অনেক হয়েছে রাত
অনেক বেড়েছে দিন
অনেকটুকু বারিপাতে
হৃদয়ের মাঝে
ভেতরে ভেতরে
নতুন কিছু সুখ আড়িপাতে ।
উম্মে সালমা
লেখার সময়কাল: ২০০৭
ছবি: মূল লেখার ছবি
Category: Poems
পরমাণু ভাবনা
সেই পাঁচদিন
নেট বিহীন
কেমন করে ছিলা,
নীলা?
সেই ছয়জন
আটক যখন
জমেনি কি চোখে
অণু অণু শীলা ?
একটুকু ভুল
ভুলের মাশুল
ঘৃণা আর বিচ্ছেদ
যদি হয়
হাতে হাতে
হাঁটলেই
কাদা পানি
ঘাঁটলেই
বলো না তাকে
প্রেম, বলিও প্রলয়।
উম্মে সালমা
১৩/১১/২০২৪
Poems on July Revolution
হিসাব নিকাশের কাঠগড়ায়
পবিত্রতার আলো দিয়ে গড়িয়ে দিলাম তোকে
অন্ধকারে ডাকতে চায় কোন সে
ভদ্দরলোকে?
রুপ যা আছে নষ্ট আর নষ্টামীতে ভরা
লোভ দেখিয়ে ঘরে আনে
প্রেম খেলার এক জ্বরা
উপর থেকে নীচতক বড্ড ভীষণ ক্ষুধা
সমাজ সংসার খেয়ে নেবে সাথে বসুন্ধরা
আর ওদিকে একটি দল এমন এমনতরো
সব দিয়ে দেয় নেক কাজে
দিতে চায় আরো
খুলবে যখন কাঠগড়া দাঁড়াবো যখন গিয়ে
বলবো প্রভু যে কেড়েছে আমার পৃথি
রঙিন রুপ দিয়ে
ফিরিয়ে দাও ওসব কিছু আমার সকল দেনা
বুঝুক আজ পঁচা মাংসের স্বাদ কেমন চেনা!
উম্মে সালমা
18 November 2024
একেক দিন মনে হয়
একটি শান্ত সকাল।
ইলশে গুঁড়ি বৃষ্টি।
মৃদু মন্দ হাওয়া।
পাখির কিচিরমিচির।
কুকুরের ডাক।
একজন প্রিয়জন।
মায়াবী সন্তান।
একটি পরিবার।
পাশাপাশি বসে থাকা।
কমলা ফুল।
ফুটছে ঝরছে ।
নদীর তিরতির জল।
ঘাটে নৌকা।
কার্পেট-সবুজ ঘাস।
একজন তুমি।
একজটলা তোমরা।
একসাথে আনারবিচি।
একেক দিন মনে হয় এটাই জীবন।
একেক দিন মনে হয় এটাই নিয়ামত।
একেক দিন মনে হয় এভাবেই মৃত্যু আসুক
দরজা খুলে আঙুলে আঙুল দিয়ে
দূত মিষ্টি করে বলুক, চল, ঢের হয়েছে।
এরপর
এরকম কার্পেট সবুজ ঘাসের নীচে
আমি
ঘুমিয়ে থাকি অনন্তকাল।
কষ্ট নেই ব্যথা নেই চিন্তা নেই।
হারাবার ভয় নেই।
একটি দরজা।
হু হু শীতাতপ বাতাস।
কোমল বিছানা।
নূর হয়ে ওঠা সূরার সঙ্গ।
প্রভুর আপ্যায়ন।
একেক দিন মনে হয় এটাই জীবন
একেক দিন মনে হয় এটাই নিয়ামত
একেক দিন মনে হয় এভাবেই নবজীবন শুরু হোক
কাউসারের গ্লাস হাতে নিয়ে
দূত ভালোবেসে বলুক, এসো, ঢের হয়েছে।
এরপর
বাতাসে আনন্দ ।
তলদেশে ঝরণাধারা।
সুসজ্জিত ঘর।
প্রভুর দিদার।
একজন তুমি।
একজটলা তোমরা।
একেক দিন পৃথিবীর প্রিয় ভালোবাসাদের সাথে খুনসুটি।
উম্মে সালমা
২০/১১/২০২৪
প্যারাডক্স
চোখ ঘুম ঘুম রাতের কুসুম ফেটে পড়ে
চারপাশে অগুনতি ঘাসে
এর মাঝে হাওয়া বিরাট বেহায়া খুলে দেয়
চিৎকার আমাদের শ্বাসে
দূর থেকে দেখি কাছ থেকে শুনি
কান্না মৃত্যু বিলাসী স্ক্রিন
কিবোর্ড খুলে আঙুলে আঙুলে
এক দুই তিন চার
হাজার হাজার কে আর গুণি?
