Op-eds

“মব” শব্দটির সমস্যা কোথায়?

অনেকেরই ধারণা যা চলছে তা হলো “মবের মুলুক”।

আসলেই কি তাই?

ইংরেজি “মব” (mob) একটি abstract ধারণা। দেশের কিছু জনগণ একসাথে হলেই তাকে মব বলা হয়।‌ এই অবস্থায় সব ধরনের মানুষের ব্যাক্তিগত পরিচয় বিলুপ্ত হয়ে যায় অথবা আড়ালে চলে যায়। কেউ বুঝতে পারে না যারা জড়ো হয়েছে তারা কে কোন মনের-ধ্যানের, কে কোন আইডোলজির, কে কোন ধর্মের, কে কোন রাজনৈতিক দলের, কে কোন লিঙের, কে কোন প্রফেশনের, কে কোন জেলার, কে কোন উদ্দেশ্যের।‌ সবাইকে একসাথে মিশিয়ে এক কাতারে নিয়ে ফেলে তাদের মোরাল প্রবলেম মাপা হয়।

আজকের বাংলাদেশে যাদের এই মুলুকের “রাজা” বা ” ক্ষমতাধর” ভাবা হচ্ছে তারা কি এসব পরিচয় থেকে মুক্ত? গত ১৬ বছরে কি একজন সাধারণ মানুষও ছিল যাদের রাজনৈতিক পরিচয় এবং দল ছিল না, ইনক্লুডিং নিপীড়িত নির্যাতিত দলগুলের মানুষ? একদিকে মজলুমের যন্ত্রণা কান্না রক্ত মৃত্যু দেখেছি আর অন্যদিকে দেখেছি সবচেয়ে গোবেচারা সবচেয়ে নিরীহ সবচেয়ে শান্তিপ্রিয় মানুষদেরও মিনমিন করে হাসিনা পূজো করতে।‌ ইঁদুরের গর্তের ইঁদুরও স্বৈরাচারের দূরতম যোগসাজশ সফট সমর্থক হয়ে উঠেছিল। সেই সময়ে আমি কাউকে কাউকে প্রশ্ন ও করেছিলাম, “আপনিও? উনিও? কিন্তু কেন?”

তো এই অবস্থায় “মব” কে কালারলেস ( colorless) বানানো কি আসলেই যুক্তিযুক্ত? এর মানে এই কথা বলা না যে, সব ধরণের মানুষ সম্মিলিতভাবে অপরাধ করতে প্রস্তুত এবং করছে? এবং এর ভেতর আমি আপনি সে তুমি সবাই আছ? বাংলাদেশের সবাই শুধু বাচ্চা, বৃদ্ধ, অসুস্থ মানুষ ছাড়া?

তাই “মব” শব্দটা শুনে আমি চমকে উঠি। আমি এই ভাষা নিতে পারি না। এটা শুনলে প্রথম যে প্রশ্ন আমাকে ধাক্কা দেয় এবং যা আমি আমাকে করি, তা হলো, “আমি কি এমন যে মানুষকে এমনি এমনি আঘাত করতে কিংবা মারতে পারি?” এরপর আমি নিজেই এর উত্তর দিই, “না, আমি পারিনা। কারণ আমি কখনো এরকম অন্যায় করা দূরে থাক, অন্যায় হবে ভাবলেই ভয়ে কেঁপে উঠি। হায় হায় করি। কষ্ট পাই। আমি এভাবে প্রোগ্রামাড না!”

আমি বলবো, যারা মবের মুলুক বলে জপ করছেন, এই একি প্রশ্ন আপনি নিজেকে করুন। তখনই বুঝতে পারবেন, আপনি ঐ “মব” শব্দ বা দলের কিনা যারা ভয়ানক সব কাজ করছে। এখানে ওখানে। যদি আপনি ঐ অপরাধী কাজ করতে পারা দলের হন ভিন্ন কথা! আর যদি এই দলের না হন, তখনি আপনার যে প্রশ্ন মনে আসবে আমি শিওর, “তাহলে এসব অরাজকতা কে করছে? কে বার বার তাদের হাত রক্তে রঞ্জিত করছে? কারা আগুন নিয়ে খেলতে থাকে? কাদের এত রাগ? এত ঘৃণা, এত হঠকারিতা?”

