খুব বেশী মেঘ জমে
খুব বেশী কালো
আমি জানি তুমি নেই
একটুও ভালো
আমি জানি তোমরা নেই
একটুও ভালো
বুলেটে বিসর্জন দিয়ে
দু চোখের আলো
বুলেটে বিসর্জন?
শুধু তাই নয়
সারপ্নেলের এ শরীরে
জীবন সংশয়
শত শত মুখ চোখ হাত পেট
মাথার খুলিতে
ক্ষত বিক্ষত এ শরীরগুলো
এ কেমন গুলিতে
অথবা
পড়ে আছো মরে আছো
এমন কোমায়
সভ্যতা নাশকারী জীবন হরণকারী
ভয়ানক বোমায়
আর ওদিকে...
সারাদিন ওরা থাকে
মতের অমিলে
কথার পাহাড় গড়ে
এ ওকে ছিলে
ভালোর চিন্তা নেই
ভালো আছে বলে
নিজেদের হিস্যা ই চায়
রাজ কৌশলে?
সবসময় তাই (আমি এই ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র)
অপরাধী হয়ে যাই
বেঁচে থাকার কষ্টে
হারাই হারাই
সবসময় তাই
সব সকাল ভাই
সময়ের কাছে
হেরে হেরে যাই
এমন অস্ত্র কেন মানুষ বানালো
এই প্রশ্নের কাছে খেই ই হারাই
এমন অস্ত্র কেন মানুষ চালায়
উত্তরহীন প্রশ্নে শুধু খুব তড়পাই
উম্মে সালমা
২৮/১০/২০২৪
Category: Poems
বিষন্ন/প্রসন্ন ইতিহাসের পাঠ
অন্যায় অবিচারে যখন দেশ ছেয়ে গেলো
এবং নানা ধরনের জুলুম নির্যাতন যখন হয়ে উঠলো নিত্যদিনের রুচি
ঠিক তখনই “কি পাবো কাল?” সেই কথা বিবেচনা না করে তরতাজা যুবকেরা এক সতীর্থ কুকুর নিয়ে জনপদ ছেড়ে বেরিয়ে এসেছিলেন
যেতে যেতে আশ্রয় নিয়েছিলেন দুর্গম গুহায়
সূর্য যার দরোজা কখনো স্পর্শ করেনি
উদয়ের সময় সে হেলে যেতো ডানে
অস্তের সময় বামে
এক সুদীর্ঘ ঘুম তাদের আচ্ছন্ন করে রাখলো শত শত বছর…
এইরকম গল্পের প্রহর ছিলো সেদিন মনে আছে? নীলা?
মনে আছে গভীর শীতে জড়ানো শাল
এক প্রস্থ নীলাকাশ অনেকগুলো বেঞ্চ টেবিল
আর দেয়াল জুড়ে সাদা বোর্ড কয়েকটি সুগন্ধি মার্কার
আমার হৃদয় ছিলো উদ্বেলিত
চোখে অশ্রু
একটা কি এক অদ্ভুত আত্মিক শক্তির উদ্দীপনায়
আমি আমরা হয়ে উঠেছিলাম একটা পরশ পাথর।
কিন্তু…
একটি ক্ষুধার্ত স্বৈরাচারী বাঘ এসে আমাদের সেসব দিন কেমন করে যেন অচিরেই খেয়ে নিল
স্লাইমের মতো একটু একটু করে অন্যায় অবিচার করার তীব্র আকাঙ্ক্ষা দুর্নিবার লোভ আমাদের হৃদয় ছেয়ে নিলো
আমরা ভুলে গেলাম
অন্যায়ের দিন গুহাবাসী হতে হয়
পালিয়ে যেতে হয় জনপদ হতে
বেছে নিতে হয় কৃচ্ছতা সাধন আর জৌলুসহীন পৃথিবী
নীলা চোখ মোছ প্লীজ
রঙবদলের খেলায় বার বার রঙিন হয়ে ওঠা
সেই শহরটার জন্য
সেই জনপদে লোভ হিংসা আর দুর্নীতিভরা ছায়াদের জন্য কেঁদো না।
আজ বড্ড কঠিন সময়।
আজ অনেক ভালো বাবারা শত শত ছাত্র-জনতার খুনী
আজ অনেক ভালো ভাইয়েরা লুটেরা আর অসৎ
আজ অনেক ভালো শিক্ষকেরা দখলদারদের দোসর
আজ অনেক ভালো নেতাদের হাতে সম্পদের পাহাড়
আজ অনেক ভালো সৈনিকের হাতে আয়না ঘরের চাবি
এইসব ভালো দিয়ে তুমি কি করবে
যার জায়গা শুধুই তোমার জন্য
এই সব ভালো দিয়ে তুমি কি করবে
যেই ভালো শুধু আমি আমি আর আমিময়?
