Poems

এ্যরিদমিয়া (Arrhythmia)

শাসট্রা ডিও (Shatra Deo)

অনুবাদ: উম্মে সালমা (Umme Salma)

যদিও তুমি দরজায় দাঁড়িয়ে আছো
তোমাকে উপেক্ষা করে সে তোমার জিনিসপত্র বাঁধছে,
গত এক সপ্তাহ তোমাদের কোন কথা নেই
এজন্য না যে তোমরা চেষ্টা করছো না, অন্তত তুমি।
সে একটু ও ভাবছেনা যখন তোমার বই, কাপড়, ছবিগুলো অনায়াসে সরিয়ে নিচ্ছে। কোন কিছুই তার মুছে দেয়ার চেষ্টা হতে বাদ পড়ছে না। যখনি নিখুঁত ভাবে সব জড়ো হচ্ছে একজায়গায়, সে সবকিছু ঢুকাচ্ছে দুটো কার্ডবোর্ড বক্সে
–‘দান’ এবং ‘আবর্জনা’–হ্যা তাই।
তোমার সারাজীবন মানে শুধুই দুটো বাক্স?
তাকে ছুঁতে তুমি হাত বাড়িয়ে দিলে আর সে প্রচন্ডভাবে ঝাঁকুনি দিয়ে উঠলো যেন তার গায়ে আগুন ধরেছে।
তুমি রাখলে তোমার আঙুল কব্জিতে মেপে দেখতে তোমার পালস এর কি অবস্থা।


সে কাঁপছে সূর্য ডোবার অনেক পর পর্যন্ত। হাঁটছে। খুঁজছে, খুঁজছে, খুঁজছে। তুমি দেখছ ওপাশ হতে। তোমার হাত তোমার বুকের উপর, অনুভব করছো প্রতিটি পদক্ষেপ যেন এক একটা কাটাকাটা ছন্দ, বাজছে তোমার ছাটনার ভেতর।

সে কি এক অশান্তির ঘুম ঘুমুচ্ছে, শরীর থেকে সন্ধ্যা আর গ্রীষ্মের মত উত্তাপ ছড়িয়ে দিয়ে, এবং গাছের শাখা যেমন সূর্যের দিকে ধায় ঠিক তেমনি করে তুমিও তার দিকে ধাবিত হচ্ছ।
তুমি তার কাছে গেলে এবং তার চুল এলোমেলো করে দিলে। সে ঘুমের মাঝে ওপাশ ফিরলো। আধো আলোতে তার কালো ছায়ান্বিত চোখ, তার মুখের কাটা দাগ কি বীভৎস! সে কি এক শরীর যেখানে হাড়, তরুণাস্থি, কন্ডরা আর কন্ঠাস্থি যেন যুদ্ধ করছে কি করে চামড়ায় দাগ ফেলা যায়। অথচ চামড়াটা তা হতে দিচ্ছে না।
আমাকে বল তুমি কি স্বপ্ন দেখছো আমরা একসাথে বুড়ো হচ্ছি, তুমি ফিসফিস করে কথা বল।
সে নড়ে ওঠে, হাসে, আর তুমি ভাবো সব তোমার জন্য।

সত্যি বলতে কি তুমি স্বার্থপর; তুমি হতে চাও একমাত্র ‘সে’ যাকে তার প্রয়োজন সারাজীবন ধরে।
তোমার মা বিষন্নতায় মারা গেছে
তোমার বাবা মারা গেছে ভালোবাসায়।
তুমি যা চাও তা তার চেয়েও সম্ভবত বাজে।

তুমি গুনতে থাকো তার মেরুদন্ডের জোড়া।
তার চোখের পাপড়ি নড়ে ওঠে আর বুক থেকে নেমে আসে দীর্ঘশ্বাস, এত উষ্ণ যে এক লহমার জন্য তোমার মনে হয় কোথাও কোন শীত নেই। তুমি চাও তাকে ভেঙে খুলতে, হাতে নিতে তার হৃদপিন্ড, এবং আঙুল ডুবাতে তার ফুসফুসের পাতলা ঝিল্লিতে।
তুমি চাও তার চামড়া শরীর হতে ছাড়িয়ে নিতে এবং তার বুকের খাঁচায় দলা পাকিয়ে শুয়ে থাকতে।
তুমি জানতে চাও তার ভেতর কি আছে।
রোগের লক্ষণ খুঁজে পেতে, এমন রোগ এমন সমস্যা যা তাকে প্রলুব্ধ করেছিল তোমাকে ভালোবাসতে।
তুমি চাও এভাবে আবার তুমি উষ্ণ হয়ে ওঠো।

