Uncategorized

জীবন মৃত্যু: একটি এন্টিহেডোনিষ্ট ভাবনা


যেখানেই আপনার আমার মৃত্যু সেখানেই মৃত্যুর দূত আমাদের হাতছানি দিয়ে ডেকে ডেকে নিয়ে যাবে। যেদিন সিদরাতুল মুনতাহা ‘র পাতা ঝরে যাবে তার থেকে গুনে গুনে চল্লিশ দিন তারপর মৃত্যুর পথে পদযাত্রা শুরু। এক ঘন্টা এক মিনিট এক সেকেন্ড এক অনুপল আগানো কিংবা পেছানোর সুযোগ নেই। আপনি সেই নির্দিষ্ট সময়ে যা ই করেন না কেন: ঘুমিয়ে থাকুন, রাস্তায় থাকুন, ঘরে থাকুন, কাজে থাকুন, হাতে মাইক্রোফোন নিয়ে বক্তৃতা বা গান বা কবিতা গাইতে থাকুন, কিংবা আরো আরো অনেক অনেক কিছু, মৃত্যুর দূত আমাকে আপনাকে হাতছানি দিয়ে ডাকলে সেই ডাক উপেক্ষা করার মতো ক্ষমতা আমাদের দেয়া হয়নি।
এই সত্য যদি বারবার আমাদের চোখে আঙুল দিয়ে বোঝানোর চেষ্টা যদি কোন সুপার পাওয়ারের না থাকতো তাহলে কেন একটি নিষ্পাপ শিশু দশতলার ছাদে খেলতে গিয়ে খেলার এক পর্যায়ে ছাদের টিনের উপর ওঠা মাত্রই টিন ভেঙে দশতলার নীচে পড়ে যাবে? এক সেকেন্ডে জীবন নামক এত মায়া এত মজা সবকিছু শেষ হয়ে যাবে? যতবার সিসিটিভি ফুটেজ দেখছি ততবার অবাক হয়ে দেখছি দশতলার টিনের চালে উঠতে গিয়ে মেয়েটি প্রথমবার পা পিছলে গেল। সে উঠতে পারল না। কিন্তু সে থামলো না। দ্বিতীয়বার আবারো কষ্ট করে টিনের চালে উঠে পড়লো এবং এক সেকেন্ডে পুরোনো টিন ভেঙে একদমই নীচে… ইন্নলিল্লাহ ওইন্নাইলাহি রাজিউন।
সে চাইলেই কি এই মৃত্যু থেকে রেহাই পেতো? আমি বিশ্বাস করি, না। ঐ পাশে মৃত্যুর দূত তাকে ডাকছে। দুনিয়ার সফর শেষ করতে হবে। জান্নাতের বাগান প্রস্তুত।‌ তার বাবা মায়ের পরীক্ষার ক্ষেত প্রস্তুত। তো আর কিসের অপেক্ষা?
সুলাইমান আঃ এর সময়কার ঘটনা। আজরাইল আ: কে পাঠানো হলো এক ব্যক্তির রুহ কবজ করার জন্য। আজরাইল এসে দেখে তার মৃত্যু যেখানে হবার সেখানে সে নেই। তো আজরাইল আ আল্লাহর কাছে ফিরে গেলেন এবং জানতে চাইলেন, তিনি কি করবেন? ঐ লোক তো তার জায়গায় নেই।‌ আল্লাহ বললেন, তুমি চিন্তা করো না সে সেখানে পৌঁছে যাবে। তুমি সুলাইমান আঃ এর দরবারে যাও। মৃত্যুর দূত সেখানে চলে গেলেন এবং মানুষের বেশ ধরে সুলাইমান আঃ এর দরবারে সবার সাথে বসে রইলেন আর মানুষটির গতিবিধি খেয়াল করছিলেন। অন্যদিকে মানুষটিও একটু অবাক হয়ে ভাবছিলেন, ঘটনা কি? লোকটি আমার দিকে এভাবে তাকিয়ে আছে কেন? তিনি ভাবলেন, না আর বসে থেকে লাভ নেই। দেশে ফিরে যাই। তিনি সবার কাছ থেকে বিদায় নিয়ে রওনা হয়ে চলে গেলেন এবং তার দেশের পৌঁছার পর পর মৃত্যু বরণ করলেন। আল্লাহর কাছ থেকে পাওয়া বন্দোবস্ত কি করে বাস্তবায়ন হয় এই ঘটনা আমাদের সামনে রেখে গেলেন যাতে আমরা যেন মৃত্যুর অনিবার্যতা জীবনের পাশাপাশি ধারণ করি।
এত কথা বলার একটা ই কারণ নিজেকে এবং আমার আত্মীয় স্বজনকে, বিশেষ করে সন্তানহারা বাবা আমার মামা (Nizam Uddin Nizam কে সান্ত্বনা দেওয়া। মনটা কে শান্ত করার চেষ্টা।
ছোট্ট মামনির যাবার সময় এবং পথ এটাই ছিল। এটাই সে তার তকদিরে করে নিয়ে এসেছে। আমাদের এই পরিণতি পরিবর্তনের কোন শক্তি নেই। আমরা কেবল দোয়া করতে পারি, এমন দোয়া যেটা আমাদের শিখিয়ে দেয় দূর্ঘটনাজনিত সমস্ত বিপদ থেকে আল্লাহ যেন আমাদের হেফাজত করেন।
তবে আমরা মানুষ বড়ই অকৃতজ্ঞ প্রাণী। আমরা জীবনে আসল কথা ভুলে যাই আর দুনিয়ার জীবন নিয়ে মত্ত থাকি। আমাদের unlimited fun and enjoyment এর ভোগবাদী দর্শন আমাদের ভুলিয়ে দেয়, দুনিয়ার জীবন একটি অপরাহ্ন এবং একটি বিকেলের মতো। আমরা সেই একটি ছোট্ট সময়কে আমাদের নফসের পূজা শরীরের খেলা খেলতে খেলতে পার করে দেই। ভাবি, এই আনন্দ এই জীবন। খাই দাই সাজগোজ করি টাকা পয়সা কামাই আর আনলিমিটেড ফূর্তি করতে থাকি। ভাবি, আমাদের আর পায় কে!
আসলে, এইসব সব ধোঁকা। মৃত্যু জীবনের পাশে পাশে হেঁটে চলছে। একদিন একসময় হয়ত চোখ রাঙিয়ে ভয় দেখিয়ে নয়তো ভালোবেসে হাত ধরে বলবে, চল। যেতে হবে।
সেই দিনটা যেন আমাদের ভালোবাসার হয় আরামের হয় তার জন্য আমরা কতটা প্রস্তুত? Let’s reflect. Let’s think a moment. Let’s stop a sec and ruminate.
দোয়া করি আল্লাহ ছোট্ট নিষ্পাপ মামণিকে জান্নাতের বাগানের মেহমান করুন আমীন। তার বাবা-মায়ের নাজাতের উসিলা করুন। আমিন।