বার বার বার বার নেড়া বেল তলায়
যায় মাথাটা ফাটায়
বার বার বার বার পথগুলো বহু হয়
লাল থেকে লাশ হয়
বিভাজনের দরোজায় দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে
রাজনীতি সমাজনীতি
সোফানিসবার মতো রাক্ষুসী হয়
গয়নার ঝলক ফেলে বহুরুপী মাঝরাতে
রক্ত খেয়ে খেয়ে বেঁচে বর্তে রয়
চোখ ঘুম ঘুম ফুলপরী চুম গলে পড়ে
গালে নীরবে নিরলে
এর মাঝে হাওয়া বড়ো অপয়া তুলে দেয়
চিৎকার দ্রোহী করতলে।
উম্মে সালমা
১২/১১/২০২৪
যুদ্ধ শেষ হলে সবাই বাড়ি ফিরতে পারে না
যুদ্ধ শেষ হলে সবাই বাড়ি ফিরতে পারে না
যুদ্ধ শেষ হলে একটা লাগেজ গুছিয়ে একদিন সকালে বলা যায় না, আমি আসছি।
যাপন করে আসা জীবন প্লাষ্টিকের গ্লাসের মতো বিনে ফেলে দেয়া যায় না
অনলাইন খুঁজে খুঁজে সবচেয়ে সস্তা টিকিট কিনে
বিমানের ফ্লাইট ধরার জন্য
উবার কল করা যায় না
মেয়েকে বলা যায় না তুই থাক আমি যাচ্ছি
সঙ্গীকে বোঝানো যায় না দেশ আমায় ডাকছে
লাইভে হাসতে হাসতে বলা যায় না
ভ্রাতা ভগিণীগণ মহোদয় মহোদয়া
দেশের মাটিতে দেখা হচ্ছে খুব শিগগিরই
যুদ্ধ শেষ হলে সব যোদ্ধা ঘরে ফিরতে পারে না
সব যোদ্ধা লজ্জা শরমের মাথা খেয়ে বলতে পারে না
যুদ্ধ করতে করতে ক্লান্ত আমি
বলতে পারে না টিউব ওয়েলের ঠান্ডা এক কোট্টা পানি খাব দেশে গিয়ে
বলতে পারা যায় না
ভাইগণ বন্ধুগণ, আমি অধিকারের ফেরী ওয়ালা
আপনাদের কাছে বেচবো ন্যায়ের গান
দেশমাতৃকার উনুনে রাঁধা হবে যে এক ঢেগ ভাত আর ইলিশের দোপেঁয়াজা
সেটা আমরা ভায়ে ভায়ে বোনে বোনে ভাগ করে খাবো
যুদ্ধ যখন শুরু হলো
যখন স্বৈরাচার দুরারোগ্য ব্যাধির মতো
ছড়িয়ে পড়েছিল বডিপলিটিকে
মা বলেছিলো
দেখিস একদিন এই ব্যাধি সেরে যাবে
বাবারা গুম হতে ফিরে আসবে
ভাইয়েরা সল্টেড বিস্কুট হাতে নিয়ে কলিং বেল বাজাবে
স্বামীরা ঘরে ঢুকে ত্রস্ত বিতস্র হয়ে বলে উঠবে
এই বাজারের থলে দাও কতদিন বাজার করিনা
তুই ছুটতে ছুটতে ব্যাংকে যাবি হাত খালি
আমি জায়নামাজ বসে দোয়া করতে করতে বলতে থাকবো
ফাবিআইয়ি আ'লা ই রব্বি কুমা তুকাজ্জিবান...
