খুব বেশী মেঘ জমে
খুব বেশী কালো
আমি জানি তুমি নেই
একটুও ভালো
আমি জানি তোমরা নেই
একটুও ভালো
বুলেটে বিসর্জন দিয়ে
দু চোখের আলো
বুলেটে বিসর্জন?
শুধু তাই নয়
সারপ্নেলের এ শরীরে
জীবন সংশয়
শত শত মুখ চোখ হাত পেট
মাথার খুলিতে
ক্ষত বিক্ষত এ শরীরগুলো
এ কেমন গুলিতে
অথবা
পড়ে আছো মরে আছো
এমন কোমায়
সভ্যতা নাশকারী জীবন হরণকারী
ভয়ানক বোমায়
আর ওদিকে...
সারাদিন ওরা থাকে
মতের অমিলে
কথার পাহাড় গড়ে
এ ওকে ছিলে
ভালোর চিন্তা নেই
ভালো আছে বলে
নিজেদের হিস্যা ই চায়
রাজ কৌশলে?
সবসময় তাই (আমি এই ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র)
অপরাধী হয়ে যাই
বেঁচে থাকার কষ্টে
হারাই হারাই
সবসময় তাই
সব সকাল ভাই
সময়ের কাছে
হেরে হেরে যাই
এমন অস্ত্র কেন মানুষ বানালো
এই প্রশ্নের কাছে খেই ই হারাই
এমন অস্ত্র কেন মানুষ চালায়
উত্তরহীন প্রশ্নে শুধু খুব তড়পাই
উম্মে সালমা
২৮/১০/২০২৪
Author: Umme Salma
বিষন্ন/প্রসন্ন ইতিহাসের পাঠ
অন্যায় অবিচারে যখন দেশ ছেয়ে গেলো
এবং নানা ধরনের জুলুম নির্যাতন যখন হয়ে উঠলো নিত্যদিনের রুচি
ঠিক তখনই “কি পাবো কাল?” সেই কথা বিবেচনা না করে তরতাজা যুবকেরা এক সতীর্থ কুকুর নিয়ে জনপদ ছেড়ে বেরিয়ে এসেছিলেন
যেতে যেতে আশ্রয় নিয়েছিলেন দুর্গম গুহায়
সূর্য যার দরোজা কখনো স্পর্শ করেনি
উদয়ের সময় সে হেলে যেতো ডানে
অস্তের সময় বামে
এক সুদীর্ঘ ঘুম তাদের আচ্ছন্ন করে রাখলো শত শত বছর…
এইরকম গল্পের প্রহর ছিলো সেদিন মনে আছে? নীলা?
মনে আছে গভীর শীতে জড়ানো শাল
এক প্রস্থ নীলাকাশ অনেকগুলো বেঞ্চ টেবিল
আর দেয়াল জুড়ে সাদা বোর্ড কয়েকটি সুগন্ধি মার্কার
আমার হৃদয় ছিলো উদ্বেলিত
চোখে অশ্রু
একটা কি এক অদ্ভুত আত্মিক শক্তির উদ্দীপনায়
আমি আমরা হয়ে উঠেছিলাম একটা পরশ পাথর।
কিন্তু…
একটি ক্ষুধার্ত স্বৈরাচারী বাঘ এসে আমাদের সেসব দিন কেমন করে যেন অচিরেই খেয়ে নিল
স্লাইমের মতো একটু একটু করে অন্যায় অবিচার করার তীব্র আকাঙ্ক্ষা দুর্নিবার লোভ আমাদের হৃদয় ছেয়ে নিলো
আমরা ভুলে গেলাম
অন্যায়ের দিন গুহাবাসী হতে হয়
পালিয়ে যেতে হয় জনপদ হতে
বেছে নিতে হয় কৃচ্ছতা সাধন আর জৌলুসহীন পৃথিবী
নীলা চোখ মোছ প্লীজ
রঙবদলের খেলায় বার বার রঙিন হয়ে ওঠা
সেই শহরটার জন্য
সেই জনপদে লোভ হিংসা আর দুর্নীতিভরা ছায়াদের জন্য কেঁদো না।
আজ বড্ড কঠিন সময়।
আজ অনেক ভালো বাবারা শত শত ছাত্র-জনতার খুনী
আজ অনেক ভালো ভাইয়েরা লুটেরা আর অসৎ
আজ অনেক ভালো শিক্ষকেরা দখলদারদের দোসর
আজ অনেক ভালো নেতাদের হাতে সম্পদের পাহাড়
আজ অনেক ভালো সৈনিকের হাতে আয়না ঘরের চাবি
এইসব ভালো দিয়ে তুমি কি করবে
যার জায়গা শুধুই তোমার জন্য
এই সব ভালো দিয়ে তুমি কি করবে
যেই ভালো শুধু আমি আমি আর আমিময়?
এই সব ভালো দিয়ে তুমি কি করবে
যেখানে অন্যের মাংস খেয়ে প্রতিদিন বেড়ে ওঠে একদল মুনাফিক
খাবলে খুলবে খায় প্রতিদিনের স্বস্তি?
