পবিত্রতার আলো দিয়ে গড়িয়ে দিলাম তোকে
অন্ধকারে ডাকতে চায় কোন সে
ভদ্দরলোকে?
রুপ যা আছে নষ্ট আর নষ্টামীতে ভরা
লোভ দেখিয়ে ঘরে আনে
প্রেম খেলার এক জ্বরা
উপর থেকে নীচতক বড্ড ভীষণ ক্ষুধা
সমাজ সংসার খেয়ে নেবে সাথে বসুন্ধরা
আর ওদিকে একটি দল এমন এমনতরো
সব দিয়ে দেয় নেক কাজে
দিতে চায় আরো
খুলবে যখন কাঠগড়া দাঁড়াবো যখন গিয়ে
বলবো প্রভু যে কেড়েছে আমার পৃথি
রঙিন রুপ দিয়ে
ফিরিয়ে দাও ওসব কিছু আমার সকল দেনা
বুঝুক আজ পঁচা মাংসের স্বাদ কেমন চেনা!
উম্মে সালমা
18 November 2024
Author: Umme Salma
একেক দিন মনে হয়
একটি শান্ত সকাল।
ইলশে গুঁড়ি বৃষ্টি।
মৃদু মন্দ হাওয়া।
পাখির কিচিরমিচির।
কুকুরের ডাক।
একজন প্রিয়জন।
মায়াবী সন্তান।
একটি পরিবার।
পাশাপাশি বসে থাকা।
কমলা ফুল।
ফুটছে ঝরছে ।
নদীর তিরতির জল।
ঘাটে নৌকা।
কার্পেট-সবুজ ঘাস।
একজন তুমি।
একজটলা তোমরা।
একসাথে আনারবিচি।
একেক দিন মনে হয় এটাই জীবন।
একেক দিন মনে হয় এটাই নিয়ামত।
একেক দিন মনে হয় এভাবেই মৃত্যু আসুক
দরজা খুলে আঙুলে আঙুল দিয়ে
দূত মিষ্টি করে বলুক, চল, ঢের হয়েছে।
এরপর
এরকম কার্পেট সবুজ ঘাসের নীচে
আমি
ঘুমিয়ে থাকি অনন্তকাল।
কষ্ট নেই ব্যথা নেই চিন্তা নেই।
হারাবার ভয় নেই।
একটি দরজা।
হু হু শীতাতপ বাতাস।
কোমল বিছানা।
নূর হয়ে ওঠা সূরার সঙ্গ।
প্রভুর আপ্যায়ন।
একেক দিন মনে হয় এটাই জীবন
একেক দিন মনে হয় এটাই নিয়ামত
একেক দিন মনে হয় এভাবেই নবজীবন শুরু হোক
কাউসারের গ্লাস হাতে নিয়ে
দূত ভালোবেসে বলুক, এসো, ঢের হয়েছে।
এরপর
বাতাসে আনন্দ ।
তলদেশে ঝরণাধারা।
সুসজ্জিত ঘর।
প্রভুর দিদার।
একজন তুমি।
একজটলা তোমরা।
একেক দিন পৃথিবীর প্রিয় ভালোবাসাদের সাথে খুনসুটি।
উম্মে সালমা
২০/১১/২০২৪
From Reading to Reality
Sometimes, I reflect on the words “colonialism” and “postcolonialism,” words I became familiar with quite an early age through postcolonial literature. When I was saturated with mainstream English literature after my youth with Bangla literature, this familiarity blew my mind. My heart was thrilled to see the pages of fiction and poems full of people like me and to find them conversing about issues that confront me in everyday life in society, culture, and politics. I felt like, “Wow, at last, this is me, this is us here, on the pages.” A sense of absence which pricked me always while immersing in Shakespeare, Jane Austen, Milton, Wordsworth, or Shelley proved to be fulfilled by Amitav Ghosh, Anita Desai, R K Narayan or Chinua Achebe. The complex family drama, the life in cultural domesticity, and everyday tension in relationships surrounded by overarching colonial and postcolonial politics warmed the cockles of my heart.
