Cultures, Reflections

কিছু কথা বলে যাই

আমার বিল্ডিংয়ের দ্বিতীয় ফ্লোরে একটি অষ্ট্রেলিয়ান পরিবার থাকে। আমি যখন প্রথম এখানে আসি তখন থেকেই তাদের দেখি। তারা তখন কাপল ছিলেন: মেয়েটা একটা মিউজিক স্কুলে গান শেখাতো এবং তার হাজবেন্ড জব করতো, এখনো করে। আমার সাথে একদিন পরিচয় হয় এবং মাঝে মাঝে কথা হতো। এর মাঝে যখন করোনা শুরু হলো একদিন দেখি মেয়েটা প্রেগন্যান্ট। আর এভাবেই গত চার বছরে তিনি তিনটি ফুটফুটে মেয়ের মা হয়েছেন। প্রথম প্রেগন্যান্সির সময় থেকেই তিনি বাইরে কাজ ছেড়ে দিয়েছেন। গত চার বছর তার স্বামী ভদ্রলোক সংসার চালান, উনি ভাতা পান, এবং পুরো সময়টা বাচ্চাদের লালন পালনে নিজেকে নিয়োজিত রেখেছেন। আমি প্রায়ই দেখা হলে উনার সাথে এবং বাচ্চাদের সাথে কথা বলি। আমি সারাদিন দেখি তিনি কি পরিশ্রম করেন বাচ্চাদের নিয়ে: তাদের বাইরে হাঁটতে নিয়ে যান। বিকেলে খেলতে নিয়ে যান। বড়টাকে হাটিয়ে বাকি দুটিকে প্রামে বসিয়ে কত কাজ করেন। একদিন আমি তাকে খুব এপ্রিশিয়েট করলাম তার মায়ের দায়িত্ব পালনের জন্য এবং দেখলাম সে ভীষণ রকম খুশি হয়েছে।

আমি জানি বাঙুল্যানডের অনেক নারীবাদী এটা শুনে হাহা করে উঠবে এবং এই নারীকেও “অপ্রেসড” “ভিকটিম” বলে চালিয়ে দেবে…ঘর মানেই যখন জেলখানা তখন সেখানকার বিরানীও তাদের কাছে বিষতুল্য… কিন্তু আমি যা দেখি এই উদাহরণে তা হলো একমুখী কাজের ব্যবস্থা এবং স্বীকৃতি। আমি যদি আমার বাচ্চা হোয়া এবং বাচ্চা পালনের সময়ে এই সুবিধা পেতাম আমি লুফে নিতাম। কেউ যদি এসে আমাকে বলত, আপনি পাঁচ ঘন্টা কাজ করে আট ঘন্টার বেতন পাবেন আমি ধেই ধেই করে নাচতাম পারলে আমার মেয়েদের নিয়ে…

ঠিক একারণেই আমীরে জামায়াতের নারীদের নিয়ে বক্তব্য শুনে সত্যিই চোখে পানি চলে এলো। পুরুষ জাতি যারা এটা নিয়ে হাসাহাসি করছেন, ফেসবুক উড়ায়ে ফেলছেন, তাদের আমার করুণা হয় তাদের শিক্ষা দীক্ষা নিয়ে আরো করুণা হয়… অবশ্য নারীদের দুই নৌকায় পা দিয়ে ভাগ হতে দেখে, বাচ্চা চাকরি সব নিয়ে নাকের পানি চোখের পানি এক হতে দেখে, অভিভূত হয়ে তাদের অধিকার আদায়ে সোচ্চার হয়ে দু এক কলম লেখা কিংবা রাস্তায় নামাও একটি পলিটিক্স। এই পলিটিক্স আজ পর্যন্ত দেশে কোন সমস্যা সমাধান করতে পেরেছে একটা দুইটা উদাহরণ দিতে পারেন?

আমীরে জামায়াতের বক্তব্য শুনে বিশেষ করে মায়ের কষ্টের যে গভীর সাহিত্যিক বর্ণনা তা শুনে আমার চোখে পানি চলে এলো কারণ আমি আমাকে সেখানে দেখতে পাচ্ছিলাম। আমার বিশ্বাস যত নারী মা হয়েছে সবাই তাদের নিজেদের দেখতে পাবেন সেই বর্ণনার ছবিতে।

যারা আমায় চেনেন, জানেন, আমি যখন মা হয়েছি তখন আমি স্টুডেন্ট এবং তারপর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক। আমি পড়াশোনায় বরাবরই ভালো ছিলাম এবং পড়ুয়া ছিলাম বলে আমি কখনো ই সংসারের জন্য ক্যারিয়ার কম্প্রোমাইজ করতে রাজি ছিলাম না। আমার মত মধ্যবিত্ত পরিবারের মেয়ের বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকতা ছিলো a dream come true । কিন্তু ঠিক এই সময়ে আমার একান্নবর্তী পরিবারের সদস্য সংখ্যা দশজন। ঠিক কিভাবে নিজের পড়াশোনা চাকরি এবং সংসার চালিয়ে নেবো এটা ছিলো আমার জন্য যুদ্ধ। প্রতিদিন কি রান্না করবো কি খাবো কি খাবে সবাই এই চিন্তা করতে করতে মাঝে মাঝে মনে হতো পাগল হয়ে যাবো। সবাই সহযোগিতা করার পরো মাঝে মাঝে মনে হতো এইখানে হাল ছেড়ে দিই। আর না!

কিন্তু “আচ্ছা আরেকটু চেষ্টা করে দেখি” করতে করতে চতুর্মাত্রিক কাজ করতে করতে কখন যে শরীরের ভেতর নানা অসুখের বীজ বপন হয়ে গেল বুঝতে ই পারিনি। অসুখ তো হবেই ঠিকমতো মায়ের যত্ন না হলে মা ঠিকমতো খাওয়া-দাওয়া আর বিশ্রাম না নিলে অসুস্থতা অনিবার্য। আপনারা যারা আজকের লেখা পড়ছেন তারা হয়তো ভাবছেন, আল্লাহ, আপুর হাজবেন্ড কতো সহমর্মী এবং সহযোগী! তাদের বলছি, বাংলাদেশের পারিবারিক এবং সামাজিক সেটাপে একজন পুরুষ যতৈ পরিবারমুখী হন তার বাউন্ডারি ডিফাইনড। তাকে সেই বাউন্ডারি মানতে হয়। তাছাড়া তার নিজের জীবন আছে কাজ আছে। স্ত্রীরা নিজের প্রতি যত্নশীল না হতে পেরে বাচ্চাদের লালন পালনে শরীরের ক্ষয় হবার যে পরিস্থিতি সৃষ্টি হয় তাতে তারো বেশি কিছু করার থাকে না শুধু প্রতিদিন ঘ্যান ঘ্যান করে বলা, “প্লীজ একটু বেশি বেশি খাও।” “নিজের যত্ন নাও।”

আমার আয়েশ করে খাবার সময় কোথায় ছিল? সকাল সাড়ে সাতটায় বেরুতে হলে কখন ঠিক নাস্তা করতে হয়? আর আয়েশী নাস্তা করতে হলে ঠিক কিভাবে কাজের রুটিন সেট করতে হয়: ১. ফজর নামায, অল্পকিছু ইবাদত: ২. দিনের রান্না আয়োজন ৩. সকালের খাবারের আয়োজন; ৪. বাচ্চাদের কাজ (দুধ খাওয়ানো, বিছানা বদলানো, তাদের পরিস্কার করা, আরো কত কি!)–পাঁচটা থেকে সাড়ে সাত কি এত সবের জন্য যথেষ্ট? তো ইমপ্যাক্ট গিয়ে পড়তো খাওয়ার উপর। কোনরকম কিছু মুখে দিয়ে দৌড়ানো। এই করে করে যখন অনেক অনেক অসুস্থ হয়ে পড়লাম আমার এক খুব চমৎকার ভাবী, একদিন দুঃখ করে বলেছিলেন, “ভাবী কাজ করতে করতে শরীর একদম জ্বালিয়ে ফেলেছেন।” আমার চোখে পানি চলে এসেছিল, আমার পড়াশোনা ক্যারিয়ারের প্রতি ভালোবাসা না থাকলে কি জীবন অন্যরকম হতো?