স্বাগতম, অপরাধ এবং অপরাধী সনাক্ত করার প্রথম স্তরে আপনি পৌঁছেছেন।‌
আর এসব প্রশ্নের মাধ্যমে আপনি বুঝতে পারবেন, অপরাধীরা “মব” নয়, “মব” থাকে না। তাদের রঙ, আইডোলজি, দল, মোটিভ, এবং প্রফেশন আছে। তাদের নিজস্ব স্টেক আছে তাদের কাজকর্মের জন্য। আর এই চিহ্নিতকরণ হলো বিচারের পথ উন্মুক্ত হোয়া।অপরাধ ব্যক্তিগত দায় থেকে শুরু হয় এবং এর শাস্তিও ব্যক্তিকে ব্যক্তিগতভাবে ভোগ করতে হয়।‌

একটা ঘটনা বলি বেশ কয়েকদিন আগে, বাংলাদেশী এক স্টুডেন্ট অষ্ট্রেলিয়ায় একটি আইনি ঝামেলায় পড়ে যায়। সে যেখানে কাজ করতো সেই রেস্টুরেন্টে নিজের হেডম দেখাতে গিয়ে বাংলাদেশে তার স্কুল কলেজের সহপাঠীদের সাথে কি কি করতো তার এক সহকর্মীকে বলে। তার কাজের ফিরিস্তি শুনে এ দেশী ছেলেটি খুব ভয় পেয়ে যায়। সে ম্যানেজারের কাছে সব বলে এবং ম্যানেজার পুলিশ কে জানায়, বাংলাদেশের এক অপরাধী এখানে চলে এসেছে। তখন পুলিশ তাকে গ্রেফতার করে।

এই ঘটনা পড়ে আমি খুব খুব অবাক হয়েছিলাম। কেন জানেন? আমাদের ইয়াং জেনারেশনকে গত ১৬ বছর কিংবা তারোও আগে ক্রাইমের সাথে অভ্যস্ত করে তোলা ছিল শাসকদের একটা গুরুত্বপূর্ণ কাজ। একপর্যায়ে তারা ভুলে গেছে অপরাধ কোনটা? কোনটাতে হেডম দেখাতে হয়! দলীয় সরকারের অধীনে দলের রাজনীতিতে ন্যায় অন্যায়ের যে নূন্যতম সংজ্ঞা এবং সেনস সেসব তাদের কাছ থেকে কেড়ে নেয়া হয়েছিল। এজন্য “এই মার এই ধর” বললে একদল না জেনে না শুনে ঝাপায়ে পড়ে এবং অপরাধ করতে পিছপা হয় না।

এরা “মব” না। এরা বিশেষ কেউ। এদের অবশ্যই রঙ আছে। তাই মব বলে বলে আমি অপরাধীদের রঙহীন করতে পারিনা। বিচারের পথ ধোঁয়াশা এবং বন্ধ করতে পারিনা। তাই এখন যা চলছে, তা গভীরভাবে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত কর্মকাণ্ড। দুঃখজনক হলেও সত্যি।

উম্মে সালমা
২১/০৯/২০২৪

Poems

আমাদের ভালো থাকা

ভালোবাসা গুলো একটু একটু করে ক্ষয়ে ক্ষয়ে যায় দুশ্চিন্তার আড়ালে
কেউ বলে না
“ম্যারি ম্যারি হোল্ড অন টাইট।”
কেউ বলে না
“হাল ধরে থাকো” ।

তোমার আমার ভালো থাকা
সুখের সময়ে
খুব একটা কি ঝক্কির?
তখনতো ছোট্ট একটি ঘাসফুলের মাড়ানোর স্পর্ধা
কিংবা একটা বাটি তরকারি গরমে নষ্ট হোয়া
কিছু ম্যাটার করেনা।‌
জাকারানডার বেগুনি বেগুনি রশ্মির মতো
প্রাপ্তি আর প্রাপ্তির জৌলুসে
ছেয়ে থাকা যায় বিমুগ্ধ ডিজিটাল রাত দিন…

কিন্তু
ব্যর্থতার ঘন্টা গুলো
নতমুখে না না না না না
নিয়ে বার বার বিফলে যাওয়া প্রতিটি মূহুর্ত?
ভালো থাকা আড়ালে ক্ষয়ে ক্ষয়ে যায়
একসময় সামনে দিয়ে হাতি চলে আমরা
কি ভীষণ রিএক্ট করি
পেছন দিয়ে একটা পিঁপড়া হেঁটে গেল বলে

কাঁচের চুড়ি
সোনালী চশমা
কাউবয় হ্যাট
অসহায়ের মতো পড়ে থাকে
আমাদের সহমর্মিতার হাত তাদের উঠিয়ে নিয়ে বলে না
“সিজ দ্যা ডে” ।

উম্মে সালমা
২৯/০৯/২০২৪

Poems

বেঁচে আছি বেঁচে থেকে

এখনো আকাশের দিকে তাকাতে মন চায়
কাত করে মাথাটাকে
সবুজ একটি মাত্র গাছ দেখতে মন চায়
ভালোলাগে বিনষ্ট হলুদে এখনো হলুদ হয়ে যাইনি ভেবে।
খুব দ্রুত চলে যায় পার হয়ে একে একে
অন্য আরো রিকশা, গাড়ি, বোঝাই ভ্যান...।
কিভাবে যে কুলকুল করে শুনতে পাই
বুকের নাব্য নদীর মোহনার সুর
সবাই সান্ত্বনা দেয় --জটিল জীবন পেয়েও
সহজ সুখের ধ্যান করো না!
পৃথিবী সহজ চোখে দেখি
তবুও মিষ্টির দোকানের প্যাঁচানো মিষ্টান্নটি
কিংবা পত্রিকার পাতার জড়ানো রেখাটানা মেইজ সে
অথবা নীড়ের পাখির কাছে হঠাৎ মধ্যরাতে ঝড়।