I learned to look beyond my life’s geography. I learned that the 200 years of British reign in Bengal had drastically changed its linguistic, social, cultural, economic, and political landscapes. The old Mughal system, which mostly kept the traditional agrarian Bengal life untouched, has been replaced by all-pervading British rules as well as modern and enlightened world concepts. These concepts made the Bengalis conscious of their rights over their land. The outcome of this consciousness was their struggles, fights, and resistance against British power, and eventually, they won independence with the departure of the British from the Indian subcontinent.
Although this is a very simple summary of my very complicated learning process in the field of colonialism and postcolonialism, this is the gist, a bird’s eye view, which I learned and internalised. This internalisation is also accompanied by a rhetoric of dreams of a better life in the independent land, a dream that our forefathers nourished throughout their lifetimes. My forefathers particularly roamed the Indian subcontinent for their jobs, but eventually, they returned home to their agrarian village to live a happy, peaceful life. To them, their calm and quiet village was their ultimate hub. They did not expect much from life but a pretty modest life and a peaceful death in an independent country after having a life of hard work and good earnings.
However, these dreams and expectations, laced with colonialism and independence, seem to me very expensive in 21st-century Bangladesh. This is unreachable for the contemporary Bangladeshi people. The door of the dream the postcolonial world opened in front of our forefathers was closed so long ago, not by the so-called foreign rulers, but by the local elitist, power mongered, and greedy rulers.
The more I look at the history and culture of the current ousted fascist government’s money laundering, the more my so-called questioning of the British colonisers gets softened. “Hey, look at yourself before looking at the others. Hey, turn a mirror to yourself before posting a mirror to the foreigners.” At the same time, the current instability after the July movement, the rhetoric of mercy and softness, the character assassination of the leading figures, and efforts to rehabilitate the fascist supporters prompt me to question: “Do Bangladeshi common people not have rights to dream of a peaceful modest life at their homeland?” “Do Bangladeshi common people not have rights to die a peaceful death on their forefathers’ land?”
All these remind me of the old Bengali proverb, “If you spit over your head, it will fall on you.” So, when I spit, I get spitted. When I get spitted, I remember all unjust actions align with unjust actions irrespective of time, place, and people. And this remembrance is the burden I carry through my colonial, postcolonial, and neo-colonial learning journeys.
Umme Salma
15/11/2024
প্যারাডক্স
চোখ ঘুম ঘুম রাতের কুসুম ফেটে পড়ে
চারপাশে অগুনতি ঘাসে
এর মাঝে হাওয়া বিরাট বেহায়া খুলে দেয়
চিৎকার আমাদের শ্বাসে
দূর থেকে দেখি কাছ থেকে শুনি
কান্না মৃত্যু বিলাসী স্ক্রিন
কিবোর্ড খুলে আঙুলে আঙুলে
এক দুই তিন চার
হাজার হাজার কে আর গুণি?
বার বার বার বার নেড়া বেল তলায়
যায় মাথাটা ফাটায়
বার বার বার বার পথগুলো বহু হয়
লাল থেকে লাশ হয়
বিভাজনের দরোজায় দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে
রাজনীতি সমাজনীতি
সোফানিসবার মতো রাক্ষুসী হয়
গয়নার ঝলক ফেলে বহুরুপী মাঝরাতে
রক্ত খেয়ে খেয়ে বেঁচে বর্তে রয়
চোখ ঘুম ঘুম ফুলপরী চুম গলে পড়ে
গালে নীরবে নিরলে
এর মাঝে হাওয়া বড়ো অপয়া তুলে দেয়
চিৎকার দ্রোহী করতলে।
উম্মে সালমা
১২/১১/২০২৪
স্বমন্বয়ক হান্নানের কান্না: কি ভাবছি!
