Salma's Poems

প্যারাডক্স

চোখ ঘুম ঘুম রাতের কুসুম ফেটে পড়ে 
চারপাশে অগুনতি ঘাসে
এর মাঝে হাওয়া বিরাট বেহায়া খুলে দেয়
চিৎকার আমাদের শ্বাসে

দূর থেকে দেখি কাছ থেকে শুনি
কান্না মৃত্যু বিলাসী স্ক্রিন
কিবোর্ড খুলে আঙুলে আঙুলে
এক দুই তিন চার
হাজার হাজার কে আর গুণি?

বার বার বার বার নেড়া বেল তলায়
যায় মাথাটা ফাটায়
বার বার বার বার পথগুলো বহু হয়
লাল থেকে লাশ হয়

বিভাজনের দরোজায় দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে
রাজনীতি সমাজনীতি
সোফানিসবার মতো রাক্ষুসী হয়
গয়নার ঝলক ফেলে বহুরুপী মাঝরাতে
রক্ত খেয়ে খেয়ে বেঁচে বর্তে রয়

চোখ ঘুম ঘুম ফুলপরী চুম গলে পড়ে
গালে নীরবে নিরলে
এর মাঝে হাওয়া বড়ো অপয়া তুলে দেয়
চিৎকার দ্রোহী করতলে।

উম্মে সালমা
১২/১১/২০২৪

		
Salma's Poems

যুদ্ধ শেষ হলে সবাই বাড়ি ফিরতে পারে না


যুদ্ধ শেষ হলে সবাই বাড়ি ফিরতে পারে না
যুদ্ধ শেষ হলে একটা লাগেজ গুছিয়ে একদিন সকালে বলা যায় না, আমি আসছি।
যাপন করে আসা জীবন প্লাষ্টিকের গ্লাসের মতো বিনে ফেলে দেয়া যায় না
অনলাইন খুঁজে খুঁজে সবচেয়ে সস্তা টিকিট কিনে
বিমানের ফ্লাইট ধরার জন্য
উবার কল করা যায় না
মেয়েকে বলা যায় না তুই থাক আমি যাচ্ছি
সঙ্গীকে বোঝানো যায় না দেশ আমায় ডাকছে
লাইভে হাসতে হাসতে বলা যায় না
ভ্রাতা ভগিণীগণ মহোদয় মহোদয়া
দেশের মাটিতে দেখা হচ্ছে খুব শিগগিরই

যুদ্ধ শেষ হলে সব যোদ্ধা ঘরে ফিরতে পারে না
সব যোদ্ধা  লজ্জা শরমের মাথা খেয়ে বলতে পারে না
যুদ্ধ করতে করতে ক্লান্ত আমি
বলতে পারে না টিউব ওয়েলের  ঠান্ডা এক কোট্টা পানি খাব দেশে গিয়ে
বলতে পারা যায় না
ভাইগণ বন্ধুগণ, আমি অধিকারের ফেরী ওয়ালা
আপনাদের কাছে বেচবো ন্যায়ের গান
দেশমাতৃকার উনুনে রাঁধা হবে যে এক ঢেগ ভাত আর ইলিশের দোপেঁয়াজা
সেটা আমরা ভায়ে ভায়ে বোনে বোনে ভাগ করে খাবো

যুদ্ধ যখন শুরু হলো
যখন স্বৈরাচার দুরারোগ্য ব্যাধির মতো
ছড়িয়ে পড়েছিল বডিপলিটিকে
মা বলেছিলো
দেখিস একদিন এই ব্যাধি সেরে যাবে
বাবারা গুম হতে ফিরে আসবে
ভাইয়েরা সল্টেড বিস্কুট হাতে নিয়ে কলিং বেল বাজাবে
স্বামীরা ঘরে ঢুকে ত্রস্ত বিতস্র হয়ে বলে উঠবে
এই বাজারের থলে দাও কতদিন বাজার করিনা
তুই ছুটতে ছুটতে ব্যাংকে যাবি হাত খালি
আমি জায়নামাজ বসে দোয়া করতে করতে বলতে থাকবো
ফাবিআইয়ি আ'লা ই রব্বি কুমা তুকাজ্জিবান...

