Salma's Poems

একটি স্বার্থপর, অমানুষের পদ্য

পুলিশ ভ্যান থেকে ময়লা আবর্জনার মতো
জীবন্ত তোমাকে ফেলে দিয়ে ফেলে গেলো যেদিন
জেনে নিও
সেদিন আমি আমার খোলস ছেড়ে বেরিয়ে এলাম
একটা চকচকে খোলস যা আমার টুঁটি চেপে ধরেছিল
যা আমার সামনে তুলে ধরেছিল একটি রেশমের পর্দা
আমাকে করেছিল একটি ভয়ার্ত ছুঁচো ।

বিশ্বাস করো ভাই,
যেদিন পুলিশ ভ্যান থেকে তোমার মতো
জীবন্ত যৌবনকে ক্ষত বিক্ষত করে করে
ব্যবহৃত স্লাইমের মতো ছুঁড়ে ফেলে দিয়েছিল
আমি কিন্তু একটু কাঁদিনি।
আমি শুধু আমার চারপাশের লেপামোছা দেয়াল দুহাতে ভেঙে চিৎকার করে বলেছিলাম
কি হবে এই জীবন দিয়ে যদি তাকে অমানুষ হয়ে বাঁচতে হয়
যদি তা স্বার্থপরতা অমানবিকতা আর দাসত্বের শৃঙ্খলে থাকতে হয়?
যদি দুনিয়ার মোহে সত্যকে পায়ে ঠেলতে হয়!
বলতে হয়, “আমার ভয় লাগে!”

সূর্যোদয় হয় আমাদের রাতে
চাঁদের আলোয় ভেসে যায় উইনামের দারুন তীর
ইন্টারনেট ইলেকট্রিসিটি সর্পিল বাঁকে বাঁকে বইতে থাকে অদৃশ্য নদীর মতো।
কিন্তু ভাই, তোমার ওপাশে একটি ব্লাক আউট
আঁকড়ে ধরে রাখে হাহাকারের হৃদয়।
আমরা দেখতে পাইনা তুমি কি করে হয়ে উঠলে
তোমার মাটিতে সম্ভাবনার বদলে একটা প্রচন্ড আক্রোশের শরীর?

বিশ্বাস করো ভাই
তোমাদের অন্ধকার অন্ধকারে মৃত্যু আমাকে অপরাধী করে তোলে প্রতিদিন প্রতিটি সকালে
আমি প্রার্থনার রহস্যে মোড়ানো বিকালে
তোমাদের আত্মত্যাগী হাতে আমার হৃদয় সমর্পণ করি
আর
পাগলের মতো নিজেকে বলি,
হে বাকশক্তি, হে মানুষ নামের কলঙ্ক,
“কথা ক”।

উম্মে সালমা
৩৩ জুলাই ২০২৪
“শেখ আসহাবুল ইয়ামিন তোমাকে ভুলি না।”

Salma's Poems

জুলাই দুই হাজার চব্বিশ এবং আমাদের নতুন শব্দ

এলোপাথাড়ি
শব্দটা আমার ডিকশনারিতে ছিলো
কখনো ব্যবহার করিনি
গোটা জীবন ভর
এলোপাথাড়ি কিছু ঘটেছিল কি?
বোধহয় না।
যা কিছু ঘটেছিল
কখনো বলেছি সব এলোমেলো
কখনো সব উল্টাপাল্টা
কখনো সব হিজিবিজি
কখনো সব অগোছালো

অথচ এই শব্দটি এখন আমার পিছ ছাড়ে না।
জুলাই আটারো দুই হাজার চব্বিশের পর হতে
যেদিন এলোপাথাড়ি গুলি শুরু হয়
লোকারণ্য গলিতে লোকারণ্য রাজপথে
লোকারণ্য জনবসতির ঢাকায়