“বাড়ির পাশে আরশিনগর
সেথায় এক পড়শী বসত করে
আমি একদিন ও না দেখিলাম তারে…”
এই গানটি নিয়ে কলেজ জীবনে একসময় তুমুল আলোচনা হয়েছিল কবিতা পড়া এবং কবিতা লেখা বন্ধু মহলে। কিশোরী কাল। নতুন নতুন আধ্যাত্মিকতার সাথে পরিচয়। কেমন কেমন লাগে এইসব গান শুনলে তাদের বুঝতে চেষ্টা করলে। তার মধ্যে কেউ যদি বলে, এই জানিস “আরশিনগর” মানে কি এই গানে ? মানে হলো মন/রিদয়। বল, তোর মন/রিদয় তোর সাথেই তো আছে, তাকে দেখেছিস? কখনো ?
আরশিনগর দেখিনি, সত্যিই দেখিনি, ইমাম গাজ্জালীর মতো কলবের সন্ধান করতে করতে বুঝতে পারিনি রিদয়/কলব/মন হলো দৃশ্যমান হৃৎপিণ্ডের একটি ফাঁকা জায়গা। কিন্তু এতটুকু বুঝতে পারি রিদয় নামক জায়গা হতে উৎসারিত না হলে স্বমন্বয়ক হান্নানের মতো কেউ কাঁদতে পারেনা, কেউ মনের ভেতর গুমরে থাকা ভাষা বাকরুদ্ধ কন্ঠস্বর এবং চোখের জলে এভাবে ঢেলে দিতে পারে না।
ক্লান্ত বিকেলে তার কান্না দেখে আমি না কেঁদে পারিনি।
এতটুকু জীবনে কম দেখলাম না, কৈ কখনো তো কাউকে তো দেশের জন্য এভাবে কাঁদতে দেখিনি?
ওর বয়সে বিশ্ববিদ্যালয়ের সেরা রেজাল্টের অপেক্ষার পর ভালো ক্যারিয়ার ছিল আমার স্বপ্ন। দেশের জন্য মাঠে নামবো রাস্তায় নামবো ধার্মিক ভালো ছাত্রী হয়ে মেয়ে হয়ে (কিংবা ভালো ছাত্র ছেলেটা হয়ে)? অসম্ভব…বাবা মা পরিবার পিটিয়ে আমাকে চেপ্টা করে ফেলতো। কারণ রাজনীতি খারাপ জিনিস। ঘরে বাইরে সবখানে সবসময় একটা highly protected cocoon ছিল। সীমানা দেয়া ছিল। এটা করবে ওটা করবে না। ঐ যে ঐটা তোমার জন্য। এটা পাবার জন্য চেষ্টা কর।
আর এই ২০১৮ এর স্টুডেন্টরা, ২০২৪ এর হান্নানরা বুদ্ধি হবার পর থেকে স্বৈরাচারী শাসনের habitus থেকে এ স্বৈরশাসনতান্ত্রিক আদর্শ উদ্দেশ্য উদাহরণের পুনঃ পুনঃ ব্যবহারের (reiteration) পরো কেমন যেন একটা স্বাধীন স্বচ্ছ পরিস্কার চিন্তা আর আবেগ নিয়ে বেড়ে উঠেছে এবং তার জন্য জীবন বাজি রেখেছে!
সেই তারা যখন হিউমিলিয়েটেড ফিল করে, তাদের অশ্রু সত্যি বহন করতে পারিনা!