তুমি ভেবেছিলে এখনো অনেক সময় আছে।
চলে যাও,
সে বলে। তুমি চলেই গেছো । আমাকেও যেতে দাও।
সে একটি বাক্সে লাথি মারে এবং দুহাতে মুখ ঢাকে, তার নিশ্বাস এবড়ো থেবড়ো হয়ে যায়।
তুমি কল্পনা ও করতে পারোনা কি ভীষণভাবে তুমি
এটা মিস কর–তোমার বুকের ভেতর ফাঁপা বাতাস,
তার নিশ্বাস নেয়া বুকে আটকে যাওয়া তোমার পৃথিবী
একটি খালি ঘরে একটি মাত্র হার্টবিট, এবং সেই তুমি–

যে সবকিছু দিতে চাও আবার শুরু করার জন্য।

১৫/১০/২০২২.
(শাসট্রা ডিও ফিজিতে জন্মানো এবং মেলবোর্নে বেড়ে ওঠা ব্রিজবেনের এক কবি ।কবিতাটি তার The Agonist বই হতে নেয়া যেটা ২০১৮ ALS Gold Medal পায়। )

Poems

আবেগের হালখাতা

কিন্তু আমার খাতাটা হাল 
এইতো এই যে গতকাল
কিনে নিয়েছি তুলে নিতে যত 
দেনা পানার হালচাল। 

সতের বছর আগে 
সতের-টি বছর আগে
কোন এক চাঁদ জাগে 
মনটি যখন আকাশ ছিল 
আমাদের অনুরাগে। 

সেদিন কেমন ছিল?
মনে আছে? সে সকাল? 
একটি খাতা হাল
তুমি খুলেছিলে মায়াময় হেসে
এলিয়ে স্বপ্ন জাল? 

সেই খাতাটি ই দেখ
কেমন নতুন ঝকঝকে
দেখে মনে হয় এইতো কিনেছি
কাল ই কিনেছি 
মোড়ের দোকান থেকে।

দেখ দেখ, মলাটটা কত দারুণ
অথচ পৃষ্ঠাসমূহ ?
ভরা 
রাগ অভিমান কষ্ট হিসেবে 
কত কত কাটা ছেঁড়া

তবু
অনেক পাতাই খালি। 
সাদাটে আলি জালি।
হিসেবের স্রোতে জমা হবে বলে
আরো আরো চোরাবালি? 

এই ভয়ে এই ভয়ে 
নতুন বছরে নতুন পাতায় 
ভালোবাসি রয়ে সয়ে ?

১৫/৪/২০২২
বৈশাখে লেখা।
Poems

Temporary

Everything is temporary
From loveliness to love
The blood flow that reddenes you
The ant bites in the finger tips
The rapid race of the heart beat
Will eventually cool down
Like an iced amber.

You once thought 
The feeling of being stuck will never end
Like a blocked and pained vein 
You will suffer and suffer
No doctor will create a by-pass through
the extended family, monotonous homes and used furniture. 

Now where are you? 
Whenever he thinks of you
He needs to think of an area with no network
Whenever I ask about you 
he has to look beyond the immediate
To an arid plane of plants and animals. 

This transpose 
This distance
 Among us 
The aircraft 
The mobile
The media
Cannot  bridge.

Still, a light hope flickers inside
Our return 
and turn to each other 
Can only put you face to face. 
A heart upon a heart
A forehead leaned onto a forehead. 

Then you must ask him about mutability
He will tell you 
nothing is stuck in one place
I will nod
None can step twice into the same river
You would learned, Heraclitus said,
If you could google. 

Umme Salma
9 July 2022. Brisbane
Poems

Vegetable Life

When you ask me to remember our olden days
I often visit an afternoon

You returned from work
And a red chilli burst open
The fridge door was slammed
The TV was turned on loudly
Children's bags were rummaged for leftover tiffin

I smelled the spicy air
My mouth burned
My body shrank like
A piece of fish in the hot gravy.

