আমার মুরুব্বীরা যুদ্ধে লিপ্ত, বাক আর সবাক যুদ্ধে
আমাকে নিয়ে
ক্ষণে ক্ষণে হুংকার ছাড়ছে রক্ত চোখে হুমকি দিচ্ছে একে অন্যকে
আমাকে নিয়ে
বিলিয়ে যাচ্ছে সর্বত্র আঞ্চলিক এবং বাংলিশ ভাষায় পচা-পাপড়ি
এই আমাকেই নিয়ে
আমি চুপচাপ বসে আছি
দুলছি সহায় অসহায়ত্তের দোলাচলে
দেখছি যা দেখার কথা নয়
শুনছি যা শোনার কথা নয়
একদল আমাকে ডাকল এবং যমুনার কাছে নিয়ে গেলো
স্রোতসিনী যমুনায় ভাসিয়ে দিলো কারুকার্যখচিত নৌকা
বলল নৌকার প্রয়োজনীয়তার কথা এই নদীমাতৃক বদ্বীপে
অন্যদল আমাকে নিয়ে গেল আবারিত ক্ষেতের ধারে
যেখানে তরঙ্গায়িত ধানের শীষ বাজিয়ে চলল নুপুরের সুর
যেখানে ধান ধান-ভানা খোরাকের কত কৃষক দিন আমলিন
আরেকদল আমাকে নিয়ে গেলো এক মুদি দোকানে
দাঁড়িপাল্লা আর বাটখারার বাটোয়ারায় ক্রেতাদের ভীড়ে
শোনালো ন্যায়বিচার আর অন্যায় পথের পরিক্রমা কেমন
"চলে এসো এ পথে"
একসাথে সবাই ছুঁড়ে দিলো একি আহবান
আমি পারলাম না
আমি কিছুই পারলাম না রক্ত বিভেদ আর হানাহানির ইতিহাসে
শুধু অনুনয় করে বললাম
"আমাকে সার্থক সাংস্কৃতিক সিন্থেসিস দিন
আমি থাকবো দুধে ভাতে।"
উম্মে সালমা
২০১৩ ফেব্রুয়ারি
[শাহবাগ বিভেদের সময় লেখা]
Category: Salma’s Poems
রাইটার্স ব্লক ২
“কাঁঠালিচাঁপা ফুটলে তোমারে খবর দেবো”… “ফোনে”
বলে সেই যে কবিতা চলে গেছে আর আসেনি
আমিও পথ চেয়ে থাকিনি
এনালগ ডিজিটাল এবং মোবাইল অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে
পার করে দিয়েছি বাইশ তেইশ পঁচিশ ছাব্বিশ …
কবিতা খবর দেয়নি
না এন্টিক মিডিয়া চিঠিতে
না ডিজিটাল ডিজুস ফোনে
কবিতার কথা মনে পড়েছে ডান আর ভন এর
মেটাফিসিকাল মোহগ্রস্ততায়
মনে পড়েছে পোপ, মাথু, আর ইয়েটসের পেলবতায়
-কবিতা তুমি চলে গেলে কেন?
-কবিতা,কাঁঠালিচাঁপা কি এখনো ফুটেনি?
-কবিতা, আর যোগাযোগ করনি কেন?
কান্নার হিক্কা চেপে ঘুরে এসেছি চট্টগ্রাম দক্ষিণ
ঘুরে এসেছি উত্তরের বিদ্যাপীঠ
মহাসড়কে অলি গলিতে যেখানে মানুষ দেখেছি
সেখানেই সারসের মত গলা বাড়িয়ে দেখেছি
কবিতা কি কমলা বুয়ার মতো ময়লা থালাবাটি নিয়ে
কামের বাসার দিকে ছুটছে কিনা
অথবা আমেনার মতো রংচঙা সালোয়ার কামিজ পরে
কাঁধে বাগ চাপিয়ে হাতে টিফিন বক্স নিয়ে
সে সাত সকালে যাচ্ছে কিনা গার্মেন্টসের দিকে
বরফ সময় আসর সময় গলে গলে গেলো
কত কামরাঙা ফুল বাজারে এলো
কত কচুপাতা শোপিজ হলো
কত কাঁঠালিচাঁপা ড্রইংরুমে শোভা পেলো
কবিতার দেখা মিললো না
কবিতা তো সাত সকালে ঊর্ধ্বশ্বাসে ছোটা
কমলা খাতুন আর আমেনা বেগম
এই সব নতুন রুপকল্প আমার বলা হল না ।
ঊম্মে সালমা, মূল রচনাকালঃ ২৬/০৮/২০০৪, পরিমার্জিতঃ ১৬/১২/২০২৪

রাইটার্স ব্লক
আমাকে কবিতার কথা বলোনা, আমি বেচাইন হয়ে যাই
আমাকে কবিতা পড়তে বলোনা, আমি উচাটন হয়ে যাই
কবিতার পাপড়ি-ঝরা সৌরভে আমি মুখরিত
ছিলাম
একদিন
আর
আজ?