অষ্ট্রেলিয়ার কাজে সিস্টেম এবং আমীরে জামায়াতের বক্তব্য আমার এই প্রশ্নের উত্তর। না ক্যারিয়ার ছেড়ে দেয়া কিংবা সংসার কোন সমাধান নয়। সমাধান হলো ইকুইটি (equity)। সমাধান হলো রাষ্ট্রের নাগরিকদের যার যার অবস্থান অনুযায়ী উপার্জনের সুযোগ এবং সুবিধা। কেয়ারিং রেসপনসিবিলিটি একটি বড় রেসপনসিবিলিটি। উন্নত দেশগুলোতে এর পুরোপুরি স্বীকৃতি আছে। যেমন সেদিন জানলাম হাজব্যান্ডের হঠাৎ মৃত্যুতে আমার এক কলিগ ছুটিতে চলে গেছেন এবং তিনি ভালো বোধ না করা পর্যন্ত কাজে আসবেন না। নিশ্চয়ই এমন ছুটির ব্যবস্থা আছে যিনি এই সময়ে এটা ব্যবহার করতে পারবেন।

তাহলে মায়েদের পাঁচ ঘন্টা কর্মদিবসের সমস্যা কোথায়? কম কাজ করে বেশি বেতন পাবেন এর সমস্যা কোথায়? সমস্যা হলো মনে। বাঙালি মুসলমান সমাজ এমন মনস্তাত্ত্বিক কনসটিপশনে ভুগছে যে যেখানে সারাদিন কাজ করার পরো, জামাই বলে, ” সারাদিন তো বাসায় থাকো, সারাদিন কি করো?” “চাকরিতো আমি ও করি, তোমার খারাপ লাগছে কেন?” “তুমিতো একা না, দেখো বহু নারী আজকাল ঘর বাহির সামলায়, তোমার সমস্যা কেন?” সেখানে নারীরা কম কাজ করে বেশি বেতন পাবেন সমাজের ঐ শ্রেণীর এবং একশ্রেণীর জন্য এটা ঠিক আরামের না। কোনদিন যেন আবার পুরুষদের এক অংশ বলে বসে, আসুন আমরা সবাই নারী হয়ে যাই। এটাই ভয়।

এই ভয় অমূলক নয়…আইআইইউসিতে চাকরি করার সময়ে, আমার সম্মানিত পুরুষ কলিগদের মাঝে মাঝে চিৎকার চেঁচামেচি করতে দেখতাম। তারা চিৎকার করে বলতো, ডিপার্টমেন্ট মেয়ে শিক্ষক নিয়োগ দেবে না। এদের নিলেই সমস্যা। আজকে বিয়ে কালকে প্রেগন্যান্ট পরশু বাচ্ছা অসুস্থ… ডিপার্টমেন্ট কেমনে চলবে? এরা আছে আরামে… এদের ছুটি আর ছুটি। আবার এক উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা ছিলেন, উনার কাছে ছুটির দরখাস্ত নিয়ে গেলে, দুচার কথা শুনিয়ে দিতেন। আবার রসিয়ে রসিয়ে পাঠান মেয়েদের গল্প বলতেন, এরা নাকি প্রসব বেদনা উঠলে ঝুড়ি নিয়ে বনে চলে যেত আর নিজে নিজে বাচ্ছা হোয়ায়ে বাচ্চা নিয়ে ঘরে চলে আসতো। আবার গর্ব করে বলতেন, তার এতগুলো সন্তান, তার ওয়াইফ তো তার কাছে কখনোই ছুটি চায়নি? তাইলে আমাদের কেন লিভ লাগে?

আমীরে জামায়াত আপনি খুব সুন্দর সহজ এবং কার্যকর রাষ্ট্র ব্যবস্থার কথা বলেছেন। আপনাকে ধন্যবাদ। কিন্তু আপনি কি খসড়া কমিটি গঠন এবং নারীবিষয়ক চিন্তা এবং গবেষণার কোন সেল গঠন করেছেন? যারা আপনাকে বাংলাদেশের আপামর নারীদের একটি চিত্র দেবে এবং সেই অনুযায়ী আপনি একটি রিয়েলিসটিক এবং এপ্লিকেবল নীতিমালা প্রণয়ন করতে পারবেন?

তবে একজন ক্ষুদ্র নারী হয়েও আপনাকে বলবো, প্লীজ শুরুটা জামায়াতের ইসলামী প্রতিষ্ঠানগুলো থেকে হোক, যেখানে নারীদের চাপিয়ে রাখাই সিস্টেমের নর্ম। সেই সিষ্টেম ভেঙে দিন এবং সেগুলোকে মডেল করে দেশবাসীকে দেখিয়ে দিন, এটা হবে ভবিষ্যতের নারীবান্ধব বাংলাদেশ।

উম্মে সালমা, টুঅং, ১৩/১১/২০২৫

Reflections

ভালোবাসার সংসারের সম্পর্ক: আত্মসম্মানবোধ নাকি আত্মসমর্পণ?


আমরা যারা ৯০ এর বাংলাদেশের আবহে বড় হয়েছি রবীন্দ্রনাথ নজরুল বিভূতিভূষন কিংবা হুমায়ূন আহমেদের লেখা পড়ে, আমাদের অনেকের কাছে ভালোবাসাটা আত্মিক উপলব্ধির, গোপন, নীরব, গভীর। এটা এমন এক অনূভুতির যাকে ভাষায় প্রকাশ করা যায় না, স্বার্থপরের মতো দাবী করে করে জানান দিতে হয়না, বরং দ্বায়িত্ব, স্থায়িত্ব, এবং ত্যাগের বিনিময়ে ফুটিয়ে তুলতে হয়।


নজরুলের “ব্যাথার দান” যখন পড়তাম, কি গভীরভাবে আমাদের ভাবিয়ে তুলতো: না পাওয়া ভালোবাসার কষ্টের কথায়। কিংবা হিমু যখন আসবে বলে ও আসতো না, আমরা বুঝতাম, হিমু রুপা কে কি গভীর ভালোবাসে এবং ভাইসভারসা কিন্তু তারা একে অন্যের কাছে আসতে পারে না। কিন্তু তাই বলে ভালোবাসা মিথ্যা হয়ে যায় না। বরং কি এক গভীর অনিশ্চয়তায় নিমজ্জিত ভালোবাসা সম্পর্কগুলো কত সুন্দর! শত না পাওয়ার মাঝে কত টান!


মাঝে মাঝে ভাবি এইসব অতিপ্রাকৃত আয়োজনের মাঝে বেড়ে ওঠাই আমার জন্য কাল হয়েছে। আমার জীবনে বিয়ে সংসারের মাধ্যমে যে নারী পুরুষের স্বাভাবিক আকর্ষনের যাত্রা শুরু হয় তার মধ্যে এইসব কিছুটা ফিলোসফিক্যাল কিছুটা কাব্যময় কিছুটা আত্মিক কিছুটা শব্দহীন ভালোবাসা ঢুকে পড়ে গেছে।


আমি গভীর ভালোবাসতে পারি যে কাউকে কিন্তু যে নদী গভীর বেশি তার বয়ে চলার শব্দ তত কমের মতোই আমার ভালোবাসার প্রকাশ। অতি প্রদর্শনী অতি মুখরতা অতি তরতরানো দেখলে বিরক্ত লাগে এবং লাগতো। এগুলোকে বরাবরই ফেইক মনে হতো। মনে হতো, আরে, যেখানে ভালোবাসা মমতা মায়া আছে সেখানে সম্পর্ক যে কোনো মূল্যে সুন্দর হবেই। আমার সততা আমার বিশ্বস্ততা আমার অনুরাগ আমার আবেগ আমার ভালোবাসার মানুষ এবং মানুষেরা বুঝবেই! আর এইজন্য নিজের ভেতর একটা আত্মসম্মানবোধ সবসময়ই জেগে ছিল।
আমি ভাবতাম, ভালোবাসা শ্রদ্ধেয় এবং শ্রদ্ধার। এখানে পরস্পরের প্রতি শ্রদ্ধাবোধ থাকবে এবং তা থাকবে আত্মসম্মানবোধ থেকেই। মর্যাদাবোধ থেকে।

