Reflections

বিবর্তনবাদ তত্ত্ব কি বলে? জর্জ এলিয়ট কিভাবে তা সাহিত্যে এনেছেন?

চার্লস ডারউইনের নাম কেনা জানে! বিশ্বাসী অবিশ্বাসী সবার কাছে নামটি এত পরিচিত যে, সেই বুদ্ধি বুঝের কাল থেকে দেখে আসছি, থেয়িষ্টরা এই নামটা শুনলেই আঁতকে উঠে এবং এথেয়েষ্টিরা যাষ্ট পুজো করে আর ওর বিবর্তনবাদ ( theory of evolution) নিয়ে রীতিমতো তাদের অপোনেন্টদের ঘায়েল করে। ইংরেজি সাহিত্যের সমালোচনা (criticism) এবং এর সাথে সম্পৃক্ত লাইফ ফিলোসফি পড়তে গিয়ে প্রায়ই একটা তথ্য ক্রিটিক্যাল পারস্পেকটিভ হয়ে চলে আসতো, “What about the human history and culture if a monkey/ ape stands in the entrance of its existence? এথেয়িষ্টরা তৃপ্তির ঢেঁকুর তুলে, যাক বিজ্ঞান পাওয়া গেল ধর্মকে রিপ্লেস করতে। আর থেয়িষ্টরা কি বলবো! এই বিষয়ে কথা বলতেই নারাজ। পাছে বিশ্বাস ভেঙ্গে পড়ে। অনেকেই দেখেছি বেচারা ডারউইনকে তুলোধুনো করে।

এত কথা কেন বলছি জানেন? ঠিক গতকাল রাতে The Origin of Species সম্পর্কে জেনে ঠিক নিজেকেই জিজ্ঞেস করলাম, “আচ্ছা এই বইটি ঠিক কজন পড়েছে?” আদৌ কি পড়েছে? গতকাল ভিক্টোরিয়ান সাহিত্যের গবেষক এবং শিক্ষক ড মেলিসা ডিকসনের একটা লেকচার শুনছিলাম George Eliot এর The Mill on the Floss এর উপর। এই লেখিকা কিভাবে তার সময়কার বিজ্ঞান, বিশ্বাস আর মানবিক সম্পর্ক কে ভিক্টোরিয়ান সাইন্সের আলোকে দেখেছেন সেটা বোঝাতে গিয়ে তিনি ডারউইনের বিবর্তনবাদ তত্ত্ব ডিবাংক করেছেন এবং দেখিয়েছেন যেটা এই লোক বলেননি বা আদৌ তার রিসার্চের বিষয় ছিলো না তা তার উপর কিভাবে চাপানো হয়েছে। যা করেছে হারবার্ট স্পেনসার তার Social Darwinism তত্ত্বের আবিষ্কার করে। আর এই “Social Darwinism” দিয়েই ব্রিটিশ ইম্পেরিয়াল এবং কলোনীয়াল মাষ্টাররা race ladder এবং race theory তৈরি করে আমাদের মতো এখনো নতজানু ( still enslaved) জাতি তৈরি এবং শাসন করেছে।

এই শোনার পর থেকেই আমার ঘুম নেই। আমি খুব এক্সাইটেড, আচ্ছা, theory of evolution কি বলে? এ সপ্তাহে George Eliot পড়াবো, আমার না জেনে ক্লাসে যাওয়া ঠিক হবে না। ঘাটতে ঘাটতে যা পেলাম, theory of evolution যেটা প্রাণীদের উপর রিসার্চ করে দেয়া হয়েছিল সেটার দুটি হাইপোথিসিস আছে,

১. Struggle for existence: the competition that ensues among each species ( he did not include human beings) on Earth to maintain themselves in a given environment, to survive and to reproduce of their kind

২. Natural selection: the principal by which, within the struggle for existence, certain types and species thrive and others perish

এই দুটি হাইপোথিসিস তাকে নিয়ে যায় আরেকটি আইডিয়াতে যেখানে তিনি দেখেছেন এই পৃথিবীকে ‘ a tangled bank” হিসেবে যেখানে সব গাছপালা পশুপাখি একটা ইন্টারডেপেনডেন্ট সম্পর্কে জড়িয়ে আছে এবং একটি অলিখিত সিষ্টেম অনুযায়ী চলছে।