কবিতার পাপড়ি-পচা দুর্গন্ধে আমি জর্জরিত
আমি কি পচে গেছি
তাই
কবিতারা পচে গেছে
আমার?
কত কত দিন গেলো কেউ দ্বার ধরে হাসলো না
কেউ না- না রাত্রির চাঁদ না ভোরের রশ্মি
না মেঘের কচড়া না নিঃসীম নীপবন
আমি আর লিখতে পারিনা
আমার নার্ভগুলো যেন মরা জমি
সৃষ্টির যে মহানুভব নিষেক
সেটা আমার গর্ভের কোথাও নেই
ব্যথাগুলো গলা পর্যন্ত ঠাসা
আর কলমে ছাতা
আমি কাত হয়ে গেছি, উপুড় হয়ে গেছি
সাইক্লোন কবলিত এক বৃক্ষের মতো
এরপর আমাকে পদদলিত করে গেছে এবং যাচ্ছে
না-লেখা
কত কত দিন কত কত বছর
কবি এখন কাঁদবে
তোমরা এখন সবাই চলে যাও। যাও!
উম্মে সালমা
original writing time: ২০০৩, নাইট
[slightly edited in 2024]

ভালোবাসার জটিল জট
ভালোবাসা ও ভালোবাসা
তুমি ধর হাত
তোমাতেই লিখা আছে
আমার রিযিক
আমার বরাত
তুমি ভালোবাসা জেনেছি যেদিন
খুঁজেছি পুস্তকে পলে অনুপলে
কি সে জাগে ভালোবাসা কি সে ফোটে ফুল
কি করে শ্রমে ঘামে ভিজে এক মালি
চাষ করে অচেনা পারুল
ভালোবাসা লোকে বলে হর হামেশা
জানে না সে কি
পোশাকে দামে উঁচু ঝকঝকে তকতকে
একটুও যাচাই করে না
খাঁটি কি মেকি
ভালোবাসা প্রতিদিন ঠোঁটে ঠোঁটে হয়
মাঠে ঘাটে ফোনে কথায় ক্ষুদে বার্তায়
অথচ
নৈরাজ্যের স্ক্রিনে তাকে অহরহ দেখি
ভালোবাসা ও ভালোবাসা
ভাতটুক বাড় তরকারি দাও
রাতটুকু অল্প হতেই
সংসারী সংযত লতাটা বাড়াও
ভালোবাসা ও ভালোবাসা
নিও না কেড়ে মানবীয় ক্ষুদ পিপাসা
বিরহের মিডিয়া খুলে প্রচার করে দিও না
ঐ নারী ঐ পুরুষ মনগুলো ঠাসা
অভিযোগে অভিযোগে
ওরা আজ মানবীয় দুর্বলতায় ভোগে
বিশ্বাস কর ভালোবেসেও সবাই বোঝেনা
ভালোবাসা কি
ভালোবাসা, ধর্ম বলে, নারী পুরুষের মাঝে
ভারী এক চুক্তি
এর বাইরে যা কিছু হারামে আরাম
যা কিছু উপায় উপাদান কথাকলি
শ্রেফ অত্যুক্তি ।
আমরা ফুরিয়ে উঠি এই সব লেনদেন
ঘৃণা জল প্রেম কাম নামে
জানিয়ে দিও ভালোবাসা তুমি নীল
তুমি চিল অবমুক্ত কোন ধরাধামে?