চেয়ে দেখো নীলা
আকাশটা আজ বড্ড রঙধনুময়
কয়েকটি পাখি খেলা করছে লালঝুটিওয়ালা মোরগের মাথায়
সমুদ্রের ঢেউ একটার পর একটা না-বিভাজনের
আলাপ তুলছে
মোবাইলে ভেসে উঠছে লাইকের নোটিফিকেশন
জীবন সুন্দর
সুন্দর রাঢ় থেকে বাংলা থেকে চীন থেকে ফিলিস্তিন
সুন্দর হিউয়েন সাঙের মতো পৃথিবী পাঠ
আর যেতে যেতে দেখা
সময়ে সময়ে মানুষের ন্যায়বোধের চর্চা
এমন ন্যায় বোধ
যেখানে ন্যায় মানেই আমি তুমি সে, আমরা সবাই…
আমরাময়তা উইদাউট দি আদার।
উম্মে সালমা
২২/১০/২০২৪, টুঅং
সত্য বলার সাহসকে সাধুবাদ
প্রিয় উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ,
গতকাল আপনার দ্রব্যমূল্য বিষয়ক সাহসী বক্তব্য শুনলাম। শুনে মনে হলো একটি নতুন সংগীত শুনছি, এমন একটি সংগীত যা বাংলাদেশের একজন শিল্পী এখনি লিখেছেন এবং এখনি সুর দিয়েছেন। মনে হলো এই এতটুকু জীবনে এমন সংগীত বাংলাদেশের কোন শাসকের প্রতিনিধিদের মুখে শুনিনি। মনে হলো একটি নতুন সূর্য উঠছে একটি নীল দিগন্তে, চারপাশ ঘিরে থাকা শত সহস্র বছরের দুঃসহ অন্ধকারকে পরাজিত করতে করতে…
এই যে সাহসী হয়ে বলা প্রশাসনের সদিচ্ছার অভাব, এই যে পরিস্কার করে বলা অলস চাটুকারিতা আগের সময়ের বৈশিষ্ট্যে পরিণত হয়ে উঠা এবং সেই সাথে ওয়ারণিং দেয়া যে আমরা সিন্ডিকেট ভেঙে দেবো বিশ্বাস করুন ভাই এখানে আমি এই ধরণের কথা আমার এই জীবনে দেশের মাটিতে কাউকে বলতে শুনিনি । আর এখানে আমি ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি দেখতে পাই। আমি যেন শুনতে পাই যুগের শার্দুলের কন্ঠ যারা যুগে যুগে দুঃশাসনের স্থানে সুশাসনের জন্য লড়াই করেছে। আমার মন আনন্দে নেচে ওঠে যেন আপনারা এক এক জন বখতিয়ার ঘোড়ায় চড়ে আসছেন দুঃখভরা বাংলার আজীবন সংগ্রামরত মানুষকে শান্তির বাণী শোনাতে। এই সময়ে এই একবিংশ শতকে।
আমি দূর প্রবাসী একজন ক্ষুদ্র শিক্ষক এবং গবেষক। আমি রাজনীতি বুঝি না। রাজনীতি করি না। কিন্তু আমার পরিবার আমার আত্মীয় স্বজন আমার দেশের সাধারণ মানুষেরা যখন বাজারের উত্তাপে জ্বলে পুড়ে মরে এবং বার বার আয় আর ব্যয়ের হিসাব মিলাতে গিয়ে হিমশিম খেতে থাকে আমার খুব কষ্ট হয়। আমি যখন দেখি এখানে এই বিদেশে একজন সাধারণ মানুষ পর্যন্ত একটা আয় আর ব্যয়ের সামঞ্জস্যতা নিয়ে জীবন যাপন করে, যখন দেখি এখানকার সরকারের মানুষেরা জনগণের জীবন যাপন সহজ করতে প্রতিনিয়ত চেষ্টা সাধনা করতে থাকে, আমার নিজেকে খুব ছোট মনে হয়। মনে হয় কেন আমার জন্মভূমিতে এরকম শাসক আসে না? কেন শাসক হওয়া মানে “বিকামিং এলিট” এবং তারপর “রুল অফ এলিট”? একপক্ষ ধুঁকে ধুঁকে মরে আর আরেক পক্ষ ঝলমলে আলো ছায়ায় অর্থ সম্পদের পাহাড়ে ফূর্তিতে লিপ্ত থাকে?
এত সবের মাঝে একদল প্রজ্ঞাবান তরুণদের সংগ্রাম করে উঠে আসা জুলাই বিপ্লবের মধ্য দিয়ে, আমি মেসমেরাইজড হয়ে যাই। কিভাবে সম্ভব? এত সবের মাঝে একদল চিন্তক তরুণদের ইতিহাসের ইনসাইটফুল ইনক্লুসিভ পুনঃপাঠ আমাকে অভিভূত করে। এত সবের মাঝে পুরোনো অন্যায় অভ্যাস আর অভিপ্রায়ের ধারা ভেঙে দিয়ে আপনাদের মতো একদল তরুণের অসম্ভব সাহসী উচ্চারণ” আমরা ভেঙে দেবো” শুনে আমি কুল কিনারা পাই না। কিভাবে সম্ভব?