তো এখানে বিবর্তনবাদ তত্ত্ব কি শেখায়? কোন supreme intelligence নেই? Supreme being নেই? বা God নেই? God is dead? এই লেখক নিজেও এথিষ্ট ছিলে না। তিনি Christianity র মানুষ কেন্দ্রীয় একচেটিয়া চিন্তা কে প্রশ্ন করেছেন এবং দেখিয়েছেন যে মানুষ নামক এই প্রানী কুল মাখলুকাতের সবার মধ্যে একটি মাত্র প্রানী। স্বাভাবিক বারবার নিজেদের সুবিধার জন্য পরিবর্তন করা একটি কিতাবের ধারক বাহকেরা কেমনে সেটা মেনে নেবে? তাদের এতদিনের ক্ষমতা প্রতিপত্তি সব খতম হয়ে যাবে না? তাইতো তাকে অপছন্দ করার কারনো বহু এবং লুফে নেয়ার কারনো বহু। তার মধ্যে একটি হলো, রেঁনেসাকালীন God-centred মানব জাতির ধারনা থেকে Man-centred যুগের আবির্ভাব যেখানে সব সুন্দর including women হোয়াইট আলফা মেইলের ভোগ্যপন্যে পরিনত হয়। আর তার ঐতিহাসিক বাই প্রোডাকট হিসেবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ফেমিনিষ্ট মুভমেন্ট তৈরি হবে সেটা কি খুব অস্বাভাবিক?

জর্জ এলিয়ট তার Mill on the Floss এ ডারউইনের বিবর্তনবাদ তত্ত্ব নিয়ে একটি এক্সপেরিমেন্ট করেছেন। একদল ডিফরমড, বিউটিফুল, ব্লাক, এবং ক্যাপাবেল চরিত্র এনে তিনি দেখিয়েছেন বেঁচে থাকার লড়াই এ ন্যাচারাল সিলেকশন কাজ করলে কেউ survive করে, কেউ thrive করে, এবং কেউ ডাইভ করে। তো এ থেকে বাঁচার উপায় হলো মানুষের একে অপরের সাথে সম্পৃক্ততা এবং নির্ভরতাকে মূল্যায়ন করা এবং পড়ে যাওয়া মানুষকে ফেলে না দিয়ে তাদের পথ চলতে সহযোগিতা করা। জীবনের যুদ্ধ থাকবেই কিন্তু প্রকৃতির মতো জীবন হতে হবে “a tangled bank.” আর এটাই জর্জ এলিয়টের মোরাল ফিলোসফি।

উম্মে সালমা, ১৬/০৫/২০২৪

Salma's Poems

I remember my coffee on a rainy day

It's raining hard and heavy
Since morning
After stoning the whole night
It is now throwing arrows at a sliding soul.

I go to the kitchen
And take two pieces of bread
No lavishness today
A thin layer of butter will be able to cover
the rough surfaces of a hungry body and cranky mind.

'Butter'
What a nice word!
A white oily substance makes the dry dull bread creamy and edible
And when it adds to 'fly',
I seem to chase a flimsy beauty in the flower garden.
At childhood...

But the rainy day soaked my buttered bread
And dampened my dry heart
And stopped me from chasing
a dream, long-held
I see a big big big group of she he they you
buttering the right side of the bread
And I am falling down falling down falling down

Then, I remember my coffee,
a fuming potion in a Turrbalic cup.

Umme Salma
17/05/2023, UQ
first posted in "Salma's Silent Sounds"
https://www.facebook.com/your.ummesalma
The Way The Quran Reaches Me

একটি ব্যবসা: প্রতারণার, নির্বুদ্ধিতার আর ঠাট্টার?

সূরা বাকারা পড়তে গেলে কিছু আয়াতে সবসময় চোখ আটকে যায়। আয়াত গুলো হলো আট থেকে বিশ। যতবার পড়ি ততবারই মনে হয় এই উপমা আর রুপকতা মন্ডিত কথাগুলো সত্যি কি আমি বুঝি? উপমা নিয়ে রিসার্চ করা আমি বারবার ফিরে ফিরে যাই আয়াত গুলোতে। দেখতে চাই কি ভীষণ জীবন্ত সেই মেটাফোরিকেল ইমাজারি, চোখের সামনে ভেসে ওঠে আবার হারিয়ে যায়, মনে হয় এ দৃশ্য আমি কোনদিন দেখেনি বলেই কি এটা একসাথে ভয়, বিষাদ, আর হাহাকার তৈরি করে?