ঢাকা
ঐ যে সেই শহরটা
যার নাম ছিল জাহাঙ্গীরনগর
যে ১৯৪৭ এ আগলে ধরেছিল মাইগ্রেন্টদের
সেই… সেই শহরটা
যাকে আমরা পৃথিবীর অন্যতম দূষিত নগরী বলি।
যার নদীগুলো ময়লা পানি আয়রনের মতো লাল
যার বুক চিরে জেলখানার কয়েদীর মতো
রিমান্ডের রশিতে নিত্য ঝুলে থাকে অনেক গুলো ফ্লাইওভার
যেখানে সারি সারি রেস্টুরেন্ট‌ খেতে এসে চিৎকার করতে হয় জীবনের জন্য
যেখানে মেট্রোরেল নামের এক প্রেমিক আছে যার দুঃখের গানে অশ্রু ঝরে কত স্বৈরাচারী চোখে

সেই শহরটায়
এলোপাথাড়ি কুপিয়ে কুপিয়ে জখম করা শহরটায়
এলোপাথাড়ি গুলি
ছররা গুলি ওরা বলে
হেলিকপ্টার থেকে
ট্যাংক থেকে
মানুষের মতো দেখতে একধরণের জন্তুর হাতে থাকা
মরনাস্র হতে।
এই গুলি কাউকে মানে না
বন্ধুর গুলিবিদ্ধ শরীর টানতে থাকা শরীরটাকে খেদিয়ে দেয়
আর জীবন্মৃত মানুষের শরীর হাসতে হাসতে
সেঁধিয়ে দেয়…

কাউকে মারতে এত “মুই কি হনুরে” চেহারা কখনো দেখিনি
কখনো দেখিনি এক উম্মুক্ত পৈশাচিকতা চোখে মুখে শরীরের ভাঁজে ভাঁজে খাঁজে খাঁজে
কখনো দেখিনি কাবিলকে
তার চোখে মুখে ও কি এইসব এইভাবে লেখা ছিল জনশূন্য পৃথিবীতে?

জানিনা জানিনা
শুধু জানি
এই এলোপাথাড়ি মৃত্যু
হানা দিয়েছিল
বারান্দা ছাদ রাস্তায়
সব এক নিমিষেই হয়ে উঠেছিল মরণফাঁদ।

আর তখন
এলোপাথাড়ি এলোপাথাড়ি এলোপাথাড়ি
শব্দটা স্ক্রল করতে করতে
আমার আমাদের মাথায় জায়গা করে নিলো
আর আমাদের
শান্ত শিষ্ট মেয়েটিকে করে তুললো প্রতিবাদী
রাজনীতি না বোঝা গৃহিণীকে বের করে আনলো মিছিলে
মমতাময়ী মাকে বললো ছেলেকে পিঠ চাপড়ে দিতে
সাহসী বোনকে বললো ট্রাকের পথ আগলে দিতে
বন্ধুদের বললো সীসা ঢালা প্রাচীরের মতো সব বাধা ভেঙে শুরু করতে এক শ্রমসাধ্য রক্তমাখা লংমার্চ…
লোকে যেন তাকে বিপ্লব ই বলে। বিপ্লব ই তার নাম।

উম্মে সালমা
২৮/০৭/২০২৪

Salma's Poems

দি পার্সোনাল ইজ পলিটিক্যাল


একটা দিন
নেপথ্যে এসেছিল
চকবাজারের অন্ধ গলিটায়
মজলুম আমাকে দুমড়েমুচড়ে ছুড়ে মেরেছিল তারা
সেই দালানটার সিঁড়ি তে
অতর্কিতে
আমি দৌড়াতে দৌড়াতে দৌড়াতে
ষোল শহরের ট্রেন ধরেছিলাম
আর বাঁধভাঙা কেঁদেছিলাম।

বাদাম ওয়ালা মামা বলেছিলো
ক্যান কান্দেন?
ফোনের ওপারে জামাই উৎকণ্ঠিত স্বরে বলেছিলো
কি হয়েছে? কন্ঠ এমন কেন?
প্রতিদিনের সহযাত্রী কাঁধে হাত রেখে বলেছিলো,
আজ দিনটা তোমার অন্যরকম।

এরপর থেকে কত রাত আমি ঘুমাতে পারিনি
জুলুমের প্রতিটি শব্দ মিথ্যের প্রতিটি বুলেট
আমাকে আমার ভেতরটা কুরে কুরে যেতো
কোন ওষুধ কোন সিরাপে আমার ব্যথা যন্ত্রণা
সারাতো না।
আমি লম্বা লম্বা পা ফেলে তাদের ছায়া এড়িয়ে যেতাম