উম্মে সালমা, ৩০ জুন, ২০২৫.

Cultures, Reflections

বৈশাখী ভাবনা

ইংরেজি সাহিত্যের রোমান্টিক কবি পারসিবিসি শেলীর “Ode to the West Wind” কবিতাটা কম বেশি সবারই পড়া এবং জানা। কবি তার এই কবিতায় কিভাবে ইংল্যান্ডের পশ্চিমা বাতাস পুরোনো প্রকৃতির সবকিছু পরিবর্তন করে নতুনদের সূচনা করে, সেটা দেখিয়েছেন আর সেই বাতাসকে যে বসন্তের বোন তাকে বলেছেন তাকেও জাগতিক সমস্ত দুঃখ কষ্ট যন্ত্রণা থেকে মুক্তি পেতে সাহায্য করতে।

পশ্চিম বাতাসের ছোঁয়ায় তিনি যেন ভুলে যান অতীতের সব কষ্ট আর নতুন উদ্যমে জীবনকে চেনেন এই ভেবে যে, শীত আসলে বসন্ত কত ই বা দূর (If Winter Comes Can Spring be far behind?)। তিনি এই প্রাকৃতিক উপাদানকে বলেন তার বৈশিষ্ট্য তাকে দিতে যেন তার লেখা দিয়ে তিনি সারা পৃথিবীতে শান্তির আর সাহসের বার্তা ছড়িয়ে দিতে পারেন।