I knew I was a super hot pepper
But frozen and pale
staying in the cold for a long time;
in coldness of care

A mutual loss consumed us
From the core.

11 August 2022.
Op-eds

শুরুটাই অসুন্দর


আমাদের বাংলাদেশী সংস্কৃতি তে পারিবারিক সম্পর্কের শুরু হয় বিয়ের মাধ্যমে। অভিভাবকদের পছন্দেই হোক বা ছেলেমেয়েদের প্রেমে হোক, বিয়ের মাধ্যমে একটি মেয়ের, একটি ছেলের এবং দুটি ফ্যামিলির কালচারাল শিফট ঘটে। এটা যুগ যুগ ধরে চলে আসছে।


অথচ এই চলে আসা জীবনধারা আমাদের সমাজে একটি অভাবনীয় নেতিবাচক আলোচনার বিষয়। আমি মাঝে মাঝে হিসেব করি, আমার চেনা শোনার মাঝে এমন কি কেউ আছে যে পরিবারের সম্পর্ক আর সদস্যদের নিয়ে তৃপ্ত? সত্যি কথা বলতে কি কাউকেই মনে করতে পারিনা। কারন সাধারণ মানুষ হতে শুরু করে এমনকি যারা খুব ধর্ম চর্চা করে তারা সবাই একি ধাঁচের। সরাসরি বা আকারে ইঙ্গিতে যেভাবেই হোক নিজের কমফোর্ট জোনে তারা গল্পের ঝুলি নিয়ে বসে, কার শ্বাশুড়ি কেমন, কার জামাই কতটা মা ন্যাওটা, এটা হয় বৌদের গল্প আর এর বিপরীত হয় শ্বাশুড়িদের গল্প। এই গল্পে জামাই শ্বশুরদের ও ভাগ থাকে। তারা এ পক্ষ ও পক্ষ নিয়ে পরিবারটা কে একটা concentration camp বানাতে সহযোগিতা করতে থাকে।


এই চিত্রের পেছনে অনেক অনেক অনেক কারন আছে। এর মাঝে আজ একটা নিয়ে বলতে চাই, মেটা হলো সম্পর্কের শুরুতেই সম্পর্ক শেষ করে দেয়া। কোন বিয়েই ১০০% পারফেক্ট নয়। বিয়ের আগে এবং প্রথম প্রথম অভিভাবকদের, বিশেষ করে ছেলের অভিভাবকরা, বিয়েতে ঘটে যাওয়া তাদের অপছন্দের কাজগুলো (যা মেয়ে পক্ষই করে) কখনো ভুলেন না। সেই শোধ তারা তুলেন মেয়ের উপর। ঠেস দিয়ে কথা বলা, বিশ্রী উপনাম দেয়া, নানারকম মুখভঙ্গি, কানাকানি, ফিসফিসানী এবং জিনিস পত্রের সমালোচনা, খাদ্য আইটেমের বাচ বিচার এগুলো চলতে থাকে প্রথম অনেকদিন এবং এটা খুব সহজেই নতুন মেয়েটার মন বিষিয়ে দেয়। সে একটা চির বিরক্তিকর অনূভুতি মনের মধ্যে পুষে নেয়, যার প্রভাব থাকে মরন পর্যন্ত।


একটি বীজ বপনের সময় তাকে নষ্ট করলে তা থেকে আর কোন গাছ হয়না, তেমনি সম্পর্কের বীজ বপনে যে যত্ন আর ভালোবাসা দরকার তার অভাবে এক একটা পরিবার আজ concentration camp. আমার খুব অবাক লাগে অভিভাবকদের একগুঁয়েমি এবং আধিপত্যমূলক আচরণ দেখলে। তারা নতুন মেয়েটিকে/নতুন বৌকে নূন্যতম সম্মানটুকু দিতে চায়না। এরা ভাবে, “সে কোন লাট সাহেব তারে আমি পুছবো?” ” তার দায়িত্ব মানিয়ে নেয়া, আমি যেমন করেছি আমার শ্বশুর বাড়িতে।” ” এসব সহ্য করতে হবে”। ইত্যাদি ইত্যাদি ইত্যাদি। এর জন্যি বোধহয় দেশের বাইরে বাংলাদেশের মেয়েরা আসলে আর যেতে চায়না। অনেকের সাথে কথা বলেছি, দেখেছি তারা পলায়নপর। বলে, বহূত ভালো আছি। আর কোন ক্যাচাল চাইনা।