এইতো সেদিন ও মনে হতো এভাবেই জীবন যাবে। দেশের কোন ভবিষ্যত নেই । মনে হতো নিজের সন্তান্দের একটি সুন্দর দেশের গল্প বলতে পারবো না। এভাবেই রুটলেস হয়ে বিদেশে আমাদের বাচ্চারা মানুষ হবে আর দেশকে একটা সাময়িক বেড়ানোর জায়গা ছাড়া কিছু ভাবতে পারবেনা।
ঠিক সেই সময়ে…আপনারা দেশ, ইতিহাস, শাসন নিয়ে এমন কিছু কথা বলছেন…স্বৈরাচারের বয়ান ভেঙ্গে দিচ্ছেন আমরা সত্যই অবাক হয়ে পড়ছি। যে কথা আমরা বুকের মধ্যে নিয়ে ঘুরছি বলতে পারি নি, যে কথা কিভাবে বলবো যেটা বুঝতে আমাকে গবেষণার একটা পথ পাড়ি দিতে হয়েছে, সে কথা আমাদের ছোট ছোট ভাইয়েরা আমাদের পর পর এসে বলে দিচ্ছে এবং সে সব কথা বাস্তবায়ন করবে বলে সাহসী বক্তব্য দিচ্ছে, এটা দেখে সত্যি সৃষ্টিকর্তা আল্লাহর কাছে মাথানত হয়ে আসে। ইতিহাসের যতটুকু পাঠ আছে মানব সভ্যতার ইতিহাসে যখনি জুলুম নির্যাতন অন্যায় বেড়ে গেছে যখনি মজলুমের যন্ত্রণা কান্না রক্ত মৃত্যু অসহনীয় হয়েছে তখনই আল্লাহ এমন একদল লোককে তার জমিনে পাঠান এই জমিনকে বিপর্যয় হতে রক্ষা করতে। এটাই আল্লাহর নিয়ম। তিনি মানুষকে একেবারেই ছেড়ে দেন না।
আপনারা কতটুকু সফল শেষ পর্যন্ত হবেন জানি না, তবে আমি বিশ্বাস করি এবং বিশ্বাস করতে চাই আপনারা সেই সাহসী একদল যারা অন্যায়কে রুখে দিয়ে এর বিস্তৃত ডালপালাকে কেটে ফেলার হিম্মত রাখেন। আপনারা ইতিহাসের সঠিক দিকে আছেন এবং সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে তাদের জীবন স্বস্তির ছায়া নামানোর সাহস রাখেন। আর এইটা যখন ভাবছি এখন এইসব বলছি এর মানে এই না যে আমি চাটুকারিতা করছি কোন ব্যক্তিগত স্বার্থ রক্ষার জন্য। এই জীবনে কোনদিন কাউকে তেল দিয়ে এই পর্যন্ত আসিনি এবং সামনে ও কোনদিন যাবো না তেল দিয়ে কিছু পাবার জন্য। (মেধা আর মাথা উঁচু করে যে জীবন দাঁড়িয়েছে সে কবর পর্যন্ত আল্লাহ ছাড়া আর কারো কাছে নত হবে না।)
কেন লিখছি তবে? লিখছি যেন এই দিনগুলো লেখার মাধ্যমে থেকে যায়। যেন পরবর্তী সময়ে পরবর্তী প্রজন্ম জানে কি করে ২০২৪ জুলাই বিপ্লব মানুষের মনে আশা আর স্বপ্ন জাগিয়েছিল। কিভাবে কিছু তরুন তরুনী দেখিয়ে দিয়েছিল, “এখন যৌবন যার যুদ্ধ করার তার শ্রেষ্ঠ সময়” । কিভাবে প্রবাসী নারীরা যারা নিজেদের জীবনে বেঁচে থাকার সব উপকরণ থাকার পরও দেশের জন্য ভাবতো এবং ভালো কাজের পৃষ্ঠপোষকতা করতো তাদের লেখণী দিয়ে।
আপনাদের হাত ধরে এই মাইনাস প্রান্তের দেশটি একটু একটু করে উঠে আসুক। স্বপ্ন সত্যি হোক। সাধারণ মানুষ ভালো থাকতে শুরু করুক। আজকে খুব মনে পড়ছে আমার এক বড়বোন সহ শেখা একটি কবিতার কিছু লাইন…
“পাথরে পারদ জ্বলে
জলে ভাঙে ঢেউ
ভাঙতে ভাঙতে জানি
গড়ে যাবে কেউ
তন্দ্রার আচ্ছাদন ছেঁড়ে এসো আমরা জেগে উঠি
এসো আমরা গড়ে তুলি আরেক পৃথিবী
গড়ে তুলি প্রজন্মের সাহসী তুফান…”
উম্মে সালমা , ২০/১০/২০২৪, টুঅং
আফটার আগস্ট ৫ঃ আবেগ ও নৈতিকতার দোলাচল ? একটি রিফ্লেক্সসন
আগস্ট ৫। নিঃসন্দেহে বাংলাদেশের মানুষের জন্য একটি নতুন দিন। একটি নতুন ইতিহাস। এই দিনটি ফ্যাসিবাদের পতনের মাধ্যমে নতুন এক স্বপ্নের সুচনা করে, প্রায় দেড় হাজারের বেশী শহীদ এবং ত্রিশ হাজারের ও বেশী মানুষের আহত হবার মাধ্যমে । এটি একটি দারুণ জাগরণ । নানা রকম দুঃশাসনে ১৬ টি বছর জর্জরিত মানুষ এই দিনে সাম্য, ন্যায়বিচার এবং মানবিক মর্যাদা নিয়ে নতুন করে বাঁচার স্বপ্ন দেখতে শুরু করেছে ।
কিন্তু chaos এবং organic প্রসেসের মাধ্যমে আচানক উঠে আসা আন্দোলন কি আচানক সব প্রত্যাশা পুরন করতে পারে? পারবে? এ নিয়ে যখন ভাবি, ফ্রেন্স রেভুলিউশন (French Revolution) এর কথা মনে পড়ে। ফ্রেন্স রেভুলিউশন খুব জটিল এবং বহুমুখী একটি রাজনৈতিক আন্দোলন ছিল। এর মূলমন্ত্র হিসেবে ছিলো স্বাধীনতা (liberty), সমতা (equality), এবং ভ্রাতৃত্ব (fraternity)। এত সুন্দর মটোগুলো! একসময় খুব অল্প বয়সে যখন এগুলো পড়েছিলাম কি অসাধারণ যে লাগতো! মনে মনে ভাবতাম, আহা! যদি সত্যি এরকম হতো একটি সমাজ! স্বাধীনতা, সমতা, এবং ভ্রাতৃত্ব !