এবং ব্যাপারটা এমনো মনে হতো যে, যে আমার এই দর্শন এই গভীরতা বুঝতে পারবে না, তার আর কি যোগ্যতা ই বা আছে আমার জীবনের অংশ হবার? সে যদি বুঝতে না পারে, তাকে আমি চাই এবং তার প্রতি আমি বিশ্বস্ত, তাহলে সে আর কি বুঝে ? হতে পারে ভাষার প্রকাশ কম, হতে পারে শব্দের কোলাহল নেই: ঠিক নজরুল যেমন বলেছিলো:

যারে চাই তারে কেবলি এড়াই কেবলি দি তারে ফাঁকি
সে যদি তুলিয়া আঁখি পানে চায় ফিরাইয়া
লই আঁখি

কিন্তু ভালোবাসার এই আত্মসম্মানবোধ নিয়ে আজকাল নতুন করে ভাবতে থাকি। হুড়মুড় করে সোশাল মিডিয়ার আগমন এবং মানুষের সাথে মানুষের যোগাযোগের সহজ সুযোগ দেখে মাঝে মাঝে কিংকর্তব্যবিমূঢ় হয়ে যাই। আপনি স্যোশাল মিডিয়ায় নীরব, ভাবছেন বেঁচে গেলেন? না একদম না। আপনি আপনার ব্যাক্তিগত জীবন ফেসবুকে হাইলাইট করেন না, আপনি বেঁচে যাবেন? একদমই না।

বাস্তব জীবনে এমন কিছু মানুষ এবং ঘটনার সম্মুখীন হতে পারেন, সেখানে আপনি “অসুখী” ” অযোগ্য” ” ব্যর্থ” হিসেবে বিবেচিত হবেন। আপনার গোপন নীরব গভীর ভালোবাসার ফিলোসফি কে তুড়ি মেরে আপনার সঙী আত্মীয় পরিজন কে বাগিয়ে নেয়ার জন্য অথবা আপনার জীবনে বাগড়া দেয়ার জন্য একদল একদম প্রস্তুত।

ভালোবাসা যেখানে আপনার কাছে আত্মসম্মানবোধ তাদের কাছে ভালোবাসা ভালোলাগা মিথ্যা আত্মসমর্পণ। দু’ একদিনের পরিচয়েই গায়ে পড়া, ইনিয়ে বিনিয়ে মিষ্টি মধুর করে কথা, মিষ্টি নামে ডাকা, ঘন ঘন ফোন করা, মেসেজ পাঠানো, গোপন ব্যক্তিগত সুখ দুঃখের কথা শেয়ার করা…আর এসবের ফাঁকে ফাঁকে আপনি দেখতে পাবেন এরা কেমন করে আপনার জীবনসঙ্গী/পার্টনার/ ভালোবাসার মানুষের কাছে নিজেকে সঁপে দেয়। তখনি আপনি দেখবেন আপনার চেনা মুখ নতুন রঙ নিচ্ছে এবং ভাবছে, “আরে, ওতো কখনো আমার কাছে এত আত্মসমর্পণ করেনি, এমন করে আমার হাতের মুঠোয় আসেনি? এমন করে আমাকে প্রশংসা করেনি? এতো আমার সবকিছু নতুন করে পাওয়া।” তখন সে কিন্তু নিমিষেই ভুলে যেতে পারে আপনার দার্শনিক ভালোবাসা কে।

জানি এসব সব ঠুনকো, লোক দেখানো, শয়তানের ওয়াসওয়াসা এবং শেষ মেষ জঘন্য অপরাধ, তবুও এসব দেখে দেখে নতুন করে ভাবতে থাকি, ভালোবাসা সম্পর্ক মমতা মায়া এসব আসলে কি? এসব কি আত্মসম্মানবোধে মোড়ানো একটি সুন্দরের নাম না লজ্জা শরম বিহীন লোক দেখানো আত্মসমর্পণ? কোনটা আসলে ভালো? ভাষাহীন ভালোবাসা না মোহময় শব্দের বেসাতি? নাকি ভালোবাসার কোন অস্তিত্ব নেই, সব শরীরের খেলা: হরমোনের প্রভাব। মন বলে কিছু নেই। নারীর পুরুষ হলেই হয়, পুরুষের নারী। ব্যাক্তি এখানে তুচ্ছ!

জানি না, জানতে চাই না তবে কেন যেন মনে হয়, যত যাই হোক, দুনিয়ার যত পরিবর্তন আসুক, ভালোবাসার মায়ার মমতার শক্তি আর সততা সাময়িক ভূপাতিত হলেও তার মৃত্যু নেই ক্ষয় নেই পরাজয় নেই। সত্য তো চকচকে হয় না, সত্য হয় দৃঢ় ক্ষয় লয় বিহীন।সৎ মানুষের জীবনের সফলতা ওখানেই।

উম্মে সালমা, ২৫/০৬/২০২৫

Reflections

সারাজীবনের মধ্যবিত্তের গল্প


পরিচিত শুভাকাঙ্ক্ষী বন্ধু বান্ধবরা যখন সেমিষ্টারের শুরু মাঝখান এবং শেষে ছুটি পেলেই দেশের দিকে ছুটে যায়, আমি বসে বসে ভাবি, আহারে কি আনন্দ আকাশে বাতাসে! সেই সাথে নিজেকে জিজ্ঞেস করি, ইস, আমি পারিনা কেন? বেশ হতো যদি এরকম হুটহাট দেশ থেকে বেড়িয়ে আসা যেতো!

আসলেই বেশ হতো! কিন্তু সাধ আর সাধ্যের মধ্যে যে অনৈক্য তা কি আর বলতে! এই সাধ্য দায়িত্বের এবং অর্থনৈতিক। একসময় বাচ্চারা ছোট ছিল। পড়ালেখার চাপ বা প্রয়োজন অতটা ছিল না। যখন তখন হুটহাট করে ওদেরকে প্যাক করে বেরিয়ে পড়া। প্রথম প্রথম অষ্ট্রেলিয়া এসে এত ঘুরেছি আলহামদুলিল্লাহ।

অথচ এখন একপা দেয়ার আগে ওদের সাথে কথা বলতে হয়। চোখ রাখতে হয় ওদের কখন এসেসম্যান্ট কখন স্কুলে কি ব্যস্ততা!আর স্কুলের বাইরে যেহেতু এখানে বাচচাদের ফ্রেন্ডগ্রুপ নেই বললেই চলে, ওদের সব আনন্দ নিরানন্দ পড়াশোনা খেলাধুলা সব কিছু স্কুল কেন্দ্রিক। আর এখানে সিস্টেমটা এমন একটি টার্ম শুরু হলেই একটার পর একটা এসেসম্যান্ট এবং এক্সাম চলতে থাকে… ওদের এদিক ওদিক মাথা দেয়ার সময় ই হয়না! তাই ইচ্ছে করলেই বেরিয়ে পড়তে পারিনা।
তার মাঝে খরচের হিসাবো করতে হয়। দেশে যাওয়া হুট করে? মোটা অংকের টিকিটের দাম। আপনি সারা বছর অল্প অল্প করে মেপে মেপে চলে কিছু সঞ্চয় করেছেন, একবার দেশে যাওয়া মানে ঘ্যাচ! ঘ্যাচ ঘ্যাচ! দেশে গেলে হিসেবের কোন আগামাথা খুঁজে পাইনা। কোথা থেকে এত খরচ আসে জলের মতো ডলার টাকা হয়ে বেরিয়ে যায়…২০২২ এ মনে পড়ে দেশে গিয়ে আমার জমানো ডলার পাউন্ড সব খরচ করে ইসলামী ব্যাংকের জমানো টাকা খরচ করে শেষে লোন পর্যন্ত করতে হয়েছে…

প্রবাসী (নিম্ন?) মধ্যবিত্তের জীবন আসলেই বেশ ঝক্কির। শুধু হিসাব নিকাশ শুধু প্লানিং শুধু ম্যানেজমেন্ট…