আমি বলছি না, নতুন বৌরা সাধু সন্ত। আমরা কেউ কি তা? আমার প্রশ্ন হচ্ছে শত কথা আর অপছন্দের মাঝে যখন সম্পর্ক হয়ে যায়, তখন সব কিছু পিছে ফেলে, আমরা সে সম্পর্ক কে কেন স্বাভাবিক, বা তার চাইতে সুন্দর বা তারও বেশী কিছু করতে পারিনা? কেন আমাদের নোংরা আবর্জনা ঘাটতে হবে আর তার গন্ধ দেশ কাল ধরে ছড়াতে হবে? কেন আমরা এত সংকীর্ণ মনের? একটা নতুন মেয়েটিকে আত্ম-উত্তীর্ন ভালোবাসলে তাকে জায়গা দিলে তাকে সম্মান দেখালে
আমাদের কি ক্ষতি হয়?


এ মুহূর্তে কুরআন এর একটি আয়াত মনে পড়ছে, “যে মনের সংকীর্ণতা থেকে মুক্ত হলো, সে সফলতা লাভ করল।” তাহলে আমরা যারা এসব কাজ করি আর তা জারী রাখি, তা কি আমাদের মানসিক সংকীর্ণতা নয়? আমরা কি তাহলে অসফল নৈ, যত ধন আমাদের থাকুক?

ড. উম্মে সালমা
২০ আগষ্ট ২০২২.

Poems

সন্তের মতো প্রার্থনা.

যে কথাটা বুকের মাঝে গুমরে মরে
যে কথাটি বলতে গিয়ে বলি না আর 
তারি চাপে রাত দিনটা আছড়ে পড়ে। 

প্রভু আমার
আমায় তুমি শান্ত কর
শীতল কর আগুন জ্বলা মন বাগিচা
প্রভু আমার
আমায় তুমি মুক্ত কর
সরিয়ে দাও কষ্ট ব্যাথার বিশ্রী বিছা ।

এই শহরে আমার ভীষণ একলা লাগে
ছুটছে সবাই ঘুরছে ফিরছে কেমন যেন
কথায় কথায় দূরত্ব আর ভাঙন জাগে। 

প্রভু আমার
আমার মনটা বাগান কর
সুগন্ধিটা একটু হলেও ছড়ায় যেন
প্রভু আমার
আমার হাতটা লতা কর 
ভালোবাসায় একটু হলেও জড়ায় যেন

যে যার মতো এই শহরে আমরা সবাই 
যখন চাই এক সাথে রই একসাথে হই
তবুও যেন কেমন ফারাক, কি যেন নাই

সেই নাই এর খোঁজে চলতে থাকা 
এই যে আমি

প্রভু আমার
সেই আমিকে মানুষ কর
নিজস্ব কে উতরে যাওয়া মিষ্টি মানুষ
প্রভু আমার 
সেই আমি কে বিশাল কর
সরিয়ে দিয়ে ভেতর ফাঁপা সব জৌলুস।

আমায় তুমি 
শান্ত কর শান্ত কর শান্ত কর
আমার সময় 
শান্তি কর শান্তি কর শান্তি কর।

ব্রিজবেন
২২/০৮/২০২২
Poems

প্রকৃতি এবং ইচ্ছে

জানালার পাশে বসে প্রায় প্রতিদিন
কি যে দেখি ভাবি শুধু
এত অমলিন
কেন ঐ গাছটি: যে হলুদিয়া হয় 
শীতকাল এসে গেলে
দুটি পাখি হেসে গেলে 
এমন প্রনয়? 

বারান্দায় বসে থাকি কখনো সখনো
কি যে দেখি ভাবি শুধু
মিষ্টি মাখানো
কেন ঐ গাছগুলো? পাতাময় হয়
শীতকাল এসে গেলে 
সব পাতা ঝেড়ে ফেলে 
জারুলে জড়ায়?

