে বাড়ী-গাড়ী, পেয়েছে খুব সাধারন জীবন। চেয়েছে দেশী জামাই, পেয়েছে প্রবাসী চাকুরীজীবী।

So, Life is not rosy and romantic. Life is a test and highly unpredictable. We need to equip ourselves to face the unknown and unexpected and be bold and strong to pass the test. And to pass the test, we need to decide how and for what. We need to make every effort throughout our life to make wrongs right with love and care, not showing negligence, anger and selfishness. If the wrongs does not set right, we need to have to courage to delete and leave that. We need to decide what we want as a woman: a home or career? or both? If both, we need to think how to balance them in innovative and individual ways. We need to think the strategies and paths, depending on the situation and gain the capacity to negotiate and reconcile in various problems to achieve the best, the highest good. When a person works like this and with integrity, Allah never ruins her efforts and works.

আমার জীবনের প্রতিটি কাজ যততুকু করেছি আলহামদুলিল্লাহ বরকতময়। আল্লাহ সবকাজে আভাবনীয় বরকত দিয়েছেন। মানুষের পাশে দাঁড়ালে মানুষকে ভালবাসলে আল্লাহ বরকত দেন, এটা আমি সবসময় বিশ্বাস করি। তবে একটি জিনিস আমি অনুতাপ করি, তা হল, আমার জীবনে “self-care” বলে কোন শব্দ ছিলোনা। কেউ বলেনি, Take care of your health, when you are simultaneously pursuing a goal and caring a (big) family. যে জন্য আমি অনেক বেশী সিক হয়েছি। কিন্তু তাই বলে, আমি থামিনি। আবার কাজ করেছি, ভুল্গুলো শুধরে নিয়েছি এই সেলফকেয়ার বিষয়টি অবশেষে আমি শিখেছি প্রবাস জীবনে এসে। যখন “Motherhood” এর উপর একটি কোর্স করেছিলাম। শিখেছি, “You cannot serve from an empty vessel” (Eleanor Brown). সংসারের যত্ন নিতে হলে প্রথম মায়ের যত্ন নিতে হবে। কজন জানে এ কথা, কজন মানে?

তাই আমার প্রস্তাবনা হচ্ছেঃ জীবনের সঠিক দিক ঠিক করা। সঠিক সিদ্ধান্ত নেয়া। সবসময় নিজের কাজে ফোকাস থাকা। সমস্যার সময় কথা বলা, ,আলাপ আলোচনা করা এবং বেষ্ট পথ বেচে নেয়া। সবসময় প্লানিং এবং ম্যানেজমেন্টের মাঝে থাকা। কাজ এবং ঘরের মাঝে ব্যালেন্স করার চেষ্টা করা । এর জন্য সম্ভাব্য সকলের সহযোগিতা চাওয়া এবং নেয়া। এবং কখনো যদি মনে হয়, আর পারছিনা, থেমে যাওয়া যেখানেই আছি। আর সবার উপরে, নিজের মন এবং শরীরের যত্ন পর্যাপ্ত নেয়া। কারন, আর এসব কাজকে যে জিনিসটি ঘিরে রাখবে তা হলও সবসময় দুয়া করা। দুয়া ইবাদাত।

“আমার গল্প ফুরালো, নটে গাছটি মুড়ালো”।

উম্মে সালমা, টুওং, ১৪/০৫/২০২৩

Photo by syd.oztr on Pexels.com

Reflections

The Candy House by Jennifer Eagan: a Reflection from Emotions perspective

I have read The Candy House (2022) fairly recently for teaching Contemporary Literature course. This is a networked novel, presenting interlocking characters and their life stories through an advanced technology, named Own Your Unconscious. Based on the character Miranda Kline’s book Patterns of Affinity, Bix Bouton invented a cloud technology where everyone can upload their unconscious, watch their memories as films and share them in the general digital platform The Collective Consciousness. A group of people falls for this tech at once and use and promote them. Another group known as Eluders try to dodge the platform and the way this digitisation of human mind and memory destroys emotions, relationship and imagination.

This plotline jerks and fascinates me concurrently. I was just wondering whether the current Facebook or Instagram are like this digital tech. Don’t we upload our life, our unconscious and our memories to these aerial platforms and sharing them across the known and the unknown? From such feelings, I asked my students whether they like to upload their unconscious to such platform. Many said yes, many said no, many said, they will share them in cloud but not in the Collective. The swing between preservation of memory and protection of privacy becomes apparent in their choices.