মা, পাশের বাড়ির কমল কি বাড়ি ফিরতে পেরেছিল? যে যুদ্ধে যেতে যেতে সীমানা পেরিয়ে পরে ডিজিটাল অস্তিত্ব হয়ে গেল
মাথার উপর হুলিয়া নিয়ে প্রতিদিন হাজির হতো মুসাফিরের মতো
প্রতিদিন ভাইয়া সবাইকে চুপ করিয়ে দিতো তার কবিতাময় যুদ্ধ শুনবে বলে?

মাগো, জরিনাপুরের সুমন কি বাড়ি ফিরতে পেরেছিল? ঐ যে সে যে যুদ্ধে গেল বলে
সাদাপোশাকে একদল মানুষ তার বোনকে ধরে নিয়ে গিয়েছিল পুলিশ রিমান্ড চেয়েছিল
তার ঘর তছনছ করে দিয়ে ছিলো

মা ও মা ঐ যে উওর পাড়ার উকিল ছেলেটা
মনে আছে ? সে কি বাড়ি ফিরতে পেরেছিল ?
যুদ্ধে নামবে বলে নিয়ত করাতেই
ওরা ওকে একদিন কোথায় যেন নিয়ে গিয়েছিল আর ওর স্ত্রী কাঁদতে কাঁদতে বলেছিলো
অন্ততপক্ষে আমাকে ওর লাশ দাও। আমি দাফন করি।

যুদ্ধ শেষ হলে সবাই বাড়ি ফিরতে পারে না
সিস্টেম চুরমার করে দিতে পারে না
আমলাতন্ত্র ধোয়া তুলসী পাতা হয় না
সংবিধানের চোখে চোখ রেখে বলা যায় না
তোর সাথে ছাড়াছাড়ি
কাককে বলা যায় না কোকিলের ঘরে ডিম পাড়িস ক্যান
রাঘব বোয়ালদের বলা যায় না তোর হা এত বড় কেন
শিং মাগুর কে বলা যায় না আঙি দিস কেন
ছুরি কে বলা যায় না কাটিস না
আগুন কে বলা যায় না জ্বালাস না
কালো কে বলা যায় না
বহুত হয়েছে বাপ এবার সাদা হ!

যুদ্ধ শেষ হলে বাড়ি ফেরা যায় না
যুদ্ধ শেষ হলে শুধু আরেকটি যুদ্ধ শুরু হয়

উম্মে সালমা
২/১১/২০২৪

Salma's Poems

দাঁত থাকতে দাঁতের মর্যাদা নেই

দাঁত থাকতে দাঁতের মর্যাদা নেই
মানুষ কেনো যে এমন হয়
কেন যে এমন
কাছে থাকলে একটুও লাগে না যে মায়া
দূর হলে হৃদয়ে পড়ে থাকে ছায়া
হায় ছায়া!
কিছু যদি দিতে চায় চায়না নিতে
পরেই মনে হয় দিত যদি হৃদয়ের ফিতে
আহা যদি!
এভাবে কেন যে মন মেঘ ভালবাসে
মাটির ঠাণ্ডা নিয়ে খুক খুক কাশে
সৃষ্ট অসুখে।
দাঁত থাকতে আসলেই দাঁতের মর্যাদা নেই
শত ইচ্ছা থাকলেও তা মৃত পড়ে রয়
দ্বিধার বাঁধায় ।

ঊম্মে সালমা

Salma's Poems

সম্পূর্ণ রাজনৈতিক

'আমি তোমাকে ভালোবাসি'--বলেছিলাম
দ্বিধায়, বাঁধায়, প্রকারান্তরে
অনায়াসে, অজান্তে, অনন্যতায়
কতবার? হাজার, লক্ষ.........মিলিয়ন ?
জানিনা
জানিনি
জানতেও চাইনি।