এসব দেখে দেখে মাঝে মাঝে দেশের জীবন নিয়ে ভাবি। আচ্ছা, দেশে থাকতে কি জীবন অন্যরকম ছিল? দেশের উচ্চশ্রেণীর চাকরি (বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকতা) করা মধ্যবিত্তের মতোই কি ছিলাম না? ভালো বেতন ভালো বাসা ভালো খোরপোষ সামাজিক অবস্থান সবকিছু ছিল কিন্তু কোন দিক দিয়ে টাকা আসতো আর কোনদিক দিয়ে আলহামদুলিল্লাহ আত্মীয় পরিজন নিয়ে বাস করতে গিয়ে চলে যেতো মনে হয় হাতড়ে বেড়াতাম। সাঁতরে বেড়াতাম।
বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ানোর সুবাদে কখনো কখনো আমাদের হাজবেন্ড ওয়াইফের মন উড়ু উড়ু করতো–ইস, যদি উচ্চতর ডিগ্রি অর্জন করতে পারতাম। একটি পিএইচডি! না হয় একটি মাস্টার্স! উন্নত দেশে। একটি নামকরা বিশ্ববিদ্যালয়ে।

যখন দেখলাম, আরিব্বাস, এ আরেক কঠিন সংগ্রামের নাম, আমার মনে আছে, আমি ভাবতাম, থাক, ও পথে না গিয়ে, ঘরের কাছে মালয়েশিয়ায় একটি মাস্টার্স করি। হিসেব করে দেখলাম, তাও বেশ কিছু টাকা যে টাকা আমাদের কাছে নেই! এখনো মনে আছে একদিন এ নিয়ে আমাদের মধ্যে কি কথা কাটাকাটি রাগারাগী! আমি তাকে বলছি, টাকা জোগাড় করতে! সে বলছে, কোত্থেকে? সে পারবে না। ইত্যাদি ইত্যাদি। তখন
মনে হলো, এই এক জিনিস…এই টাকার জন্য জীবনে অনেক ভালো ভালো স্বপ্ন বোধহয় অধরা রয়ে যাবে!

এইসব কিছু নিয়ে যখন একসাথে করে জীবন নিয়ে ভাবি, তখন বুঝতে পারি আল্লাহ এভাবেই বিশ্বাসীদের জীবন টানাপোড়েন কষ্ট ক্লেশ পাওয়া না পাওয়া দিয়ে ঘিরে রেখেছেন। কোন কিছু চাইতে গেলে যে এই যে হাজারো হিসেবে নিকাশ হাজারো বাঁধা হাজারো প্লানিং এবং ম্যানেজমেন্ট এটাই আল্লাহর তরফ থেকে তার বান্দার প্রতি রহমত দয়া আর জীবনের পরিকল্পনা। আল্লাহ চান এই ঝক্কির মাঝে যেন আমি আমরা তাকে ইকুয়েশনে নিয়ে আসি: তার কাছে কায়মনোবাক্যে প্রার্থনা করি দোয়া করি তার কাছে সামর্থ্য চাই তার কাছে শক্তি চাই। জীবনে কিছু পাই বা না পাই জীবনের ইকুয়েশনে সৃষ্টিকর্তা আল্লাহকে ইনক্লুড করতে পারাটাই সফলতা।

কতটুকু তাকে জীবনে অন্তর্ভুক্ত করতে পেরেছি জানিনা, তবে শত শত শত সমস্যার মাঝে আমি নিজেকে ধনী বলেই মনে করি। হাদীস দ্বারা প্রমাণিত যার একদিনের খাবার আছে একটা সুস্থ শরীর আছে মাথা গোঁজার মতো ঠাঁই আছে যে একদিন সকালে কোনরকম যন্ত্রণা ছাড়া ঘুম থেকে সহজ স্বাভাবিক ভাবেই জেগে ওঠে দিনের কাজ শুরু করলো, সেই পৃথিবীর রাজা। তার জীবন রাজার মতো।

প্রতিদিন সকালে নিজেকে মনে করিয়ে দেই এই কথাটা। প্রতিদিন নিজেকে বোঝাই চেয়ে পেয়ে যাওয়ার জন্য জীবন না! জীবন পরীক্ষার কষ্টের যন্ত্রণার। নিজেকে বোঝাই, আফসোস করো না। তাকে পরিবর্তন করো শুকরিয়ায়। আলহামদুলিল্লাহ’য়। তাইলে শত শত শত অপূর্ণতার মাঝে তুমি বেঁচে থাকবে শান্তি আর স্বস্তিতে।

উম্মে সালমা, ২৭/০৬/২০২৫, টুঅং

Uncategorized

জীবন মৃত্যু: একটি এন্টিহেডোনিষ্ট ভাবনা


যেখানেই আপনার আমার মৃত্যু সেখানেই মৃত্যুর দূত আমাদের হাতছানি দিয়ে ডেকে ডেকে নিয়ে যাবে। যেদিন সিদরাতুল মুনতাহা ‘র পাতা ঝরে যাবে তার থেকে গুনে গুনে চল্লিশ দিন তারপর মৃত্যুর পথে পদযাত্রা শুরু। এক ঘন্টা এক মিনিট এক সেকেন্ড এক অনুপল আগানো কিংবা পেছানোর সুযোগ নেই। আপনি সেই নির্দিষ্ট সময়ে যা ই করেন না কেন: ঘুমিয়ে থাকুন, রাস্তায় থাকুন, ঘরে থাকুন, কাজে থাকুন, হাতে মাইক্রোফোন নিয়ে বক্তৃতা বা গান বা কবিতা গাইতে থাকুন, কিংবা আরো আরো অনেক অনেক কিছু, মৃত্যুর দূত আমাকে আপনাকে হাতছানি দিয়ে ডাকলে সেই ডাক উপেক্ষা করার মতো ক্ষমতা আমাদের দেয়া হয়নি।
এই সত্য যদি বারবার আমাদের চোখে আঙুল দিয়ে বোঝানোর চেষ্টা যদি কোন সুপার পাওয়ারের না থাকতো তাহলে কেন একটি নিষ্পাপ শিশু দশতলার ছাদে খেলতে গিয়ে খেলার এক পর্যায়ে ছাদের টিনের উপর ওঠা মাত্রই টিন ভেঙে দশতলার নীচে পড়ে যাবে? এক সেকেন্ডে জীবন নামক এত মায়া এত মজা সবকিছু শেষ হয়ে যাবে? যতবার সিসিটিভি ফুটেজ দেখছি ততবার অবাক হয়ে দেখছি দশতলার টিনের চালে উঠতে গিয়ে মেয়েটি প্রথমবার পা পিছলে গেল। সে উঠতে পারল না। কিন্তু সে থামলো না। দ্বিতীয়বার আবারো কষ্ট করে টিনের চালে উঠে পড়লো এবং এক সেকেন্ডে পুরোনো টিন ভেঙে একদমই নীচে… ইন্নলিল্লাহ ওইন্নাইলাহি রাজিউন।
সে চাইলেই কি এই মৃত্যু থেকে রেহাই পেতো? আমি বিশ্বাস করি, না। ঐ পাশে মৃত্যুর দূত তাকে ডাকছে। দুনিয়ার সফর শেষ করতে হবে। জান্নাতের বাগান প্রস্তুত।‌ তার বাবা মায়ের পরীক্ষার ক্ষেত প্রস্তুত। তো আর কিসের অপেক্ষা?
সুলাইমান আঃ এর সময়কার ঘটনা। আজরাইল আ: কে পাঠানো হলো এক ব্যক্তির রুহ কবজ করার জন্য। আজরাইল এসে দেখে তার মৃত্যু যেখানে হবার সেখানে সে নেই। তো আজরাইল আ আল্লাহর কাছে ফিরে গেলেন এবং জানতে চাইলেন, তিনি কি করবেন? ঐ লোক তো তার জায়গায় নেই।‌ আল্লাহ বললেন, তুমি চিন্তা করো না সে সেখানে পৌঁছে যাবে। তুমি সুলাইমান আঃ এর দরবারে যাও। মৃত্যুর দূত সেখানে চলে গেলেন এবং মানুষের বেশ ধরে সুলাইমান আঃ এর দরবারে সবার সাথে বসে রইলেন আর মানুষটির গতিবিধি খেয়াল করছিলেন। অন্যদিকে মানুষটিও একটু অবাক হয়ে ভাবছিলেন, ঘটনা কি? লোকটি আমার দিকে এভাবে তাকিয়ে আছে কেন? তিনি ভাবলেন, না আর বসে থেকে লাভ নেই। দেশে ফিরে যাই। তিনি সবার কাছ থেকে বিদায় নিয়ে রওনা হয়ে চলে গেলেন এবং তার দেশের পৌঁছার পর পর মৃত্যু বরণ করলেন। আল্লাহর কাছ থেকে পাওয়া বন্দোবস্ত কি করে বাস্তবায়ন হয় এই ঘটনা আমাদের সামনে রেখে গেলেন যাতে আমরা যেন মৃত্যুর অনিবার্যতা জীবনের পাশাপাশি ধারণ করি।
এত কথা বলার একটা ই কারণ নিজেকে এবং আমার আত্মীয় স্বজনকে, বিশেষ করে সন্তানহারা বাবা আমার মামা (Nizam Uddin Nizam কে সান্ত্বনা দেওয়া। মনটা কে শান্ত করার চেষ্টা।
ছোট্ট মামনির যাবার সময় এবং পথ এটাই ছিল। এটাই সে তার তকদিরে করে নিয়ে এসেছে। আমাদের এই পরিণতি পরিবর্তনের কোন শক্তি নেই। আমরা কেবল দোয়া করতে পারি, এমন দোয়া যেটা আমাদের শিখিয়ে দেয় দূর্ঘটনাজনিত সমস্ত বিপদ থেকে আল্লাহ যেন আমাদের হেফাজত করেন।
তবে আমরা মানুষ বড়ই অকৃতজ্ঞ প্রাণী। আমরা জীবনে আসল কথা ভুলে যাই আর দুনিয়ার জীবন নিয়ে মত্ত থাকি। আমাদের unlimited fun and enjoyment এর ভোগবাদী দর্শন আমাদের ভুলিয়ে দেয়, দুনিয়ার জীবন একটি অপরাহ্ন এবং একটি বিকেলের মতো। আমরা সেই একটি ছোট্ট সময়কে আমাদের নফসের পূজা শরীরের খেলা খেলতে খেলতে পার করে দেই। ভাবি, এই আনন্দ এই জীবন। খাই দাই সাজগোজ করি টাকা পয়সা কামাই আর আনলিমিটেড ফূর্তি করতে থাকি। ভাবি, আমাদের আর পায় কে!
আসলে, এইসব সব ধোঁকা। মৃত্যু জীবনের পাশে পাশে হেঁটে চলছে। একদিন একসময় হয়ত চোখ রাঙিয়ে ভয় দেখিয়ে নয়তো ভালোবেসে হাত ধরে বলবে, চল। যেতে হবে।
সেই দিনটা যেন আমাদের ভালোবাসার হয় আরামের হয় তার জন্য আমরা কতটা প্রস্তুত? Let’s reflect. Let’s think a moment. Let’s stop a sec and ruminate.
দোয়া করি আল্লাহ ছোট্ট নিষ্পাপ মামণিকে জান্নাতের বাগানের মেহমান করুন আমীন। তার বাবা-মায়ের নাজাতের উসিলা করুন। আমিন।

