Poems

মেয়েদের গল্প না কান্না!

এই নাও এইখানে দিই খুলে দিই 
এই দেখ আর নেই বন্ধ দুয়ার
তুমি আমি বহু কথা আজ বলবোই
ফুলে ফুলে উঠবে দেখো কথার জোয়ার।

এর পর হলো কি...এরপর এই...
শব্দরা থেমে যায়! গলা ঠিক করি
যত পারি স্হির হাত দুটো নাড়ি
সোজা হয়ে রিজু হয়ে একটুকু বসি 
যা কিছু করি আমি ঠিক ভেসে যাই !

এই ই হয়...
আমাদের গল্পে এত ব্যাথার বিনয়!

ঠিক ঠিক কান্নারা এসে যায় ঝেপে
যত ই বলনা তুমি কথাকলি মেপে
গলাটা কেঁপে যায় ঠোঁট দুটো বেঁকে 
চাহনিতে উদাসীন মেঘমালা ডেকে

কিছু মুখ আছে চেয়ে 
বুক কাঁপে সেই ভয়ে
কি করে গল্প বলি কষ্ট দিনের? 
নির্ভয়ে ঠোঁট খুলে
সত্যের ভাঁজ মেলে 
ইতিহাস হয়ে থাকা নষ্ট দিনের? 

মূল থেকে উপড়ে গিয়ে নতুন বাঁধনে 
কি চেয়েছি কি পেয়েছি হিসেব শ্রবনে
কি হবে? হবে টা কি?
নিজেকে যখন দেখি 
আয়নায় চোখ রাখি:
ভাবনার আগুন চাপা জ্বালাময়ী মন
অশ্রুর সাগরে ডোবা এক বিভীষণ।

বলতে হয়না ছি...কি লজ্জা
গল্প করবে? 
বিষয় থাকবে শুধু সাজ সজ্জা!

উম্মে সালমা
৪/৫/২০২৩

Poems

কখনো কখনো ভালোবাসা

কখনো কখনো জড়িয়ে রাখা যায়
কখনো বলা যায় ভালোবাসি ভালোবাসি
কখনো কখনো কায় ক্লেশ গুলো ভুলে 
দিয়ে ফেলা যায় 
চোখ...না,না, গালভরা এক হাসি

কখনো কখনো ভুলে যাওয়া যায় কি নেই
কি পাইনি হায় সংসারী হতে গিয়ে 
কখনো কখনো ভুলে যাওয়া যায় কি গেছে
জীবন জীবিকার চাকা ঘুরিয়ে ঘুরিয়ে । 

এই না?

একটুকু জীবন...টুক করে হয় শেষ
একটুকু জীবন ঘায়ে জমে কত পুঁজ
একটুকু জীবন! বঞ্চিতের আহাজারি
হাতিয়ে নেয়া অধিকারের অতিভূজ 

জানি আমি জানি
যেমন জানো তুমি...

তবুও 

কখনো না চেয়ে বসন্ত এসে গেলে
প্রেমের কবিতা লিখে দিয়ো একখান
ক্ষমা করো দিয়ো না-দেয়ার অপরাধ
রাগে মিশিয়ো প্রেমময় জাফরান । 

চারদিকে দেখ যুদ্ধ যুদ্ধ যুদ্ধ
চারদিকে,মানুষ:ক্ষুদ্ধ বিক্ষুব্ধ

এর মাঝে যদি মায়াময় ক্ষন আসে
চেখে দেখো তাকে জেনে নিয়ো তার স্বাদ
সে ক্ষণকাল হৃদয় ভরিয়ে দেবে
ভয় লাগে? বিশ্বাস নেই?? যদি হয় এক ফাঁদ?

আমার জানো না কি ভীষণ ক্লান্ত লাগে
যুদ্ধ যুদ্ধ খেলা দেখে দেখে আজ
সব কিছু নিয়ে এত বেশি টানাটানি
আঘাতের হাতে এত এত কারুকাজ।

এরি মাঝে যদি একদিন ভোর হয় 
একদিন আসে সোনামুখী এক চাঁদ,  
প্রতিদিনের রাগ একটানে মুছে দিয়ে
বেজার মুখে ছড়ালে আহ্লাদ? 