কিন্তু ১৭৮৯ এর পরে ফ্রান্সে ঘটে যাওয়া নানা অঘটন যেমন নেপোলিয়নের স্বৈরাচারী হয়ে ওঠা, রবেসপিয়ারের এক্সিকিউশন, রেইন অফ টেরর এবং কাউন্টার রেভুলিউশনের সাসপেকট হিসেবে বহু মানুষের শাস্তি, হত্যা, জেল, জুলুম, নারীদের সমতার জন্য লড়াই ইত্যাদি, যা একের পর এক দানা বেধেছিলো ১৮৩৪ সাল পর্যন্ত, সত্যি ভয়াবহ। এগুলো আমার বুক কাঁপিয়ে দেয়। যত পড়ি, তত দেখি, ইতিহাসবিদরা এই বিপ্লব নিয়ে বিশ্লেষণ করতে গিয়ে কিছু কমন কথা বলেন যা সারমর্ম হোলো, পরিবর্তনের পজিটিভ উদ্যোগ নেয়া এবং তার বাস্তবায়নের চেয়ে যে কোন মোনারকির বিরোধীতা করা সহজ । গরীবদের প্রতি সহানুভূতি সবার থাকে কিন্তু “existing social system significantly” পরিবর্তন করার ইচ্ছা এবং সক্ষমতা বিপ্লব পরবর্তী প্রভিশানাল সরকারের থাকে না। তারা দেখে যে একটি সাংবিধানিক সংসদ আসা পর্যন্ত তাদের মূল ভূমিকা হলো অর্ডার আর এডমিনিষ্ট্রেশন চালিয়ে রাখা । তারা আর কোনো ভায়লেন্স চান না তাই এক্সিস্টিং “authorities” এবং “bureaucratic system and organisations” টিকিয়ে রাখেন। তো, বিপ্লব পরবর্তী সময় হয়ে ওঠে আরো কেয়টিক।
বাংলাদেশে যা ঘটছে প্রতিনিয়ত যা প্রতিনিয়ত আমাদের নতুন নতুন প্রশ্নের জন্ম দিচ্ছে নতুন নতুন অপোজিশনের জন্ম দিচ্ছে এটা আসলে ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি। যদিও বাংলাদেশে এখন রেইন অফ টেরর জাতীয় কিছু হয়নি বা হবার সম্ভাবনা নেই (পুরাদাগে একটা plurality এবং reconcliation এর আবহের জন্য), যেটা দেখা যাচ্ছে সেটা হলো, কাউন্টার -বিপ্লবের ক্রম শক্তি প্রদর্শন এবং বিপ্লব বেহাত হবার ভয়। এর পেছনে কাজ করছে একটি বংশগত এবং সামাজিক লতায়-পাতায় জড়ানো সামাজিক সম্পর্ক যা দক্ষিণ এশিয়ায় বিরাজ করে। প্রত্যেক মানুষ প্রত্যেক পরিবার প্রত্যেক সামাজিক লেনদেন ব্যবসা বানিজ্য “inter-political programme” এর সুতোয় বাঁধা।
এই বিষয়টি আমাকে ২০১৩ সালে থেকে ভাবাতো। যখন শাহবাগ আন্দোলন হচ্ছিল এবং পুরো বাংলাদেশ জুড়ে শুরু হলো বিভক্তির এবং প্রতিহিংসার রাজনীতি, আমার তখনকার লেখা কবিতায় (“সংসার এবং সহবস্থান” ) এটা নিয়ে একটা আলাপ উঠে এসেছিলো । আমি বুঝতে পারতাম না কিভাবে একটা সমাজে এই জড়াজড়ি (entanglements) খুলে নির্মূলের রাজনীতি করা যাবে?
পুরো ফ্যামিলিতে আমাদের অঙ্গনে আমরা কখনো রাজনীতি দিয়ে বিভাজন দেখিনি। নানাজন নানা দল সাপোর্ট করতো কিন্তু একে অন্যকে শুধু “রাজনীতির চোখ” দিয়ে দেখা এটা ছিলোনা। কিন্তু বাংলাদেশের দুর্ভাগ্য যে ২০১৩ সালে এটা আমদানী হয় দেশীয় অঙ্গনে আওয়ামী এবং বামধারার রাজনীতির হাত ধরে এবং তার পর তো আমরা সবাই জানি……নোয়াখালীর ভাষায় এদেরকে বলে, “চোখ খাটা তেলী”। আওয়ামী এবং তার দোসররা চোখ খেটে মানে চোখ বন্ধ করে তারা ছাড়া সবাইকে শেষ করার পথে নেমেছিল এবং শেষ মূহুর্ত পর্যন্ত শেষ করে ক্ষমতায় থাকতে চেয়েছিল।
এসব বলার মানে এই যে, বিভাজনের রাজনীতি তৈরি করা দল এবং মানুষ গুলো আজ যখন বিপদে, যখন তাদের ব্যক্তিগত এবং আইনগতভাবে কাঠগড়ায় দাঁড়ানোর সময়, তখন কিছু দল এবং মানুষের মাঝে সেই রাজনীতির উর্ধ্বে ওঠার একটা প্রবনতা এবং এবং তার সাথে ন্যায় বিচারের একটা সুত্র তৈরি করার চেষ্টা লক্ষ্য করা যাচ্ছে । ক্ষমা, রাজনীতির নানা অধিকারের বয়ান, অপরাধ লঘু করে দেখা, কিংবা আওয়ামী সমর্থকদের প্রতি (গোপন?) সমবেদনা ইত্যাদি সেরকম কিছুর বহিঃপ্রকাশ। অনেকে আবার এটা মক্কা বিজয়ের পরবর্তী সাধারণ ক্ষমার বয়ান দিয়ে ব্যাখ্যা করতে চান। কেউ কেউ আবার “শাস্তি এবং ক্ষমা”র একটি অসম বণ্টনে এক ধরনের বিচারের কথা বলেন।