উম্মে সালমা, ৩০ জুন, ২০২৫.

Reflections

“চ্যাটজিপিটি এবং মানবিক বাস্তবতা”

CHATGPT কিংবা এরকম কিছু AI নিয়ে একাডেমিক মহলে একটা হৈচৈ চলছে। তবে উন্নত বিশ্বের হৈচৈ এখন অনেকটা বিশ্লেষণ আর পলিসির পর্যায়ে পৌঁছেছে এবং কিভাবে শিক্ষায় AI অভিশাপ না হয়ে আশীর্বাদ হয় এ নিয়ে পরিস্কার দিকনির্দেশনা দেয়া হচ্ছে এবং সেই সাথে এই দিকনির্দেশনা না মানার ফলাফল শিক্ষার্থীদের মানতে এবং বহন করতে হচ্ছে। AI এর উপযুক্ত ব্যবহার নিয়ে ও চলছে নানা প্রশিক্ষণ কর্মশালা যাতে শিক্ষক, শিক্ষার্থী, এবং গবেষকরা নিজেদের হিউম্যান পটেনশাল সর্বোচ্চ কাজে লাগাতে পারেন।

AI এর ব্যবহার নিয়ে একটি এনালোজি প্রশ্ন আকারে বার বার আমাদের সামনে আসে। যেমন, আপনি কি এমন বিমানে চড়বেন যে বিমানের পাইলট তার কোর্সে প্রতিটি আসাইনমেনট AI দিয়ে প্রস্তুত করতো? এরকম পাইলট কি আসলেই বিমান চালনার জন্য দরকারি সব স্কিল অর্জন করতে পারে? তার হাতে যাত্রীরা কতটুকু নিরাপদ?

কিংবা আপনি কি এমন ডাক্তারের কাছে যাবেন যে পড়ালেখা না করে সবকিছু AI CHATGPT দিয়ে করিয়ে ডাক্তারী পাশ করে রোগীর চিকিৎসা সেবায় নেমেছে? এই ডাক্তার কি বুঝবেন সঠিকভাবে কি হচ্ছে কেন হচ্ছে? তার নিখুঁত আসাইনমেনট কিংবা উচ্চ নম্বর কি রোগীর উপকার করবে?

ব্যপারটা ভাবনার এবং মজার। আপনি হয়তো বলবেন, ওকে ক্রিটিক্যাল সেক্টরে AI-induced শিক্ষাপদ্ধতি চলবে না। বাকিগুলোর কি সমস্যা? AI কে বললে একটা আর্টিকেল লিখে দেবে, একটি বুক রিভিউ করে দেবে, একটা এচে লিখে দেবে, এবং এভাবে কবিতা গল্প উপন্যাস সব সব…তো!

তো আপনার কাছে একটা প্রশ্ন, আপনি তাইলে কি জন্য আছেন এখানে? আপনার কাজ কি? একটা রোবট কি আপনার রিপ্লেসমেন্ট?

ইমোশনাল প্রশ্ন আপার্ট, আসলে কি AI CHATGPT উপরে উল্লেখিত কাজগুলো আপনার মতো করে করে দেবে? আমার অভিজ্ঞতা লব্ধ জ্ঞান হলো, না করে দেবে না। এই রোবট তা পারে না।

আপনারা যারা এগুলো নিয়ে একটু ঘাঁটাঘাঁটি করেছেন তারা নিশ্চয়ই খেয়াল করেছেন, CHATGPT এর সমস্যা এবং লিমিটেশনগুলো:

১. সে কোন টপিকসের সুক্ষ, গভীর, এবং চিন্তাশীল বিষয়গুলো ধরতে পারেনা। যেমন, আপনি একটি আর্টিকেলের সামারি দিতে বললেন, সে ভাসা ভাসা কিছু আইডিয়া দিতে পারে কিন্তু মূল যে কম্প্রিহেনসিভ আইডিয়া সেটা দিতে পারে না। এখানেই গবেষকরা থমকে দাঁড়ায় এবং বিরক্ত হয়। এবং কেউ যদি এভাবে কিছু প্রডিউস করে জমা দেয়, আমি ক্লিয়ারলি বুঝতে পারি এটা CHATGPT লিখেছে এবং সেজন্য কোন ডেপথ নেই।

২. সে অনেক সময় খুব ডিসেপ্টিভ। বিশেষ করে সোরস এবং রেফারেন্সের ব্যাপারে। যেমন, ধরেন আপনি একটা লেখার কমান্ড দিয়েছেন, সেটা লিখতে গিয়ে সে পর্যাপ্ত পরিমাণে রেফারেন্স পাচ্ছে না বা অনেক জটিল আইডিয়া ( যেমন Michel Foucault দিয়েছে) পেনিট্রেট করতে পারছে না, তাইলে সে এক সোরসের সাথে আরেকটি লাগিয়ে মিথ্যা একটা রেফারেন্স দিয়ে দেবে। নতুবা নিজের মতো রেফারেন্স বানাবে। এগুলোকে বলা হয়, confected আইটেম। তো এটা এই বস্তুকে unreliable করে ফেলেছে।

৩. ChatGPT র ভাষা খুব লিমিটেড এবং মেকানিকেল। এর কিছু ভোকেব আছে ব্যস! যা-ই লিখবে ওগুলো দিয়ে ই লিখবে। তাই ওর ভাষা খুব মোনোটোনাস। তাই এর ব্যবহার একজন শিক্ষার্থীর একজন লেখকের (যে কোনো বিষয়ে লেখাকে) মনোটোনাস করে তোলে।