আর জায়নামাজে পড়ে পড়ে কাঁদতে কাঁদতে বলতাম,
প্রভু, তুমি আমাকে এত নীচ কেন বানালে
আমি অপমান দুঃখ কষ্ট ভুলতে পারিনা?
প্রভু, কেন আমাকে একটা মেয়ে মানুষ বানালে
যার মাথার ওপরে দুটো মাথা ছোবলাছুবলি করে
কে কত নতজানু নিপীড়িত করতে পারে আমাকে?
প্রভু, কেন তুমি আমাকে এত মায়া দিলে
যা করি যা যা করি যা যা কাজ করি তার জন্য?

রুপালী রাতে নক্ষত্র ঝরে যায়
বহদ্দারহাটের সদরে বাদুড়ের মতো
ঝুলতে থাকে শূন্যতা
আর বাড়তে থাকে মজলুমের সংখ্যা
কান্নার রোল
একদিন প্রতিবাদের ঝড় উঠবে বলে।
একদিন জুলুমের বিচার হবে বলে।

উম্মে সালমা
৭/১২/২০২৪

Salma's Poems

যখন ফানুস ফুটে যায়

বিপরীত চেনা যায়
কালো/সাদা, আলো/অন্ধকার
বিরোধ চেনা যায়
ঘৃণা দুরত্ব অবহেলা
রাজনীতি চেনা যায়
তর্ক বিতর্ক পছন্দ অপছন্দ

কিন্তু মুনাফিক? মুখে মধু অন্তরে বিষ?
কিভাবে চেনা যায়
কিভাবে বোঝা যায়
চকচকে খোলসের ভেতর এক গাঢ় অন্ধকার?
এই একবাটি সততার সাথে এক টেবিল চামচ লোভ?
অথবা একবাটি লোভের সাথে এক চামচ সততা
এক চামচ মিথ্যা এক চিমটি মানবতা এক খন্ড চাটুকারিতা কয়েকটি ষড়যন্ত্র?
দেখতে খুব সুস্বাদু খুব ইয়ামি আর খেতে ইয়াক?

জীবনের চলন্ত ট্রেনে
তুমি এসব প্রশ্নে
কি নিদারুন চুপচাপ থাকলে বহুদিন
তুমি এসব প্রশ্নে
সময়ের অপচয় বলে জানান দিলে অগুনতি সময়

যতক্ষণ না
এক ধূলোউড়া দিনে
আমি ঘরে ফিরলাম
ক্ষতবিক্ষত পিঠ আর রক্তাক্ত কষ্টার্ত হৃদয় নিয়ে
আর তোমার হাতে সোপর্দ করলাম
আমার অজ্ঞানতার অন্ধকার!

“জানি আমি জানি জানি চোরাবালি কতখানি…”

উম্মে সালমা
৮/০৭/২০২৪

Salma's Poems

মধ্যরাতের ব্রিসবেন নদীটির তীরে

চুপচাপ বসে থাকি অন্ধকারে ব্রিজবেন নদীটার কাছে
চুপচাপ শুনি শুধু জলের শব্দ
সর সর সর সর
এ জীবনের কলরব
এ জীবনের লেনা দেনা ব্যাথার উৎসব
কবে হবে শেষ?
শান্ত অশেষ?
কবে আমি পাড়ি দেবো অসীমের পথে
হাতে নিয়ে ভরপুর কিছু
যেন সে না ফেরায় আমারে খুব ভালোবেসে।

চুপচাপ বসে থাকি ব্রিসবেন নদীটির পাশে
এখন মধ্য রাত
জীবনানন্দের পঞ্চমীর চাঁদ নেই মাথার উপরে
অসংখ্য তারারা শুধু জ্বল জ্বল করে
অসংখ্য নক্ষত্র শুধু একা একা সরে সরে আসে
এই সুন্দর এই অসাধারণ আলো আর আলো
এক নজরে যেন মনটা কেমন জুড়ালো