উম্মে সালমা
২৯/১১/২০২৪
টুঅং
শহীদী মৃত্যু
ঐ জগত দেখার মতো ভালো চোখ আমাদের নেই
আমাদের চোখ শুধু জলে ভরে
নদী হয় জনতার জলের সমুদ্র ছোবে বলে
নীলা, বন্ধু আমার,
কেঁদো না
এই অপরাহ্নে বুক ভেঙ্গো না
আমাদের কান্না একান্তই আমাদের
আমাদের সীমাবদ্ধতার
দেখ, এখানেই সব কিছু শেষ নয়
পৃথিবীতে
এই নশ্বর পৃথিবীতে শেষ বলে কিছু নেই
পাতার পচলে মাটিতে উর্বরতা আসে
ফুলের পতন মানেই বীজের আগমন
গাছভর্তি ফলের জন্ম
মা মাকড়সা্র খোলস মানে আগুনতি শিশু
মানুষের নিস্পদিত দেহ ও তেমনি আরেক জগতের হাতছানি
এখানেই সব কিছু শেষ নয়
এটা একটা ট্রানজিট মাত্র
শুরুর পরে যাত্রা বিরতি
আরম্ভের আওয়াজে বিদীর্ণ কণ্ঠ... আমাদের আনন্দ
এসেছে নতুন শিশু
মানুষের নিস্পদিত দেহ তাই কয়েকদিনের বিচ্ছেদ কান্না আর্তনাদ
সুগভীর ঘুম আবার দেখা হবে বলে
কিন্তু নীলা, এইসব মৃত্যু তো আমার তোমার মত নয়
সাদামাটা সাধারণ
একটি অসুখ তারপর শেষ নিশ্বাস
এইসব মৃত্যু কাবিলের হাতে হাবিলের বলী
হিংসার জিঘাংসার অন্যায়ের
এইসব মৃত্যু কি আসলেই মৃত্যু?
তারা কি আসলেই মৃত? আসলেই?
আমাদের সাথে তাদের বিচ্ছেদ সত্যি
সাদা কাফনে জড়িয়ে মাটির বিছানায় শুইয়ে দেয়া সত্যি
জানাজায় শেষ বিদায় সত্যি
আমরা তাদের আর দেখিনা তাও সত্যি
ছুতে পারা জায় না জীবনে জড়ানো যায়না
আমাদের বুক ভেঙ্গে যায়
প্রার্থনার রাতে বয়ে চলে নদী নিরন্তর...
কিন্তু তারা তো আছে আমাদের মাঝে, আছেনা?
আমাদের কি বলা হয়নি
তাদের মৃত বলো না
যারা শহীদ
তারা জীবিত আমরা দেখতে পাইনা ?
ঐ জগত দেখার মতো ভালো চোখ আমাদের নেই
আমাদের পার্থিব চোখ শুধু জলে ভরে
শুধু দেখে যা কিছু নশ্বর ভেঙ্গে যায় শুধু ভেঙ্গে পড়ে
===
ঊম্মে সালমা
২৮/১১/২০২৪
[ ২৬ তারিখে এড। আলিফের শহীদি মৃত্যু স্মরণ করে ]
এরপরো
যতই তুমি বল আমায় আকাশ জল রোদ্দুর
হৈমন্তীর মতো তোমার অনেক কষ্ট ফসল
বরেণ্য বরণ
আর প্রতিক্ষনের স্মরণ
তবু আমার কিছু বৈপরীত্য থাকবেই
তোমায় ক্ষয়িত করে সে ফেলবেই
জানি আমি
আমার মেঘের মতো অভিমানের ভার
তুমি বইতে পারবে না
আমার অযাচিত দুর্নিবার কাব্য পিপাসা
তুমি সইতে পারবে না
আমার একমুখীনতা তোমাকে বিদ্ধ করবেই
আমার উদাসীনতা তোমাকে দগ্ধ করবেই।
যতই বল তুমি আমায় শেফালির শরৎ
বর্ষার মেঘমালা
অমিয় মমতার গহবর
যে গহ্বরে তুমি পতিত হতে হতে তলাতে চাও
তবু কোন এক বিষাদ সময়ে বিরক্তি আসবেই
আমার নীলজল তোমাকে থৈ থৈ ভাসাবেই
নিয়তি আমাদের এই শৃঙ্খলে বাঁধবেই
তাই তো ভালোবাসতে এত ভয়!