স্বাভাবিক ভাবেই সেটা বিপ্লবের সেনটিমেন্টে তীব্র আঘাত। কারণ যারা ইচ্ছে করে জমিনে বিপর্যয় সৃষ্টি করে এবং সেটা জাষ্টিফাইড করে এবং করেই যায় কোন রকম অনুশোচনা এবং তাওবা না করে, তাদের বিচারই ন্যায়বিচার। casualties হয়ে যাবার একটা শঙ্কা এখানে আছে, যেমন থাকে সব বিচারে, কিন্তু তারপরও দুঃসহ দেশ সৃষ্টিকারীদের বিচার আবশ্যক ।
অভ্যুত্থান পরবর্তী এই সময়ে , এই একটু softness, একটু reconciliation একটু বিভাজন মানুষকে confused এবং ambivalent করে তোলে । আশা আনন্দ দুরাশা দুশ্চিন্তা এককথায় একধরনের সার্বক্ষণিক দোলাচলের জন্ম দেয় মানুষের মনোজগতে। মানুষের সামনে আরেকটি পরিবর্তিত পৃথিবী এবং পরিস্থিতিতে আগের নৈতিক ফ্রেমে দেখা পরিস্কার ছবির (যেখানে সত্য/মিথ্যা জালিম/মজলুম বাইনারি একদম ক্লিয়ার ছিলো) মূল্যায়নে একটি ধাঁধা লেগে যায়। প্রতিদিনের নতুন নতুন ইস্যুতে বিপ্লব বিষয়ক আবেগ অনুভূতি ত্যাগ তিতিক্ষার একনিষ্ঠ সমর্থক এবং সহযোগীরা প্রত্যাশা আর প্রাপ্তির হিসেব কষতে গিয়ে দুলতে থাকে নানাবিধ দোলাচলে। কোনটি সঠিক কোনটি বেঠিক কে ঠিক বলছে কে ভুল বলছে কোনটি উপকারী কোনটি অপকারী এর চিহ্নিত করণ এবং মেজাজ বোঝা অনেক সময় জন্য কষ্টসাধ্য হয়ে পড়ে। তারা বুঝতে পারে না যে মানুষগুলো দুদিন আগেও বিপ্লবের পক্ষে কাজ করেছে তাদের সম্পর্কে রটে যাওয়া কথাগুলো কতটুকু সত্য ??? যে যায় লঙ্কায় সে ই কি রাবণ হয়ে উঠে ??? নাকি এটা আবার কোন বিশাল ফাটলের লক্ষণ?
একটা কথা নিদারুন সত্য যে সাধারণ মানুষের বিপ্লবে যতৈ অবদান থাকুক, কোন দেশ তো সবাই মিলে শাসন করা যায় না। হাতে গোনা কয়েকজন (always only a few) ক্ষমতা পায় এবং বাকিরা তাদের নিত্যদিন একি রকম জীবন যাপন করতে ঘরে ফিরে যায়। সুতরাং বিপ্লবী-দিনের ইউফোরিয়া কমে আসার বাস্তবতায় “জীবন কতটুকু পরিবর্তন হলো” (“how far our life has changed/ improved”) এই প্রশ্ন বারবার মাঠে ঘাটে অফিসে বাজারে প্রতিনিয়ত মানুষকে ভাবাতে থাকে, কারণ বিপ্লব হয়েছে ঠিকই, কিছু মানুষ পালিয়ে আছে/গেছে, কিন্তু the old structure is still intact, a structure which sheer gathering of a mass cannot dissolve and resolve. It needs a systematic functioning by a group of skilled persons which is rather a slow process and a job, again, of a very “few” in power, law, administration, and bureaucracy. আর এই বুরোক্রাটিক ব্যবস্থা ১৯৪৭ ব্রিটিশরা এবং ১৯৭১ এ পাকিস্তানীরা চলে যাবার পর যে সমস্যা ফেস করেছিলো মোটাদাগে সেটাই ফেস করছে । আন্দোলন পরবর্তী অনেক অনেক গুলো পজিটিভ উদ্যোগ নেয়া হলেও এবং কিছুক্ষেত্রে নতুন নতুন ব্যবস্থা/ রদবদল হলেও বুরোক্রাটিক ব্যবস্থা এবং ওভারোল জাতি এখন ও বিপদ্গ্রস্থ। একসাথে কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে একমত হয়ে সাধারণ মানুষকে স্বস্তি দেয়া, জীবন যাপনের একটি গুনগত পরিবর্তন এটা এখনও দেখা যাচ্ছে না।
তাই সাধারণ মানুষেরা আন্দোলনের ফসল সহসাই ঘরে তুলতে পারবে না বলেই মনে হচ্ছে। বিভিন্ন স্থানে যখন বিভিন্ন গ্রুপে গ্রুপে “processes of resistance” চলছে, কিন্তু এসবের ভেতরেও সবখানে আশা নিরাশার দোলাচল। এখনো অনেক বিষয়ে বিষয়ের এত এত জটলা আর জটিলতা যে আমাদের মনোজগত একদম টালমাটাল। ফ্যাসিবাদের পতনে আমরা খুশি কিন্তু ফ্যাসিবাদের অবশিষ্ট/রেসিডু কিভাবে মোকাবেলা করে সার্বিকভাবে শান্তিময় দেশ হবে সেটা মনে হচ্ছে যেন ইউটোপিয়া। এই সময়ে তাই Animal Farm আবার যেন প্রাসঙ্গিক হয়ে উঠে । আমাদের মতো সাধারণ মানুষদের Boxer and Clover এর মতো মনে হয়। বার বার আহত হয়েছেন তাদের মানুষগুলোর খবর এবং ছবিগুলো দেখি এবং নিদারুন কস্ট লাগে। সবাই কত বিষয় নিয়ে কাইজ্যা করছে, আর তারা? কষ্টে কষ্টে পারে করছে প্রতিটি মুহূর্ত ! এদের দিকে তাকিয়ে হলেও দেশটাকে কি একটু শান্তি দেয়া যায় না? জুলাই বিপ্লবের/ অভ্যুত্থানের লক্ষ্য সামনে রেখে সব কাজ করা যায় না? এসব ভাবি আর মনে হয়, আমাদের সামনে এখনো বোধয় সীমাহীন পথচলা।