আহা, এই গভীর রাতে
এই তীব্র শীতে
উড়ে যাক যতসব অপ্রয়োজনীয় শংকা
বসে বসে শুধু শুধু ভাবি
এই হাতে কে দেবে স্বপ্নের চাবি

রক্তাক্ত জুলাই শেষে আশা-নিরাশার সেপ্টেম্বরে

এরপর শুধু
নীরব মাঠের পথে হেঁটে যাবো আলোক প্রতিভু।

উম্মে সালমা
১০/০৯/২০২৪

Salma's Poems

জন জিজ্ঞাসা জন জীঘাংসা

আমাদের বুক যখন ক্ষত বিক্ষত হতো
প্রতিদিন প্রতিটি মূহুর্ত
তোমাদের চোখে মুখে জাগতো এক পরম তৃপ্তি
আমাদের চোখগুলো যখন কাঁদতে কাঁদতে
কিংবা মান অপমানের ভয়ে কান্না শুকোতে শুকোতে
দেহের মৃদু কাঁপুনিতে জমা হতো
তোমাদের চলতো অভিসারের আনন্দ উপভোগ
আমাদের কষ্টগুলো যখন চাপতে গিয়েও অনুরণিত হতো চকবাজার কিংবা চট্টগ্রামের কোন যানজট ওয়ালা মোড়ে
দিনটা তোমাদের সুন্দর যেতো।

আমরা কি মানুষ ছিলাম?
আমাদের কি দোষ ছাড়া কোন গুন ছিলো?
আমাদের কি অপমানের ভয় ছাড়া কোন ভাষা ছিলো?
আমাদের কি ফাসাদের দৃশ্য ছাড়া আর কিছু দেখার ছিল?
আর এইসব প্রশ্নের উত্তর হীন পৃথিবীতে থাকতে থাকতে আমাদের কি ভাবতে হতো
আমরা জন্ম ই নিয়েছিলাম
পিষ্ঠ হবো বলে পদাধীকার শক্তির রোলার কোস্টারে?

বিশ্বাস কর নীলা
সেদিনের রাত ও ছিলো আজকের মতো শীতার্ত
কুয়াশায় ঘিরে রেখেছিল সারাটা গ্রাম
বাংলাদেশের কোন পুকুর ধারে লেবুর তলে সেদিনো
থোকায় থোকায় জ্বলছিল একঝাঁক জোনাক

কিন্তু কেউ দেখছিলো না
আলো নয় মিছে শত্রুতার আগুনে
জ্বলতে জ্বলতে কিছু জোনাক কি অঙার হয়ে উঠছে
কেউ বলছিলো না একগ্লাস যমযম পানি দিয়ে ধুয়ে দিই
তাদের প্রভূত অপমান দুঃখ কষ্ট যন্ত্রণা
কেউ বলছিলো না এ পৃথিবীতে ন্যায়ের পক্ষে কথা বলা প্রতিটি মানুষের কর্তব্য
তোমরা অসৎ কাজে নিষেধ করো
দয়া করে..

আজকের পট পরিবর্তন
জুলুম
মজলুম
মব জাষ্টিস
ন্যায়বিচার
এই শব্দগুলোর পুনঃ পুনঃ প্রকাশ এবং উচ্চারণ
তাই আমাকে অবাক করে

আমি বুঝতে পারি না
এতদিন আমরা কোথায় ছিলাম?
এতদিন কোন অদৃশ্য নদী আমাদের ভেতরের
সব ন্যায় বোধ ভাটির টানে সরিয়ে নিয়ে গিয়েছিলো?
কোথায় ছিল কোনটি প্রতিশোধ আর কোনটা ন্যায়বিচার এই সাংস্কৃতিক চর্চা?

নীলা বল
আজ তুমি আঘাত প্রাপ্ত মানুষদের ক্ষোভ কি করে ব্যখ্যা করবে ?
কি করে তাদের প্রতি হোয়া প্রতিটি অন্যায় অবিচারের সুবিচার করবে?
তাদের বলবে এখানে সীমারেখা টেনে দিলাম
থেমে যাও?