জানতে চাইনি আরও অনেক কিছু।
তোমার অর্থনৈতিক আভিজাত্য, সাংস্কৃতিক স্থানীয়ত্ত এবং
রাজনৈতিক রিশতা।
দাদা বললেন, এই বদ্বীপের শিরায় বয়ে যাওয়া রক্ত-রস তার বিশ্বাসে নিঃশ্বাস,
আর কি?
দাদী বললেন, পাত্র ভালা।
মা কাঁদলেন এখানে-ওখানে,
এবং বাবা সারাদিন ফোনে একে তাকে সংবাদ দিলেন। বিয়ে।
আর আমি...
একটি নিরুদ্দেশ নৌকায় ভেসে যাবার তোড়জোড় করছিলাম।

তারপর
হঠাৎ হলো এক বীভৎস বিস্ফোরণ ।
রঙধনুর মতো,
গায়ে হলুদের শাড়ীটার মতো
বসন্তের মতো
বর্ণিল-চিত্রালী সংসারে হঠাৎ বেজে উঠলো
এক রাজনৈতিক নিনাদ।
সহিংস আহবানে,ভয়াবহ বৈরিতায়, ভাঙচুরের বিনোদনে
ডাক এলো ভাগ করার, ত্যাগ করার
একদেয়ালের মধ্যে থাকা বহুমতের অনেককে।
একসীমানার ভেতর থাকা বহু মাত্রিক ভাবনাকে।

এখন? এখন আমি এখন কি করব?
ওঃ! আমি এখন কাকে ভাগ করব,কাকে ত্যাগ করব?
তোমাকে? যে বলে জয় আর বিজয়ের গল্প।
ও! আমি এখন কাকে বর্জন করব?
তাকে? যে শোনায় বিশাস-কেন্দ্রিক জীবন-মৃত্যুর সুর?
অ! আমি এখন কাকে বিসর্জন দেবো?
ওকে? যে ধারণ করে ফাইভ এপকস অফ হিস্ট্রি,সাম্যবাদ আর বিপ্লবের ধারনা?
আর তা করতে করতে নামবো ফাইবার, সাইবার এবং অন্তর্গত যুদ্ধে !

ওহ!
“বড় কষ্ট ভালবাসায়। ভাল তো কাউকে পরিকল্পনা করে বাসা যায়না।
ভালবাসা হয়ে যায় ঘটে যায়।”
সংসারে আর সহবস্থানে
বিহিসেবী
মমতায় আর সহিষ্ণুতায়
মানুষে-মানুষে।

ঊম্মে সালমা
১৩/০২/২০১৩

Salma's Poems

ফাটল

মরিচিকা সরছে আর সময় উঠেছে সকরুণ হেঁকে 
পদ্মা-যমুনার মত স্রোত দুই, সুশীলা হতে পারিনি কেউ
তাই আজ এক কঠিন আর প্রতিকূল ঢেউ, বিশাল ঢেউ
তাড়িয়ে নিয়ে যাছে আমাদের এক দুর্দশার দিকে।

আমাদের একটা স্বাধীন দেশ, তাকে ভালোবেসে বড়
আমরা পেয়েছিলাম, হারিয়েছিলাম রক্ত-ভাসা সবুজে কত
আত্মত্যাগী, ভয়হীন, সত্যভরা জীবন; আহা, সুগন্ধি ফুল যত
অথচ সে প্রিয়তম দেশ-ঘর আজ ভয়ানক পড়পড়

সুতোর মতো প্রস্ফুটিত একটি রেখা একটি বিভেদ
হয়ে ছিল দেয়ালটায় যেটা চিত্রবিচিত্র ছবিতে ভরা ছিল
আঁকা ছিল দেশ-দশের ভাবনা, কর্ম, ব্যর্থতা, আর সাফল্য
বেড়ে গিয়ে সে হলো বড় ফাটল এক যন্ত্রণাময় ক্লেদ

সেই ক্লেদ আজ তাড়িয়ে নিয়ে যাচ্ছে তোমাকে-আমাকে
এক দানবীয় উপত্যকার কাছে; ওহ! সেখানটায়, যেখানটায়
নারকীয় ক্ষমতা পশুত্বের পাপ আর উল্লসিত পৈশাচিকতায়
নেচে ফিরে জীবনের প্রতিটি প্রশান্তিময় বাঁকে বাঁকে ।

তাই কি সব মরিচীকা? সব নির্বিকার হৃদয় হয়ে উঠছে?
ঘৃণার নির্মূলের নিন্দিত ভাষা আজ স্নিগ্ধ ঠোঁটে ফুটছে ?