এই সব ভালো দিয়ে তুমি কি করবে
যেখানে অন্যের মাংস খেয়ে প্রতিদিন বেড়ে ওঠে একদল মুনাফিক
খাবলে খুলবে খায় প্রতিদিনের স্বস্তি?
চেয়ে দেখো নীলা
আকাশটা আজ বড্ড রঙধনুময়
কয়েকটি পাখি খেলা করছে লালঝুটিওয়ালা মোরগের মাথায়
সমুদ্রের ঢেউ একটার পর একটা না-বিভাজনের
আলাপ তুলছে
মোবাইলে ভেসে উঠছে লাইকের নোটিফিকেশন
জীবন সুন্দর
সুন্দর রাঢ় থেকে বাংলা থেকে চীন থেকে ফিলিস্তিন
সুন্দর হিউয়েন সাঙের মতো পৃথিবী পাঠ
আর যেতে যেতে দেখা
সময়ে সময়ে মানুষের ন্যায়বোধের চর্চা
এমন ন্যায় বোধ
যেখানে ন্যায় মানেই আমি তুমি সে, আমরা সবাই…
আমরাময়তা উইদাউট দি আদার।
উম্মে সালমা
২২/১০/২০২৪, টুঅং
একটি স্বার্থপর, অমানুষের পদ্য
পুলিশ ভ্যান থেকে ময়লা আবর্জনার মতো
জীবন্ত তোমাকে ফেলে দিয়ে ফেলে গেলো যেদিন
জেনে নিও
সেদিন আমি আমার খোলস ছেড়ে বেরিয়ে এলাম
একটা চকচকে খোলস যা আমার টুঁটি চেপে ধরেছিল
যা আমার সামনে তুলে ধরেছিল একটি রেশমের পর্দা
আমাকে করেছিল একটি ভয়ার্ত ছুঁচো ।
বিশ্বাস করো ভাই,
যেদিন পুলিশ ভ্যান থেকে তোমার মতো
জীবন্ত যৌবনকে ক্ষত বিক্ষত করে করে
ব্যবহৃত স্লাইমের মতো ছুঁড়ে ফেলে দিয়েছিল
আমি কিন্তু একটু কাঁদিনি।
আমি শুধু আমার চারপাশের লেপামোছা দেয়াল দুহাতে ভেঙে চিৎকার করে বলেছিলাম
কি হবে এই জীবন দিয়ে যদি তাকে অমানুষ হয়ে বাঁচতে হয়
যদি তা স্বার্থপরতা অমানবিকতা আর দাসত্বের শৃঙ্খলে থাকতে হয়?
যদি দুনিয়ার মোহে সত্যকে পায়ে ঠেলতে হয়!
বলতে হয়, “আমার ভয় লাগে!”
সূর্যোদয় হয় আমাদের রাতে
চাঁদের আলোয় ভেসে যায় উইনামের দারুন তীর
ইন্টারনেট ইলেকট্রিসিটি সর্পিল বাঁকে বাঁকে বইতে থাকে অদৃশ্য নদীর মতো।
কিন্তু ভাই, তোমার ওপাশে একটি ব্লাক আউট
আঁকড়ে ধরে রাখে হাহাকারের হৃদয়।
আমরা দেখতে পাইনা তুমি কি করে হয়ে উঠলে
তোমার মাটিতে সম্ভাবনার বদলে একটা প্রচন্ড আক্রোশের শরীর?