উম্মে সালমা
২১/০৯/১৯৯৮
oplus_32

Op-eds

একটি কবিতা, মূরের শেষ দীর্ঘশ্বাস এবং কিছু কথা

The Last Sigh of the Moor

Theophile Gautier

The cavalier who hastes the height to gain,
Pale and with trembling knees,
Is Boabdil, king of the Moors of Spain,
Who could have died, yet flees.
To Spaniards now Granada is restored,
Crescent doth yield to cross,
By Boabdil, with tears not blood deplored,
Is his dear city’s loss.
Upon a rock, Sigh of the Moor, they call,
Boabdil sat, and cast
On far Granada and Alhambra’s wall
A long look and the last.
“There I was caliph yesterday,
Lived like a very god below;
The Generalife wooed my stay,
And then the Alhambra’s blazing glow.
Clear, floating baths were mine, and there
Sultanas, my three hundred fair,
Bathed, all secure from impious stare.
My name on all the world cast fear.
Alas! my power is now brought low,
My valiant army flies the foe, —
With none to follow me I go,
Save my own shadow, ever near.
Dissolve, dissolve in tears, my eyes!
Up from my armor heave the steel,
Ye deep heart-sighs that now arise!
He conquers to whom Christians kneel!
I go; adieu, fair sky of Spain,
Darro, Jenil, the verdant plain,
The snowy peaks with rosy stain;
Farewell, Granada! loves, adieu!
Sunny Alhambra, vermeil towers,
Fresh gardens filled with wondrous flowers,
In vigils and in dreaming hours,
Absent, I still shall look on you!”

[The Last Sigh of the Moor, or in Spanish, El último suspiro del Moro, is the pass over the Sierra Nevada where Boabdil, the defeated Moorish King of Granada, turned for his last glimpse of his lost realm.]

উপরের কবিতা যতবার পড়েছি ততবার কেমন যেন খুব খুব কষ্ট লেগেছে। গ্রানাডার পতনের পর তার শেষ রাজা আবু আবদিল্লাহ মুহাম্মদ XII যিনি বোয়াবডিল নামে পরিচিত ছিলেন তার প্রিয় প্রাসাদ “আলহামবরা” বা লাল মাটির বাড়ি ছেড়ে চলে যাচ্ছেন। তিনি মরে যেতে পারতেন। কিন্তু না। তিনি পালিয়ে যাচ্ছেন। স্পেন এখন স্পেনিয়াডদের। ক্রুশের কাছে চাঁদের পতন হয়েছে।

বোয়াবডিলের পাহাড়ে চড়তে তার খুব কষ্ট হচ্ছে। তার চেহারা মলিন। চলে যেতে পাহাড়ের চূড়ায় বানানো অত্যাধুনিক কমপ্লেক্স যা সূর্যের আলোয় লাল হলুদ বর্ণ ধারণ করছে তার দিকে তাকাচ্ছেন। সাথে কেউ নেই। নেই পরিবারের সদস্যরা নেই সৈন্য সামন্ত। পরাজয়ের গ্লানি তাকে কুরে কুরে খাচ্ছে… তিনি ভাবতে পারছেন না এই আলহামবরাকে এই সৌন্দর্য এই বাগান এই টাওয়ার তিনি কিভাবে ভুলবেন? পারবেন না… যেখানে যাবেন তার মন থাকবে এখানে… “Absent, I still shall look on you.” আহা!

কিন্তু কবিতা পড়তে পড়তে ওরিয়েন্টালিজমের গন্ধ পাই। তিনি চলে যাচ্ছেন আর নাকি ভাবছেন, আমি গতকালও এই প্রাসাদে দুনিয়ার “প্রভু” হিসেবে শাসন করেছি। আমার তিনশত সুন্দরী সুলতানাদের খারাপ নজর থেকে রক্ষা করেছি, সেই সুলতানাদের যারা এই “ভাসমান বাথরুমে”(floating baths) গোসল করতো। সিরিয়াসলি? এই যে মুসলিম শাসকরা নিজেদের প্রভু মনে করতো কিংবা তাদের সেক্সুয়াল প্রফলিগেছি এটাই ছিল Orientalist প্রোপাগান্ডা। এই প্রোপাগান্ডা চালিয়ে এরা ব্রিটিশ ইম্পেরিয়াল শাসন পাকাপোক্ত করেছে এবং দীর্ঘসময় এই পৃথিবীতে self/ other binary সৃষ্টি করেছে, যা এখনো শেষ হয়ে যায়নি।

আবার অপর দিকে ভাবি, কেন এই ক্রুসেডার ক্রিশ্চিয়ানরা মুসলিমদের এত কাছ থেকে দেখার পরো ইসলামে যে শাসক প্রভু হয় না এটা বুঝতে পারেনি? কেন নারীদের দিয়ে বেষ্টিত দেখিয়ে তাদের মোরালিটি খুব প্রশ্নবোধক করে রেখেছে? এটা কি বুঝের অভাব? না পলিটিক্স এবং ন্যারেটিভ নির্মাণ? নাকি মুসলিমরা তখন আমাদের মতো নামসর্বস্ব মুসলিম ছিলো। তাদের দেখে ইসলাম বোঝার উপায় ছিলো না? ইসলামী রাজ্য শাসনের মূলনীতি কি করে বুঝবে?