মা, পাশের বাড়ির কমল কি বাড়ি ফিরতে পেরেছিল? যে যুদ্ধে যেতে যেতে সীমানা পেরিয়ে পরে ডিজিটাল অস্তিত্ব হয়ে গেল
মাথার উপর হুলিয়া নিয়ে প্রতিদিন হাজির হতো মুসাফিরের মতো
প্রতিদিন ভাইয়া সবাইকে চুপ করিয়ে দিতো তার কবিতাময় যুদ্ধ শুনবে বলে?
মাগো, জরিনাপুরের সুমন কি বাড়ি ফিরতে পেরেছিল? ঐ যে সে যে যুদ্ধে গেল বলে
সাদাপোশাকে একদল মানুষ তার বোনকে ধরে নিয়ে গিয়েছিল পুলিশ রিমান্ড চেয়েছিল
তার ঘর তছনছ করে দিয়ে ছিলো
মা ও মা ঐ যে উওর পাড়ার উকিল ছেলেটা
মনে আছে ? সে কি বাড়ি ফিরতে পেরেছিল ?
যুদ্ধে নামবে বলে নিয়ত করাতেই
ওরা ওকে একদিন কোথায় যেন নিয়ে গিয়েছিল আর ওর স্ত্রী কাঁদতে কাঁদতে বলেছিলো
অন্ততপক্ষে আমাকে ওর লাশ দাও। আমি দাফন করি।
যুদ্ধ শেষ হলে সবাই বাড়ি ফিরতে পারে না
সিস্টেম চুরমার করে দিতে পারে না
আমলাতন্ত্র ধোয়া তুলসী পাতা হয় না
সংবিধানের চোখে চোখ রেখে বলা যায় না
তোর সাথে ছাড়াছাড়ি
কোকিল কে বলা যায় না কাকের ঘরে ডিম পাড়িস ক্যান
রাঘব বোয়ালদের বলা যায় না তোর হা এত বড় কেন
শিং মাগুর কে বলা যায় না আঙি দিস কেন
ছুরি কে বলা যায় না কাটিস না
আগুন কে বলা যায় না জ্বালাস না
কালো কে বলা যায় না
বহুত হয়েছে বাপ এবার সাদা হ!
যুদ্ধ শেষ হলে বাড়ি ফেরা যায় না
যুদ্ধ শেষ হলে শুধু আরেকটি যুদ্ধ শুরু হয়....
উম্মে সালমা
২/১১/২০২৪
দাঁত থাকতে দাঁতের মর্যাদা নেই
দাঁত থাকতে দাঁতের মর্যাদা নেই
মানুষ কেনো যে এমন হয়
কেন যে এমন
কাছে থাকলে একটুও লাগে না যে মায়া
দূর হলে হৃদয়ে পড়ে থাকে ছায়া
হায় ছায়া!
কিছু যদি দিতে চায় চায়না নিতে
পরেই মনে হয় দিত যদি হৃদয়ের ফিতে
আহা যদি!
এভাবে কেন যে মন মেঘ ভালবাসে
মাটির ঠাণ্ডা নিয়ে খুক খুক কাশে
সৃষ্ট অসুখে।
দাঁত থাকতে আসলেই দাঁতের মর্যাদা নেই
শত ইচ্ছা থাকলেও তা মৃত পড়ে রয়
দ্বিধার বাঁধায় ।
ঊম্মে সালমা
সম্পূর্ণ রাজনৈতিক
'আমি তোমাকে ভালোবাসি'--বলেছিলাম
দ্বিধায়, বাঁধায়, প্রকারান্তরে
অনায়াসে, অজান্তে, অনন্যতায়
কতবার? হাজার, লক্ষ.........মিলিয়ন ?
জানিনা
জানিনি
জানতেও চাইনি।
জানতে চাইনি আরও অনেক কিছু।
তোমার অর্থনৈতিক আভিজাত্য, সাংস্কৃতিক স্থানীয়ত্ত এবং
রাজনৈতিক রিশতা।
দাদা বললেন, এই বদ্বীপের শিরায় বয়ে যাওয়া রক্ত-রস তার বিশ্বাসে নিঃশ্বাস,
আর কি?
দাদী বললেন, পাত্র ভালা।
মা কাঁদলেন এখানে-ওখানে,
এবং বাবা সারাদিন ফোনে একে তাকে সংবাদ দিলেন। বিয়ে।
আর আমি...