I love the book for its placing us in front of such deeply existential and philosophical question and dilemma. I got stuck in some quotations that lift the fictional fabric towards a deep vision of life and living such as “knowing everything is too much like knowing nothing; without a story, it’s all just information” (333) or “Consciousness is like the cosmos multiplied by the number of people alive in the world (assuming that consciousness dies when we do, and it may not) because each of our minds is a cosmos of its own: unknowable, even to ourselves” (86). Or “To a human, a goose’s wish to return to its Canadian home may seem sentimental, but “wish” and “home” don’t mean to a goose what they mean to a human” (46).

These pronouncements challenge the digital shaping of knowledge, mind and emotions in the current world. I feel like I know a lot through scrolling people’s walls every day but I don’t know anything about their lives. I have a lot of information but not stories that speak of real people, real mind. I got shocked and emotionally guilty when a well established classmate with a shiny face in Facebook committed suicide. His friends knew him without knowing him at all. What’s the value of such knowing that cannot let people know that human mind is unfathomable like a cosmos? If such is the case how will people come home, a home as a space of love, understanding and protection? Do we have only walls now, not homes?

Egan brought me a bit more closure to these hard truths and awake me to care and search for emotional authenticity in a digitally stimulated world. I feel like the character Rebecca, “I’m the only person in the world as obsessed with authenticity as you are” (29).
A great read for those in my line of thought.😊.

3 October 2022, Brissy.

Reflections

নারীবাদ এবং মুসলিম নারীঃ বাংলাদেশ পারেস্পেকটিভ থেকে একটি ভাবনা

নারীবাদ বা ফেমিনিসম একটি নারী অধিকারমুলক আলোচনা এবং আন্দোলন। যদিও নারীর অধিকার বিষয়গুলো অনেক পুরনো এবং দৈনন্দিন জীবনের সাথে সম্পৃক্ত, নারীবাদ (Feminism) শব্দটি মানুষের ভোকাবুলারিতে আসে ১৮৩৭ সালে ফ্রান্সে, যখন ফেমিনিসম মানে হলো, women’s liberation in a utopian future. এরপর নারীদের ভোটের অধিকার নিয়ে এর প্রকাশ শুরু হয় এবং ধীরে ধীরে তিনটি স্রোত (wave) নিয়ে নারীবাদ এখনকার ইন্টেরসেক্সানাল (intersectional) স্তরে এসেছে, যার মুল কথা হলো, প্রবল প্রতাপশালী গোষ্ঠীপতিশাসিত (patriarchal) সমাজ, সংস্কৃতি, ধর্ম, রাজনীতি এবং রাষ্ট্র বাবস্থার জন্য race, class, ethnicity, religion and sexual orientation ভেদে নারী নানাবিদ অন্যায়, অবিচার এবং অসমতার শিকার হয়। নারীবাদ এটাকে চিহ্নিত করে, এর বিরুদ্ধে কথা বলে এবং একে শেষ করার জন্য সবধরনের উপায় অবলম্বন করে।

এই উপায়গুলো একটি বিশাল এবং জটিল বিষয়। জীবনের এমন কোন ধারা নেই যাকে সে স্পর্শ করেনা। পৃথিবী সম্পর্কে ধারনা হতে স্রষ্টার অস্তিত্ব এবং অবস্থান হতে নারী পুরুষের সম্পর্ক হতে সন্তানধারন, হতে সমাজ নির্মাণের পলিসি, ক্ষমতা, এজেন্সি কোন কিছুই এর পেরমিটার হতে বাদ যায়না । যেহেতু নারী মানবসমাজের বেসিক দুই জাতির একজন, তার প্রাপ্তি অপ্রাপ্তির আলোচনা এরকম সর্বব্যাপী (all-pervasive), হবে সেটাই স্বাভাবিক এবং সেটা জটিল এবং বিতর্কের (complex and controversial) হবে সেটাও স্বাভাবিক ।