উম্মে সালমা, ১৬/১০/২০২৪
একটি স্বার্থপর, অমানুষের পদ্য
পুলিশ ভ্যান থেকে ময়লা আবর্জনার মতো
জীবন্ত তোমাকে ফেলে দিয়ে ফেলে গেলো যেদিন
জেনে নিও
সেদিন আমি আমার খোলস ছেড়ে বেরিয়ে এলাম
একটা চকচকে খোলস যা আমার টুঁটি চেপে ধরেছিল
যা আমার সামনে তুলে ধরেছিল একটি রেশমের পর্দা
আমাকে করেছিল একটি ভয়ার্ত ছুঁচো ।
বিশ্বাস করো ভাই,
যেদিন পুলিশ ভ্যান থেকে তোমার মতো
জীবন্ত যৌবনকে ক্ষত বিক্ষত করে করে
ব্যবহৃত স্লাইমের মতো ছুঁড়ে ফেলে দিয়েছিল
আমি কিন্তু একটু কাঁদিনি।
আমি শুধু আমার চারপাশের লেপামোছা দেয়াল দুহাতে ভেঙে চিৎকার করে বলেছিলাম
কি হবে এই জীবন দিয়ে যদি তাকে অমানুষ হয়ে বাঁচতে হয়
যদি তা স্বার্থপরতা অমানবিকতা আর দাসত্বের শৃঙ্খলে থাকতে হয়?
যদি দুনিয়ার মোহে সত্যকে পায়ে ঠেলতে হয়!
বলতে হয়, “আমার ভয় লাগে!”
সূর্যোদয় হয় আমাদের রাতে
চাঁদের আলোয় ভেসে যায় উইনামের দারুন তীর
ইন্টারনেট ইলেকট্রিসিটি সর্পিল বাঁকে বাঁকে বইতে থাকে অদৃশ্য নদীর মতো।
কিন্তু ভাই, তোমার ওপাশে একটি ব্লাক আউট
আঁকড়ে ধরে রাখে হাহাকারের হৃদয়।
আমরা দেখতে পাইনা তুমি কি করে হয়ে উঠলে
তোমার মাটিতে সম্ভাবনার বদলে একটা প্রচন্ড আক্রোশের শরীর?
বিশ্বাস করো ভাই
তোমাদের অন্ধকার অন্ধকারে মৃত্যু আমাকে অপরাধী করে তোলে প্রতিদিন প্রতিটি সকালে
আমি প্রার্থনার রহস্যে মোড়ানো বিকালে
তোমাদের আত্মত্যাগী হাতে আমার হৃদয় সমর্পণ করি
আর
পাগলের মতো নিজেকে বলি,
হে বাকশক্তি, হে মানুষ নামের কলঙ্ক,
“কথা ক”।
উম্মে সালমা
৩৩ জুলাই ২০২৪
“শেখ আসহাবুল ইয়ামিন তোমাকে ভুলি না।”
জুলাই দুই হাজার চব্বিশ এবং আমাদের নতুন শব্দ
এলোপাথাড়ি
শব্দটা আমার ডিকশনারিতে ছিলো
কখনো ব্যবহার করিনি
গোটা জীবন ভর
এলোপাথাড়ি কিছু ঘটেছিল কি?
বোধহয় না।
যা কিছু ঘটেছিল
কখনো বলেছি সব এলোমেলো
কখনো সব উল্টাপাল্টা
কখনো সব হিজিবিজি
কখনো সব অগোছালো
অথচ এই শব্দটি এখন আমার পিছ ছাড়ে না।
জুলাই আটারো দুই হাজার চব্বিশের পর হতে
যেদিন এলোপাথাড়ি গুলি শুরু হয়
লোকারণ্য গলিতে লোকারণ্য রাজপথে
লোকারণ্য জনবসতির ঢাকায়
ঢাকা
ঐ যে সেই শহরটা
যার নাম ছিল জাহাঙ্গীরনগর
যে ১৯৪৭ এ আগলে ধরেছিল মাইগ্রেন্টদের
সেই… সেই শহরটা
যাকে আমরা পৃথিবীর অন্যতম দূষিত নগরী বলি।
যার নদীগুলো ময়লা পানি আয়রনের মতো লাল
যার বুক চিরে জেলখানার কয়েদীর মতো
রিমান্ডের রশিতে নিত্য ঝুলে থাকে অনেক গুলো ফ্লাইওভার
যেখানে সারি সারি রেস্টুরেন্ট খেতে এসে চিৎকার করতে হয় জীবনের জন্য
যেখানে মেট্রোরেল নামের এক প্রেমিক আছে যার দুঃখের গানে অশ্রু ঝরে কত স্বৈরাচারী চোখে
সেই শহরটায়
এলোপাথাড়ি কুপিয়ে কুপিয়ে জখম করা শহরটায়
এলোপাথাড়ি গুলি
ছররা গুলি ওরা বলে
হেলিকপ্টার থেকে
ট্যাংক থেকে
মানুষের মতো দেখতে একধরণের জন্তুর হাতে থাকা
মরনাস্র হতে।
এই গুলি কাউকে মানে না
বন্ধুর গুলিবিদ্ধ শরীর টানতে থাকা শরীরটাকে খেদিয়ে দেয়
আর জীবন্মৃত মানুষের শরীর হাসতে হাসতে
সেঁধিয়ে দেয়…
কাউকে মারতে এত “মুই কি হনুরে” চেহারা কখনো দেখিনি
কখনো দেখিনি এক উম্মুক্ত পৈশাচিকতা চোখে মুখে শরীরের ভাঁজে ভাঁজে খাঁজে খাঁজে
কখনো দেখিনি কাবিলকে
তার চোখে মুখে ও কি এইসব এইভাবে লেখা ছিল জনশূন্য পৃথিবীতে?