উম্মে সালমা
২০১৩, চবি


[কবিতার রচনাকাল ২০১৩ শাহবাগ আন্দোলনে যখন দেশে একটি বিশ্রী বিভাজনের রাজনীতি শুরু হয়েছিল]

Salma's Poems

বাহির হতে খিল

আমার জগত আমার জগত
আমার জগত নীল
হঠাৎ দেখি আমার ঘরে
বাহির হতে খিল
বাহির হতে খিল দিয়েছে
বাহির হতে তালা
আমার হাতে কলম ছিলো
বুকের মাঝে ডালা।

বুকের মাঝে ডালা-ভরা তারার মত ফুল
চোখের মাঝে চমকে ওঠা হীরক রাজার দুল
হাতের মাঝে একটি কলম কালি ভরা পূর্ণ
ঘরের দুয়ার খোলা ছিল রোদে উঠোন চূর্ণ
ঠোটের উপর কথা ছিলো, ভাষায় ভাষায় ধাক্কা
অন্যায় আর অবিচারে সোজা কথা পাক্কা

আমার জগত আমার জগত
আমার জগত সাদা
হঠাত দেখি আমার ঘর
বাহির হতে বাঁধা।
বাহির হতে খিল দিয়েছে
বাহির হতে বন্ধ
আমার হাতের কলমটিকে
বলল হতে অন্ধ।

বলল হতে অন্ধ আর বলল হতে মূক
নীলগুলো সব গুটিয়ে নিয়ে ছাতাপড়া বুক।
হাতের কলম কেড়ে নিয়ে কালি দিলো লেপটে
ফুল্গুলোকে মাড়িয়ে দিয়ে পথে দিলো সেপটে
ঠোঁটের উপর কথাগুলো, বলল ”শালা ঢোক!
শব্দগুলো হজম কর, পেটে বেজায় ভোখ।”

আমার জগত আমার জগত
আমার জগত নস্যি
আমার স্বদেশ শব্দ ধরে
ছুঁড়ে বিশাল বড়শি।
যারা যারা শব্দ করেন
শব্দে ধরেন নীল
তাকিয়ে দেখুন সবার ঘরে
বাহির হতে খিল।

ঊম্মে সালমা, ৫ জুলাই ২০১৭

লিঙ্কস টু ফলোঃ

https://www.facebook.com/notes/1012808585900545/

Umme Salma·Wednesday, July 5, 2017

Salma's Poems

সার্ভাইভারস গিল্ট ‘২৪

খুব বেশী মেঘ জমে
খুব বেশী কালো
আমি জানি তুমি নেই
একটুও ভালো

আমি জানি তোমরা নেই
একটুও ভালো
বুলেটে বিসর্জন দিয়ে
দু চোখের আলো

বুলেটে বিসর্জন?
শুধু তাই নয়
সারপ্নেলের এ শরীরে
জীবন সংশয়

শত শত মুখ চোখ হাত পেট
মাথার খুলিতে
ক্ষত বিক্ষত এ শরীরগুলো
এ কেমন গুলিতে

অথবা

পড়ে আছো মরে আছো
এমন কোমায়
সভ্যতা নাশকারী জীবন হরণকারী
ভয়ানক বোমায়


আর ওদিকে...

সারাদিন ওরা থাকে
মতের অমিলে
কথার পাহাড় গড়ে
এ ওকে ছিলে

ভালোর চিন্তা নেই
ভালো আছে বলে
নিজেদের হিস্যা ই চায়
রাজ কৌশলে?