কিন্তু মুসলিম বাংলাদেশে নারীবাদ/feminism শব্দটা ঘিরে একটি সাধারণ ভীতি, জড়তা এবং আতঙ্ক আছে। যদিও ইরানের মত এইশব্দ উচ্চারণে মানা নেই, একে নিয়ে বাম, ডান এবং অন্যান্যদের যে প্রান্তিক অবস্থান, সেটা রীতিমতো দুঃখজনক। একদিকে বামচিন্তার মানুষরা পশ্চিম সভ্যতা হতে আগত এই ধারনাকে unquestioningly, politically and selectively গ্রহন করেছে। তাদের কাছে গেলে আপনি দেখবেন তারা মোটের উপর বাঙালি সংস্কৃতি, সমাজ, সংস্কার এবং ইসলাম বিরোধী। তারা কাঠামো (structure) ভাঙতে চায়, আরেকটি অনিরাপদ সমাজ কায়েম করতে যেখানে দ্বন্দ্ব,সংঘাত, ভাঙ্গন হয়ে উঠবে নিত্য দিনের ব্যাপার। ঠিক এই কারনেই আমি বেগম রোকেয়ার সুলতানার স্বপ্ন পড়ে মজা পেলেও তাকে পছন্দ করতে পারিনা। পুরুষের দৌরাত্ম্য আমাকে যেভাবে বিষন্ন করে, এমনি নারীর দৌরাত্ম্যও।যেহেতু পরিবার আমাদের সমাজের বেসিক, সেটাকে নড়বড়ে (destabilise) করান ধারণা এবং তার বাস্তব নমুনার কারনে এই ঘরানার নারীবাদ সেখানে মুষ্টিমেয়ের হাতে এবং অজনপ্রিয়।

অন্যদিকে ডান ঘরানার বেশিরভাগ মানুষরা নারীবাদকে অনেক টা বাতিল (got rejected) কনসেপ্ট মনে করে। তারা বলে ইসলাম নারীকে যে অধিকার দিয়েছে এরপর আর কিছু লাগবেনা । কেউ কেউ আবার নারীবাদ শব্দের একটা বিকল্প (substitute) শব্দ খোঁজেন যাতে পশ্চিমকে সম্পূর্ণ বাদ দিয়ে উপমহাদেশ, মুসলিম বেল্ট এবং বাংলাদেশি ঘরানার নারী অধিকার নিয়ে আলোচনা করা যায়। তারা নানা মুসলিম দেশের উদাহরন টানেন, সেসব দেশের context (টাইম এন্ড প্লেস) and condition কে গৌণ রেখে।

যেমন একজন ইসলামী নেতাকে একবার বলতে শুনলাম, তিনি সৌদি আরব ভ্রমন করেছেন। প্রচন্ড গরম। সবায় কালো কাপড় দিয়ে ঢাকা। উনি অবাক হয়ে বললেন, তাদের গরম লাগেনা? এবং অবাক হলেন শুনে যে, না, তাদের গরম লাগেনা, কারন এই কাপড় মরভুমির তাপ হতে তাদের রক্ষা করে। এ থেকে উনার বয়ান হল, বাংলাদেশের নারীরা যে বলে, বুরখা পরলে গরম লাগে, এটা ভুল কথা। গরম লাগার চেয়ে আরাম লাগার কথা। এটা নাকি আল্লাহর বিধান না মানার অজুহাত। এই কথা যে কতটুকু ভুল, সেটা যদি দুই দেশের আবহাওয়া এবং জলবায়ু দেখি তবে বুঝতে পারিঃ আদ্রতাবিহীন দেশ আর আদ্রতাওয়ালা দেশে পোশাকের ধারনা কত পার্থক্য । অথচ এই কন্টেক্স ট উনারা ভাববেননা। পরিস্থিতি দেখবেন না।

এইসব কারণে নারী এবং নারীর কল্যাণ বিষয় টা নিয়ে আমরা বেশীর ভাগ মানুষ বসবাস করি একটি গোধূলিতে–চিন্তার আলো আধারিতে। প্রতিদিনের জীবন যাপনে সত্যিকার মুক্তি নারীর এবং বৃহৎ সমাজের কোথায় আছে সেই পথ পাওয়া খুব মুশকিল। অধিকার নিয়ে বেচে থাকাটা অনেকটা বাজির মত। ভাগ্যে থাকলে পাবে, না হলে অধিকার না পাওয়াকে justify কর কিংবা বেচে মরে থাক।