বিশ্বাস করো ভাই
তোমাদের অন্ধকার অন্ধকারে মৃত্যু আমাকে অপরাধী করে তোলে প্রতিদিন প্রতিটি সকালে
আমি প্রার্থনার রহস্যে মোড়ানো বিকালে
তোমাদের আত্মত্যাগী হাতে আমার হৃদয় সমর্পণ করি
আর
পাগলের মতো নিজেকে বলি,
হে বাকশক্তি, হে মানুষ নামের কলঙ্ক,
“কথা ক”।
উম্মে সালমা
৩৩ জুলাই ২০২৪
“শেখ আসহাবুল ইয়ামিন তোমাকে ভুলি না।”
জুলাই দুই হাজার চব্বিশ এবং আমাদের নতুন শব্দ
এলোপাথাড়ি
শব্দটা আমার ডিকশনারিতে ছিলো
কখনো ব্যবহার করিনি
গোটা জীবন ভর
এলোপাথাড়ি কিছু ঘটেছিল কি?
বোধহয় না।
যা কিছু ঘটেছিল
কখনো বলেছি সব এলোমেলো
কখনো সব উল্টাপাল্টা
কখনো সব হিজিবিজি
কখনো সব অগোছালো
অথচ এই শব্দটি এখন আমার পিছ ছাড়ে না।
জুলাই আটারো দুই হাজার চব্বিশের পর হতে
যেদিন এলোপাথাড়ি গুলি শুরু হয়
লোকারণ্য গলিতে লোকারণ্য রাজপথে
লোকারণ্য জনবসতির ঢাকায়
ঢাকা
ঐ যে সেই শহরটা
যার নাম ছিল জাহাঙ্গীরনগর
যে ১৯৪৭ এ আগলে ধরেছিল মাইগ্রেন্টদের
সেই… সেই শহরটা
যাকে আমরা পৃথিবীর অন্যতম দূষিত নগরী বলি।
যার নদীগুলো ময়লা পানি আয়রনের মতো লাল
যার বুক চিরে জেলখানার কয়েদীর মতো
রিমান্ডের রশিতে নিত্য ঝুলে থাকে অনেক গুলো ফ্লাইওভার
যেখানে সারি সারি রেস্টুরেন্ট খেতে এসে চিৎকার করতে হয় জীবনের জন্য
যেখানে মেট্রোরেল নামের এক প্রেমিক আছে যার দুঃখের গানে অশ্রু ঝরে কত স্বৈরাচারী চোখে
সেই শহরটায়
এলোপাথাড়ি কুপিয়ে কুপিয়ে জখম করা শহরটায়
এলোপাথাড়ি গুলি
ছররা গুলি ওরা বলে
হেলিকপ্টার থেকে
ট্যাংক থেকে
মানুষের মতো দেখতে একধরণের জন্তুর হাতে থাকা
মরনাস্র হতে।
এই গুলি কাউকে মানে না
বন্ধুর গুলিবিদ্ধ শরীর টানতে থাকা শরীরটাকে খেদিয়ে দেয়
আর জীবন্মৃত মানুষের শরীর হাসতে হাসতে
সেঁধিয়ে দেয়…
কাউকে মারতে এত “মুই কি হনুরে” চেহারা কখনো দেখিনি
কখনো দেখিনি এক উম্মুক্ত পৈশাচিকতা চোখে মুখে শরীরের ভাঁজে ভাঁজে খাঁজে খাঁজে
কখনো দেখিনি কাবিলকে
তার চোখে মুখে ও কি এইসব এইভাবে লেখা ছিল জনশূন্য পৃথিবীতে?
জানিনা জানিনা
শুধু জানি
এই এলোপাথাড়ি মৃত্যু
হানা দিয়েছিল
বারান্দা ছাদ রাস্তায়
সব এক নিমিষেই হয়ে উঠেছিল মরণফাঁদ।
আর তখন
এলোপাথাড়ি এলোপাথাড়ি এলোপাথাড়ি
শব্দটা স্ক্রল করতে করতে
আমার আমাদের মাথায় জায়গা করে নিলো
আর আমাদের
শান্ত শিষ্ট মেয়েটিকে করে তুললো প্রতিবাদী
রাজনীতি না বোঝা গৃহিণীকে বের করে আনলো মিছিলে
মমতাময়ী মাকে বললো ছেলেকে পিঠ চাপড়ে দিতে
সাহসী বোনকে বললো ট্রাকের পথ আগলে দিতে
বন্ধুদের বললো সীসা ঢালা প্রাচীরের মতো সব বাধা ভেঙে শুরু করতে এক শ্রমসাধ্য রক্তমাখা লংমার্চ…
লোকে যেন তাকে বিপ্লব ই বলে। বিপ্লব ই তার নাম।
উম্মে সালমা
২৮/০৭/২০২৪
দি পার্সোনাল ইজ পলিটিক্যাল
একটা দিন
নেপথ্যে এসেছিল
চকবাজারের অন্ধ গলিটায়
মজলুম আমাকে দুমড়েমুচড়ে ছুড়ে মেরেছিল তারা
সেই দালানটার সিঁড়ি তে
অতর্কিতে
আমি দৌড়াতে দৌড়াতে দৌড়াতে
ষোল শহরের ট্রেন ধরেছিলাম
আর বাঁধভাঙা কেঁদেছিলাম।
বাদাম ওয়ালা মামা বলেছিলো
ক্যান কান্দেন?