আয়াতগুলোর সরল অনুবাদ বা আরবী ভাষা জানা সবার কাছে অর্থ একেবারেই পরিস্কার। আলীফ লাম মীম ( মাদ দিয়ে টেনে পড়ুন) দিয়ে শুরু হয়ে দুই থেকে সাত নম্বর আয়াত পর্যন্ত কুরআনকে মানুষের সাথে পরিচয় করিয়ে দেয়া হয়েছে এবং বলা হয়েছে এই মানুষরা কি কি বৈশিষ্ট্য থাকলে মুত্তাকী হতে পারে। সেই সাথে বলা হয়েছে যে সব মানুষ এসব মেনে নিতে পারেনা, তাদের সাবধান করলে ও কিংবা না করলেও তারা মেনে নেবে না। বারবার নিজের অন্তরের গভীরে থাকা আল্লাহর অস্তিত্ব রেখে ঢেকে রাখার কারণে আল্লাহ একসময় তাদের মন এবং কানের যে বুঝক্ষমতা তা সিলগালা করে দিয়েছেন। তাদের চোখের উপর এখন একটি আবরন পড়ে গেছে । তারা আর কিছুই অনুধাবন করতে পারবেনা।

কিন্তু ম্যাজিকেল আয়াত গুলো তার পর পরই। আল্লাহ তারপরি দুই দল মানুষের কথা বলেছেন। তিনি তুলনা করছেন ঈমান এবং কুফরকে কে একটি ব্যবসা হিসেবে। ব্যবসা বাণিজ্য একটি লেনদেন লাভ ক্ষতিকে ঘিরে আবর্তিত। এই ব্যবসায় মানুষ যে পন্য দুটো কিনতে পারে বিক্রি করে মুনাফার জন্য সেগুলো হলো: হেদায়েত আর গোমরাহী। যারা আল্লাহ প্রথম সাত আয়াতে মুত্তাকীদের যে বৈশিষ্ট্য বর্ণনা করেছেন তা অস্বীকার করে তারা কিনে নেয় গোমরাহী। জীবনভর এই ব্যবসা বাণিজ্য করতেই থাকে। শেষ পর্যন্ত দেখে, হায়! তার ব্যবসায় মারাত্মক ক্ষতি আর ধ্বস।

সবচে ইন্টারেস্টিং যে বিষয় হলো এই মানুষরা আসলে কারা। তারা কি এমন করে যে তাদের ব্যবসা যে অলাভজনক হয়? এটা বুঝতে গিয়ে আমার চোখ আটকে যায় জন্য তিনটি শব্দের দিকে: প্রতারনা, নির্বুদ্ধিতা, আর ঠাট্টা। প্রতারনা কি? যা দেখি যা দেখায় তা যখন মিথ্যে হয় তখন তাকে প্রতারনা বলে। এসব মানুষ মুখে মুখে বলে তারা আল্লাহ যা যা বলেছেন সব বিশ্বাস করে। কিন্তু আসলে তা নয়। তাদের কাজ প্রমান করে তারা অন্যরকম। কিন্তু তারা স্বীকার করতে চায় না। জমিনের উপর সব ধরনের বিপর্যয় করতে থাকে আর জিজ্ঞেস করলে বলে, তারাতো সবার ভালো চায়। তারা জমিনকে শান্তিতে ভরিয়ে রাখতে চায়।

তারপর আরেকটা ধাপ অতিক্রম করে তাদের যদি বলা হয় ঈমান আনো। এরা নিজেদের বুদ্ধিমান বলে দাবি করে। আর ঈমানদারদের বলে নির্বোধ। আসলে বোকা বা নির্বোধ কে? যার বুদ্ধি কম। যারা বুঝে না। এরা ভাবে আরে আমরাতো বুদ্ধিমান, আমরা কেন এ কাজ করবো? যা দেখিনা তা বিশ্বাস করবো? নিজের টাকা থেকে অন্যের জন্য খরচ করবো? নো ওয়ে।