কিন্তু জীবন কোন বাজি নয়। জীবন যাপনের। জীবন সুন্দরের জন্য, সুখের জন্য। এজন্যই মানুষ অধিকার নিয়ে ভাবে, কি পেলাম বা পেলাম না তার হিসেব করে। এই হিসেবের পথ ধরে নানা ism এর জন্ম হয়। নারীবাদ তেমনি এক ism, nationalism, multiculturalism, bilingualism, historicism এমন অনেক ism মত। এই ism এর জন্ম এবং বেড়ে উঠা নিয়ে তাই আমার কোনো বিরোধিতা নেই। মানুষ/ চিন্তকরা যখনি কোনো সমস্যায় পড়ে, তারা তাকে নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষন করে এবং তার সমাধানের পথ খোঁজে। আর এভাবেই নানা idea, concept এর জন্ম হয়। নারীবাদ সেই রকম একটি আইডিয়া যা মানবজাতির মুল দুই জাতির একজনের সুখ, সুবিধার কথা ভাবতে বলতে ওয়েস্টার্ন সমাজে জন্ম নিয়েছে। বিজ্ঞান, সাম্রাজ্য আর ক্ষমতার উচ্চ শিখরে উঠার সময় যখন সে সমাজ যখন নারীর টুটি চেপে ধরেছিল, যখন ক্রিস্টিনিয়াটি ও নারী কে মুক্তি দিতে পারলো না, নারীবাদ/ফেমিনিসমের জন্ম ছিল একটি জৈব প্রক্রিয়া (organic phenomeon). No ventilation caused a far-reaching explosion, (বাংলাদেশী একজন চিন্তক যেমন বলেন)।

এই মজলুম অবস্থার সাপোর্টের হিসেবে কেউ যদি আমাকে নারীবাদী বলে, আমি ভালো ফীল করি। I don’t hold any grudge against them. কিন্তু কেউ যদি নারীবাদী বলে আমাকে বা আমার মত কাউকে স্টেরিওটাইপ (stereotype) করে আমি তাকে প্রতিহত করি। কিভাবে স্টেরিওটাইপ (stereotype) করা হয় মুসলিম নারীদের? এটা করা হয় দুই ভাবে। এক। নারীবাদী মানে এমন এক চিত্র উপস্থাপন করে যেখানে নারী হল উগ্র এবং উচ্ছৃঙ্খল। তারা ঘরভাঙ্গা, সেক্সটুয়ালী আনব্রিডেল্ড, সেচ্ছাচারী এবং অনিয়ন্ত্রিত। এখানে তাসলিমা নাসরিন কে মডেল হিসেবে দাড় করানো হয়। কেন? আমার প্রশ্ন হলো, তিনি কি অন্ধ গলি আমাদের জন্য? আমাদের অধিকারের লড়ায়ে শেষ কথা? একটি ফুল স্টপ ? দুই, হিজাব পরে বা না-পরে যদি একজন মুসলিম নারী এসে অন্যায়ের বিপক্ষে মাথা তুলে দাঁড়ায়, সবাই হায় হায় করে। তারা ধরে নেয়, সে নারী বিপথে চলে গেছেঃ westernised, anglophile এবং sold out মুসলিম নারী। সে এখন মুসলিম সমাজের জন্য একটা lost project (এখানে এবং ওখানে !!!)

এই স্টেরিওটায়পিং (stereotyping ) এর মুল সমস্যা হল যারা এটা ভাবে তারা জানেনা যে, a Muslim woman is three step away from the original feminism. এই তিনটি স্টেপ হলো—race and colour, language and culture, and eastern and national background. এই মার্কগুলো ধরে এগুলে, Eastern এবং western নারীদের আলাপের (conversation) এর জায়গাটা হলো তাদের সামাজিক অবস্থান, তাদের অধিকারে ধরন এবং কে কত স্বাধীন বা পরাধীন, বা অধিকারপ্রাপ্ত বা অধিকার বঞ্চিত। সত্যিকারের পশ্চিমা ফেমিনিস্ট মুসলিম নারীদের কাছে তাদের কথা শুনতে চায়, নো ব্লাইন্ড ফলোইং অফ দেম। ফলে মুসলিম নারীবাদীদের নিজেদের স্পেস থেকে সবসময় কথা বলতে হয়। তাদেরকে তাদের সংস্কৃতিকে বুজতে হয় দেখতে হয় এবং অন্যায়, নিষ্পেষণ আর সাংস্কৃতিক পার্থক্য নিয়ে কথা বলতে হয়। সাবা মাহমুদ, লাইলা আবু-লুঘদ এটা বুজেছেন। তারা এমনি কিছু ভয়েস যারা দেখিয়েছেন কিভাবে মুসলিম নারী তার ধর্ম এবং ফ্যামিলি আর সামাজিক নরমের মাঝে এম্পওারড হয়ে উঠে। কিভাবে তারা রিওরডার করে তাদের জীবন এবং কাজ, ইন্টেরভেনিং তাদের সমাজ, সময় এবং নরমস। আর এভাবে তারা গেকোরোমান হতে পশ্চিম পর্যন্ত অনেক আইডিয়া কে চালেঞ্জ করেছেন।