ওরকম গাছ যদি 
আমি হয়ে উঠি
পারবো কি নিতে, আহ, 
এই প্রস্তুতি? 
জীবনের শীত হবে কাজের সময়
যা যাবার চলে যাবে
যা না হবার না হবে
আমি রব হাসি খুশি 
দুচোখের কোলে নেই সুখ অপচয়? 

আমি জানি, জানি
জীবনের শীত মানুষ সইতে পারে না
কষ্টের হিম-পাথর বইতে পারে না
বসন্ত প্রিয় তার রোদেলা বিকেল

তবু আমি চাই 

দুখের গভীর হিমে জীবনের শীতে
বিপরীত পথে হেঁটে বহুদূর যেতে
হয়ে উঠি সেই গাছ, সেই সব ফুল
যারা ছাড়ে হিম দিনে মুক্তি মুকুল।

৫/০৯/২০২২
Op-eds

আমার রিসার্চ আগ্রহ


আমার চেনা জানা অনেক বন্ধু, পরিজন, শুভাকাঙ্ক্ষী অনেকেই স্বপ্রনোদিতভাবে ধরে নেন যে আমার ব্রডার রিচার্স ফিল্ড ফেমিনিষ্ট স্টাটিজ। তারা আরো মনে করেন, এই ফিল্ড বলেই আমি তৃতীয় বিশ্বের হিজাব পরিহিতা মুসলিম মেয়ে হয়েও স্কলারশীপ পেয়েছি এবং সফলভাবে ডক্টরেট ডিগ্রি হাসিল করেছি। এই সূত্র ধরে অনেকে আবার আমার নারী বিষয়ক মূল্যবান (?) বক্তব্য জানতে চান। অনেকে আবার বলেই বসেন, ফেমিনিষ্ট স্টাটিজ একটি unfeasible ফিল্ড, বিশেষ করে বিশ্বাসী মুসলিম মেয়েদের জন্য। বাংলাদেশের ফেমিনিজমের সামাজিক এবং সাংস্কৃতিক দুরাবস্থা তাদের একথা বলার পেছনে একটি প্রচ্ছন্ন কারণ হিসেবে থাকে।


তাই অনেক দিন ধরে ভাবছিলাম আমার রিসার্চ আগ্রহ নিয়ে কিছু লিখবো। আমার অবস্থান এবং অবস্থা খোলাসা করবো, আমার শুভাকাঙ্ক্ষীদের জন্য। আমার রিসার্চ ফিল্ড হলো migration, culture and identity in literature ( South Asia, Bangladesh). আমি international and intra-national migration pattern এ বাংলাদেশের মানুষদের ভাষাগত, ভাবনাগত এবং সাংস্কৃতিক কি পরিবর্তন আসে বা আদৌ কোনো পরিবর্তন আসে কিনা কিংবা তাদের struggle গুলো কোথায় তা আমি দেখতে চাই সাহিত্যের মাঝে। সাহিত্য আমার কাছে একটি রিপ্রেজেন্টেশন। লেখকের ইনটেনশন এবং একটি গল্প কিভাবে মুসলিম migrant life প্রেজেন্ট করে তা আমি বুঝতে চেষ্টা করি। মুসলিম বলতে আমি একটি comprehensive but diverse range এর মানুষ বুঝি, যারা কিছু দিকে একি এবং নানা দিক থেকে ভিন্ন।


এই রিসার্চ আগ্রহে জেন্ডার বিষয়ক আলোচনা আসে। অবধারিতভাবে। কিন্তু আমি শুধু নারীদের নিয়ে নারী চরিত্র নিয়ে কাজ করিনা। আমি নারী এবং পুরুষ উভয়কেই নিয়ে কাজ করি, আর জানতে চাই তাদের জীবনের সমস্যা এবং সম্ভাবনা যখন তারা একদেশের সংস্কৃতি থেকে এসে অন্যদেশের অন্য সংস্কৃতিতে নিজেদের জায়গা করে নিতে চায়। যাকে আমি বলি, cultural placemaking. আমার এই রিসার্চ আগ্রহের একটা interesting দিক হচ্ছে, my constant search for a fair ground and point. আমার পরিচিত কেউ কেউ ফেমিনিজম নিয়ে কাজ করেন। এটা আশাপ্রদ। কিন্তু নারী অধিকার নিয়ে বলতে বলতে তাদের সবকিছুতে “নারীর চোখ দিয়ে দেখার” যে প্রবনতা তা তাদের একটি biased and parochial জায়গায় নিয়ে যায়। এটা একটা blind point. I want to save myself from that. আশ্চর্যজনক হলেও সত্যি, এমন কিছু মেন্টর পেয়েছি এখানে যারা নিজেরা ও এরকম একটা প্রপার প্লেস চান এবং তা নিয়ে কাজ করেন এবং রিসার্চ সাপোর্ট দিয়ে গেছেন।