দি এজ অফ এম্পায়ার আসলেই খুব ইন্টারেস্টিং। দ্বন্দ্ব যুদ্ধ জয় পরাজয় প্রাসাদ দখল টাওয়ারে আটকে রেখে শাস্তি অথবা নির্বাসন…এ যেন আরেক পৃথিবী।

উম্মে সালমা
২৮/০৫/২০২৪

Op-eds

বিবর্তনবাদ তত্ত্ব কি বলে? জর্জ এলিয়ট কিভাবে তা সাহিত্যে এনেছেন?

চার্লস ডারউইনের নাম কেনা জানে! বিশ্বাসী অবিশ্বাসী সবার কাছে নামটি এত পরিচিত যে, সেই বুদ্ধি বুঝের কাল থেকে দেখে আসছি, থেয়িষ্টরা এই নামটা শুনলেই আঁতকে উঠে এবং এথেয়েষ্টিরা যাষ্ট পুজো করে আর ওর বিবর্তনবাদ ( theory of evolution) নিয়ে রীতিমতো তাদের অপোনেন্টদের ঘায়েল করে। ইংরেজি সাহিত্যের সমালোচনা (criticism) এবং এর সাথে সম্পৃক্ত লাইফ ফিলোসফি পড়তে গিয়ে প্রায়ই একটা তথ্য ক্রিটিক্যাল পারস্পেকটিভ হয়ে চলে আসতো, “What about the human history and culture if a monkey/ ape stands in the entrance of its existence? এথেয়িষ্টরা তৃপ্তির ঢেঁকুর তুলে, যাক বিজ্ঞান পাওয়া গেল ধর্মকে রিপ্লেস করতে। আর থেয়িষ্টরা কি বলবো! এই বিষয়ে কথা বলতেই নারাজ। পাছে বিশ্বাস ভেঙ্গে পড়ে। অনেকেই দেখেছি বেচারা ডারউইনকে তুলোধুনো করে।

এত কথা কেন বলছি জানেন? ঠিক গতকাল রাতে The Origin of Species সম্পর্কে জেনে ঠিক নিজেকেই জিজ্ঞেস করলাম, “আচ্ছা এই বইটি ঠিক কজন পড়েছে?” আদৌ কি পড়েছে? গতকাল ভিক্টোরিয়ান সাহিত্যের গবেষক এবং শিক্ষক ড মেলিসা ডিকসনের একটা লেকচার শুনছিলাম George Eliot এর The Mill on the Floss এর উপর। এই লেখিকা কিভাবে তার সময়কার বিজ্ঞান, বিশ্বাস আর মানবিক সম্পর্ক কে ভিক্টোরিয়ান সাইন্সের আলোকে দেখেছেন সেটা বোঝাতে গিয়ে তিনি ডারউইনের বিবর্তনবাদ তত্ত্ব ডিবাংক করেছেন এবং দেখিয়েছেন যেটা এই লোক বলেননি বা আদৌ তার রিসার্চের বিষয় ছিলো না তা তার উপর কিভাবে চাপানো হয়েছে। যা করেছে হারবার্ট স্পেনসার তার Social Darwinism তত্ত্বের আবিষ্কার করে। আর এই “Social Darwinism” দিয়েই ব্রিটিশ ইম্পেরিয়াল এবং কলোনীয়াল মাষ্টাররা race ladder এবং race theory তৈরি করে আমাদের মতো এখনো নতজানু ( still enslaved) জাতি তৈরি এবং শাসন করেছে।

এই শোনার পর থেকেই আমার ঘুম নেই। আমি খুব এক্সাইটেড, আচ্ছা, theory of evolution কি বলে? এ সপ্তাহে George Eliot পড়াবো, আমার না জেনে ক্লাসে যাওয়া ঠিক হবে না। ঘাটতে ঘাটতে যা পেলাম, theory of evolution যেটা প্রাণীদের উপর রিসার্চ করে দেয়া হয়েছিল সেটার দুটি হাইপোথিসিস আছে,

১. Struggle for existence: the competition that ensues among each species ( he did not include human beings) on Earth to maintain themselves in a given environment, to survive and to reproduce of their kind

২. Natural selection: the principal by which, within the struggle for existence, certain types and species thrive and others perish