খুব কি ক্ষতি হয়?

বসে বসে তুমি ভাবছো এখন জানি
কেমনে হবে এত এত রাগ পানি ?
এত এত কথা ফুটেছে বুকের চুলায়
কি কঠিন রে,বাবা,মিশিয়ে দেয়া ধুলায়!

কি কঠিন বাব্বা ওর সাথে হাসাহাসি
যার সাথে বাস, যার সাথে ঘর 
আর সেখানেই? অভিযোগ রাশিরাশি।


০৫/০৫/২০২৩
টুওং

Poems

আজ আর কিছুতেই মন বসছে না

আজকে সত্যিই আর কিছুতে মন বসছে না
কয়েকটি শালিক এইতো কিছুক্ষণ হলো
বারান্দাটা ঘুরে গেলো
অতিরিক্ত রোদে শুকিয়ে যাওয়া মরিচ গাছগুলো
পানির ছোঁয়া পেয়েও পাতা এলিয়ে রাখলো
রোদ মরে গিয়ে একটা শীতার্ত সকাল পানসে হয়ে পড়ে রইলো।

এরকম মন না বসা দিন তোমার কি আসে?
তোমার কি মনে হয়
থাক আজ হাত পা না খুলি
নি:সাড় হয়ে পড়ে থাকি?
নাকি তুমি সদা তৎপর মানুষের মত
সকাল হতে দৌড়াতে দৌড়াতে
একথা সবসময় জানান দিয়ে যাওঃ
জীবন কর্মমুখর?

কি জানি এসব কথা আজ কেন বলছি ?
জীবনের দৌড়ে পিছিয়ে পড়া মানুষ আমি
তবু তোমাদের দেখলে ক্লান্ত লাগে।
আমার শুধু মনে হয় যে মনজিল আমার
সেখানে আমি পৌঁছে যাবোই
হয়ত একটু দেরি হবে।
হয়ত গেটের দারোয়ান আমাকে দেখে বলবে,
“আপা কি পিঁপড়ের গতিতে এসেছেন নাকি?”
আমি শুধু ভাবি জীবনকে অর্থপূর্ণ না করতে চাইলে
সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত দৌড়েও
আমরা আটকা পড়ে থাকবো
জুলকারনাইনের প্রাচীরে বন্দী হয়ে থাকা ইয়াজুজ মাজুজের মতো।

হয়তো এতক্ষণে তোমার রাগ হচ্ছে
মনে মনে হয়তো আমাকে কিছু অপছন্দনীয় উপাধিও দিয়ে দিয়েছ।
কিন্তু মন যদি গতি নিয়ন্ত্রণ করতে না পারে কি হয় বলো?
লন্ডভন্ড হয়ে যায় না জীবন
দুর্দান্ত দূর্ঘটনায়?

হাতের কাজ একটু রেখে
এসো না একটু চুপচাপ বসি আজ
আকাশের তাকিয়ে বলি, আহ কি অমায়িক!
সমুদ্রের দিকে তাকিয়ে বলি, কি গভীর ভালো!
বাতাসের স্পর্শ নিয়ে বলি, কি মায়াবী আপায়্যন!
তারপর হৃদপিন্ডের মেশিনে হাত রেখে চোখ বন্ধ করে ভাবি,
কি করে চলছে এই ধুকপুক‌ জীবন‌!