সবসময় তাই (আমি এই ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র)
অপরাধী হয়ে যাই
বেঁচে থাকার কষ্টে
হারাই হারাই

সবসময় তাই
সব সকাল ভাই
সময়ের কাছে
হেরে হেরে যাই

এমন অস্ত্র কেন মানুষ বানালো
এই প্রশ্নের কাছে খেই ই হারাই
এমন অস্ত্র কেন মানুষ চালায়
উত্তরহীন প্রশ্নে শুধু খুব তড়পাই

উম্মে সালমা
২৮/১০/২০২৪


Salma's Poems

বিষন্ন/প্রসন্ন ইতিহাসের পাঠ

অন্যায় অবিচারে যখন দেশ ছেয়ে গেলো
এবং নানা ধরনের জুলুম নির্যাতন যখন হয়ে উঠলো নিত্যদিনের রুচি
ঠিক তখনই “কি পাবো কাল?” সেই কথা বিবেচনা না করে তরতাজা যুবকেরা এক সতীর্থ কুকুর নিয়ে জনপদ ছেড়ে বেরিয়ে এসেছিলেন
যেতে যেতে আশ্রয় নিয়েছিলেন দুর্গম গুহায়
সূর্য যার দরোজা কখনো স্পর্শ করেনি
উদয়ের সময় সে হেলে যেতো ডানে
অস্তের সময় বামে
এক সুদীর্ঘ ঘুম তাদের আচ্ছন্ন করে রাখলো শত শত বছর…

এইরকম গল্পের প্রহর ছিলো সেদিন মনে আছে? নীলা?
মনে আছে গভীর শীতে জড়ানো শাল
এক প্রস্থ নীলাকাশ অনেকগুলো বেঞ্চ টেবিল
আর দেয়াল জুড়ে সাদা বোর্ড কয়েকটি সুগন্ধি মার্কার

আমার হৃদয় ছিলো উদ্বেলিত
চোখে অশ্রু
একটা কি এক অদ্ভুত আত্মিক শক্তির উদ্দীপনায়
আমি আমরা হয়ে উঠেছিলাম একটা পরশ পাথর।

কিন্তু…

একটি ক্ষুধার্ত স্বৈরাচারী বাঘ এসে আমাদের সেসব দিন কেমন করে যেন অচিরেই খেয়ে নিল
স্লাইমের মতো একটু একটু করে অন্যায় অবিচার করার তীব্র আকাঙ্ক্ষা দুর্নিবার লোভ আমাদের হৃদয় ছেয়ে নিলো
আমরা ভুলে গেলাম
অন্যায়ের দিন গুহাবাসী হতে হয়
পালিয়ে যেতে হয় জনপদ হতে
বেছে নিতে হয় কৃচ্ছতা সাধন আর জৌলুসহীন পৃথিবী

নীলা চোখ মোছ প্লীজ
রঙবদলের খেলায় বার বার রঙিন হয়ে ওঠা
সেই শহরটার জন্য
সেই জনপদে লোভ হিংসা আর দুর্নীতিভরা ছায়াদের জন্য কেঁদো না।

আজ বড্ড কঠিন সময়।

আজ অনেক ভালো বাবারা শত শত ছাত্র-জনতার খুনী
আজ অনেক ভালো ভাইয়েরা লুটেরা আর অসৎ
আজ অনেক ভালো শিক্ষকেরা দখলদারদের দোসর
আজ অনেক ভালো নেতাদের হাতে সম্পদের পাহাড়
আজ অনেক ভালো সৈনিকের হাতে আয়না ঘরের চাবি

এইসব ভালো দিয়ে তুমি কি করবে
যার জায়গা শুধুই তোমার জন্য
এই সব ভালো দিয়ে তুমি কি করবে
যেই ভালো শুধু আমি আমি আর আমিময়?
এই সব ভালো দিয়ে তুমি কি করবে
যেখানে অন্যের মাংস খেয়ে প্রতিদিন বেড়ে ওঠে একদল মুনাফিক
খাবলে খুলবে খায় প্রতিদিনের স্বস্তি?