উম্মে সালমা
রচনাকাল: ১৮.০৫.১৯৯৬, রাত (কিঞ্চিত পরিমার্জিত)
ছবি: মূল লেখার ছবি
পরমাণু ভাবনা
অনেক হয়েছে রাত
অনেক বেড়েছে দিন
অনেকটুকু বারিপাতে
হৃদয়ের মাঝে
ভেতরে ভেতরে
নতুন কিছু সুখ আড়িপাতে ।
উম্মে সালমা
লেখার সময়কাল: ২০০৭
ছবি: মূল লেখার ছবি
পরমাণু ভাবনা
সেই পাঁচদিন
নেট বিহীন
কেমন করে ছিলা,
নীলা?
সেই ছয়জন
আটক যখন
জমেনি কি চোখে
অণু অণু শীলা ?
একটুকু ভুল
ভুলের মাশুল
ঘৃণা আর বিচ্ছেদ
যদি হয়
হাতে হাতে
হাঁটলেই
কাদা পানি
ঘাঁটলেই
বলো না তাকে
প্রেম, বলিও প্রলয়।
উম্মে সালমা
১৩/১১/২০২৪
Poems on July Revolution
হিসাব নিকাশের কাঠগড়ায়
পবিত্রতার আলো দিয়ে গড়িয়ে দিলাম তোকে
অন্ধকারে ডাকতে চায় কোন সে
ভদ্দরলোকে?
রুপ যা আছে নষ্ট আর নষ্টামীতে ভরা
লোভ দেখিয়ে ঘরে আনে
প্রেম খেলার এক জ্বরা
উপর থেকে নীচতক বড্ড ভীষণ ক্ষুধা
সমাজ সংসার খেয়ে নেবে সাথে বসুন্ধরা
আর ওদিকে একটি দল এমন এমনতরো
সব দিয়ে দেয় নেক কাজে
দিতে চায় আরো
খুলবে যখন কাঠগড়া দাঁড়াবো যখন গিয়ে
বলবো প্রভু যে কেড়েছে আমার পৃথি
রঙিন রুপ দিয়ে
ফিরিয়ে দাও ওসব কিছু আমার সকল দেনা
বুঝুক আজ পঁচা মাংসের স্বাদ কেমন চেনা!
উম্মে সালমা
18 November 2024
একেক দিন মনে হয়
একটি শান্ত সকাল।
ইলশে গুঁড়ি বৃষ্টি।
মৃদু মন্দ হাওয়া।
পাখির কিচিরমিচির।
কুকুরের ডাক।
একজন প্রিয়জন।
মায়াবী সন্তান।
একটি পরিবার।
পাশাপাশি বসে থাকা।
কমলা ফুল।
ফুটছে ঝরছে ।
নদীর তিরতির জল।
ঘাটে নৌকা।
কার্পেট-সবুজ ঘাস।
একজন তুমি।
একজটলা তোমরা।
একসাথে আনারবিচি।
একেক দিন মনে হয় এটাই জীবন।
একেক দিন মনে হয় এটাই নিয়ামত।
একেক দিন মনে হয় এভাবেই মৃত্যু আসুক
দরজা খুলে আঙুলে আঙুল দিয়ে
দূত মিষ্টি করে বলুক, চল, ঢের হয়েছে।
এরপর
এরকম কার্পেট সবুজ ঘাসের নীচে
আমি
ঘুমিয়ে থাকি অনন্তকাল।
কষ্ট নেই ব্যথা নেই চিন্তা নেই।
হারাবার ভয় নেই।
একটি দরজা।
হু হু শীতাতপ বাতাস।
কোমল বিছানা।
নূর হয়ে ওঠা সূরার সঙ্গ।
প্রভুর আপ্যায়ন।
একেক দিন মনে হয় এটাই জীবন
একেক দিন মনে হয় এটাই নিয়ামত
একেক দিন মনে হয় এভাবেই নবজীবন শুরু হোক
কাউসারের গ্লাস হাতে নিয়ে
দূত ভালোবেসে বলুক, এসো, ঢের হয়েছে।
এরপর
বাতাসে আনন্দ ।
তলদেশে ঝরণাধারা।
সুসজ্জিত ঘর।
প্রভুর দিদার।
একজন তুমি।
একজটলা তোমরা।
একেক দিন পৃথিবীর প্রিয় ভালোবাসাদের সাথে খুনসুটি।
উম্মে সালমা
২০/১১/২০২৪