এই দুটি হাইপোথিসিস তাকে নিয়ে যায় আরেকটি আইডিয়াতে যেখানে তিনি দেখেছেন এই পৃথিবীকে ‘ a tangled bank” হিসেবে যেখানে সব গাছপালা পশুপাখি একটা ইন্টারডেপেনডেন্ট সম্পর্কে জড়িয়ে আছে এবং একটি অলিখিত সিষ্টেম অনুযায়ী চলছে।

তো এখানে বিবর্তনবাদ তত্ত্ব কি শেখায়? কোন supreme intelligence নেই? Supreme being নেই? বা God নেই? God is dead? এই লেখক নিজেও এথিষ্ট ছিলে না। তিনি Christianity র মানুষ কেন্দ্রীয় একচেটিয়া চিন্তা কে প্রশ্ন করেছেন এবং দেখিয়েছেন যে মানুষ নামক এই প্রানী কুল মাখলুকাতের সবার মধ্যে একটি মাত্র প্রানী। স্বাভাবিক বারবার নিজেদের সুবিধার জন্য পরিবর্তন করা একটি কিতাবের ধারক বাহকেরা কেমনে সেটা মেনে নেবে? তাদের এতদিনের ক্ষমতা প্রতিপত্তি সব খতম হয়ে যাবে না? তাইতো তাকে অপছন্দ করার কারনো বহু এবং লুফে নেয়ার কারনো বহু। তার মধ্যে একটি হলো, রেঁনেসাকালীন God-centred মানব জাতির ধারনা থেকে Man-centred যুগের আবির্ভাব যেখানে সব সুন্দর including women হোয়াইট আলফা মেইলের ভোগ্যপন্যে পরিনত হয়। আর তার ঐতিহাসিক বাই প্রোডাকট হিসেবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ফেমিনিষ্ট মুভমেন্ট তৈরি হবে সেটা কি খুব অস্বাভাবিক?

জর্জ এলিয়ট তার Mill on the Floss এ ডারউইনের বিবর্তনবাদ তত্ত্ব নিয়ে একটি এক্সপেরিমেন্ট করেছেন। একদল ডিফরমড, বিউটিফুল, ব্লাক, এবং ক্যাপাবেল চরিত্র এনে তিনি দেখিয়েছেন বেঁচে থাকার লড়াই এ ন্যাচারাল সিলেকশন কাজ করলে কেউ survive করে, কেউ thrive করে, এবং কেউ ডাইভ করে। তো এ থেকে বাঁচার উপায় হলো মানুষের একে অপরের সাথে সম্পৃক্ততা এবং নির্ভরতাকে মূল্যায়ন করা এবং পড়ে যাওয়া মানুষকে ফেলে না দিয়ে তাদের পথ চলতে সহযোগিতা করা। জীবনের যুদ্ধ থাকবেই কিন্তু প্রকৃতির মতো জীবন হতে হবে “a tangled bank.” আর এটাই জর্জ এলিয়টের মোরাল ফিলোসফি।

উম্মে সালমা, ১৬/০৫/২০২৪

Poems

I remember my coffee on a rainy day

It's raining hard and heavy
Since morning
After stoning the whole night
It is now throwing arrows at a sliding soul.

I go to the kitchen
And take two pieces of bread
No lavishness today
A thin layer of butter will be able to cover
the rough surfaces of a hungry body and cranky mind.

'Butter'
What a nice word!
A white oily substance makes the dry dull bread creamy and edible
And when it adds to 'fly',
I seem to chase a flimsy beauty in the flower garden.
At childhood...

But the rainy day soaked my buttered bread
And dampened my dry heart
And stopped me from chasing
a dream, long-held
I see a big big big group of she he they you
buttering the right side of the bread
And I am falling down falling down falling down

Then, I remember my coffee,
a fuming potion in a Turrbalic cup.

Umme Salma
17/05/2023, UQ
first posted in "Salma's Silent Sounds"
https://www.facebook.com/your.ummesalma
The Way The Quran Reaches Me

একটি ব্যবসা: প্রতারণার, নির্বুদ্ধিতার আর ঠাট্টার?

সূরা বাকারা পড়তে গেলে কিছু আয়াতে সবসময় চোখ আটকে যায়। আয়াত গুলো হলো আট থেকে বিশ। যতবার পড়ি ততবারই মনে হয় এই উপমা আর রুপকতা মন্ডিত কথাগুলো সত্যি কি আমি বুঝি? উপমা নিয়ে রিসার্চ করা আমি বারবার ফিরে ফিরে যাই আয়াত গুলোতে। দেখতে চাই কি ভীষণ জীবন্ত সেই মেটাফোরিকেল ইমাজারি, চোখের সামনে ভেসে ওঠে আবার হারিয়ে যায়, মনে হয় এ দৃশ্য আমি কোনদিন দেখেনি বলেই কি এটা একসাথে ভয়, বিষাদ, আর হাহাকার তৈরি করে?