৪. আপনি একে দিয়ে কবিতা লিখাতে পারবেন। কিন্তু এতটা ড্রাই আর মমতা হীন পাবেন যে আপনার কবিতা জিনিসটার উপর মন উঠে যাবে। যেমন, আপনি যদি নিজচোখে একটি জায়গা দেখেন আর তারপর তাকে নিয়ে ওকে লিখতে বলেন, আপনি যা দেখেছেন সে কোনদিন সেটা লিখতে পারে না। সে কিছু গাছপালা আর প্রাকৃতিক পরিবেশের কথা বলে ক্ষান্ত দেবে। যে কোন ক্রিয়েটিভ কাজে সে ইমোশানাল ইন্টেলিজেন্স আনতে পারে না।

৫. আপনি তার কাজে বিরক্ত হয়ে যতবার কমান্ড দেবেন ঘুরে ফিরে সে একি জিনিস নানা ভাবে আপনাকে দেবে। পরে সব মিলিয়ে দেখবেন তার এরিয়া একটি সীমানায় বন্দী।

এসব কিছু ভাববার বিষয়। খুব ভাববার। আমি/আমরা কি শিক্ষায় গবেষণায় সৃষ্টিতে আমাকে/আমাদের দেখতে চাই? না একটি রোবটকে দেখতে চাই? একটি রোবট কি আমার সহযোগী হবে না আমার অল্টারনেটিভ/ আমার ছায়া/ আমার কাউন্টার-সেলফ হবে?

আমার ক্ষেত্রে “আমি” ( sense of self) খুব গুরুত্বপূর্ণ। আল্লাহ আমাকে সৃষ্টি করেছেন যে বৈশিষ্ট্য দিয়ে সেগুলো নিয়েই এই আমি। আমি এই “আমি” কে ইকসপ্লোর করতে চাই।

তাই CHATGPT আমার কাছে অন্যকোন অনলাইন টুলস থেকে বেশি কিছু না। আমি একটি ভ্যাকুয়াম মেশিন যেমনে ব্যবহার করি, একেও এমনে ব্যবহার করতে চাই। এটা যেগুলো পরিস্কার করতে পারে না, আমি অন্যভাবে অন্যকিছু দিয়ে পরিস্কার করি। আমার কাছে মানুষের emotional agency, capabilities, and intelligence নাম্বার ওয়ান। সেগুলো খাটিয়ে বুদ্ধিভিত্তিক এবং সৃষ্টিশীল হবার বিকল্প নেই।

উম্মে সালমা, ১০/১/২০২৫

Reflections

এবার নিজের কথা বলি

এইতো বেশ কিছুদিন আগে আমার এক কাজিন আমাকে একটি মেসেজ পাঠাল। মেসেজের মুল কথা, “আপু আপনি সংসার আর কারিয়ার ক্যামনে করেছেন, যখন আমার আম্মুকে দেখি ঘরের কাজে সারাদিন কেটে যায়।” ওর মেসেজ পেয়ে নতুন করে ভাবতে বসলাম আমাকে, আমার অতীত আর বর্তমানকে । আমি কোন সফল মানুষ না। “I have miles to go before I sleep” and “I did not pick up all apples from my tree,” অবস্থা আমার, আমার প্রিয় কবিদের একজন রবার্ট ফ্রস্টের মতো। আমি চাই আমাদের পরিবারের মেয়েরা জ্ঞানে কাজে ঐতিহাসিক মুসলিম নারীদের পথে এগিয়ে যাক। এই চাওয়া একটি অন্তর্গত বিষয়। এই বিষয়টি ভাবতে বসলে নিজের গল্প আসে। আসে এজন্য যে, এটা কোন ইউনিক গল্প নয়। একটি সাধারণ গল্প যেটি অনেকের গল্প, কিন্তু বলছি আমি। আর এই বলা এজন্য যে, পরিবারের এই ছোট ছোট বোনরা যাতে একটি ডিরেক্সান পায়। একটু আশান্বিত হয়–ইয়েস, আই কান ডু দাট। তবে এই প্রশ্নের এক কথায় ঊত্তর দেয়া কঠিন, তাই অনেক কথা আনতে হলো। একটি হোলিসটিক পিকচার এর জন্য।

মাঝে মাঝে আমি ভাবি, আমি কি? তখন কেন যেন মনে হয়, আমি মোটামুটি মানের একজন সমন্বয়সাধনকারী (reconcliator) এবং আলাপ আলোচনাকারী (negotiator). আমি জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে কথা বলা, আলোচনা করা, মীমাংসা করতে চাই, আমাদের সামনে সবচেয়ে ভালো লক্ষ্যকে এবং ফলাফলকে সামনে রেখে। আমি কোন কিছু চাপিয়ে দেয়াকে পছন্দ করিনা এবং এর চেয়ে ভালোবাসি যে কোন ক্রিটিকাল মুহূর্তে সমস্যার বেষ্ট সমাধান কি তা বের করে নিতে।

বাংলাদেশের সামাজিক, পারিবারিক, এবং সাংস্কৃতিক প্রেক্ষাপটে মেয়েদের জন্য এটা অসম্ভব এবং একটু আইডিয়ালিষ্কিটিক কিন্তু দুর্লভ নয়। এমন অনেকেই আছে যারা অনেক কম কালচারাল এবং পারিবারিক ক্যাপিটাল নিয়ে অনেক কিছু করেছে। আমার জীবনে আমার লক্ষ্যগুলো ছিলো স্থির বা বলতে পারি ক্রমান্বয়ে সাজানো। এটা নয় যে, আমি যখন টীনএজার ছিলাম, লিখে রেখেছিলাম কি হবো কি করবো ইত্যাদি । কিছু সপ্ন, কিছু ইচ্ছা, কিছু ভিন্ন কিছু করা যা আমার পরিবাররের মেয়েরা করেনি মনের ভেতর আসতো। আমি ভাবতাম, কি করে তাদের পূর্ণতা দেয়া যায়। কখনো কখোনো চারপাশের অবস্থা দেখে এমন কঠিন লাগতো, আমি মন খারাপ করতাম, হতাশ হতাম। তবুও ভাবতাম, আমি পারবো। আবার কখনো ভাবতাম, আচ্ছা, নাই ই পারলাম, জীবন না হয় হলোই অন্যরকম, যেমন আমি চাইনা। হয়ত সেটাই ভালো। আমি তো জানিনা!

কিন্তু হাল ছাড়তাম না। একটি মজার, দুঃখের এবং হতাশার বিষয় হলো, বিয়ের ব্যাপারটা। আমি বিয়েকে আমার জীবনের একটি turning point মনে করতাম। মনে করা ছাড়া উপায় ছিলোনা। ছিলো কি? এটি বাঙালি মেয়েদের একটি সাধারণ ব্যাপার। বড় মেয়ে, বিয়ে করাটা পারিবারিক আর সামাজিক একটা রীতি এবং দায়িত্ব ! না চাইলেও বিয়ে করতে হতো। তাই বিয়ে করবো না–একথা বলার আমার সুযোগ ছিলো না, আমার কিছু বন্ধুদের মত, যারা বিয়ে করতে চায়নি এবং করেনি। বিয়ের করতে চেয়েছে, হয়নি, এরা এই দলে না।

যাই হোক, বিয়ের জন্য আমার মনে একটা ধারনা এবং একটা ঝাপসা ম্যাপ ছিলো। ব্যাপারটা এরকম, ইস যদি এমন হতো! জীবন সঙ্গির অনেক এসেঞ্চিয়াল ফিচার এর মাঝে একটি অতি গুরুত্বপূর্ণ ছিলো আমার কাছে, টাকা নয়, পয়সা নয়, বাড়ি নয়, জমি নয়। সেটা হলো আমাকে পড়াশোনা করার সুযোগ দেবে এমন একজন। এটা শুধু এটা না যে, যাও পরো টাইপ। এটা হলো সবরকমের সহযোগিতা। জীবনযাপনের অনেক অনেক কাজের মাঝে আমার প্রয়োজনকে প্রাধান্য দেয়া। আমার “আমি” তাকে স্পেস দেয়া । বিয়ের সময়, একটা কথা খুব শুনতাম, “ভালো বর ভালো ঘর” । যারা এই ক্রাইটেরিয়াকে সামনে এনে আমার কাছে বিয়ের কথা বলতো, আমি দেখতে পেতাম এই কথাটার মানে কি গলদপূর্ন। এক ছেলের যদি চরিত্রে সমস্যা থাকে এবং এটা যদি একশত ভাগ সত্য হয়, তবু দেখলাম তাকে ভালো বরের কাতারে সামিল করা হচ্ছে। তাদের আমি প্রশ্ন করতাম, এ কেমনে ভালো বর হয়, অনেকে থতমত খেতো এবং অনেকে আমাকে নিয়ে খুব বিরক্ত হতো। কেউ কেউ এটাও বলতো, আমি অহংকারী।