Religion/faith/spirituality আমার রিসার্চ এর একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। যদিও পিএইচডির সল্প সময়ে এই বিষয় কিভাবে approach করবো সেটা নিয়ে আমার অনেক কনফিউশন ছিল। এর কারণ হচ্ছে, ধর্ম আর আধ্যাত্তিকতা নিয়ে আমার chaotic and restless national background. আমাদের জেনারেশন মনে হয় সবচেয়ে দুর্ভাগা যে তারা একটি বিবদমান কিন্তু চাকচিক্যময় রাজনৈতিক পরিবেশে বেড়ে উঠেছে। সেই কনফিউশন দূর হয়েছে আমার ইউ কিউর রিলিজিয়াস স্টাডিজ বিভাগে একবছর পড়ানোর মাধ্যমে। আমি আমার ফিল্ডে কাজ করার পাশাপাশি তিনটি রিলিজিয়াস কোর্স পড়িয়েছি, যা আমার culture and identity এবং former religion and spirituality জ্ঞানকে enrich and in-depth করেছে। যারা আমাকে এই সুযোগ দিয়েছেন তাদের কাছে আমি এজন্য শুকরিয়া।


আমার রিসার্চ এর আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো human agency (কর্তাসত্তা)। দেশে থাকতে এই কনসেপ্টটা আমি কখনো শুনিনি। কোন আলোচনায় আসেনি। আমার সুপারভাইজার জুলিয়ানা আমাকে এটার সাথে পরিচয় করিয়ে দেন এবং এটা নিয়ে পড়তে বসিয়ে দেন। পড়তে পড়তে অতি অদৃষ্টবাদী সমাজ হতে আগত আমি বুঝতে পারি, how understanding human agency is essential for humans and their society.


আমি খুব ক্ষুদ্র নগন্য মানুষ। আমার রিসার্চ দিয়ে মানুষ বা সমাজ পরিবর্তন করবো ভাবিনা কখনো। Who cares? একটি অবধারিত প্রশ্ন। তবে কিছু কথা কিছু ভাবনা কিছু লেখালেখি হয়তো সাহায্য বা আলোকিত করতে পারে কিছু মানুষকে যারা এইফিল্ড বা আমাকে কেয়ার করে। তবে একজন literary humanities এর মানুষ হিসেবে আমার রিসার্চ আসলে শুরু হয়েছে, know thyself ভাবনা থেকে। অনেকে অনেক কারণে রিসার্চ ডিগ্রি নেয়। আমি নিয়েছি আমাকে জানবো বলে, সেই আমি যে বাংলাদেশী, মুসলিম, নারী, কন্যা, স্ত্রী এবং মা। সেই আমি যে দুই দেশভাগেরো এক দশক পরে একটি স্বাধীন কিন্তু অস্হির অসহিষ্ণু সমাজে জন্ম নিয়ে এবং বেড়ে উঠে নিজেকে বারবার হারিয়ে ফেলেছি।


আমার রিসার্চ এর সার্থকতা আমি নিজেকে অনেকটুকু খুঁজে পেয়েছি। Now there is no bad faith (as Jean Paul Satre defined). THIS is the joy of doing a research, being a self-searching human in the world. যে নিজেকে পায় সে অবশ্যই তার স্রষ্টা এবং তার মানুষদেরও পায়। যে নিজেকে পায়না, সে সব হারায়। এটাই সত্যি।
৬ সেপ্টেম্বর ২০২২. টুঅং।