হান্নানের কান্না আর কথা আমি শুনছিলাম আর শুনছিলাম। সাহিত্য পড়তে পড়তে বিশ্লেষণ করার যে চোখ সেটা মাথায় খেলা করছিলো। মিলান কুন্ডেরার The Unbearable Lightness of Being এ একটি কনসেপ্ট শিখেছিলাম, kitsch (কিছ)। একটু অদ্ভুত কিন্তু মজার।
এর অর্থ হলো “art, objects, or design considered to be in poor taste because of excessive garishness or sentimentality, but sometimes appreciated in an ironic or knowing way.” (source: Google)
যখন কোন চিত্র ছবি বস্তু অতিরিক্ত আবেগ, সেন্টিমেন্ট, এবং শোঅফ দেখানোর কারণে খুব বাজে রুচির পরিচয় দেয় তাকে বলে, “Kitsch” ( কিছ্)। মানুষ মুখে মুখে প্রশংসা করে এইসব কিন্তু জানে এটা ফেইক। এটা নিম্ন রুচির কাজ।
একটি উদাহরণ দেয়া যাক। যেমন ধরুন, একজন পলিটিশিয়ান গরীব বাচ্চাদের কিছু দান করছে এবং সাংবাদিকদের সব ক্যামেরা তার দিকে তাক করা। তখন সেই পলিটিশিয়ান এমনভাবে মানবহিতৈষী চেহারা করলেন এবং আবেগঘন কণ্ঠে কথা বলতে লাগলেন যা তার স্বভাবসুলভ না। তিনি এটা করছেন কারণ তিনি জানেন এটা নিউজ হবে। মানুষের কাছে তার একটি ভালো ইমেজ তৈরি হবে।
মিলান কুন্ডেরা এই ধরণের সব কাজ ছবি ইমেজ সবকিছুকে বলেন “kitsch” বা tasteless and vulgar ছবি।
তো হান্নান যখন কথা বলতে বলতে তার কষ্টের আবেগের অভিযোগের পিকে উঠেছিলো, আমি তাকিয়ে ছিলাম। আমি বুঝতে চাইছিলাম ফ্যাসিবাদের জননীর মতো তার কান্না ফেইক কিনা।
কিন্তু না, তার কান্না খুব খুব রিদয়প্রসূত। এখানে কোন অভিনয় নেই কোন রিয়া নেই কোন লোকদেখানো নেই স্বার্থ নেই। এটা কোন “kitsch” নয়, এটা একটি ভয়ংকর সুন্দর পবিত্র সৎ অভিব্যক্তি। ভীষণ ছোঁয়াচে। বাংলাদেশের হাতিয়া উপদ্বীপ হতে উঠে আসা এক বাঙালি মুসলমান তরুণের চাহিদার চিহ্ন।
স্বাধীনতার তিপান্ন বছর পর কলকাতার ভাষায় নয় ঢাকা এলিটদের ভাষায় নয় দেশভাগের পর আসা মাইগ্রেন্টদের ভাষায় নয়, তাদের পোশাক আশাকে নয়, ফিটফাট ফুলবাবু হয়ে নয়, আঞ্চলিক আর শুদ্ধের দ্যোতনায় গড়া একদম ক্যাজুয়াল দেশীয় পোশাকে এক ছেলে বলে যাচ্ছে তাদের অপমানের কথা তাদের স্বপ্নের কথা স্বপ্ন ভাঙার আওয়াজের আয়োজনের কথা।
প্রবাসী আমি, প্রভিলিজড আমি, না কেঁদে পারিনি। আমার বিশ্বাস এদের কথা যারা বুঝতে চাইবে না, ওদের ভয়েসকে দাবিয়ে দেবে, এদের অপমান করবে, এদের স্বপ্নের সাথে যারা বিশ্বাসঘাতকতা করবে, এই অমিত সম্ভাবনাকে ঈর্ষা করবে, তাদের উপর প্রাকৃতিক প্রতিশোধ নেমে আসবে। আসবেই।
উম্মে সালমা
৮/১১/২০২৪
যুদ্ধ শেষ হলে সবাই বাড়ি ফিরতে পারে না
যুদ্ধ শেষ হলে সবাই বাড়ি ফিরতে পারে না
যুদ্ধ শেষ হলে একটা লাগেজ গুছিয়ে একদিন সকালে বলা যায় না, আমি আসছি।