কবিতাটির অসম্ভব সুন্দর বৈশিষ্ট্য হলো পশ্চিমা বাতাস কি কি পরিবর্তন আনে কিভাবে পরিবর্তন আনে তার বিশদ বিবরণ। তার একটি হলো এই বাতাস যখন ঋতু পরিবর্তনের সাথে সাথে বইতে শুরু করে গাছের সব পুরোনো পাতা ঝরতে শুরু করে। কবি বলেছেন, পাতাগুলো এখন রুগ্ন। তারা হয়ে পড়েছে হলুদ, কালো, মরচে লাল, ধূসর । পশ্চিমের বাতাস তাদের উড়িয়ে বেড়ায় আর তার সাথে ফল ফুলের বীজগুলোকেও, পাতা পচে মরে যায় কিন্তু বীজগুলো ঘুমিয়ে পড়ে মাটিতে যতক্ষণ না বসন্ত আসে, তাদের কাঁপিয়ে জাগিয়ে দেয়া বসন্ত…

পুরো বর্ণনা আমাদের সামনে তুলে ধরে ঋতু পরিবর্তনের খেলা: এক ঋতু চলে গেলে আরেক ঋতু আসে, হেমন্তের পর শীত তারপর বসন্ত … প্রকৃতি ধূসর মৃত হতে জেগে উঠে নতুন রুপে নতুন ফল ফসল নিয়ে।

বৈশাখ এলেই এই কবিতা আমার মনে পড়ে যায়। আমি ভাবতে থাকি বাংলাদেশের ঋতু পরিবর্তনের খেলায় বসন্তের বৈশাখে কি কি পরিবর্তন আসে! আমের মুকুল বড় হতে থাকে, কাঁঠালের গায়ে কাঁটা বড় হতে থাকে…এদিকে ফসল তোলা হয়ে গেছে। কৃষকের মনে আনন্দ। খাজনা আদায়ের পরো গোলা ভরে যাবে ধানে । সামনের কয়েকটা মাস আর চিন্তা নেই। তখনো চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত হয়নি তখনো নিষ্ঠুর জমিদারের হাতে বন্দী হয়নি আয়ের এবং আনন্দের উৎস “ফসল”।

তাইতো বাঙালি মুসলমানের ঘরে ঘরে আনন্দের বন্যা বয়ে যেতো। কৃষকেরা কৃষাণির মায়ার হাতে তৈরি করা পান্তা ইলিশ ভর্তা দিয়ে এবং পিঠা পুলি খেয়ে খাজনা দিতে যেত আর মেতে উঠতো নানারকম মেলায় খেলায়: নৌকা বাইচ, দাড়িয়াবান্ধা, কুস্তি প্রতিযোগিতা ইত্যাদি। এই উপলক্ষে বসতো মেলা: ঘরের যাবতীয় সব তৈজসপত্র আর বাহারী কসমেটিকস আর সাজসজ্জার উপকরণে। আসতো নাগরদোলা আরো কত কি!

এসব উদযাপনে তো এই মাসকে পূজা, প্রকৃতি পূজা, ধারণার পূজা, বিরোধী পক্ষকে অপরায়ণ এসব ছিলোনা। ঋতু পরিবর্তনের সাথে সাথে শীত গিয়ে বসন্ত গিয়ে নতুন ফল ফসলের গোলা ভরার যে বার্তা আজকের ব্যবসা বাণিজ্য চাকরিতে ব্যাংক ব্যালেন্সের মতো। খাজনা প্রদান আজকের ট্যাক্স দেয়ার মতোন। কে না খুশী হয় আয় ব্যয়ের সামঞ্জস্যে এবং দিন শেষে তার সঞ্চয়ে লাভে মুনাফায়? আর এই প্রাপ্তি পরিশ্রমী কৃষক কৃষাণি জীবনের অনিবার্য অনুসঙ্গ ছিল বলেই বৈশাখের দিনগুলো তাদের জীবনে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। ‌

সময়ের বিবর্তনে যারা একে বিশেষ ধর্মের এবং বিশেষ রাজনীতির রুপ দিয়েছে এবং যারা একে ধর্মীয় এবং রাজনৈতিক কারণে প্রত্যাখ্যান করেছে দুটো অংশ ই প্রান্তিক। প্রথম গোষ্ঠী হলো আদর্শের দিক দিয়ে চরমপন্থী, প্রোপাগান্ডামুখী এবং ইসলামোফোবিক। এরা সংস্কৃতির সব উপাদানকে তাদের রাজনৈতিক রঙ দেয় এবং হাতিয়ার বানায়। এই কাজটি করতে গিয়ে সাংস্কৃতিক অথেনটিসিটি কিংবা ডাইভার্সিটি চাপা দিয়ে মারে। বাংলাদেশের সংস্কৃতির মার্জিত উপাদানগুলোকে হাইজ্যাক করে। করেছে।