এর পরেরটা হলো, ঠাট্টা করা। উপহাস করা। এরা সময় সময় যখন ঈমানদারদের সাথে মেশে, বলে আমরা তোমাদের সাথে আছি। আবার যখন তাদের মতো লোকের সাথে বসে বলতে থাকে, ওদের সাথে তারা মজা করছে। তাদের চোখে মুখে থাকে আত্মতৃপ্তির আভা। তারা জোক আর মোক করতে পেরে হেসে লুটোপুটি খায়।

এই দৃশ্য যখন আমার মনের চোখ দেখে আমার বুক কাঁপে। আমি কি এদের মতো কেউ? নিজেকে খুব বুদ্ধিমতি ভাবি আর প্রতারণা করি ঠাট্টা করি সত্যের সাথে? এর অনূভুতি তীব্র হয় যখন উপমাতে এসে থেমে যাই। আমি দেখি, এক লোক আলো জ্বালছে। সে আলো জ্বালাতে কত কিছুর আয়োজন করলো। আলো ও জ্বলল। কিন্তু আলো দেখার আগেই তার চোখ অন্ধ হয়ে গেল। এখন চেরাগের বাতি হোক কিংবা ইলেকট্রনিক লাইট সে কিছুই দেখতে পায়না।

অথবা খুব ঝড় বৃষ্টির রাত। বিদ্যুত চমকাচ্ছে। এক লোক এর মধ্য দিয়ে পথ চলছে। বজ্রপাত আর বিদ্যুৎ চমক হলে সে এত ভয় পায় সাথে সাথে কানে আঙ্গুল দেয় এবং চোখ বুজে ফেলে। আবার যখন ওসব একটু থামে একটু আলো ঝলকানি দেয় সে একটু হাঁটে। তারপর আবার ভয় পায় এবং আবার থামে। আবার একটু চলে। আবার থামে। এই অবস্থায় যদি এমন হয় যে বিদ্যুৎ তার চোখের দৃষ্টি ছিনিয়ে নেয়, সে কি করবে?

আল্লাহ বলছেন, এই হলো এই অলাভজনক ব্যবসায়ে নিমজ্জিত লোকদের জীবন। এরা ভাবে আমার চোখ আমার মন আমার কান সবকিছু আমার। এরা ভাবে আমি যেমন চাই তেমনি আমার এই শরীর কন্ট্রোল করতে পারি। আমার জীবন নির্বাহ করতে পারি। আসলে কিন্তু তা নয়। অন্ধকার রাত কিংবা ঝড় বৃষ্টির রাতের মতো আমাদের এই জীবনে আল্লাহ সব কিছুর উপর ক্ষমতাবান। তিনি চাইলে আমাদের চোখের দ্যুতি নিয়ে নিতে পারেন আমাদের পথ থমকে দিতে পারেন আমাদের বুঝক্ষমতা কেড়ে নিতে পারেন।

কিন্তু তিনি গোমরাহীর বিজনেস ম্যাগনেটদের সাথে তৎক্ষণাৎ তা করছেন না। তিনি তাদের অবকাশ দিচ্ছেন। দেখছেন নিজেকে ধোঁকা দিয়ে নিজের সাথে ঠাট্টা করে শেষ পর্যন্ত এই মানুষেরা কোথায় গিয়ে পৌঁছায়। তাদের বিদ্রোহ তাদের কত দিন তাদের উদ্ভ্রান্ত করে রাখে।

এখানে এসে আমি আবার থমকে যাই। হে প্রভু!কেন সব মানুষকে তুমি হেদায়েতের ব্যবসা বাণিজ্য করতে দাও না? তখনি আমার চোখের সামনে ভেসে ওঠে মানুষের এজেন্সির আইডিয়া। মানুষের আছে ইচ্ছাশক্তি। আছে ইনটেনটেনশন, ডিসিসান নেবার এবং পছন্দ করার ক্ষমতা। যে এই ক্ষমতাকে কাজে লাগিয়ে গোমরাহীর ব্যবসা করছে, তাকে জোর করে হেদায়েতের ব্যবসা বাণিজ্যে লাগানো কি ইনজাষ্টিস নয়? ইচ্ছা স্বাধীনতার অবমূল্যায়ন নয়? ইনইকুয়ালিটি নয় ? ইনিকুইটি নয়? এটা কেমনে হয় একটা মানুষের কমলালেবুর চাহিদা নেই, আর আমি তাকে জোর করে কমলালেবু খাওয়াচ্ছি…