যাপন করে আসা জীবন প্লাষ্টিকের গ্লাসের মতো বিনে ফেলে দেয়া যায় না
অনলাইন খুঁজে খুঁজে সবচেয়ে সস্তা টিকিট কিনে
বিমানের ফ্লাইট ধরার জন্য
উবার কল করা যায় না
মেয়েকে বলা যায় না তুই থাক আমি যাচ্ছি
সঙ্গীকে বোঝানো যায় না দেশ আমায় ডাকছে
লাইভে হাসতে হাসতে বলা যায় না
ভ্রাতা ভগিণীগণ মহোদয় মহোদয়া
দেশের মাটিতে দেখা হচ্ছে খুব শিগগিরই
যুদ্ধ শেষ হলে সব যোদ্ধা ঘরে ফিরতে পারে না
সব যোদ্ধা লজ্জা শরমের মাথা খেয়ে বলতে পারে না
যুদ্ধ করতে করতে ক্লান্ত আমি
বলতে পারে না টিউব ওয়েলের ঠান্ডা এক কোট্টা পানি খাব দেশে গিয়ে
বলতে পারা যায় না
ভাইগণ বন্ধুগণ, আমি অধিকারের ফেরী ওয়ালা
আপনাদের কাছে বেচবো ন্যায়ের গান
দেশমাতৃকার উনুনে রাঁধা হবে যে এক ঢেগ ভাত আর ইলিশের দোপেঁয়াজা
সেটা আমরা ভায়ে ভায়ে বোনে বোনে ভাগ করে খাবো
যুদ্ধ যখন শুরু হলো
যখন স্বৈরাচার দুরারোগ্য ব্যাধির মতো
ছড়িয়ে পড়েছিল বডিপলিটিকে
মা বলেছিলো
দেখিস একদিন এই ব্যাধি সেরে যাবে
বাবারা গুম হতে ফিরে আসবে
ভাইয়েরা সল্টেড বিস্কুট হাতে নিয়ে কলিং বেল বাজাবে
স্বামীরা ঘরে ঢুকে ত্রস্ত বিতস্র হয়ে বলে উঠবে
এই বাজারের থলে দাও কতদিন বাজার করিনা
তুই ছুটতে ছুটতে ব্যাংকে যাবি হাত খালি
আমি জায়নামাজ বসে দোয়া করতে করতে বলতে থাকবো
ফাবিআইয়ি আ'লা ই রব্বি কুমা তুকাজ্জিবান...
মা, পাশের বাড়ির কমল কি বাড়ি ফিরতে পেরেছিল? যে যুদ্ধে যেতে যেতে সীমানা পেরিয়ে পরে ডিজিটাল অস্তিত্ব হয়ে গেল
মাথার উপর হুলিয়া নিয়ে প্রতিদিন হাজির হতো মুসাফিরের মতো
প্রতিদিন ভাইয়া সবাইকে চুপ করিয়ে দিতো তার কবিতাময় যুদ্ধ শুনবে বলে?
মাগো, জরিনাপুরের সুমন কি বাড়ি ফিরতে পেরেছিল? ঐ যে সে যে যুদ্ধে গেল বলে
সাদাপোশাকে একদল মানুষ তার বোনকে ধরে নিয়ে গিয়েছিল পুলিশ রিমান্ড চেয়েছিল
তার ঘর তছনছ করে দিয়ে ছিলো
মা ও মা ঐ যে উওর পাড়ার উকিল ছেলেটা
মনে আছে ? সে কি বাড়ি ফিরতে পেরেছিল ?
যুদ্ধে নামবে বলে নিয়ত করাতেই
ওরা ওকে একদিন কোথায় যেন নিয়ে গিয়েছিল আর ওর স্ত্রী কাঁদতে কাঁদতে বলেছিলো
অন্ততপক্ষে আমাকে ওর লাশ দাও। আমি দাফন করি।
যুদ্ধ শেষ হলে সবাই বাড়ি ফিরতে পারে না
সিস্টেম চুরমার করে দিতে পারে না
আমলাতন্ত্র ধোয়া তুলসী পাতা হয় না
সংবিধানের চোখে চোখ রেখে বলা যায় না
তোর সাথে ছাড়াছাড়ি
কোকিল কে বলা যায় না কাকের ঘরে ডিম পাড়িস ক্যান
রাঘব বোয়ালদের বলা যায় না তোর হা এত বড় কেন
শিং মাগুর কে বলা যায় না আঙি দিস কেন
ছুরি কে বলা যায় না কাটিস না
আগুন কে বলা যায় না জ্বালাস না
কালো কে বলা যায় না
বহুত হয়েছে বাপ এবার সাদা হ!
যুদ্ধ শেষ হলে বাড়ি ফেরা যায় না
যুদ্ধ শেষ হলে শুধু আরেকটি যুদ্ধ শুরু হয়....