অন্যদিকে বৈশাখ-পরিত্যক্ত অংশ ধর্ম এবং সংস্কৃতির যোগাযোগ অস্বীকার করে এবং এই দুটোর কথোপকথন কেমনে হয়, কেমনে মানুষের সুকুমার বৃত্তির চর্চা করতে হয়, কেমনে ধর্ম আর জীবন যাপন পারমিউটেশন কম্বিনেশন করতে হয় এরা এসব নিয়ে ভাবতে চায় না। ভাবে না। জীবন ধর্ম মানুষ সমাজ সংস্কৃতি চারপাশ এদের কাছে কিছু রিচুয়্যালে বাঁধা। এর বাইরে সব “নিষেধ”, সব “হারাম।”

হ্যাঁ বৈশাখের আধুনিক শহুরে এলিটশ্রেণীর ক্যাপাটালিষ্ট এবং কনজিউমারিষ্ট কালচারাল দিক সমালোচনার যোগ্য। আচ্ছা বৈশাখ এলেই আপনাকে কেন নতুন শাড়ি পাঞ্জাবি কিনতে হবে? কেন শাদা লাল ই পড়তে হবে? কেন ইলিশ ভর্তা পান্তা খেতে হবে? কেন সব জিনিস চড়া দামে বিক্রি হবে? এই বাজার বাজেট কাদের সৃষ্টি এ নিয়ে আলাপ যৌক্তিক । কিন্তু ঋতু পরিবর্তনের যে এপিল গ্রামীণ জীবনের যে ইতিহাস ঐতিহ্য নষ্টালজিয়া তাতো এসব ফলস ফিলোসফির এবং তার প্র্যাকটিসের জন্য মিথ্যা হয়ে যেতে পারে না!

এই ইতিহাস ঐতিহ্য নষ্টালজিয়ার চর্চাই আমাকে আকৃষ্ট করে। আমি খুঁজি এর থেকে আমাদের আত্মপরিচয়ের কি বার্তা আছে । খাওয়া দাওয়া পোশাক আশাক গাল গল্পের চকচকে অন্তঃসারশূন্য খোলসের আড়ালে “সত্যিকারের বৈশাখ” খুঁজতে থাকি। এমন বৈশাখ যেখানে আমার পূর্ব পুরুষদের গন্ধ। এমন বৈশাখ যেখানে আমার শিকড়ের চাষবাস। এই চাষবাস একদিনের নয়। একদিনের জন্য নয়।

এটা বোঝার জন্য যে ঋতু পরিবর্তনের সাথে সাথে আমাদেরো ইতিহাসের পুনঃপাঠ এবং সেই সাথে পজিটিভ পরিবর্তনের সুযোগ আছে। বৈশাখীর উষ্ণ বাতাসে দানবীয় শক্তিকে উড়িয়ে দেয়ার মতো উপমার দরকার আছে। রক্তাক্ত অতীত থেকে শিক্ষা নিয়ে ভালোর পথে গঠনের পথে এগিয়ে যাবার শিক্ষা নেয়ার দরকার আছে।

আর কতকাল বিশ্বের মানুষ বাংলাদেশকে তলাবিহীন ঝুড়ি বলবে? কতকাল আমরা শুধু একটা বন্যা আর জলোচ্ছ্বাসের দেশ হয়ে থাকবো? আর কতকাল আমাদের সম্পদ লুট হবে?

আমাদের ফল ফসলের দিন আসুক, আমাদের লুট হয়ে যাওয়া গোলাগুলো আবার সম্পদে ভরে যাক। ঘরে বাইরের সব বর্গী নিপাত যাক। বৈশাখ হয়ে উঠুক সত্যিকারের অর্থনৈতিক স্বয়ংসম্পূর্ণতা, সামাজিক যোগাযোগ, এবং শান্তি স্বাধীনতার প্রতীক।

উম্মে সালমা, ১ এপ্রিল ২০২৪.