আয়াতগুলোর সরল অনুবাদ বা আরবী ভাষা জানা সবার কাছে অর্থ একেবারেই পরিস্কার। আলীফ লাম মীম ( মাদ দিয়ে টেনে পড়ুন) দিয়ে শুরু হয়ে দুই থেকে সাত নম্বর আয়াত পর্যন্ত কুরআনকে মানুষের সাথে পরিচয় করিয়ে দেয়া হয়েছে এবং বলা হয়েছে এই মানুষরা কি কি বৈশিষ্ট্য থাকলে মুত্তাকী হতে পারে। সেই সাথে বলা হয়েছে যে সব মানুষ এসব মেনে নিতে পারেনা, তাদের সাবধান করলে ও কিংবা না করলেও তারা মেনে নেবে না। বারবার নিজের অন্তরের গভীরে থাকা আল্লাহর অস্তিত্ব রেখে ঢেকে রাখার কারণে আল্লাহ একসময় তাদের মন এবং কানের যে বুঝক্ষমতা তা সিলগালা করে দিয়েছেন। তাদের চোখের উপর এখন একটি আবরন পড়ে গেছে । তারা আর কিছুই অনুধাবন করতে পারবেনা।

কিন্তু ম্যাজিকেল আয়াত গুলো তার পর পরই। আল্লাহ তারপরি দুই দল মানুষের কথা বলেছেন। তিনি তুলনা করছেন ঈমান এবং কুফরকে কে একটি ব্যবসা হিসেবে। ব্যবসা বাণিজ্য একটি লেনদেন লাভ ক্ষতিকে ঘিরে আবর্তিত। এই ব্যবসায় মানুষ যে পন্য দুটো কিনতে পারে বিক্রি করে মুনাফার জন্য সেগুলো হলো: হেদায়েত আর গোমরাহী। যারা আল্লাহ প্রথম সাত আয়াতে মুত্তাকীদের যে বৈশিষ্ট্য বর্ণনা করেছেন তা অস্বীকার করে তারা কিনে নেয় গোমরাহী। জীবনভর এই ব্যবসা বাণিজ্য করতেই থাকে। শেষ পর্যন্ত দেখে, হায়! তার ব্যবসায় মারাত্মক ক্ষতি আর ধ্বস।

সবচে ইন্টারেস্টিং যে বিষয় হলো এই মানুষরা আসলে কারা। তারা কি এমন করে যে তাদের ব্যবসা যে অলাভজনক হয়? এটা বুঝতে গিয়ে আমার চোখ আটকে যায় জন্য তিনটি শব্দের দিকে: প্রতারনা, নির্বুদ্ধিতা, আর ঠাট্টা। প্রতারনা কি? যা দেখি যা দেখায় তা যখন মিথ্যে হয় তখন তাকে প্রতারনা বলে। এসব মানুষ মুখে মুখে বলে তারা আল্লাহ যা যা বলেছেন সব বিশ্বাস করে। কিন্তু আসলে তা নয়। তাদের কাজ প্রমান করে তারা অন্যরকম। কিন্তু তারা স্বীকার করতে চায় না। জমিনের উপর সব ধরনের বিপর্যয় করতে থাকে আর জিজ্ঞেস করলে বলে, তারাতো সবার ভালো চায়। তারা জমিনকে শান্তিতে ভরিয়ে রাখতে চায়।

তারপর আরেকটা ধাপ অতিক্রম করে তাদের যদি বলা হয় ঈমান আনো। এরা নিজেদের বুদ্ধিমান বলে দাবি করে। আর ঈমানদারদের বলে নির্বোধ। আসলে বোকা বা নির্বোধ কে? যার বুদ্ধি কম। যারা বুঝে না। এরা ভাবে আরে আমরাতো বুদ্ধিমান, আমরা কেন এ কাজ করবো? যা দেখিনা তা বিশ্বাস করবো? নিজের টাকা থেকে অন্যের জন্য খরচ করবো? নো ওয়ে।

এর পরেরটা হলো, ঠাট্টা করা। উপহাস করা। এরা সময় সময় যখন ঈমানদারদের সাথে মেশে, বলে আমরা তোমাদের সাথে আছি। আবার যখন তাদের মতো লোকের সাথে বসে বলতে থাকে, ওদের সাথে তারা মজা করছে। তাদের চোখে মুখে থাকে আত্মতৃপ্তির আভা। তারা জোক আর মোক করতে পেরে হেসে লুটোপুটি খায়।

এই দৃশ্য যখন আমার মনের চোখ দেখে আমার বুক কাঁপে। আমি কি এদের মতো কেউ? নিজেকে খুব বুদ্ধিমতি ভাবি আর প্রতারণা করি ঠাট্টা করি সত্যের সাথে? এর অনূভুতি তীব্র হয় যখন উপমাতে এসে থেমে যাই। আমি দেখি, এক লোক আলো জ্বালছে। সে আলো জ্বালাতে কত কিছুর আয়োজন করলো। আলো ও জ্বলল। কিন্তু আলো দেখার আগেই তার চোখ অন্ধ হয়ে গেল। এখন চেরাগের বাতি হোক কিংবা ইলেকট্রনিক লাইট সে কিছুই দেখতে পায়না।