চেয়ে দেখো নীলা
আকাশটা আজ বড্ড রঙধনুময়
কয়েকটি পাখি খেলা করছে লালঝুটিওয়ালা মোরগের মাথায়
সমুদ্রের ঢেউ একটার পর একটা না-বিভাজনের
আলাপ তুলছে
মোবাইলে ভেসে উঠছে লাইকের নোটিফিকেশন

জীবন সুন্দর
সুন্দর রাঢ় থেকে বাংলা থেকে চীন থেকে ফিলিস্তিন
সুন্দর হিউয়েন সাঙের মতো পৃথিবী পাঠ
আর যেতে যেতে দেখা
সময়ে সময়ে মানুষের ন্যায়বোধের চর্চা
এমন ন্যায় বোধ
যেখানে ন্যায় মানেই আমি তুমি সে, আমরা সবাই…

আমরাময়তা উইদাউট দি আদার।

উম্মে সালমা
২২/১০/২০২৪, টুঅং

Salma's Poems

একটি স্বার্থপর, অমানুষের পদ্য

পুলিশ ভ্যান থেকে ময়লা আবর্জনার মতো
জীবন্ত তোমাকে ফেলে দিয়ে ফেলে গেলো যেদিন
জেনে নিও
সেদিন আমি আমার খোলস ছেড়ে বেরিয়ে এলাম
একটা চকচকে খোলস যা আমার টুঁটি চেপে ধরেছিল
যা আমার সামনে তুলে ধরেছিল একটি রেশমের পর্দা
আমাকে করেছিল একটি ভয়ার্ত ছুঁচো ।

বিশ্বাস করো ভাই,
যেদিন পুলিশ ভ্যান থেকে তোমার মতো
জীবন্ত যৌবনকে ক্ষত বিক্ষত করে করে
ব্যবহৃত স্লাইমের মতো ছুঁড়ে ফেলে দিয়েছিল
আমি কিন্তু একটু কাঁদিনি।
আমি শুধু আমার চারপাশের লেপামোছা দেয়াল দুহাতে ভেঙে চিৎকার করে বলেছিলাম
কি হবে এই জীবন দিয়ে যদি তাকে অমানুষ হয়ে বাঁচতে হয়
যদি তা স্বার্থপরতা অমানবিকতা আর দাসত্বের শৃঙ্খলে থাকতে হয়?
যদি দুনিয়ার মোহে সত্যকে পায়ে ঠেলতে হয়!
বলতে হয়, “আমার ভয় লাগে!”

সূর্যোদয় হয় আমাদের রাতে
চাঁদের আলোয় ভেসে যায় উইনামের দারুন তীর
ইন্টারনেট ইলেকট্রিসিটি সর্পিল বাঁকে বাঁকে বইতে থাকে অদৃশ্য নদীর মতো।
কিন্তু ভাই, তোমার ওপাশে একটি ব্লাক আউট
আঁকড়ে ধরে রাখে হাহাকারের হৃদয়।
আমরা দেখতে পাইনা তুমি কি করে হয়ে উঠলে
তোমার মাটিতে সম্ভাবনার বদলে একটা প্রচন্ড আক্রোশের শরীর?

বিশ্বাস করো ভাই
তোমাদের অন্ধকার অন্ধকারে মৃত্যু আমাকে অপরাধী করে তোলে প্রতিদিন প্রতিটি সকালে
আমি প্রার্থনার রহস্যে মোড়ানো বিকালে
তোমাদের আত্মত্যাগী হাতে আমার হৃদয় সমর্পণ করি
আর
পাগলের মতো নিজেকে বলি,
হে বাকশক্তি, হে মানুষ নামের কলঙ্ক,
“কথা ক”।

উম্মে সালমা
৩৩ জুলাই ২০২৪
“শেখ আসহাবুল ইয়ামিন তোমাকে ভুলি না।”