কিন্তু আমি অবাক হয়েছি তাদের আলোচনায় ঠিক কোন জায়গা থেকে মুসলিম নারীরা কাজ শুরু করবে সে নিয়ে খুব কম কথা আছে। তার faith বিষয়টি নিয়ে নতুন করে ভাবেননি। তারা কি ধরেই নিয়েছিলেন যে মুসলিম নারী মানেই বিশ্বাসী ? যেহেতু মুসলিম বাংলাদেশ এই অবস্থা অন্য মুসলিম দেশের চেয়ে আলাদা, এখানে বিশ্বাস বিষয়টি এখনো ইনহেরিটেড, নারী এবং বিশ্বাস বিষয়টি সম্প্রতি আমাকে আকৃষ্ট করেছে নতুন করে ভাবতে ইসলাম এবং নারী অধিকার নিয়ে।

….

কিছু দিন আগে The Guardian পত্রিকার “Religion” পেইজ ই একটি ইন্টারভিউ ছাপা হয়, শিরোনাম হলো “Why is God a man? The woman who searched the world for a feminist religion।” সিয়ান কিয়ান Louise Omer এর ইন্টারভিউটি নেন। শিরনামটি আমাকে আকৃষ্ট করল এবং পড়ার পর, যে সারকথা আমি পেলাম তা হল, পৃথিবীর সব ধর্মের প্রভু হলেন পুরুষ, এই অবস্থায় নারী কিভাবে ধর্মে তার‍ অবস্থান আর অধিকার খুঁজে পাবে। লুইস অমের তার Holy Woman নামক মেময়া তে কয়েকটি প্রশ্ন করেছেনঃ

Why was my beloved God male?

Why were Bible stories mostly about men?

Why was Eve responsible for the Fall of Man?

Why were there abusers in the church?

And how could I reconcile all of this with my feminism?

এবং এই প্রশ্নগুলো নিয়ে সে বিভিন্ন দেশ ভ্রমন করেছে এবং বুজেছেঃ “there is nothing feminist about patriarchal religions, only feminist believers trying to subvert them from within.” অতএব, সে এখন হিন্দু ধর্ম এবং পাগানইসম পড়বে, নিজেকে নতুনভাবে জানতে এবং নতুন করে পারসোনাল পাওয়ার জানতে।

লুইস অমের এর যে জিনিসটি আমার কাছে প্রশ্নবোধক তা হল, ইসলাম ধর্মের প্রভুর ধারনাকে সে God=men এই ছকে ফেলেছে। সে এক জায়গায় লিখেছেঃ “some Muslims would never accept a female imam, and some Christians would be appalled by the concept of a female God. (As Omer writes, Vatican City, the heart of Catholicism, is the only place in the world where women still can’t vote.) What does reinterpreting scripture matter when a religion remains patriarchal in practice?” মুসলিম দেশে নারী ইমাম না থাকাটা তার কাছে প্রভু পুরুষ এবং মনওথেইস্ট ধর্ম পিতৃতান্ত্রিক/গোষ্ঠীপতিশাসিত (patriarchal), এই ধারনার সহায়ক এবং উপসংহার।