অথবা খুব ঝড় বৃষ্টির রাত। বিদ্যুত চমকাচ্ছে। এক লোক এর মধ্য দিয়ে পথ চলছে। বজ্রপাত আর বিদ্যুৎ চমক হলে সে এত ভয় পায় সাথে সাথে কানে আঙ্গুল দেয় এবং চোখ বুজে ফেলে। আবার যখন ওসব একটু থামে একটু আলো ঝলকানি দেয় সে একটু হাঁটে। তারপর আবার ভয় পায় এবং আবার থামে। আবার একটু চলে। আবার থামে। এই অবস্থায় যদি এমন হয় যে বিদ্যুৎ তার চোখের দৃষ্টি ছিনিয়ে নেয়, সে কি করবে?

আল্লাহ বলছেন, এই হলো এই অলাভজনক ব্যবসায়ে নিমজ্জিত লোকদের জীবন। এরা ভাবে আমার চোখ আমার মন আমার কান সবকিছু আমার। এরা ভাবে আমি যেমন চাই তেমনি আমার এই শরীর কন্ট্রোল করতে পারি। আমার জীবন নির্বাহ করতে পারি। আসলে কিন্তু তা নয়। অন্ধকার রাত কিংবা ঝড় বৃষ্টির রাতের মতো আমাদের এই জীবনে আল্লাহ সব কিছুর উপর ক্ষমতাবান। তিনি চাইলে আমাদের চোখের দ্যুতি নিয়ে নিতে পারেন আমাদের পথ থমকে দিতে পারেন আমাদের বুঝক্ষমতা কেড়ে নিতে পারেন।

কিন্তু তিনি গোমরাহীর বিজনেস ম্যাগনেটদের সাথে তৎক্ষণাৎ তা করছেন না। তিনি তাদের অবকাশ দিচ্ছেন। দেখছেন নিজেকে ধোঁকা দিয়ে নিজের সাথে ঠাট্টা করে শেষ পর্যন্ত এই মানুষেরা কোথায় গিয়ে পৌঁছায়। তাদের বিদ্রোহ তাদের কত দিন তাদের উদ্ভ্রান্ত করে রাখে।

এখানে এসে আমি আবার থমকে যাই। হে প্রভু!কেন সব মানুষকে তুমি হেদায়েতের ব্যবসা বাণিজ্য করতে দাও না? তখনি আমার চোখের সামনে ভেসে ওঠে মানুষের এজেন্সির আইডিয়া। মানুষের আছে ইচ্ছাশক্তি। আছে ইনটেনটেনশন, ডিসিসান নেবার এবং পছন্দ করার ক্ষমতা। যে এই ক্ষমতাকে কাজে লাগিয়ে গোমরাহীর ব্যবসা করছে, তাকে জোর করে হেদায়েতের ব্যবসা বাণিজ্যে লাগানো কি ইনজাষ্টিস নয়? ইচ্ছা স্বাধীনতার অবমূল্যায়ন নয়? ইনইকুয়ালিটি নয় ? ইনিকুইটি নয়? এটা কেমনে হয় একটা মানুষের কমলালেবুর চাহিদা নেই, আর আমি তাকে জোর করে কমলালেবু খাওয়াচ্ছি…

মানুষদের কুরআন একদম শুরুতে মানুষকে (আই রিপিট, মানুষ নামের প্রাণীটিকে, বিশ্বাসীদের না, মুসলিমদের না) ডাকছে। ডেকে ডেকে বলছে, “দেখো, তুমি চাইলে এরকম হতে পারো। চাইলে ওরকম হতে পারো। তুমি হলে গিয়ে ব্যবসায়ী। সিদ্ধান্ত নাও তোমার প্রভুর সাথে তুমি কি নিয়ে ব্যবসা বাণিজ্য করবে। কি পন্য কিনে তুমি তোমার জীবনের দোকান সাজাবে, জীবনের মার্কেটে কি দ্রব্য তুমি লেনদেন করবে? The choice is yours. You can use your full potential to do anything ( mocking, deciting, or priding). But keep in mind, Allah is in the rear.”

কুরআন আমাকে বলে, আপনাকেও কি? আসুন একটু ভাবি।

উম্মে সালমা, ১২/৩/২০২৪

Poems

যদি তুমি একবার সময় করতে পারো

এখনো তোমার গায়ে চাদর
শীত চলে গেছে সেই কবে
শীত চলে গিয়ে বসন্ত ও যায় যায়
একসাথে বসা এই আমাদের আর হবে?

আমাদের বসা
কবিতা চষা
সায়েরীর যত ধূন
আমাদের কথা
পদ্যের যাঁতা
অনূভুতি কি নতুন ।

শীত চলে গেছে সেই কবে
তবু চাদর কেন গায়
যে দিন গেছে ফিরছে না বলে
চাদরে মায়া লুকায়?