উম্মে সালমা
২/১১/২০২৪
দাঁত থাকতে দাঁতের মর্যাদা নেই
দাঁত থাকতে দাঁতের মর্যাদা নেই
মানুষ কেনো যে এমন হয়
কেন যে এমন
কাছে থাকলে একটুও লাগে না যে মায়া
দূর হলে হৃদয়ে পড়ে থাকে ছায়া
হায় ছায়া!
কিছু যদি দিতে চায় চায়না নিতে
পরেই মনে হয় দিত যদি হৃদয়ের ফিতে
আহা যদি!
এভাবে কেন যে মন মেঘ ভালবাসে
মাটির ঠাণ্ডা নিয়ে খুক খুক কাশে
সৃষ্ট অসুখে।
দাঁত থাকতে আসলেই দাঁতের মর্যাদা নেই
শত ইচ্ছা থাকলেও তা মৃত পড়ে রয়
দ্বিধার বাঁধায় ।
ঊম্মে সালমা
সম্পূর্ণ রাজনৈতিক
'আমি তোমাকে ভালোবাসি'--বলেছিলাম
দ্বিধায়, বাঁধায়, প্রকারান্তরে
অনায়াসে, অজান্তে, অনন্যতায়
কতবার? হাজার, লক্ষ.........মিলিয়ন ?
জানিনা
জানিনি
জানতেও চাইনি।
জানতে চাইনি আরও অনেক কিছু।
তোমার অর্থনৈতিক আভিজাত্য, সাংস্কৃতিক স্থানীয়ত্ত এবং
রাজনৈতিক রিশতা।
দাদা বললেন, এই বদ্বীপের শিরায় বয়ে যাওয়া রক্ত-রস তার বিশ্বাসে নিঃশ্বাস,
আর কি?
দাদী বললেন, পাত্র ভালা।
মা কাঁদলেন এখানে-ওখানে,
এবং বাবা সারাদিন ফোনে একে তাকে সংবাদ দিলেন। বিয়ে।
আর আমি...
একটি নিরুদ্দেশ নৌকায় ভেসে যাবার তোড়জোড় করছিলাম।
তারপর
হঠাৎ হলো এক বীভৎস বিস্ফোরণ ।
রঙধনুর মতো,
গায়ে হলুদের শাড়ীটার মতো
বসন্তের মতো
বর্ণিল-চিত্রালী সংসারে হঠাৎ বেজে উঠলো
এক রাজনৈতিক নিনাদ।
সহিংস আহবানে,ভয়াবহ বৈরিতায়, ভাঙচুরের বিনোদনে
ডাক এলো ভাগ করার, ত্যাগ করার
একদেয়ালের মধ্যে থাকা বহুমতের অনেককে।
একসীমানার ভেতর থাকা বহু মাত্রিক ভাবনাকে।
এখন? এখন আমি এখন কি করব?
ওঃ! আমি এখন কাকে ভাগ করব,কাকে ত্যাগ করব?
তোমাকে? যে বলে জয় আর বিজয়ের গল্প।
ও! আমি এখন কাকে বর্জন করব?
তাকে? যে শোনায় বিশাস-কেন্দ্রিক জীবন-মৃত্যুর সুর?
অ! আমি এখন কাকে বিসর্জন দেবো?
ওকে? যে ধারণ করে ফাইভ এপকস অফ হিস্ট্রি,সাম্যবাদ আর বিপ্লবের ধারনা?
আর তা করতে করতে নামবো ফাইবার, সাইবার এবং অন্তর্গত যুদ্ধে !
ওহ!