মানুষদের কুরআন একদম শুরুতে মানুষকে (আই রিপিট, মানুষ নামের প্রাণীটিকে, বিশ্বাসীদের না, মুসলিমদের না) ডাকছে। ডেকে ডেকে বলছে, “দেখো, তুমি চাইলে এরকম হতে পারো। চাইলে ওরকম হতে পারো। তুমি হলে গিয়ে ব্যবসায়ী। সিদ্ধান্ত নাও তোমার প্রভুর সাথে তুমি কি নিয়ে ব্যবসা বাণিজ্য করবে। কি পন্য কিনে তুমি তোমার জীবনের দোকান সাজাবে, জীবনের মার্কেটে কি দ্রব্য তুমি লেনদেন করবে? The choice is yours. You can use your full potential to do anything ( mocking, deciting, or priding). But keep in mind, Allah is in the rear.”

কুরআন আমাকে বলে, আপনাকেও কি? আসুন একটু ভাবি।

উম্মে সালমা, ১২/৩/২০২৪

Salma's Poems

যদি তুমি একবার সময় করতে পারো

এখনো তোমার গায়ে চাদর
শীত চলে গেছে সেই কবে
শীত চলে গিয়ে বসন্ত ও যায় যায়
একসাথে বসা এই আমাদের আর হবে?

আমাদের বসা
কবিতা চষা
সায়েরীর যত ধূন
আমাদের কথা
পদ্যের যাঁতা
অনূভুতি কি নতুন ।

শীত চলে গেছে সেই কবে
তবু চাদর কেন গায়
যে দিন গেছে ফিরছে না বলে
চাদরে মায়া লুকায়?

আহা! মায়া
কি দারুন এক শব্দ
রেশমী রেশমী ঝিলিমিলি পাতা
আলোচনা নিস্তব্দ।

সেরকম মায়া
চাদরে ঢেকো না
সেরকম ছায়া
মাড়িয়ে যেয়ো না

একদিন এসো বসি
জীবনের অর্থ কষি
একদিন হই সোনা উপকূলে
সুন্দর রাতের শশী।

একদিন যাই সৌর উপকূলে
একদিন করি কবিতায় সার্ফিং
একদিন বলি শব্দ হবে রুহ
নট নাথিং এনিথিং ।

উম্মে সালমা
০৪/০২/২০২৪

Salma's Poems

শেষ পর্যন্ত সক্রেটিস

কনিয়াম ম্যাকুলেটাম
একঝাঁক সফেদ ফুল এথেন্সের বাগানে।
লোকে বলে হেমলক।

তোমার জন্য বরাদ্দ করেছিল তারা সেই ফুল।
একটি স্বচ্ছ গ্লাসে তরলিত হয়ে তির তির দুলছিল তোমার জন্য
সেদিন সন্ধ্যায়
মৃত্যুর পরোয়ানা জারি হয়েছে।
একটি মাত্র চুমুক ব্যস!

কিন্তু তুমি তো খুব ব্যস্ত
আত্মীয় বন্ধুদের নিয়ে
এবং তারপর
বাঁশের বাঁশি নিয়ে
একটি সুর তুলছো বার বার
আবার আবার আবার
নতুন সুর
শিখতে হবে ই ।

"মৃত্যুর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে এ কোন পাগলামি?
কি হবে এই সুর শিখে ? কি লাভ?"
তুমি হেসে বললে,
"মত্যুর আগে কিছু একটা নতুন শিখে গেলাম, এটাই তো।"

জ্ঞানের দরজা সেদিন কি কেঁপে উঠেছিল ?
জানিনা।
শুধু জানি আমাদের সুন্দর সুরের চেয়ে
হেমলকের তৃষ্ণা বেড়েছে। আজকাল।

১৯/০২/২০২৪
Salma's Poems

যদি তুমি যদি তার কথা শোন, একবার

খুব খুব ইচ্ছে করে প্রতিদিন বলি
ভালোবাসার অনুপম অনুপম কথা
প্রতিদিন বলি এই মোবাইল এই গেজেটের জমকালো সব অনুষ্ঠানের ভিড়ে- আছে ঘুমিয়ে নরোম চড়ুই এর মতো-অনুভূতির এক মিষ্টি বারতা।