প্রিয় বন্ধু আমার,
সন্ধ্যা গড়িয়ে পড়ছে
চায়ের কাপে জমছে তর্কের বিষন্নতা
কনডেন্সড মিল্কের মতো থিতু হচ্ছেনা দুঃখ
ঠিক এই সময়ে বলো বলে যাও
কেমন করে আমরা
ক্ষমার আর উদারতার বয়ান করি?
কেমন করে বয়ে বেড়াই
শতাব্দীর বড্ড কঠিন বড্ড অমীমাংসিত প্রশ্নদের?

উম্মে সালমা
১৩/১০/২০২৪

Reflections

“মব” শব্দটির সমস্যা কোথায়?

অনেকেরই ধারণা যা চলছে তা হলো “মবের মুলুক”।

আসলেই কি তাই?

ইংরেজি “মব” (mob) একটি abstract ধারণা। দেশের কিছু জনগণ একসাথে হলেই তাকে মব বলা হয়।‌ এই অবস্থায় সব ধরনের মানুষের ব্যাক্তিগত পরিচয় বিলুপ্ত হয়ে যায় অথবা আড়ালে চলে যায়। কেউ বুঝতে পারে না যারা জড়ো হয়েছে তারা কে কোন মনের-ধ্যানের, কে কোন আইডোলজির, কে কোন ধর্মের, কে কোন রাজনৈতিক দলের, কে কোন লিঙের, কে কোন প্রফেশনের, কে কোন জেলার, কে কোন উদ্দেশ্যের।‌ সবাইকে একসাথে মিশিয়ে এক কাতারে নিয়ে ফেলে তাদের মোরাল প্রবলেম মাপা হয়।

আজকের বাংলাদেশে যাদের এই মুলুকের “রাজা” বা ” ক্ষমতাধর” ভাবা হচ্ছে তারা কি এসব পরিচয় থেকে মুক্ত? গত ১৬ বছরে কি একজন সাধারণ মানুষও ছিল যাদের রাজনৈতিক পরিচয় এবং দল ছিল না, ইনক্লুডিং নিপীড়িত নির্যাতিত দলগুলের মানুষ? একদিকে মজলুমের যন্ত্রণা কান্না রক্ত মৃত্যু দেখেছি আর অন্যদিকে দেখেছি সবচেয়ে গোবেচারা সবচেয়ে নিরীহ সবচেয়ে শান্তিপ্রিয় মানুষদেরও মিনমিন করে হাসিনা পূজো করতে।‌ ইঁদুরের গর্তের ইঁদুরও স্বৈরাচারের দূরতম যোগসাজশ সফট সমর্থক হয়ে উঠেছিল। সেই সময়ে আমি কাউকে কাউকে প্রশ্ন ও করেছিলাম, “আপনিও? উনিও? কিন্তু কেন?”

তো এই অবস্থায় “মব” কে কালারলেস ( colorless) বানানো কি আসলেই যুক্তিযুক্ত? এর মানে এই কথা বলা না যে, সব ধরণের মানুষ সম্মিলিতভাবে অপরাধ করতে প্রস্তুত এবং করছে? এবং এর ভেতর আমি আপনি সে তুমি সবাই আছ? বাংলাদেশের সবাই শুধু বাচ্চা, বৃদ্ধ, অসুস্থ মানুষ ছাড়া?

তাই “মব” শব্দটা শুনে আমি চমকে উঠি। আমি এই ভাষা নিতে পারি না। এটা শুনলে প্রথম যে প্রশ্ন আমাকে ধাক্কা দেয় এবং যা আমি আমাকে করি, তা হলো, “আমি কি এমন যে মানুষকে এমনি এমনি আঘাত করতে কিংবা মারতে পারি?” এরপর আমি নিজেই এর উত্তর দিই, “না, আমি পারিনা। কারণ আমি কখনো এরকম অন্যায় করা দূরে থাক, অন্যায় হবে ভাবলেই ভয়ে কেঁপে উঠি। হায় হায় করি। কষ্ট পাই। আমি এভাবে প্রোগ্রামাড না!”