আজ না হয় আমার মতো তোমার হোক এক মন না বসা দিন।
তোমার হোক মোবাইলের টুইটার ফেলে
পাখিদের কলকাকলি শোনার দিন।

আমি সপ্নপারের মেয়ে
তোমায় দিকে হাত বাড়ালাম জীবন তরী বেয়ে।
আমি সপ্নপারের নারী
তোমার দিকে এগিয়ে দিলাম কলাপাতার শাড়ী। ভীষণ রকম উম, একলা দিনে জড়িয়ে রাখা বিকেল বেলার ঘুম। সকাল বেলার কথা। তোমার দৌড়ে একটু থামা নরম বিষণ্ণতা ।

২৩/২/২০২৩
টুঅং

Poems

My poems published in জলঘড়ি ১৯৯৮

খোয়াতে ভেজা ব্যথাতুর খোয়াব

টুপটাপ সারারাত কেটে গেছে চোখ মুছে
ঊহ! পাপড়ির তলে বিচ্ছেদের কঠিন খোয়াব। 

রোদ পোহাতে পোহাতে ধানকাটা বিচালী ছিঁড়েছি কত
খালের কোমল কাদায় পা দাবিয়ে পায়ের মজা
মাছরাঙার কমলা বুকে ভালোবাসার বিখারা
খোলাঝাক পিঠেতে রাব মিশিয়ে খাওয়া 

চলে যাবোঃ 
ফেলে এক নির্মিত কালভারট
এপারে আমি এক নাগুরে হাসি
ওপারে চরের ধুলোয় ধুসরিত হৃদয়। 
চলে যেতে হবে বিস্তৃতির করতল ছুয়ে--
সিঁড়ি ভাঙ্গা, বই, নোট, রিকশার হাওয়া,
নেক্রপোলিশ দালানের সুর। 

ফিচেল সময় একদিন ফিনফিনে স্মৃতির শাড়ী
পরাবে গ্রাম্য ঢঙ্গে আমাকে, 
আমি হবো এক ব্যথাতুর খোয়াব
সুখ-দুখের ফিরিস্তি। 

Written and published in 1998.
Poems

আমার বুকে হাতটি চেপে রাখি

আমার বুকে হাতটি চেপে ধরে
আমি ধরে রাখি
দুঃখগুলো সব
যাদের কলরব
যাদের উৎসব
আমার চোখের জল।

এমন কেন হয়?
ঘরের মায়া ঠাসাঠাসি এমন বিস্ময়
ভুলিয়ে দেয় রাগারাগী ঝগড়া ফ্যাসাদ
অতুল অভিনয়।

আমার চোখে হাতটি চেপে ধরে
ধরে রাখি
কান্নাগুলো সব
যাদের পরব
যাদের বৈভব
যাদের সৌরভ
আমার মুখের নীল উৎপল।

১৬/০২/২০২৩
Poems

The Lees of Pains

I can't wash away the pain
That piles at the bottom of joys

Daily life shakes them abruptly
And then they surface and 
get mixed up 
with eating, working, chatting and love time
And stealthily wet the eyes and bite the heart.

I enjoyed the days at home, at my own place
I devoured and drank every morsel of happiness
Isn't that enough?
Why do I need to remember them, 
regurgitate them like a resting cow? 
Oh!
Can I be an Artificial Intelligence 
that produces things without remembering? 
Can I be a tabula Rasa each time I meet the present,
the ever-fleeting time?

16/02/2023
Bengali version

ব্যথার তলানী 

আমি সরাতে পারিনা ব্যথার তলানী 
যা প্রতিটি আনন্দের নীচে জমা হয়ে যায়। 

নিত্যদিনের রুটিন বাঁধা কাজে 
হঠাত তারা ভেসে উঠে 
আর মিশে মিশে যায় কাজ, খাবার,
গল্প আর ভালোবাসার সময়ে 
এবং চোখদুটো ভিজিয়ে তোলে আর হৃদয় কামড়ায়।

যে কয়দিন দেশের বাড়িতে ছিলাম, ছিলাম নিজ ঠিকানায়
খুব ভালো ছিলাম, আনন্দে ছিলাম
এটাই কি যথেষ্ট নয়? 
কেন যা গেছে তাকে মনে করতে হবে, জাবর কাটতে হবে?
ওহ!
আমি কি একটি আরটিফিসিয়াল ইন্টেলিজেন্স হতে পারিনা 
যে না মনে রেখে শুধু নতুন তথ্য দিতে  থাকে?
আমি হতে পারিনা এক টেবুলা রাসা 
যখনি দেখা হয় সবসময় উড়তে থাকা বর্তমানের সাথে?