জানিনা জানিনা
শুধু জানি
এই এলোপাথাড়ি মৃত্যু
হানা দিয়েছিল
বারান্দা ছাদ রাস্তায়
সব এক নিমিষেই হয়ে উঠেছিল মরণফাঁদ।
আর তখন
এলোপাথাড়ি এলোপাথাড়ি এলোপাথাড়ি
শব্দটা স্ক্রল করতে করতে
আমার আমাদের মাথায় জায়গা করে নিলো
আর আমাদের
শান্ত শিষ্ট মেয়েটিকে করে তুললো প্রতিবাদী
রাজনীতি না বোঝা গৃহিণীকে বের করে আনলো মিছিলে
মমতাময়ী মাকে বললো ছেলেকে পিঠ চাপড়ে দিতে
সাহসী বোনকে বললো ট্রাকের পথ আগলে দিতে
বন্ধুদের বললো সীসা ঢালা প্রাচীরের মতো সব বাধা ভেঙে শুরু করতে এক শ্রমসাধ্য রক্তমাখা লংমার্চ…
লোকে যেন তাকে বিপ্লব ই বলে। বিপ্লব ই তার নাম।
উম্মে সালমা
২৮/০৭/২০২৪
দি পার্সোনাল ইজ পলিটিক্যাল
একটা দিন
নেপথ্যে এসেছিল
চকবাজারের অন্ধ গলিটায়
মজলুম আমাকে দুমড়েমুচড়ে ছুড়ে মেরেছিল তারা
সেই দালানটার সিঁড়ি তে
অতর্কিতে
আমি দৌড়াতে দৌড়াতে দৌড়াতে
ষোল শহরের ট্রেন ধরেছিলাম
আর বাঁধভাঙা কেঁদেছিলাম।
বাদাম ওয়ালা মামা বলেছিলো
ক্যান কান্দেন?
ফোনের ওপারে জামাই উৎকণ্ঠিত স্বরে বলেছিলো
কি হয়েছে? কন্ঠ এমন কেন?
প্রতিদিনের সহযাত্রী কাঁধে হাত রেখে বলেছিলো,
আজ দিনটা তোমার অন্যরকম।
এরপর থেকে কত রাত আমি ঘুমাতে পারিনি
জুলুমের প্রতিটি শব্দ মিথ্যের প্রতিটি বুলেট
আমাকে আমার ভেতরটা কুরে কুরে যেতো
কোন ওষুধ কোন সিরাপে আমার ব্যথা যন্ত্রণা
সারাতো না।
আমি লম্বা লম্বা পা ফেলে তাদের ছায়া এড়িয়ে যেতাম
আর জায়নামাজে পড়ে পড়ে কাঁদতে কাঁদতে বলতাম,
প্রভু, তুমি আমাকে এত নীচ কেন বানালে
আমি অপমান দুঃখ কষ্ট ভুলতে পারিনা?
প্রভু, কেন আমাকে একটা মেয়ে মানুষ বানালে
যার মাথার ওপরে দুটো মাথা ছোবলাছুবলি করে
কে কত নতজানু নিপীড়িত করতে পারে আমাকে?
প্রভু, কেন তুমি আমাকে এত মায়া দিলে
যা করি যা যা করি যা যা কাজ করি তার জন্য?
রুপালী রাতে নক্ষত্র ঝরে যায়
বহদ্দারহাটের সদরে বাদুড়ের মতো
ঝুলতে থাকে শূন্যতা
আর বাড়তে থাকে মজলুমের সংখ্যা
কান্নার রোল
একদিন প্রতিবাদের ঝড় উঠবে বলে।
একদিন জুলুমের বিচার হবে বলে।
উম্মে সালমা
৭/১২/২০২৪
যখন ফানুস ফুটে যায়
বিপরীত চেনা যায়
কালো/সাদা, আলো/অন্ধকার
বিরোধ চেনা যায়
ঘৃণা দুরত্ব অবহেলা
রাজনীতি চেনা যায়
তর্ক বিতর্ক পছন্দ অপছন্দ
কিন্তু মুনাফিক? মুখে মধু অন্তরে বিষ?
কিভাবে চেনা যায়
কিভাবে বোঝা যায়
চকচকে খোলসের ভেতর এক গাঢ় অন্ধকার?
এই একবাটি সততার সাথে এক টেবিল চামচ লোভ?
অথবা একবাটি লোভের সাথে এক চামচ সততা
এক চামচ মিথ্যা এক চিমটি মানবতা এক খন্ড চাটুকারিতা কয়েকটি ষড়যন্ত্র?
দেখতে খুব সুস্বাদু খুব ইয়ামি আর খেতে ইয়াক?
জীবনের চলন্ত ট্রেনে
তুমি এসব প্রশ্নে
কি নিদারুন চুপচাপ থাকলে বহুদিন
তুমি এসব প্রশ্নে
সময়ের অপচয় বলে জানান দিলে অগুনতি সময়
যতক্ষণ না
এক ধূলোউড়া দিনে
আমি ঘরে ফিরলাম
ক্ষতবিক্ষত পিঠ আর রক্তাক্ত কষ্টার্ত হৃদয় নিয়ে
আর তোমার হাতে সোপর্দ করলাম
আমার অজ্ঞানতার অন্ধকার!