আমি বলবো, যারা মবের মুলুক বলে জপ করছেন, এই একি প্রশ্ন আপনি নিজেকে করুন। তখনই বুঝতে পারবেন, আপনি ঐ “মব” শব্দ বা দলের কিনা যারা ভয়ানক সব কাজ করছে। এখানে ওখানে। যদি আপনি ঐ অপরাধী কাজ করতে পারা দলের হন ভিন্ন কথা! আর যদি এই দলের না হন, তখনি আপনার যে প্রশ্ন মনে আসবে আমি শিওর, “তাহলে এসব অরাজকতা কে করছে? কে বার বার তাদের হাত রক্তে রঞ্জিত করছে? কারা আগুন নিয়ে খেলতে থাকে? কাদের এত রাগ? এত ঘৃণা, এত হঠকারিতা?”

স্বাগতম, অপরাধ এবং অপরাধী সনাক্ত করার প্রথম স্তরে আপনি পৌঁছেছেন।‌
আর এসব প্রশ্নের মাধ্যমে আপনি বুঝতে পারবেন, অপরাধীরা “মব” নয়, “মব” থাকে না। তাদের রঙ, আইডোলজি, দল, মোটিভ, এবং প্রফেশন আছে। তাদের নিজস্ব স্টেক আছে তাদের কাজকর্মের জন্য। আর এই চিহ্নিতকরণ হলো বিচারের পথ উন্মুক্ত হোয়া।অপরাধ ব্যক্তিগত দায় থেকে শুরু হয় এবং এর শাস্তিও ব্যক্তিকে ব্যক্তিগতভাবে ভোগ করতে হয়।‌

একটা ঘটনা বলি বেশ কয়েকদিন আগে, বাংলাদেশী এক স্টুডেন্ট অষ্ট্রেলিয়ায় একটি আইনি ঝামেলায় পড়ে যায়। সে যেখানে কাজ করতো সেই রেস্টুরেন্টে নিজের হেডম দেখাতে গিয়ে বাংলাদেশে তার স্কুল কলেজের সহপাঠীদের সাথে কি কি করতো তার এক সহকর্মীকে বলে। তার কাজের ফিরিস্তি শুনে এ দেশী ছেলেটি খুব ভয় পেয়ে যায়। সে ম্যানেজারের কাছে সব বলে এবং ম্যানেজার পুলিশ কে জানায়, বাংলাদেশের এক অপরাধী এখানে চলে এসেছে। তখন পুলিশ তাকে গ্রেফতার করে।

এই ঘটনা পড়ে আমি খুব খুব অবাক হয়েছিলাম। কেন জানেন? আমাদের ইয়াং জেনারেশনকে গত ১৬ বছর কিংবা তারোও আগে ক্রাইমের সাথে অভ্যস্ত করে তোলা ছিল শাসকদের একটা গুরুত্বপূর্ণ কাজ। একপর্যায়ে তারা ভুলে গেছে অপরাধ কোনটা? কোনটাতে হেডম দেখাতে হয়! দলীয় সরকারের অধীনে দলের রাজনীতিতে ন্যায় অন্যায়ের যে নূন্যতম সংজ্ঞা এবং সেনস সেসব তাদের কাছ থেকে কেড়ে নেয়া হয়েছিল। এজন্য “এই মার এই ধর” বললে একদল না জেনে না শুনে ঝাপায়ে পড়ে এবং অপরাধ করতে পিছপা হয় না।

এরা “মব” না। এরা বিশেষ কেউ। এদের অবশ্যই রঙ আছে। তাই মব বলে বলে আমি অপরাধীদের রঙহীন করতে পারিনা। বিচারের পথ ধোঁয়াশা এবং বন্ধ করতে পারিনা। তাই এখন যা চলছে, তা গভীরভাবে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত কর্মকাণ্ড। দুঃখজনক হলেও সত্যি।

উম্মে সালমা
২১/০৯/২০২৪

Salma's Poems

আমাদের ভালো থাকা

ভালোবাসা গুলো একটু একটু করে ক্ষয়ে ক্ষয়ে যায় দুশ্চিন্তার আড়ালে
কেউ বলে না
“ম্যারি ম্যারি হোল্ড অন টাইট।”
কেউ বলে না
“হাল ধরে থাকো” ।