Poems

একবার চলে গেলে মাটি আর রাখে না মনে

বাঁধার নীল গন্ডি পেরিয়ে যারা রঙিন ভুবনে পা রাখে
তারাই ভুলে যায় 
তার অপেক্ষায় বসে আছে একটি ডানাভাঙা পাখি
সকাল হয় রাত হয় আবার সকাল আবার রাত
ইদের আমেজে ভেসে ওঠে বিদেশী জনপদ
বৈশাখী বাতাস বইতে থাকে 
নীলাঞ্জনা চরিত্রে অভিনয় করে যায় বিধস্ত নারী
ফেসবুকের ভার্চুয়াল পাতা ভরে ওঠে লেখায় লেখায়

তবু তারা ফিরে তাকায় না। 

ডানাহীন হাঁটতে হাঁটতে হাঁটতে
পাখিটি কোথায় যে যায়! 
ব্রিজবেনের অশীতিপর বৃদ্ধ রাস্তাটা বুঝতে পারেন না-- 
এই পথ দিয়ে হেঁটে গিয়েছিল কত মানুষ
টারবাল মানুষেরা উশকো খুশকো চুলে কাঁধে বয়ে নিয়ে বোঝা চলে গিয়েছিল 
এ পথে কোন এক শীতে। 
মাঠ শুকিয়ে হয়েছে পাথর মাটি হয়েছে অফসলী পেটের ক্ষুধা তাদের নিয়ে গিয়েছে কত দূর! 

ও পাখি! তুমিও কি?
যেওনা            চলে যেওনা

একবার চলে গেলে মাটি আর রাখে না মনে 
একবার নোঙর তুলে নিলে 
তার দাগ মুছে দেয় স্রোতের জল। 
একটি ফসল ফলে গেলে আরেকটি হাসতে থাকে একি মাটিতে
একটি প্রেমের মৃত্যু হলে জন্ম হয় আরেকটির।

এইভাবে বর্তমান নিয়ে বেঁচে থাকে মানুষ
বর্তমানের পুতুল হয়ে। 

ব্রিজবেনের বৃদ্ধ রাস্তাটা হাঁপিয়ে উঠে,
না, না, পাখি যেওনা
হাল ছেড়োনা
আরেকটু বস আরেকটু যুদ্ধ কর 
আরেকটু অধিকার করে নাও তোমার স্থান
আরেকটু ডানা ঝাপটাও। 

অই মানুষ হাসুক। ঐ প্রতিবেশী ঠোঁট বাঁকিয়ে তুলুক।
ফেসবুকে ট্রল কিংবা ড্রইংরুমের মুখরোচক গল্প
হোক সব হোক তবু তুমি
তোমার ন্যায্য অধিকার ফিরে পেতে
জেনে নিতে তুমি কে তুমি কি 
হয়ে ওঠো মাটি কামড়িয়ে পড়ে থাকা এক ছুঁচো।

উম্মে সালমা
২৪/০৭/২০২৩
Poems

একগাদা ভুল প্রশ্ন

কোথায় গিয়েছে তুমি
নিবেদিত প্রান?
অবিচল নিষ্ঠা
নিকোনো উঠান?
একগোছা মৃদু হাসি এক ফালি চান
উঠলে আকাশ জুড়ে সুখের বয়ান?

কোথায় হারায়ে গেছো?

সে নাকি তোমার খোঁজে এই…গতকাল
গিয়েছিল রাষ্ট্রের সিঁড়ি ভেঙে দূরে
সে নাকি খুলেছিল কর্পোরেট দরোজা
আলোচনা করেছিল মিডিয়াপুরে

তুমি নেই তুমি নেই তুমি নেই

আর যা আছে তা রোবোটিক পেশী
হৃদয়ের গভীরে আছে শুকনো বেতার
ধকধক জ্বলে ওঠে লোভের বিদ্যুতে
ভেঙে দেয় জিঘাংসায় প্রেমের সেতার?

কোথায় নিখোঁজ হলে?
একমুঠো রোদ
সত্য ধরে রাখা
নৈতিক বোধ?
মানুষ হয়ে ওঠা ঝরনার আলো
ছড়ালে জীবন জুড়ে অগুনতি ভালো?

ড. উম্মে সালমা
১১/০৭/২০২৩
টুঅং