অথচ এই ধারনাটা সম্পূর্ণ ভ্রান্ত। At least in the case of Islam. ইসলাম ইভকে মানুষের বেহেস্ত হতে বিতাড়নের কারন হিশেবে দেখেনা। এবং, এটী আল্লাহর যে ধারনা দেয়, সেখানে জেন্ডার পুরোপুরী অনুপস্থিত। বেশী দূর যাবনা, সুরা ইখলাস মানুষের প্রভু কে সহজ করে বলে দিয়েছে, যাকে জাকির নায়েক বলেন, A litmus test to know who is God/Allahঃ “(হে রাসুল! আপনি) বলুন, তিনিই আল্লাহ, একক। আল্লাহ অমুখাপেক্ষী। তিনি কাউকে জন্ম দেননি এবং কেউ তাকে জন্ম দেয়নি। আর তার সমতুল্য কেউ নেই।” আয়াতুল কুরসী এবং সুরা হাশর আল্লাহর যে গুনাবলী বলে, সেটাও গুরুত্বপূর্ণ। ভাশাগত সমস্যা/ limitation বাদ দিলে, যে বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ সেটা হল, নারী বা পুরষ হলে তাকে অবশ্যই জন্মদেয়ার বা জন্মনেয়ার একটি body থাকতে হবে। তাকে ঘুমুতে হবে, বিশ্রাম নিতে হবে। আল্লাহ এইসব থেকে সম্পুরন বিপরীত এক ধারনাঃ নিরাকার এবং অদৃশ্য । মুসলিমরা এই বেসিক বিশ্বাস ধারণ করে এবং এরকম একজনের ইবাদাত করে। ধর্মের নামে অন্যকে তার প্রভু হতে দেয় না।

কিন্তু দুঃখের বিষয় হলো, বেশীরভাগ মুসলিম নারী তার বিশ্বাস কিভাবে তাকে এম্পাওয়ার করে জানে না। বিশেষ করে যেখানে ইসলাম হল একটি বাপদাদাদের ধর্ম, একটি জন্মগত উত্তারধিকার। এসব নারীদের ধর্মের নাম দিয়ে দিয়ে বারবার বলা হয় এটা করো, ওটা করোনা । অনুকুল পরিবেশে নারীরা এভাবে বেড়ে উঠে, মেনেও নেয়, এবং সুখী মনে করে নিজেদের। কিন্তু সমস্যা হয় যখন ধর্মের নামে এটা করো, ওটা করোনা বলে নারীদেরকে একটি অত্যাচারিত অবস্থার মাঝে ফেলে দেয়া হয়। তাদের বলা হয়, তুমি না নামাজ পড়, আল্লাহকে বিশ্বাস কর? তাইলে তুমি কেমনে ঘরের কাজ করতে চাওনা? চাকরি করতে চাও? ঘর থেকে বের হতে চাও? স্বামীর আদেশ অমান্য কর? স্বামী চাহিবা মাত্র রাজী হওনা? স্বামীর রাগ আর শাসন কে মানতে পারোনা? এসব অবস্থায় সহ্য না করে ডিভোর্স চাও? বাচ্চার মা হতে পারোনা? ছেলের মা হওয়াকে দায়িত্ব মনে করোনা? সম্পত্তির অধিকার চাও? বাকি মোহরানা চাও? ইত্যাদি ইত্যাদি ।

এই ধরনের ভ্রান্ত যুক্তি মেয়েদের সামনে দুটো ওপ্সান রাখে, হয় ধর্মকে একপাশে ফেলে নিজের মত এগুনো। বিদ্রোহী উঠে ওঠা । নাহয়, ভুলে যাওয়া সে একজন মানুষ, রক্ত মাংস, বোধ, অনুভূতি ওয়ালা একটি শরীর । বিশেষকরে নারীরা এই শেষ অবস্থায় হয়ে উঠে, brainless beauty, spineless actor and morose homemaker. মাঝে মাঝে আমি বাংলাদেশী কিছু নারীদের দিকে স্রেফ তাকিয়ে থাকি। কেনো জানেন, তারা খুব কথা বলে, ঘরের কাজ করে আরে জামাইয়ের সাথে খেছ খেছ করে। সবাই তাকে ভালোবাসে, সমিহ করে (ইঙ্কলুডিং স্বামীরা) এবং তার কাজে মজাও পায়। কিন্তু এদের কাছে আপনি যদি জিজ্ঞেস করেন তার যৌন জীবন সম্পর্কে, তারা দেখবেন নিজেদের স্বামীর হাতের পুতুল ছাড়া আর কিছু হিসেবে নিজেকে প্রমান করতে পারবেনা। তারা এমনভাবে নিজেদের উপস্থাপন করবে, সেক্স চাইলে, নিজের অসুবিধার কথা বললে, নিজ থেকে আবেগ দেখালে, বা বেশী অ্যাক্টিভ থাকলে, সেটা একটি মেয়ের অনৈতিকতার প্রমাণ । শুধু বাজারের মেয়েরা ই এমন করে। অথবা স্বামী ভাববে, সে খারাপ মেয়ে, এত জানে কিভাবে?