সকালের রোদ এলে পুঁই পাতারা কত মায়া নিয়ে দোলে; মনে হয় কত হাজার বছর গেলো তারপরও পৃথিবীর যাবতীয় সুন্দর বিহ্বল এ প্রকৃতিতে খোলে; সকাল হয় বিকাল হয় আকাশ সাদা হতে হতে লাল হয় নীল হয় সমুদ্রের ফেনার মতো বিমানের ডানাতে ডানাতে বাস্পের মতো কেমন উড়ে যায়

অথচ এসবের ভেতর দিয়ে টিকে থাকা
আমি যে মানুষ
প্রতিদিন বাস্তবতার আগুনে জ্বলে ভস্ম হয়ে যাই।
এ আমার এ আমাদের আমাদের প্রত্যেকের সংগ্রাম দুঃখ আর যন্ত্রণার কোন কুল নাই;
যে যেখানে আছি মূহুর্তে মূহুর্তে স্বপ্ন সাজাই
সেই স্বপ্নের খেসারত দিতে দিতে দিতে কদম ফুলের মতো কত কোমল পাপড়ি ঝরিয়ে
চলতে চলতে শীতের বিচালীর মতো
ধানের দিন চলে যাওয়া গল্পের বোঝাই।

প্রতিদিন ভালোবাসার গল্প প্রতিদিন খুনসুটি প্রতিদিন বিকেলের মরীচিকা মতো
আমারো ইচ্ছে করে শালিকের মতো ঘুমিয়ে থাকি এক নীড়ে; কোন চিন্তা নেই কোন কষ্ট নেই
নেই কোনো আনাগোনা আমার এই অব্যস্ত
আকাশের তীরে
ভালোবাসার এক গান বেহেশতী সুরের মতো
এত এত এত ভালো এত এত এত আলো
চারপাশে চারদিকে যদি ছড়িয়ে পড়ে। তার মাঝে ডুবে আমি ভুলে যাই কি পাবো কি হারাবো যতদিন বেঁচে আছি পৃথিবীর বিশ্রী বিভোরে।

উম্মে সালমা

(স্ট্রাকচার ভাঙচুর করে লেখা। কবিতা বোদ্ধাদের কমেন্ট চাই)

Salma's Poems

একদিন বছর শেষে

একদিন ঠিক ঠিক আয়নার সামনে গিয়ে দাঁড়াবো
না না লিপিষ্টিক দিতে নয়
স্বচ্ছতার উপর জমে থাকা ধূলো মুছে
মুখোমুখি দাঁড়াতে একান্ত নিজের সামনে
চাইলে হাপুস নয়নে কাঁদতে
কিংবা হাসতে পরিহাসের লম্বা হাসি
হা হা হা।‌

যদি সাহস হয়।

এখন আমি যেন একটি ঐতিহাসিক স্হান
সব কথা সব ভাবনা ঠিক এখানেই পৌঁছে:
"আগে এমন ছিলাম।‌"
"আমার এই ছিলো ঐ ছিলো সেই ছিলো"।
প্রতিটি পদক্ষেপ যেন মনে করিয়ে দেয়
আমি নামের যে প্রানটাকে পিতা-মাতা একটা পরিচয়ে চেহারায় চৈতন্যে বাড়িয়ে তুলেছিলেন
তা এখন ক্ষয়িত ইতিহাস
শরীরে সৌন্দর্যে
মননে মৌনতায়।

এই এই যে আমার দেহ...
এখন অনেকটাই নড়বড়ে
সৌন্দর্য এখানে ওখানে হয় স্হূলকায় হয়ে জমে আছে না হয় ভাঁজ হয়ে আছে কুঁচকে যাওয়া কামিজের মতো
চোখের দ্যুতি বাস্পায়িত চশমার মতো ঝাপসা
চুলের অরন্যে এক ভীষণ ভীতিকর ক্ষরা
কাজের ক্লান্তি শ্রান্তি ও কি কম?
সেই সাথে অসুখ অসুবিধা ঔষধ...

এই মন? মনটাও যেন শরীরের এক প্রিয় বন্ধু।
ভুলে যাওয়া খেয়াল না করা মনোযোগের অভাব
যেন নিত্যদিনকার সাথী।

ধারালো সেই মেয়ে
ভোতা হয়ে থমকে দাঁড়ায় কি আলামত পেয়ে?