ফোনের ওপারে জামাই উৎকণ্ঠিত স্বরে বলেছিলো
কি হয়েছে? কন্ঠ এমন কেন?
প্রতিদিনের সহযাত্রী কাঁধে হাত রেখে বলেছিলো,
আজ দিনটা তোমার অন্যরকম।
এরপর থেকে কত রাত আমি ঘুমাতে পারিনি
জুলুমের প্রতিটি শব্দ মিথ্যের প্রতিটি বুলেট
আমাকে আমার ভেতরটা কুরে কুরে যেতো
কোন ওষুধ কোন সিরাপে আমার ব্যথা যন্ত্রণা
সারাতো না।
আমি লম্বা লম্বা পা ফেলে তাদের ছায়া এড়িয়ে যেতাম
আর জায়নামাজে পড়ে পড়ে কাঁদতে কাঁদতে বলতাম,
প্রভু, তুমি আমাকে এত নীচ কেন বানালে
আমি অপমান দুঃখ কষ্ট ভুলতে পারিনা?
প্রভু, কেন আমাকে একটা মেয়ে মানুষ বানালে
যার মাথার ওপরে দুটো মাথা ছোবলাছুবলি করে
কে কত নতজানু নিপীড়িত করতে পারে আমাকে?
প্রভু, কেন তুমি আমাকে এত মায়া দিলে
যা করি যা যা করি যা যা কাজ করি তার জন্য?
রুপালী রাতে নক্ষত্র ঝরে যায়
বহদ্দারহাটের সদরে বাদুড়ের মতো
ঝুলতে থাকে শূন্যতা
আর বাড়তে থাকে মজলুমের সংখ্যা
কান্নার রোল
একদিন প্রতিবাদের ঝড় উঠবে বলে।
একদিন জুলুমের বিচার হবে বলে।
উম্মে সালমা
৭/১২/২০২৪
যখন ফানুস ফুটে যায়
বিপরীত চেনা যায়
কালো/সাদা, আলো/অন্ধকার
বিরোধ চেনা যায়
ঘৃণা দুরত্ব অবহেলা
রাজনীতি চেনা যায়
তর্ক বিতর্ক পছন্দ অপছন্দ
কিন্তু মুনাফিক? মুখে মধু অন্তরে বিষ?
কিভাবে চেনা যায়
কিভাবে বোঝা যায়
চকচকে খোলসের ভেতর এক গাঢ় অন্ধকার?
এই একবাটি সততার সাথে এক টেবিল চামচ লোভ?
অথবা একবাটি লোভের সাথে এক চামচ সততা
এক চামচ মিথ্যা এক চিমটি মানবতা এক খন্ড চাটুকারিতা কয়েকটি ষড়যন্ত্র?
দেখতে খুব সুস্বাদু খুব ইয়ামি আর খেতে ইয়াক?
জীবনের চলন্ত ট্রেনে
তুমি এসব প্রশ্নে
কি নিদারুন চুপচাপ থাকলে বহুদিন
তুমি এসব প্রশ্নে
সময়ের অপচয় বলে জানান দিলে অগুনতি সময়
যতক্ষণ না
এক ধূলোউড়া দিনে
আমি ঘরে ফিরলাম
ক্ষতবিক্ষত পিঠ আর রক্তাক্ত কষ্টার্ত হৃদয় নিয়ে
আর তোমার হাতে সোপর্দ করলাম
আমার অজ্ঞানতার অন্ধকার!