যাইহোক, ভালো বরের কাতারে আমি তাদের ফেলতাম যাদের ভালো চরিত্র আছে, ভালো মন আছে এবং যারা ভালো মুসলিম হবার নিয়ত রাখে, তার জন্য সাধনা করে। জানিনা, কে কতটুকু ভালো। শুধু জানি, এই পর্যন্ত এরকমই পেয়েছি তাকে। আল্লাহু আলম। ফিরে যাই সেই কথায়, এমন একজন চেয়েছি যে আমাকে পড়তে দেবে এবং চাকরি করতে দেবে। এবং এটা পেলে, সেজন্য যে কোনো ধরনের প্লানিং এবং মানাজমেন্ট এর জন্য প্রস্তুত ছিলাম।

আমি খুব পরিশ্রমী ছিলাম। বলতে দ্বিধা নেই আজ। একটা কাজের পর একটি কাজ আর তার উপর আমার নিজের কাজ সব মিলিয়ে কাজ: আমার দিন গুলো এভাবে ছক বাঁধা ছিলো। কোন কাজ দেখে আমি ভয় পাইনি। কাজ করেছি। নিজের সমস্যা হলে বিরক্ত হয়েছি। মন খারাপ করেছি। কিন্তু চেয়েছি, অন্যের যদি আমাকে দিয়ে উপকার হয় আর আমার যদি শারীরিক, মানসিক আর আর্থিক সামরথে কুলোয়, আমি আছি। কথা, কাজ, পরামর্শ যেম্নে পারি, সাহায্য করে যাবো। শাড়ী চুড়ি গহনা মার্কেট কেনা কাটা অযথা ঘুরাঘুরি আমি খুব কমি করেছি। এসব আমার জায়গা না। আমার জন্য না। আমার কাজের ক্ষতি হয়, আমি লক্ষ্যচুত হই, এরকম কিছু আসলেই তাকে ডিলেট করে দিতে চেয়েছি।

আমি বলবো না, আমি সবক্ষেত্রে তা পেরেছি। কখনো কখনো অনুরোধে ঢেকির জায়গায় আমি জাহাজও গিলে ফেলি। সাধ্যে যা কুলায় তার চেয়ে বেশী করতে হয়েছে। পরিবার, মা, বোন, ননদ, দেবর, এবং স্বামী সবার সাহায্য চেয়েছি। সবাই সাহায্য করেছে সেটা সংসারের কাজ হোক বা বড় পরিবারের বা আমার পড়াশোনা কিংবা অফিস সংক্রান্ত। কখনো বলেনি, তোমারে কে কইছে পড়তে, কে কইছে চাকরি করতে, কে কইছে বাচ্ছা নিতে ইত্যাদি । আমার চারপাশে বেশীর ভাগ বউরা এগুলো শুনে। তাদের কাজের কোন recognition নেই। তাদের কাজের কোন দাম নেই। কিনতু আলহামদুলিল্লাহ, আমার সব কাজের দাম সবার কাছে ছিলো, দাম পেয়েছি।

এর একটি কি এই যে, আমার সংসার, পরিবার, আর আশপাশের মানুষের জন্য কিছু কাজ করার দুর্দান্ত আগ্রহ আর ইচ্ছা। “আমার একলা ঘরের আগল ভেঙ্গে বিশাল ভবে, প্রানের রথে বাহির হতে পারব কবে?” কি সুন্দর লাইনগুলো বাজত শুধু মনের কোণে । এই আমি কেন যেন খুব ঘর পাগল, ট্রাডিশানাল বাঙ্গালী নারীদের মত, একটি সুন্দর ঘরের জন্য সবসময় আকুল। যা ছিল, ছোট বড়, এটা মুছতাম, এটা গুছাতাম, এটা সরিয়ে এখানে, ওটা সরিয়ে ওখানে । To make change, to increase beauty, to polish. আমি অনেক নারী দেখি, যাদের ঘর খুব ময়লা, অগোছালো, আর তাদের নানা ধরনের কারন বলে এর পক্ষে। আমি জানিনা। শুধু জানি, আমি তাদের মতো না। আমি পারি না। আমি এরকম। আমাকে এরকম দেখে কেউ যে বিরক্ত হয়নি তা না, এব্যাপারে আমার ব্যাপার ছিলো, আমি করবো, পারলে সাহায্য করুক কেঊ। না পারলে থাক। পরে পরে দেখি, আমাদের ঘর সুন্দর লাগার জন্য আমরা সবাই এক পায়ে খাঁড়া । এজন্য কভিড-১৯ এর সময় অনেকের মতো ঘরে আটকা পড়ে আমি বিরক্ত হইনি। আমার ভালো লেগেছে হঠাত থেমে যাওয়া !

আমি দীর্ঘ দশ বছর বিশাল ফ্যামিলির জন্য রান্না করেছি। মিড-বিশে বিয়ে হয়, কিন্তু রাঁধতে জানতাম না। একটু কিছু নাস্তা বানানো ছাড়া। আমার রান্নার টিচার হলো, আমার মা, আমার ননদ, আর আমার ফুফু শাশুড়িরা। একটু একটু করে শিখেছি। বিরক্ত হইনি। আমি রাঁধতাম ফজরের পর। দিনে একবার, বেশী করে। যাতে আর রান্না ঘরে যেতে না হয়। আমার helping hand দের আমি আমার বাসা থেকে বের হবার পর আর রান্না ঘরে যেতে দিতে চাইতাম না, যখন ওরা ছোট ছিল এবং পরে আমার বাচ্চারা ছোট ছিল। আমার কাজ দেখে আমার ঘরের মেয়েরা কখনো বসে থাকেনি। তারা আমার সাথে সারা বছর কাজ করেছে যে যতটুকু পেরেছে, কখনো কেউ কারো দোষ ধরিনি, কারো উপর কিছু ছাপিয়ে দিইনি। এমন কিছু করিনি যেন আমার/ওদের পড়াশোনার ক্ষতি হয়। আজ কেউ কেউ ( যে আমার জীবন দেখেনি / আমার সাথে বাস করেনি) যখন বলে, আমাকে নাকি এমনি এমনি আমার শ্বশুরবাড়ির মানুষ (?) সহযোগিতা করে উপরে তুলে দিয়েছে, তখন বুঝিনা হাসবো না কাঁদবো । নিজের অপারগতা আর ব্যর্থতা ঢাকতে অন্যের ব্যাপারে অনায্য কথা বলা কি ঠিক?

রান্না আমাদের জীবনের অংশ। কিন্তু এটা জীবন না। রান্নাঘরে সময় কাটাতে চাইলে সারাদিন দেয়া যায়। কিন্তু রান্নাকে জীবনের মূলমন্ত্র মূলভিত্তি মূলবিন্দু হতে সরাতে হবে। আমি মহিয়শী নারীদের কাছ থেকে এটা শিখেছি। আমি তাই করেছি। রান্না করি নিয়মিত এবং পরিমিত। রান্না করি সুযোগ পেলে অনেক বেশী। এটা সেটা বানাই। মনের মাধুরী মিশিয়ে। কিন্তু, রান্নাঘর আর ঘরের কাজে সারাদিন দেই না। কয়েক ঘন্টা উইকডেতে আর তার চেয়ে বেশী উইক এন্ডে। রান্নাঘর শুধু আমার জীবন নয়। আমার প্রফেসান আমার কাছে যা আমার ঘরের মতো সমান দরকারী। তাকে গড়তে আমার প্রচুর সময় দিতে হয়েছে এবং এখনও হয়। আমি তাকে ছাড়া incomplete, selfless, and non-agentive. তাই আমি প্রানপনে তাদের মঝে negotiate করি। একটার জন্য অন্যটাকে ফেলে দিইনা, অবহেলা করিনা। আমি রান্না না করলে খাবো কি? না খেলে কাজ করবো কি করে? একটি মনের মতো ঘর না থাকলে থাকবো কোথায়? কোথায় ফিরবো কাজ শেষে ? ঘর তো আমার কাছে একটা স্টাকচার না, এটা নিলয়, এটা মায়া-মমতার কোল, একটি নীড়। আমার চাকরী তো শুধু চাকরি না, এটা আমার আবেগ, আমার পরিচয়, আমার অস্তিত্ব । তাহলে? কেন আমি এদের মাঝে বিরোধ রাখবো?