২২/০২/২০২৩
টুওং
Poems

অন্তরজালে রক্তপাত

১২/১২/২০২২

তুমি পোস্ট দিয়েছিলে
আমি মন্তব্য করেছিলাম
তারপর শুরু হল এক নিরন্তর যুদ্ধ ।

আমাদের মাঝে।

তুমি লিখছ
আমি লিখছি
সে লিখছে
তিনি লিখছেন
তারা লিখছে

একেকটা কমেন্ট ছেদ করে যাচ্ছে সময় স্থানের বর্ম
শেল হয়ে বিঁধে যাচ্ছে প্রতিপক্ষের বুকে
গোলাবারুদ হয়ে ভেঙ্গে দিচ্ছে সব শান্তি স্বস্তি সম্পর্ক
রক্তে লাল হয়ে উঠছে অন্তরজাল জড়িয়ে থাকা আমাদের হৃদয়।

এই যুদ্ধে ঢাল তলোয়ার নেই
নেই গানপাওডার, রিভলভার, কামান
কিংবা অত্যাধুনিক ড্রন বিমান।

একিলিস কিংবা তিতুমিরের সময়ের মতো
আমি তোমাকে দেখিনা, না তুমি আমাকে
আমার সূর্য যখন অস্ত যাচ্ছে দারুন বৃষ্টিতে
তুমি দুপুরের খাবার খাবে বলে টিফিন বক্স খুলছ

আর যুদ্ধ করছ আমার সাথে
একটি সাইবার মাঠে
একটি ইলেক্ট্রনিক কিবোর্ডে
পাল্টাপাল্টি কথা আর ইমোজির প্রতিস্থাপনে

নিরন্তর

প্রতিটি প্রত্তুত্তরে তোমার মুখে আঁচড়ে পরে বাকা হাসি
আমার হাতে উড়ে বিজয়ীর পতাকা
পারস্পারিক আঘাত করার নেশা
আমাদের একটু একটু করে মাতাল করে দেয়।

এরপর  

আমরা একে অন্যকে আর খুঁজে পাইনা
নিঃশব্দে আনফ্রেন্ড করে কিংবা
ব্লক লিস্টে পাঠিয়ে দিয়ে
খুঁজতে থাকি এক ছলনাময় শান্তি।

===x====
Poems

মাইগ্রেশন এবং ভালোবাসা

আমার জন্য তুমি পাগল ছিলে
একথা যেমন সত্য
তেমনি সত্য হলো
আমার প্রতি ছিলো তোমার প্রচন্ড অবিশ্বাস।
এই পাগলামী আর অবিশ্বাসের মাঝে দাঁড়িয়ে
আমরা বহুবছর পার করে দিলাম।

এরপর কি যে হলো আমাদের
আমরা সিদ্ধান্ত নিলাম দেশ পরিবর্তনের
না রেমিট্যান্স যোদ্ধা হয়ে নয়।
উচ্চাভিলাসী শিক্ষার স্বপ্নে বুঁদ হয়ে।
ইমেইলের স্তূপ মাথায় নিয়ে
অচেনা বন্দরের করিডোরের পর করিডোর পেরিয়ে যখন দেখলাম এক প্রকান্ড প্লেন আমাদের জন্য দাঁড়িয়ে
একপাল অশ্রু নিয়েও
আমরা অবোধ শিশুর মত হাসতে শুরু করলাম।
মনে আছে?
সেই হাসি আকাশসীমা পেরিয়ে
নতুন এক ভূমি পর্যন্ত পৌঁছে গেল।
স্টেডিয়ামের ফ্লাড লাইটের মত
সবকিছু ভাসিয়ে দিলো।

প্রবাস এমন এক তীব্র অপরিচিত যে
সে চেনা অচেনার ছলনা সারিয়ে
আমাদের খুব পরিচিত করে দিলো।

৬/১২/২০২২