“জানি আমি জানি জানি চোরাবালি কতখানি…”
উম্মে সালমা
৮/০৭/২০২৪
মধ্যরাতের ব্রিসবেন নদীটির তীরে
চুপচাপ বসে থাকি অন্ধকারে ব্রিজবেন নদীটার কাছে
চুপচাপ শুনি শুধু জলের শব্দ
সর সর সর সর
এ জীবনের কলরব
এ জীবনের লেনা দেনা ব্যাথার উৎসব
কবে হবে শেষ?
শান্ত অশেষ?
কবে আমি পাড়ি দেবো অসীমের পথে
হাতে নিয়ে ভরপুর কিছু
যেন সে না ফেরায় আমারে খুব ভালোবেসে।
চুপচাপ বসে থাকি ব্রিসবেন নদীটির পাশে
এখন মধ্য রাত
জীবনানন্দের পঞ্চমীর চাঁদ নেই মাথার উপরে
অসংখ্য তারারা শুধু জ্বল জ্বল করে
অসংখ্য নক্ষত্র শুধু একা একা সরে সরে আসে
এই সুন্দর এই অসাধারণ আলো আর আলো
এক নজরে যেন মনটা কেমন জুড়ালো
আহা, এই গভীর রাতে
এই তীব্র শীতে
উড়ে যাক যতসব অপ্রয়োজনীয় শংকা
বসে বসে শুধু শুধু ভাবি
এই হাতে কে দেবে স্বপ্নের চাবি
রক্তাক্ত জুলাই শেষে আশা-নিরাশার সেপ্টেম্বরে
এরপর শুধু
নীরব মাঠের পথে হেঁটে যাবো আলোক প্রতিভু।
উম্মে সালমা
১০/০৯/২০২৪
জন জিজ্ঞাসা জন জীঘাংসা
আমাদের বুক যখন ক্ষত বিক্ষত হতো
প্রতিদিন প্রতিটি মূহুর্ত
তোমাদের চোখে মুখে জাগতো এক পরম তৃপ্তি
আমাদের চোখগুলো যখন কাঁদতে কাঁদতে
কিংবা মান অপমানের ভয়ে কান্না শুকোতে শুকোতে
দেহের মৃদু কাঁপুনিতে জমা হতো
তোমাদের চলতো অভিসারের আনন্দ উপভোগ
আমাদের কষ্টগুলো যখন চাপতে গিয়েও অনুরণিত হতো চকবাজার কিংবা চট্টগ্রামের কোন যানজট ওয়ালা মোড়ে
দিনটা তোমাদের সুন্দর যেতো।
আমরা কি মানুষ ছিলাম?
আমাদের কি দোষ ছাড়া কোন গুন ছিলো?
আমাদের কি অপমানের ভয় ছাড়া কোন ভাষা ছিলো?
আমাদের কি ফাসাদের দৃশ্য ছাড়া আর কিছু দেখার ছিল?
আর এইসব প্রশ্নের উত্তর হীন পৃথিবীতে থাকতে থাকতে আমাদের কি ভাবতে হতো
আমরা জন্ম ই নিয়েছিলাম
পিষ্ঠ হবো বলে পদাধীকার শক্তির রোলার কোস্টারে?
বিশ্বাস কর নীলা
সেদিনের রাত ও ছিলো আজকের মতো শীতার্ত
কুয়াশায় ঘিরে রেখেছিল সারাটা গ্রাম
বাংলাদেশের কোন পুকুর ধারে লেবুর তলে সেদিনো
থোকায় থোকায় জ্বলছিল একঝাঁক জোনাক
কিন্তু কেউ দেখছিলো না
আলো নয় মিছে শত্রুতার আগুনে
জ্বলতে জ্বলতে কিছু জোনাক কি অঙার হয়ে উঠছে
কেউ বলছিলো না একগ্লাস যমযম পানি দিয়ে ধুয়ে দিই
তাদের প্রভূত অপমান দুঃখ কষ্ট যন্ত্রণা
কেউ বলছিলো না এ পৃথিবীতে ন্যায়ের পক্ষে কথা বলা প্রতিটি মানুষের কর্তব্য
তোমরা অসৎ কাজে নিষেধ করো
দয়া করে..
আজকের পট পরিবর্তন
জুলুম
মজলুম
মব জাষ্টিস
ন্যায়বিচার
এই শব্দগুলোর পুনঃ পুনঃ প্রকাশ এবং উচ্চারণ
তাই আমাকে অবাক করে
আমি বুঝতে পারি না
এতদিন আমরা কোথায় ছিলাম?