Salma's Poems

প্রজন্মান্তরে ফেব্রুয়ারি ২১

আজ
আমি
সময়ের নদী তীরে
একটুকু থামি

হিরোডাটাস
বলেছিলো
একজনো
পা দিতে পারে না
একি স্রোতে কখনো

বললে বলুক
তাকে পেরিয়ে আজ
আমাদের যাত্রা চলুক
প্রজন্ম থেকে প্রজন্ম জানুক

কিছু সময় হয় সময়াতীত
কিছু অতীত হয় বর্তমান
তারপর
তাদের পাশাপাশি রেখে
বুনতে হয় ঐতিহ্যের নিশান

তাই

আজ
আমি
অতীতের এখন স্রোতে
একটুকু থামি

একটি জাতি হয় দূর্বিনীত
ভাষা বৈষম্যের রাজনীতিতে
তারপর
জড়ায় দেহে তার রক্ত কাফন
হিম হয়ে অবিচারে মৃত্যুর শীতে

জীবনের সোনাঝরা গর্তে ঢুকেনি
হিসেবের খাতা ছিল শূন্য
কি পেলো কি পাবে গুণতে চায়নি
বিলালো জীবন, কি অনন্য!

আজ

আমি
তাই
পরের প্রজন্ম
বেশ একটা থমকে দাঁড়াই

কিছু নাম লিখে রাখি
অনামিকা বুকে আঁকি
প্রাণপণে দোয়া করি
এই অতীত কভু যেন
না ভুলে যাই
অতীতকে না বানাই
নীতিহীন রাজনীতির
একচুলো ছাই

আজ

আমি তাই
উঠে দাঁড়াই
৫২, ৭১, ৯০, ২৪
নামের ফলক টানাই
সবুজ সততা আর ভীষণ সাম্যের
প্রিয় একখান পতাকা ওড়াই

শিরা টান করে বলি
এই আমি এই বাংলাদেশ
আমার শরীরে কত রক্তান্জলি
দিয়ে গেছে মজলুম
জুলুমের প্রতিবাদে
অহরাত্র জেগে থাকা পাখপাখালি


এই দেখ
আমার ব-দ্বীপ শরীরে
প্রতিবাদী পদ্মা সাহসী যমুনা
অহর্নিশ কেমন প্রাগৈতিহাসিক
বয়ে বয়ে চলে তার নমুনা

স্রোতস্বিনী সময়কে ধরে রাখে বুকে
তরঙিত করে কিছু ইতিহাস
প্রিয় কত নাম বারবার ভাসে
মৃত্যুর জলে যারা সাদা রাজহাঁস ।‌

উম্মে সালমা
২১/০২/২০২৫, টুঅং

Salma's Poems

স্বৈরাচারী আচরণ

তোরা দিস হা হা রিয়েক্ট তোরা বলিস মিথ্যে
টাকার উপর ঘুমিয়ে ছিলি বড়ই সুখি চিত্তে


তাইতো


চোখের উপর ঠুলি ছিল কানের ভেতর তালা
দেখে গেলি খুশি মনে পাগলামি এক পালা
দেখলি না কাকে বলে মানুষ আর মন
নামতে নামতে জড়িয়ে নিলি চরম স্খলন
বললি না তো একজন ও একটু আওয়াজ করে
গুম খুন চলবে না স্বৈরা-চারী জোরে

তোদের

চোখের উপর ঠুলি ছিল কানের ভেতর তালা
নৈলে ঠিকই দেখতে পেতি ইনসেইন এক পালা
দেখতে পেতি কাকে বলে মানুষ আর মন
এক সময়ে থামিয়ে দিতি চরম স্খলন
বলতি তোরা, অনেক হলো আর না আর না
গুম খুন আর দালালিতে পার তো পাবো না

অবশ্য আমি বোকা হায়রে হায় কাকে কি বলি
অন্ধ জ্ঞানের বন্ধ দুয়ার কোন চাবিতে খুলি ?

এমন চাবি গড়িয়ে দেয়
গভীর পাপের অনুতাপ অশ্রু অঞ্জলি…

উম্মে সালমা
১৪/০২/২০২৫

Salma's Poems

জনতার অপেক্ষা

৫ আগষ্টের পর…
বহুদিন অপেক্ষা করছি

আমি আমজনতা

ইলিয়াস আলী ফিরে আসবে
মেয়েটি আনন্দ অশ্রু নিয়ে বাবাকে বলবে,
বাবা, তুমি ঠিক এই বুকের ভেতর ছিলে
আপামর জনতার বুকের ভেতর
বাংলাদেশের গভীরে…

আহ!
মাঝে মাঝে মনে হয় স্বপ্নই যদি জীবন হতো !