“বড় কষ্ট ভালবাসায়। ভাল তো কাউকে পরিকল্পনা করে বাসা যায়না।
ভালবাসা হয়ে যায় ঘটে যায়।”
সংসারে আর সহবস্থানে
বিহিসেবী
মমতায় আর সহিষ্ণুতায়
মানুষে-মানুষে।
ঊম্মে সালমা
১৩/০২/২০১৩
ফাটল
মরিচিকা সরছে আর সময় উঠেছে সকরুণ হেঁকে
পদ্মা-যমুনার মত স্রোত দুই, সুশীলা হতে পারিনি কেউ
তাই আজ এক কঠিন আর প্রতিকূল ঢেউ, বিশাল ঢেউ
তাড়িয়ে নিয়ে যাছে আমাদের এক দুর্দশার দিকে।
আমাদের একটা স্বাধীন দেশ, তাকে ভালোবেসে বড়
আমরা পেয়েছিলাম, হারিয়েছিলাম রক্ত-ভাসা সবুজে কত
আত্মত্যাগী, ভয়হীন, সত্যভরা জীবন; আহা, সুগন্ধি ফুল যত
অথচ সে প্রিয়তম দেশ-ঘর আজ ভয়ানক পড়পড়
সুতোর মতো প্রস্ফুটিত একটি রেখা একটি বিভেদ
হয়ে ছিল দেয়ালটায় যেটা চিত্রবিচিত্র ছবিতে ভরা ছিল
আঁকা ছিল দেশ-দশের ভাবনা, কর্ম, ব্যর্থতা, আর সাফল্য
বেড়ে গিয়ে সে হলো বড় ফাটল এক যন্ত্রণাময় ক্লেদ
সেই ক্লেদ আজ তাড়িয়ে নিয়ে যাচ্ছে তোমাকে-আমাকে
এক দানবীয় উপত্যকার কাছে; ওহ! সেখানটায়, যেখানটায়
নারকীয় ক্ষমতা পশুত্বের পাপ আর উল্লসিত পৈশাচিকতায়
নেচে ফিরে জীবনের প্রতিটি প্রশান্তিময় বাঁকে বাঁকে ।
তাই কি সব মরিচীকা? সব নির্বিকার হৃদয় হয়ে উঠছে?
ঘৃণার নির্মূলের নিন্দিত ভাষা আজ স্নিগ্ধ ঠোঁটে ফুটছে ?
উম্মে সালমা
২০১৩, চবি
[কবিতার রচনাকাল ২০১৩ শাহবাগ আন্দোলনে যখন দেশে একটি বিশ্রী বিভাজনের রাজনীতি শুরু হয়েছিল]
বাহির হতে খিল
আমার জগত আমার জগত
আমার জগত নীল
হঠাৎ দেখি আমার ঘরে
বাহির হতে খিল
বাহির হতে খিল দিয়েছে
বাহির হতে তালা
আমার হাতে কলম ছিলো
বুকের মাঝে ডালা।
বুকের মাঝে ডালা-ভরা তারার মত ফুল
চোখের মাঝে চমকে ওঠা হীরক রাজার দুল
হাতের মাঝে একটি কলম কালি ভরা পূর্ণ
ঘরের দুয়ার খোলা ছিল রোদে উঠোন চূর্ণ
ঠোটের উপর কথা ছিলো, ভাষায় ভাষায় ধাক্কা
অন্যায় আর অবিচারে সোজা কথা পাক্কা
আমার জগত আমার জগত
আমার জগত সাদা
হঠাত দেখি আমার ঘর
বাহির হতে বাঁধা।
বাহির হতে খিল দিয়েছে
বাহির হতে বন্ধ
আমার হাতের কলমটিকে
বলল হতে অন্ধ।
বলল হতে অন্ধ আর বলল হতে মূক
নীলগুলো সব গুটিয়ে নিয়ে ছাতাপড়া বুক।
হাতের কলম কেড়ে নিয়ে কালি দিলো লেপটে
ফুল্গুলোকে মাড়িয়ে দিয়ে পথে দিলো সেপটে
ঠোঁটের উপর কথাগুলো, বলল ”শালা ঢোক!
শব্দগুলো হজম কর, পেটে বেজায় ভোখ।”
আমার জগত আমার জগত
আমার জগত নস্যি
আমার স্বদেশ শব্দ ধরে
ছুঁড়ে বিশাল বড়শি।
যারা যারা শব্দ করেন
শব্দে ধরেন নীল
তাকিয়ে দেখুন সবার ঘরে
বাহির হতে খিল।
ঊম্মে সালমা, ৫ জুলাই ২০১৭
লিঙ্কস টু ফলোঃ