তোমার আমার ভালো থাকা
সুখের সময়ে
খুব একটা কি ঝক্কির?
তখনতো ছোট্ট একটি ঘাসফুলের মাড়ানোর স্পর্ধা
কিংবা একটা বাটি তরকারি গরমে নষ্ট হোয়া
কিছু ম্যাটার করেনা।‌
জাকারানডার বেগুনি বেগুনি রশ্মির মতো
প্রাপ্তি আর প্রাপ্তির জৌলুসে
ছেয়ে থাকা যায় বিমুগ্ধ ডিজিটাল রাত দিন…

কিন্তু
ব্যর্থতার ঘন্টা গুলো
নতমুখে না না না না না
নিয়ে বার বার বিফলে যাওয়া প্রতিটি মূহুর্ত?
ভালো থাকা আড়ালে ক্ষয়ে ক্ষয়ে যায়
একসময় সামনে দিয়ে হাতি চলে আমরা
কি ভীষণ রিএক্ট করি
পেছন দিয়ে একটা পিঁপড়া হেঁটে গেল বলে

কাঁচের চুড়ি
সোনালী চশমা
কাউবয় হ্যাট
অসহায়ের মতো পড়ে থাকে
আমাদের সহমর্মিতার হাত তাদের উঠিয়ে নিয়ে বলে না
“সিজ দ্যা ডে” ।

উম্মে সালমা
২৯/০৯/২০২৪

Salma's Poems

বেঁচে আছি বেঁচে থেকে

এখনো আকাশের দিকে তাকাতে মন চায়
কাত করে মাথাটাকে
সবুজ একটি মাত্র গাছ দেখতে মন চায়
ভালোলাগে বিনষ্ট হলুদে এখনো হলুদ হয়ে যাইনি ভেবে।
খুব দ্রুত চলে যায় পার হয়ে একে একে
অন্য আরো রিকশা, গাড়ি, বোঝাই ভ্যান...।
কিভাবে যে কুলকুল করে শুনতে পাই
বুকের নাব্য নদীর মোহনার সুর
সবাই সান্ত্বনা দেয় --জটিল জীবন পেয়েও
সহজ সুখের ধ্যান করো না!
পৃথিবী সহজ চোখে দেখি
তবুও মিষ্টির দোকানের প্যাঁচানো মিষ্টান্নটি
কিংবা পত্রিকার পাতার জড়ানো রেখাটানা মেইজ সে
অথবা নীড়ের পাখির কাছে হঠাৎ মধ্যরাতে ঝড়।


উম্মে সালমা
২১/০৯/১৯৯৮
oplus_32

Reflections

একটি কবিতা, মূরের শেষ দীর্ঘশ্বাস এবং কিছু কথা

The Last Sigh of the Moor

Theophile Gautier

The cavalier who hastes the height to gain,
Pale and with trembling knees,
Is Boabdil, king of the Moors of Spain,
Who could have died, yet flees.
To Spaniards now Granada is restored,
Crescent doth yield to cross,
By Boabdil, with tears not blood deplored,
Is his dear city’s loss.
Upon a rock, Sigh of the Moor, they call,
Boabdil sat, and cast
On far Granada and Alhambra’s wall
A long look and the last.
“There I was caliph yesterday,
Lived like a very god below;
The Generalife wooed my stay,
And then the Alhambra’s blazing glow.
Clear, floating baths were mine, and there
Sultanas, my three hundred fair,
Bathed, all secure from impious stare.
My name on all the world cast fear.
Alas! my power is now brought low,
My valiant army flies the foe, —
With none to follow me I go,
Save my own shadow, ever near.
Dissolve, dissolve in tears, my eyes!
Up from my armor heave the steel,
Ye deep heart-sighs that now arise!
He conquers to whom Christians kneel!
I go; adieu, fair sky of Spain,
Darro, Jenil, the verdant plain,
The snowy peaks with rosy stain;
Farewell, Granada! loves, adieu!
Sunny Alhambra, vermeil towers,
Fresh gardens filled with wondrous flowers,
In vigils and in dreaming hours,
Absent, I still shall look on you!”