এইতো কয়েক বছর আগেও কি ভীষণ জ্যন্ত ছিলাম। ভালোবাসা ভালোলাগা আশা আর
হবে সব হবে পারবো আমি সব পারবো
এইসব পাহাড়ভাঙা ঝর্না কলকল ছলছল করতো।

একটুও কি ভেবেছিলাম
যে আগ্নেয়গিরি জ্বলে চলেছে অবিরত
হয়ে পড়বে মনোলিথিক পাথুরে স্টেনথ্রপ?
যে নদী ছুটছে পাহাড় ভেঙে বালিয়াডী চিরে
হয়ে পড়বে ক্লান্ত পরিশ্রান্ত ক্ষীন ধারা?
যে হাত ছুটে বেড়ায় কাজের কাজে
সে আজলা মেলে আঙুলের ক'রে হিসেব করবে,
হায়, কত গেছে কত আছে ?

তো এই আমি
কি করে নিজের সামনে দাঁড়াই ?
চোখের উপর চোখ রেখে দেখি
একটি প্রানবন্ত মানুষ দিন দিন হয়ে পড়ছে শতাব্দীর ধূলোজমা একটি ফসিল?
সময়ের সাম্যতায় ।

৩০/১২/২০২৩.








Salma's Poems

Reflection

When intellectuals die
dies the kernel
what remains after is the shell
I am Bangladesh
carrying this shell for long fifty two years.....

Umme Salma

14 December 2023 on the Day of "Shaheed Budhijibi Dibosh"

Translation:

প্রতিফলন

যখন বুদ্ধিজীবীরা চলে যায়
চলে যায় অন্তঃসার
এর পর যা থাকে তা-ই খোলস
সেই খোলস বয়ে বেড়াচ্ছি সুদীর্ঘ বায়ান্ন বছর
এই আমি বাংলাদেশ......

ঊম্মে সালমা
১৪ ডিসেম্বর ২০২৩
Salma's Poems

ভালোবাসার দিনে অসহনীয় পংক্তি!

তারা বলল, মানুষ? কেন? মানুষ মানেই তো রক্ত, খুনোখুনি, বিপর্যয়
তিনি বললেন, আমি জানি তোমরা জানো না।
তারপর
তাঁর ভালোবাসার মাটির মানুষ হাজির হলো
তাঁরি মহিমায় উদ্ভাসিত হতে হতে
একে একে বলে দিলো কত কত নাম…
সবাই সিজদায়
শুধু সে ছাড়া: জ্বলজ্বলে এক আগুন অহংকারে উর্ধ্বমুখি ।

সেদিনই কি রচিত হয়েছিল ভালোবাসার দিনে অসহনীয় প্রথম পংক্তি?

২৯/১১/২০২৩

English version:

An Ugly Verse on a Day of Love

They exclaimed, human beings? why? 
Human beings mean bloodshed, murder, and anarchy
Zie said, You don't know what I know!
Then
Unfurling Hir aurora around
A lovely terracotta human ambled 
and told all the names of the things abound... 
Everyone bowed low
Except he: an arrogant flame flashing upward.
  
Was that the first time in eternal history 
an ugly verse was pencilled? 

29/11/2023


		
Salma's Poems

অনেক কথা বলার ছিল বলছি না

অনেক কথা বলার ছিল বলছি না
একলা দুপুর চোখের জলে গলছি না
ভালোবাসার মিথ্যে কথায় টলছি না
আগুন ভরছে হৃদয় তবু জ্বলছি না।

এই যে আমি এই সময়ে
ভাবতে বসি
চলবো নাকি? থেমে যাবো
হিসাব কষি

কষ্ট লাগে এই সময়ে ছুটতে ভীষণ
কষ্ট লাগে এই জীবনে গড়তে এমন

তার উপর বিশ্ব জুড়ে এমন খেলা
শক্তির আর অন্যায়ের আসরবেলা
সময় সময় এমন করে বুক কাঁপায়
দেয় তুলে নিজের ছবি মন আয়নায়

এইসব নিয়ে…

অনেক কথা বলার ছিল পারছি না
নিজের কাছে নিজে তবু হারছি না
মিথ্যে কথার মরীচিকায় মরছি না
বৃষ্টি হয়ে এক আকাশেই ঝরছি না

এই যে আমি এই সময়ে
অস্হির রুপ
খুঁজতে থাকি এলোমেলো
নিজের স্বরূপ।

উম্মে সালমা , ১৬/১১/২০২৩, টুঅং