আহা! মায়া
কি দারুন এক শব্দ
রেশমী রেশমী ঝিলিমিলি পাতা
আলোচনা নিস্তব্দ।

সেরকম মায়া
চাদরে ঢেকো না
সেরকম ছায়া
মাড়িয়ে যেয়ো না

একদিন এসো বসি
জীবনের অর্থ কষি
একদিন হই সোনা উপকূলে
সুন্দর রাতের শশী।

একদিন যাই সৌর উপকূলে
একদিন করি কবিতায় সার্ফিং
একদিন বলি শব্দ হবে রুহ
নট নাথিং এনিথিং ।

উম্মে সালমা
০৪/০২/২০২৪

Poems

শেষ পর্যন্ত সক্রেটিস

কনিয়াম ম্যাকুলেটাম
একঝাঁক সফেদ ফুল এথেন্সের বাগানে।
লোকে বলে হেমলক।

তোমার জন্য বরাদ্দ করেছিল তারা সেই ফুল।
একটি স্বচ্ছ গ্লাসে তরলিত হয়ে তির তির দুলছিল তোমার জন্য
সেদিন সন্ধ্যায়
মৃত্যুর পরোয়ানা জারি হয়েছে।
একটি মাত্র চুমুক ব্যস!

কিন্তু তুমি তো খুব ব্যস্ত
আত্মীয় বন্ধুদের নিয়ে
এবং তারপর
বাঁশের বাঁশি নিয়ে
একটি সুর তুলছো বার বার
আবার আবার আবার
নতুন সুর
শিখতে হবে ই ।

"মৃত্যুর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে এ কোন পাগলামি?
কি হবে এই সুর শিখে ? কি লাভ?"
তুমি হেসে বললে,
"মত্যুর আগে কিছু একটা নতুন শিখে গেলাম, এটাই তো।"

জ্ঞানের দরজা সেদিন কি কেঁপে উঠেছিল ?
জানিনা।
শুধু জানি আমাদের সুন্দর সুরের চেয়ে
হেমলকের তৃষ্ণা বেড়েছে। আজকাল।

১৯/০২/২০২৪
Poems

যদি তুমি যদি তার কথা শোন, একবার

খুব খুব ইচ্ছে করে প্রতিদিন বলি
ভালোবাসার অনুপম অনুপম কথা
প্রতিদিন বলি এই মোবাইল এই গেজেটের জমকালো সব অনুষ্ঠানের ভিড়ে- আছে ঘুমিয়ে নরোম চড়ুই এর মতো-অনুভূতির এক মিষ্টি বারতা।

সকালের রোদ এলে পুঁই পাতারা কত মায়া নিয়ে দোলে; মনে হয় কত হাজার বছর গেলো তারপরও পৃথিবীর যাবতীয় সুন্দর বিহ্বল এ প্রকৃতিতে খোলে; সকাল হয় বিকাল হয় আকাশ সাদা হতে হতে লাল হয় নীল হয় সমুদ্রের ফেনার মতো বিমানের ডানাতে ডানাতে বাস্পের মতো কেমন উড়ে যায়

অথচ এসবের ভেতর দিয়ে টিকে থাকা
আমি যে মানুষ
প্রতিদিন বাস্তবতার আগুনে জ্বলে ভস্ম হয়ে যাই।
এ আমার এ আমাদের আমাদের প্রত্যেকের সংগ্রাম দুঃখ আর যন্ত্রণার কোন কুল নাই;
যে যেখানে আছি মূহুর্তে মূহুর্তে স্বপ্ন সাজাই
সেই স্বপ্নের খেসারত দিতে দিতে দিতে কদম ফুলের মতো কত কোমল পাপড়ি ঝরিয়ে
চলতে চলতে শীতের বিচালীর মতো
ধানের দিন চলে যাওয়া গল্পের বোঝাই।

প্রতিদিন ভালোবাসার গল্প প্রতিদিন খুনসুটি প্রতিদিন বিকেলের মরীচিকা মতো
আমারো ইচ্ছে করে শালিকের মতো ঘুমিয়ে থাকি এক নীড়ে; কোন চিন্তা নেই কোন কষ্ট নেই
নেই কোনো আনাগোনা আমার এই অব্যস্ত
আকাশের তীরে
ভালোবাসার এক গান বেহেশতী সুরের মতো
এত এত এত ভালো এত এত এত আলো
চারপাশে চারদিকে যদি ছড়িয়ে পড়ে। তার মাঝে ডুবে আমি ভুলে যাই কি পাবো কি হারাবো যতদিন বেঁচে আছি পৃথিবীর বিশ্রী বিভোরে।

উম্মে সালমা

(স্ট্রাকচার ভাঙচুর করে লেখা। কবিতা বোদ্ধাদের কমেন্ট চাই)