উম্মে সালমা, ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৫

শিরোনাম: আয়নাঘর নিয়ে শোক গাঁথা ( Elegies on the Mirror House)

Salma's Poems

বারোশ ত্রিশ দিন

বারোশ ত্রিশ দিন
বারোশ ত্রিশ দিন
বারোশ ত্রিশ দিন
ছোট্ট শরীর ছিলো ব্যথায় রঙিন
সুরের মূর্ছনায় যে গলা উড়তো
আঘাতে আঘাতে ছিল জর্জরিত

তার—পর
আর কিছু নয়
ক্রসফায়ার আর
গভীর কবর

বারোশ ত্রিশ সংখ্যা এরপর এরপর
এই বুকের ভেতর
বেদনার ডংকা বাজায় সারারাত ভর!

শিরোনাম: আয়নাঘর নিয়ে শোক গাঁথা (Elegies on Aynaghar)

Salma's Poems

ভালোবাসাহীন এতো বেশী ভয়

ভালোবাসা হীন দিন এতো বেশী ভয়
রিদয়ের করোটিকায় ক্ষয় আর ক্ষয়
যে পায়ে লায়লা গেছে না গিয়ে সে পায়
মজনু গানের সুরে এ ঠোঁট গায়
প্রিয়তম গান—ইয়া আল্লাহ! তুমি জানো
তোমার অবহেলিত বান্দারে তুমি কাছে টানো
ভালোবাসার মেঘে যার শাড়ী উলটানো পাল্টানো
সেই সে শাড়ী যা তুমিই দিয়েছিলে জোড়াটুকু বুনে
শীতের শুরু শুরু অচেনা দুরু দুরু চর ফাল্গুনে।

তবু আমি কাঁদি
ভালোবাসার বেহাত দিনের কান্নাটা সাধি ।
তবু বলি বস
এই নাও রজ্জু বেশ করে কষ
যেন খুলে না যায় অতশীর মুখ দেখা কোন আয়নায়।

উম্মে সালমা, টুওং, ১০/০২/২০২৫

Salma's Poems

যে আমি বাংলাদেশ

আমি তোমাকে মন প্রাণ
আর বিশ্বাস দিয়েছিলাম
তুমি তাদের আহত করেছো
বিলাপ হয়েছে তার নাম।

যে শব্দ যে গোপনীয়তা
আমাদের ছিল
তাকে দিয়েছো খুলে
আমার সম্মান হানির
চাবির গোছা
প্রতিবেশীর অঞ্চলে
দিলে তুলে?

বুকের ভেতর যে ব্যথা
কোন ওষুধ তাকে
সারাতে পারে না
চোখের ভেতর যে জল
কোন রুমাল তাকে
সরাতে পারে না

ঠকে গেছি ভালোবেসে
কাছে এসে কাছে এসে
মরে গেছি ভালোবেসে
কাছে ঘেঁষে কাছে ঘেঁষে

কাবিনের কারুকাজে
বৌ সাজে আমি সেজে
যে ঘরে এসেছি
সে ঘরে এক শয়তান
সাদা মতো মুখখান
ডেকে এনেছি

তারপরের গল্প বেহুদা বলা
অন্যের ধনে যার চোখ
সাদাসিধে বেহুলা বোঝেনা
তার নিখুঁত ছলাকলা।

তোমাকে দিয়েছিলাম আমি
আমাকে আমার মানচিত্র
বলেছিলাম দূর্বল হইয়ো না প্রিয়
সাহসে সীমান্ত পাহারা দিও।‌

সীমান্ত দিয়েছো খুলে জলঢাকা
মানচিত্রের মুখ
প্রিয় তুমি অপরূপ বিশ্বাসঘাতক
তার বিচার চলুক…

উম্মে সালমা
২/২/২০২৫

Salma's Poems

পৃথিবীর জটিলতম অভিযোগ

আপনি আমাকে ভালো ই বাসেননি
আমি ছিলাম শুধু প্রয়োজন
যখন আপনি দেখলেন
সেই প্রয়োজন
কিছুটা ভাটায়
কাজের ব্যস্ততায়
আপনার আকাশ ছেয়ে গেল
আরেক শিখায় ।

আপনি একবারো ভাবেননি
ভেবেছিলেন কি?
কিভাবে আমি বিক্ষত হবো
যদি ভালোবাসতেন
প্রতিটি পায়ে পায়ে
মনে আসতো আমার কথা
ভাবতেন একটু হলেও
এরপর এরপর কি হবে
কেমনে এরপর আমি চাখবো
প্রেম নামক মধুর চিরতা

সেই আমি
যে আমি দিয়েছি সব জীবন তারুণ্য
আপনার জন্য
আপনার জন্য।

উম্মে সালমা