“জানি আমি জানি জানি চোরাবালি কতখানি…”
উম্মে সালমা
৮/০৭/২০২৪
মধ্যরাতের ব্রিসবেন নদীটির তীরে
চুপচাপ বসে থাকি অন্ধকারে ব্রিজবেন নদীটার কাছে
চুপচাপ শুনি শুধু জলের শব্দ
সর সর সর সর
এ জীবনের কলরব
এ জীবনের লেনা দেনা ব্যাথার উৎসব
কবে হবে শেষ?
শান্ত অশেষ?
কবে আমি পাড়ি দেবো অসীমের পথে
হাতে নিয়ে ভরপুর কিছু
যেন সে না ফেরায় আমারে খুব ভালোবেসে।
চুপচাপ বসে থাকি ব্রিসবেন নদীটির পাশে
এখন মধ্য রাত
জীবনানন্দের পঞ্চমীর চাঁদ নেই মাথার উপরে
অসংখ্য তারারা শুধু জ্বল জ্বল করে
অসংখ্য নক্ষত্র শুধু একা একা সরে সরে আসে
এই সুন্দর এই অসাধারণ আলো আর আলো
এক নজরে যেন মনটা কেমন জুড়ালো
আহা, এই গভীর রাতে
এই তীব্র শীতে
উড়ে যাক যতসব অপ্রয়োজনীয় শংকা
বসে বসে শুধু শুধু ভাবি
এই হাতে কে দেবে স্বপ্নের চাবি
রক্তাক্ত জুলাই শেষে আশা-নিরাশার সেপ্টেম্বরে
এরপর শুধু
নীরব মাঠের পথে হেঁটে যাবো আলোক প্রতিভু।
উম্মে সালমা
১০/০৯/২০২৪
জন জিজ্ঞাসা জন জীঘাংসা
আমাদের বুক যখন ক্ষত বিক্ষত হতো
প্রতিদিন প্রতিটি মূহুর্ত
তোমাদের চোখে মুখে জাগতো এক পরম তৃপ্তি
আমাদের চোখগুলো যখন কাঁদতে কাঁদতে
কিংবা মান অপমানের ভয়ে কান্না শুকোতে শুকোতে
দেহের মৃদু কাঁপুনিতে জমা হতো
তোমাদের চলতো অভিসারের আনন্দ উপভোগ
আমাদের কষ্টগুলো যখন চাপতে গিয়েও অনুরণিত হতো চকবাজার কিংবা চট্টগ্রামের কোন যানজট ওয়ালা মোড়ে
দিনটা তোমাদের সুন্দর যেতো।
আমরা কি মানুষ ছিলাম?
আমাদের কি দোষ ছাড়া কোন গুন ছিলো?
আমাদের কি অপমানের ভয় ছাড়া কোন ভাষা ছিলো?
আমাদের কি ফাসাদের দৃশ্য ছাড়া আর কিছু দেখার ছিল?
আর এইসব প্রশ্নের উত্তর হীন পৃথিবীতে থাকতে থাকতে আমাদের কি ভাবতে হতো
আমরা জন্ম ই নিয়েছিলাম
পিষ্ঠ হবো বলে পদাধীকার শক্তির রোলার কোস্টারে?
বিশ্বাস কর নীলা
সেদিনের রাত ও ছিলো আজকের মতো শীতার্ত
কুয়াশায় ঘিরে রেখেছিল সারাটা গ্রাম
বাংলাদেশের কোন পুকুর ধারে লেবুর তলে সেদিনো
থোকায় থোকায় জ্বলছিল একঝাঁক জোনাক
কিন্তু কেউ দেখছিলো না
আলো নয় মিছে শত্রুতার আগুনে
জ্বলতে জ্বলতে কিছু জোনাক কি অঙার হয়ে উঠছে
কেউ বলছিলো না একগ্লাস যমযম পানি দিয়ে ধুয়ে দিই
তাদের প্রভূত অপমান দুঃখ কষ্ট যন্ত্রণা
কেউ বলছিলো না এ পৃথিবীতে ন্যায়ের পক্ষে কথা বলা প্রতিটি মানুষের কর্তব্য
তোমরা অসৎ কাজে নিষেধ করো
দয়া করে..
আজকের পট পরিবর্তন
জুলুম
মজলুম
মব জাষ্টিস
ন্যায়বিচার
এই শব্দগুলোর পুনঃ পুনঃ প্রকাশ এবং উচ্চারণ
তাই আমাকে অবাক করে
আমি বুঝতে পারি না
এতদিন আমরা কোথায় ছিলাম?
এতদিন কোন অদৃশ্য নদী আমাদের ভেতরের
সব ন্যায় বোধ ভাটির টানে সরিয়ে নিয়ে গিয়েছিলো?
কোথায় ছিল কোনটি প্রতিশোধ আর কোনটা ন্যায়বিচার এই সাংস্কৃতিক চর্চা?
নীলা বল
আজ তুমি আঘাত প্রাপ্ত মানুষদের ক্ষোভ কি করে ব্যখ্যা করবে ?
কি করে তাদের প্রতি হোয়া প্রতিটি অন্যায় অবিচারের সুবিচার করবে?
তাদের বলবে এখানে সীমারেখা টেনে দিলাম
থেমে যাও?
প্রিয় বন্ধু আমার,
সন্ধ্যা গড়িয়ে পড়ছে
চায়ের কাপে জমছে তর্কের বিষন্নতা
কনডেন্সড মিল্কের মতো থিতু হচ্ছেনা দুঃখ
ঠিক এই সময়ে বলো বলে যাও
কেমন করে আমরা
ক্ষমার আর উদারতার বয়ান করি?
কেমন করে বয়ে বেড়াই
শতাব্দীর বড্ড কঠিন বড্ড অমীমাংসিত প্রশ্নদের?
উম্মে সালমা
১৩/১০/২০২৪