এতদিন কোন অদৃশ্য নদী আমাদের ভেতরের
সব ন্যায় বোধ ভাটির টানে সরিয়ে নিয়ে গিয়েছিলো?
কোথায় ছিল কোনটি প্রতিশোধ আর কোনটা ন্যায়বিচার এই সাংস্কৃতিক চর্চা?
নীলা বল
আজ তুমি আঘাত প্রাপ্ত মানুষদের ক্ষোভ কি করে ব্যখ্যা করবে ?
কি করে তাদের প্রতি হোয়া প্রতিটি অন্যায় অবিচারের সুবিচার করবে?
তাদের বলবে এখানে সীমারেখা টেনে দিলাম
থেমে যাও?
প্রিয় বন্ধু আমার,
সন্ধ্যা গড়িয়ে পড়ছে
চায়ের কাপে জমছে তর্কের বিষন্নতা
কনডেন্সড মিল্কের মতো থিতু হচ্ছেনা দুঃখ
ঠিক এই সময়ে বলো বলে যাও
কেমন করে আমরা
ক্ষমার আর উদারতার বয়ান করি?
কেমন করে বয়ে বেড়াই
শতাব্দীর বড্ড কঠিন বড্ড অমীমাংসিত প্রশ্নদের?
উম্মে সালমা
১৩/১০/২০২৪
আমাদের ভালো থাকা
ভালোবাসা গুলো একটু একটু করে ক্ষয়ে ক্ষয়ে যায় দুশ্চিন্তার আড়ালে
কেউ বলে না
“ম্যারি ম্যারি হোল্ড অন টাইট।”
কেউ বলে না
“হাল ধরে থাকো” ।
তোমার আমার ভালো থাকা
সুখের সময়ে
খুব একটা কি ঝক্কির?
তখনতো ছোট্ট একটি ঘাসফুলের মাড়ানোর স্পর্ধা
কিংবা একটা বাটি তরকারি গরমে নষ্ট হোয়া
কিছু ম্যাটার করেনা।
জাকারানডার বেগুনি বেগুনি রশ্মির মতো
প্রাপ্তি আর প্রাপ্তির জৌলুসে
ছেয়ে থাকা যায় বিমুগ্ধ ডিজিটাল রাত দিন…
কিন্তু
ব্যর্থতার ঘন্টা গুলো
নতমুখে না না না না না
নিয়ে বার বার বিফলে যাওয়া প্রতিটি মূহুর্ত?
ভালো থাকা আড়ালে ক্ষয়ে ক্ষয়ে যায়
একসময় সামনে দিয়ে হাতি চলে আমরা
কি ভীষণ রিএক্ট করি
পেছন দিয়ে একটা পিঁপড়া হেঁটে গেল বলে
কাঁচের চুড়ি
সোনালী চশমা
কাউবয় হ্যাট
অসহায়ের মতো পড়ে থাকে
আমাদের সহমর্মিতার হাত তাদের উঠিয়ে নিয়ে বলে না
“সিজ দ্যা ডে” ।
উম্মে সালমা
২৯/০৯/২০২৪
বেঁচে আছি বেঁচে থেকে
এখনো আকাশের দিকে তাকাতে মন চায়
কাত করে মাথাটাকে
সবুজ একটি মাত্র গাছ দেখতে মন চায়
ভালোলাগে বিনষ্ট হলুদে এখনো হলুদ হয়ে যাইনি ভেবে।
খুব দ্রুত চলে যায় পার হয়ে একে একে
অন্য আরো রিকশা, গাড়ি, বোঝাই ভ্যান...।
কিভাবে যে কুলকুল করে শুনতে পাই
বুকের নাব্য নদীর মোহনার সুর
সবাই সান্ত্বনা দেয় --জটিল জীবন পেয়েও
সহজ সুখের ধ্যান করো না!
পৃথিবী সহজ চোখে দেখি
তবুও মিষ্টির দোকানের প্যাঁচানো মিষ্টান্নটি
কিংবা পত্রিকার পাতার জড়ানো রেখাটানা মেইজ সে
অথবা নীড়ের পাখির কাছে হঠাৎ মধ্যরাতে ঝড়।
উম্মে সালমা
২১/০৯/১৯৯৮