[The Last Sigh of the Moor, or in Spanish, El último suspiro del Moro, is the pass over the Sierra Nevada where Boabdil, the defeated Moorish King of Granada, turned for his last glimpse of his lost realm.]

উপরের কবিতা যতবার পড়েছি ততবার কেমন যেন খুব খুব কষ্ট লেগেছে। গ্রানাডার পতনের পর তার শেষ রাজা আবু আবদিল্লাহ মুহাম্মদ XII যিনি বোয়াবডিল নামে পরিচিত ছিলেন তার প্রিয় প্রাসাদ “আলহামবরা” বা লাল মাটির বাড়ি ছেড়ে চলে যাচ্ছেন। তিনি মরে যেতে পারতেন। কিন্তু না। তিনি পালিয়ে যাচ্ছেন। স্পেন এখন স্পেনিয়াডদের। ক্রুশের কাছে চাঁদের পতন হয়েছে।

বোয়াবডিলের পাহাড়ে চড়তে তার খুব কষ্ট হচ্ছে। তার চেহারা মলিন। চলে যেতে পাহাড়ের চূড়ায় বানানো অত্যাধুনিক কমপ্লেক্স যা সূর্যের আলোয় লাল হলুদ বর্ণ ধারণ করছে তার দিকে তাকাচ্ছেন। সাথে কেউ নেই। নেই পরিবারের সদস্যরা নেই সৈন্য সামন্ত। পরাজয়ের গ্লানি তাকে কুরে কুরে খাচ্ছে… তিনি ভাবতে পারছেন না এই আলহামবরাকে এই সৌন্দর্য এই বাগান এই টাওয়ার তিনি কিভাবে ভুলবেন? পারবেন না… যেখানে যাবেন তার মন থাকবে এখানে… “Absent, I still shall look on you.” আহা!

কিন্তু কবিতা পড়তে পড়তে ওরিয়েন্টালিজমের গন্ধ পাই। তিনি চলে যাচ্ছেন আর নাকি ভাবছেন, আমি গতকালও এই প্রাসাদে দুনিয়ার “প্রভু” হিসেবে শাসন করেছি। আমার তিনশত সুন্দরী সুলতানাদের খারাপ নজর থেকে রক্ষা করেছি, সেই সুলতানাদের যারা এই “ভাসমান বাথরুমে”(floating baths) গোসল করতো। সিরিয়াসলি? এই যে মুসলিম শাসকরা নিজেদের প্রভু মনে করতো কিংবা তাদের সেক্সুয়াল প্রফলিগেছি এটাই ছিল Orientalist প্রোপাগান্ডা। এই প্রোপাগান্ডা চালিয়ে এরা ব্রিটিশ ইম্পেরিয়াল শাসন পাকাপোক্ত করেছে এবং দীর্ঘসময় এই পৃথিবীতে self/ other binary সৃষ্টি করেছে, যা এখনো শেষ হয়ে যায়নি।

আবার অপর দিকে ভাবি, কেন এই ক্রুসেডার ক্রিশ্চিয়ানরা মুসলিমদের এত কাছ থেকে দেখার পরো ইসলামে যে শাসক প্রভু হয় না এটা বুঝতে পারেনি? কেন নারীদের দিয়ে বেষ্টিত দেখিয়ে তাদের মোরালিটি খুব প্রশ্নবোধক করে রেখেছে? এটা কি বুঝের অভাব? না পলিটিক্স এবং ন্যারেটিভ নির্মাণ? নাকি মুসলিমরা তখন আমাদের মতো নামসর্বস্ব মুসলিম ছিলো। তাদের দেখে ইসলাম বোঝার উপায় ছিলো না? ইসলামী রাজ্য শাসনের মূলনীতি কি করে বুঝবে?

দি এজ অফ এম্পায়ার আসলেই খুব ইন্টারেস্টিং। দ্বন্দ্ব যুদ্ধ জয় পরাজয় প্রাসাদ দখল টাওয়ারে আটকে রেখে শাস্তি অথবা নির্বাসন…এ যেন আরেক পৃথিবী।

উম্মে সালমা
২৮/০৫/২০২৪