নিজের প্রভুকে যে চেনেনা, তার আর নিজেকে চেনার অবকাশ নেই। সে হয়ে উঠবে স্বামী, শ্বশুর কিংবা অন্যকোন শক্তির পদানত। সে ভুলে যাবে সে একজন ইন্ডিভিডুয়াল, একজন স্বাধীন চিন্তার মানুষ। একটি সম্পর্কের সমান অংশীদার। সে অনেক কথা বলবে, কিন্তু তার যে কথা বলা প্রয়োজন সেটা সে কখনো বলতে পারবেনা। প্রশ্ন হল, একজন মুসলিম নারী এমন এক উত্তাল পরিবার, সমাজ আর রাষ্ট্র বাবস্থায় যেখানে তাকে প্রতিমুহূর্তে তার বিশ্বাস দিয়ে বন্দী করা হয়,কিভাবে নিজের পরিচয় আর অধিকার নিয়ে বাঁচবে। সে কিভাবে বাংলাদেশি নারীবাদ নামক এক অকল্যাণকর প্রোপাগান্ডায় নারীর অধিকার আর অবস্থান এর মাঝে reconciliation করবে?

আমি মনে করি, ইসলামের এক প্রভুর ধারনা তার জন্য হতে পারে একটি intellectual শক্তি। এটা তার চলার পথের প্রথম পয়েন্ট । এই ধারনা দিয়ে patriarchy এবং তার বানানো শত খারাপ নিয়মেকে চালেঞ্জ করতে পারে। সে বলতে পারে, I am within a faith that never made you (men and women who patronise patriarchy ) someone to hush my voice in the name of a divine decree. বিশ্বাস গ্রহন দিয়ে হতে পারে তার যাত্রার শুরু–একটি দীর্ঘ মুক্তির পথে। এবং এই faith paradigm দিয়ে মুসলিম শিক্ষিত নারীরা ওয়েস্টার্ন ফেমিনিসম এর সাথে dialogue, conversation এবং cultural exchange শুরু করতে পারে। তারা জিজ্ঞাসা করতে পারে তিনটি প্রশ্নঃ

১। এত ক্রিটিসিজম এর পরো কেন একদল পশ্চিমা নারী ক্রিশ্চিয়ানিটি কে অনুসরণ করে?

২। কোন বিকল্পের কারনে বেশীরভাগ পশ্চিমা নারী ধর্ম বিরোধী?

৩। সেকুলার ফেমিনিসম কি সত্যি সেকুলার , এই অর্থে যে সেকুলারিসম ধর্মকে মুছে দেয়।

দুখজনক হলেও সত্যি, বেশীরভাগ মুসলিম মেয়েরা/ একাদেমিক/ গবেষক ওয়েস্ট এর সাথে কথা শুরু করে নিজেদের ফেইথ না জেনে, বা এই অবস্থান থেকে সরে/নড়ে গিয়ে। অনেকে ভাবে, privatisation of faith বা secularism দিয়ে সে তার অবস্থান/space পাবে। This is a crisis. এই সংকট তাঁদের জলে ভাসা পদ্ম ই করে রাখবে। কারন, প্রত্যেক সংস্কৃতিতে কিছু দাগ আছে (আমি border বলছিনা), সেই দাগ নিয়েই সবাই চলে। সে দাগ স্বীকার করেই cultural dialogue শুরু করতে হয়। Race and ethnicity studies বলে, মানুষের জন্ম একটি বিশেষ সমাজে হয়, তা নির্ধারণ করে তার ভাষা, আচরণ, এবং আরো অনেক কিছু। সেসব কে নিয়েই তাকে আরেক মানুষ, আরেক পরিবার, আরেক পরিবেশ, ,আরেক সংস্কৃতির সাথে সহাবস্থান করতে হয়। এই unchanging always comes during making change. এখন একজন মুসলিম নারী যদি সচেতনভাবে তার বিশ্বাস ধারন করে ভালোর দিকে, কল্যাণের দিকে প্রবর্তন এর জন্য কাজ করে, ঘর থেকে বাহির সবখানে তার যে সংগ্রাম সেই সংগ্রামের কাজ হবে আলোময় এবং শক্তিময়। এখানে আমি নারীর এইজেঞ্চির (agency) বিকাশের উৎস দেখি। চলুন একবার আমরা চেনা পৃথিবীকে নতুন করে চিনি।