তাই আমি বলি, থিঙ্ক বিফোর ইয়উ লিপ। ঝট করে ভেবোনা আমি কারিয়ারে যাবো, ঝট করে ভেবো না, আমি শুধু গৃহিণী হবো। সব কিছুর কিছু গুড অ্যান্ড ব্যড সাইড আছে। আছে দুর্দান্ত সংগ্রাম । আর আছে আর্থিক প্রশ্ন, আছে অনিশ্চয়তা, আছে উদ্বেগ আর দুশ্চিন্তা।

আমি দেখেছি, আমার যে বান্ধবীটা শুধু গৃহিণী হতে চেয়েছিল, সে বিয়ে করতে পারেনি বা বিয়ে করেছে, মা-ই হতে পারেনি। যে কখনো চাকরি করতে চায়নি, সে চাকরি করছে। যে যে চাকরি করতে চেয়েছে, তা পারেনি। হতে চেয়েছে ডাক্তার, হয়েছে কেমিস্ট। হতে চেয়েছে ছেলের মা, হয়েছে, মেয়ের মা। চেয়েছে বাড়ী-গাড়ী, পেয়েছে খুব সাধারন জীবন। চেয়েছে দেশী জামাই, পেয়েছে প্রবাসী চাকুরীজীবী।

So, Life is not rosy and romantic. Life is a test and highly unpredictable. We need to equip ourselves to face the unknown and unexpected and be bold and strong to pass the test. And to pass the test, we need to decide how and for what. We need to make every effort throughout our life to make wrongs right with love and care, not showing negligence, anger and selfishness. If the wrongs does not set right, we need to have to courage to delete and leave that. We need to decide what we want as a woman: a home or career? or both? If both, we need to think how to balance them in innovative and individual ways. We need to think the strategies and paths, depending on the situation and gain the capacity to negotiate and reconcile in various problems to achieve the best, the highest good. When a person works like this and with integrity, Allah never ruins her efforts and works.

আমার জীবনের প্রতিটি কাজ যততুকু করেছি আলহামদুলিল্লাহ বরকতময়। আল্লাহ সবকাজে আভাবনীয় বরকত দিয়েছেন। মানুষের পাশে দাঁড়ালে মানুষকে ভালবাসলে আল্লাহ বরকত দেন, এটা আমি সবসময় বিশ্বাস করি। তবে একটি জিনিস আমি অনুতাপ করি, তা হল, আমার জীবনে “self-care” বলে কোন শব্দ ছিলোনা। কেউ বলেনি, Take care of your health, when you are simultaneously pursuing a goal and caring a (big) family. যে জন্য আমি অনেক বেশী সিক হয়েছি। কিন্তু তাই বলে, আমি থামিনি। আবার কাজ করেছি, ভুল্গুলো শুধরে নিয়েছি এই সেলফকেয়ার বিষয়টি অবশেষে আমি শিখেছি প্রবাস জীবনে এসে। যখন “Motherhood” এর উপর একটি কোর্স করেছিলাম। শিখেছি, “You cannot serve from an empty vessel” (Eleanor Brown). সংসারের যত্ন নিতে হলে প্রথম মায়ের যত্ন নিতে হবে। কজন জানে এ কথা, কজন মানে?

তাই আমার প্রস্তাবনা হচ্ছেঃ জীবনের সঠিক দিক ঠিক করা। সঠিক সিদ্ধান্ত নেয়া। সবসময় নিজের কাজে ফোকাস থাকা। সমস্যার সময় কথা বলা, ,আলাপ আলোচনা করা এবং বেষ্ট পথ বেচে নেয়া। সবসময় প্লানিং এবং ম্যানেজমেন্টের মাঝে থাকা। কাজ এবং ঘরের মাঝে ব্যালেন্স করার চেষ্টা করা । এর জন্য সম্ভাব্য সকলের সহযোগিতা চাওয়া এবং নেয়া। এবং কখনো যদি মনে হয়, আর পারছিনা, থেমে যাওয়া যেখানেই আছি। আর সবার উপরে, নিজের মন এবং শরীরের যত্ন পর্যাপ্ত নেয়া। কারন, আর এসব কাজকে যে জিনিসটি ঘিরে রাখবে তা হলও সবসময় দুয়া করা। দুয়া ইবাদাত।

“আমার গল্প ফুরালো, নটে গাছটি মুড়ালো”।

উম্মে সালমা, টুওং, ১৪/০৫/২০২৩

Photo by syd.oztr on Pexels.com

Reflections

I write to remember, to be remembered

Umme Salma, 9/11/2022

Sometimes I feel very sad when I see that I don’t know my great grandfather, his father, and his father. There is no record of their life and livelihoods and no photos, no sketches from which I can know them, reveal them. I only know from my father and my uncles that they have been travellers in the Indian Subcontinent, but eventually returned home and settled down, buying properties and establishing business, in a remote corner of Noakhali, Bangladesh. Sometimes I learn that during that time, today’s developing village with postcolonial modern facilities was a lush location on the bank of Bay of Bengal: the sea that has moved far far away, was at the door and danced with its ferocity and beauty at the lap of my forefathers.

These snippets create in me a longing: longing to know more, more and more. But no way….I can’t break this no way. I feel sad and write. I starve to write, I run to write, I fly to write. I jump to write. I cry to write. I hide to write. I pray to write. I appeal to write. I look forward to the next two hundred years, I see myself nowhere. A lamp flashed once only to extinguish forever: a feeling so harrowingly destroys my heart and pushes me to write and to publish, a thing of which I am lazy.

So, why I write then? To remember my past, my ancestors, and be remembered as an ancestor. It is not that I am a hero in life, someone extraordinary and rare. No, not that. I am a simple woman with a life with ups and downs, pains and pleasure, success and failure. I want my next generations to know this me. If anyone ever longs to looks back, they need at least to have something to grasp how his/her predecessors lived their life on the Earth. Who they are, who she is. This knowing will bring them to me and bridge the gap of time, space, and civilisation.

Will my writing survive? My amma says, after 1971, she asked my grandfather anxiously, “Abbaji, where is my Baluchor? [a book of poems by the Poet Jasimuddin]. He answered, “darling, no chor survives when wars break out.” Huh, what a pun!

However, sometimes, I go opposite of this sense of loss and urge for remembrance. Unintentionally. I look at myself and ask, are we to abolish forever? An answer profound slides through my soul and plays hide and seek. The beloved Allah knows well that we will long for the past and for the reunion. Allah knows well that we will cry for the unknown, cry for the people whose signs of love we bear. That’s why, Allah has extended our existence from the temporary earth to the eternal afterlife so that we all can be reunited again in the great confluence of life in the Paradise.

Does this eternal consolation stop my desire to write? to create? Not at all. It accelerates my pace. Writing is responsibility, derived from an incurable disease of writing back to the oppressors and the unjust. I carry this disease, so writing comes to me as a “spontaneous overflow of powerful feelings” as William Wordsworth says. Whenever a powerful feeling/emotion/event catches my perception, I feel an irresistible urge to write. Writing brings relief. It heals the tired, crying, and rebellious soul. Words are mightier than missiles. Words Wane Stasis and Create Change. So, I write! I pray to write! The moment I will not be able to write, I will die at that moment, metaphorically!

“O Allah, I ask You for beneficial knowledge, goodly provision, and acceptable deeds.”

Toowong, Brisbane.