Salma's Poems

জুলাই দুই হাজার চব্বিশ এবং আমাদের নতুন শব্দ

এলোপাথাড়ি
শব্দটা আমার ডিকশনারিতে ছিলো
কখনো ব্যবহার করিনি
গোটা জীবন ভর
এলোপাথাড়ি কিছু ঘটেছিল কি?
বোধহয় না।
যা কিছু ঘটেছিল
কখনো বলেছি সব এলোমেলো
কখনো সব উল্টাপাল্টা
কখনো সব হিজিবিজি
কখনো সব অগোছালো

অথচ এই শব্দটি এখন আমার পিছ ছাড়ে না।
জুলাই আটারো দুই হাজার চব্বিশের পর হতে
যেদিন এলোপাথাড়ি গুলি শুরু হয়
লোকারণ্য গলিতে লোকারণ্য রাজপথে
লোকারণ্য জনবসতির ঢাকায়

ঢাকা
ঐ যে সেই শহরটা
যার নাম ছিল জাহাঙ্গীরনগর
যে ১৯৪৭ এ আগলে ধরেছিল মাইগ্রেন্টদের
সেই… সেই শহরটা
যাকে আমরা পৃথিবীর অন্যতম দূষিত নগরী বলি।
যার নদীগুলো ময়লা পানি আয়রনের মতো লাল
যার বুক চিরে জেলখানার কয়েদীর মতো
রিমান্ডের রশিতে নিত্য ঝুলে থাকে অনেক গুলো ফ্লাইওভার
যেখানে সারি সারি রেস্টুরেন্ট‌ খেতে এসে চিৎকার করতে হয় জীবনের জন্য
যেখানে মেট্রোরেল নামের এক প্রেমিক আছে যার দুঃখের গানে অশ্রু ঝরে কত স্বৈরাচারী চোখে

সেই শহরটায়
এলোপাথাড়ি কুপিয়ে কুপিয়ে জখম করা শহরটায়
এলোপাথাড়ি গুলি
ছররা গুলি ওরা বলে
হেলিকপ্টার থেকে
ট্যাংক থেকে
মানুষের মতো দেখতে একধরণের জন্তুর হাতে থাকা
মরনাস্র হতে।
এই গুলি কাউকে মানে না
বন্ধুর গুলিবিদ্ধ শরীর টানতে থাকা শরীরটাকে খেদিয়ে দেয়
আর জীবন্মৃত মানুষের শরীর হাসতে হাসতে
সেঁধিয়ে দেয়…

কাউকে মারতে এত “মুই কি হনুরে” চেহারা কখনো দেখিনি
কখনো দেখিনি এক উম্মুক্ত পৈশাচিকতা চোখে মুখে শরীরের ভাঁজে ভাঁজে খাঁজে খাঁজে
কখনো দেখিনি কাবিলকে
তার চোখে মুখে ও কি এইসব এইভাবে লেখা ছিল জনশূন্য পৃথিবীতে?

জানিনা জানিনা
শুধু জানি
এই এলোপাথাড়ি মৃত্যু
হানা দিয়েছিল
বারান্দা ছাদ রাস্তায়
সব এক নিমিষেই হয়ে উঠেছিল মরণফাঁদ।

আর তখন
এলোপাথাড়ি এলোপাথাড়ি এলোপাথাড়ি
শব্দটা স্ক্রল করতে করতে
আমার আমাদের মাথায় জায়গা করে নিলো
আর আমাদের
শান্ত শিষ্ট মেয়েটিকে করে তুললো প্রতিবাদী
রাজনীতি না বোঝা গৃহিণীকে বের করে আনলো মিছিলে
মমতাময়ী মাকে বললো ছেলেকে পিঠ চাপড়ে দিতে
সাহসী বোনকে বললো ট্রাকের পথ আগলে দিতে
বন্ধুদের বললো সীসা ঢালা প্রাচীরের মতো সব বাধা ভেঙে শুরু করতে এক শ্রমসাধ্য রক্তমাখা লংমার্চ…
লোকে যেন তাকে বিপ্লব ই বলে। বিপ্লব ই তার নাম।

উম্মে সালমা
২৮/০৭/২০২৪