একটি নিরুদ্দেশ নৌকায় ভেসে যাবার তোড়জোড় করছিলাম।
তারপর
হঠাৎ হলো এক বীভৎস বিস্ফোরণ ।
রঙধনুর মতো,
গায়ে হলুদের শাড়ীটার মতো
বসন্তের মতো
বর্ণিল-চিত্রালী সংসারে হঠাৎ বেজে উঠলো
এক রাজনৈতিক নিনাদ।
সহিংস আহবানে,ভয়াবহ বৈরিতায়, ভাঙচুরের বিনোদনে
ডাক এলো ভাগ করার, ত্যাগ করার
একদেয়ালের মধ্যে থাকা বহুমতের অনেককে।
একসীমানার ভেতর থাকা বহু মাত্রিক ভাবনাকে।
এখন? এখন আমি এখন কি করব?
ওঃ! আমি এখন কাকে ভাগ করব,কাকে ত্যাগ করব?
তোমাকে? যে বলে জয় আর বিজয়ের গল্প।
ও! আমি এখন কাকে বর্জন করব?
তাকে? যে শোনায় বিশাস-কেন্দ্রিক জীবন-মৃত্যুর সুর?
অ! আমি এখন কাকে বিসর্জন দেবো?
ওকে? যে ধারণ করে ফাইভ এপকস অফ হিস্ট্রি,সাম্যবাদ আর বিপ্লবের ধারনা?
আর তা করতে করতে নামবো ফাইবার, সাইবার এবং অন্তর্গত যুদ্ধে !
ওহ!
“বড় কষ্ট ভালবাসায়। ভাল তো কাউকে পরিকল্পনা করে বাসা যায়না।
ভালবাসা হয়ে যায় ঘটে যায়।”
সংসারে আর সহবস্থানে
বিহিসেবী
মমতায় আর সহিষ্ণুতায়
মানুষে-মানুষে।
ঊম্মে সালমা
১৩/০২/২০১৩
ফাটল
মরিচিকা সরছে আর সময় উঠেছে সকরুণ হেঁকে
পদ্মা-যমুনার মত স্রোত দুই, সুশীলা হতে পারিনি কেউ
তাই আজ এক কঠিন আর প্রতিকূল ঢেউ, বিশাল ঢেউ
তাড়িয়ে নিয়ে যাছে আমাদের এক দুর্দশার দিকে।
আমাদের একটা স্বাধীন দেশ, তাকে ভালোবেসে বড়
আমরা পেয়েছিলাম, হারিয়েছিলাম রক্ত-ভাসা সবুজে কত
আত্মত্যাগী, ভয়হীন, সত্যভরা জীবন; আহা, সুগন্ধি ফুল যত
অথচ সে প্রিয়তম দেশ-ঘর আজ ভয়ানক পড়পড়
সুতোর মতো প্রস্ফুটিত একটি রেখা একটি বিভেদ
হয়ে ছিল দেয়ালটায় যেটা চিত্রবিচিত্র ছবিতে ভরা ছিল
আঁকা ছিল দেশ-দশের ভাবনা, কর্ম, ব্যর্থতা, আর সাফল্য
বেড়ে গিয়ে সে হলো বড় ফাটল এক যন্ত্রণাময় ক্লেদ
সেই ক্লেদ আজ তাড়িয়ে নিয়ে যাচ্ছে তোমাকে-আমাকে
এক দানবীয় উপত্যকার কাছে; ওহ! সেখানটায়, যেখানটায়
নারকীয় ক্ষমতা পশুত্বের পাপ আর উল্লসিত পৈশাচিকতায়
নেচে ফিরে জীবনের প্রতিটি প্রশান্তিময় বাঁকে বাঁকে ।
তাই কি সব মরিচীকা? সব নির্বিকার হৃদয় হয়ে উঠছে?
ঘৃণার নির্মূলের নিন্দিত ভাষা আজ স্নিগ্ধ ঠোঁটে ফুটছে ?
উম্মে সালমা
২০১৩, চবি
[কবিতার রচনাকাল ২০১৩ শাহবাগ আন্দোলনে যখন দেশে একটি বিশ্রী বিভাজনের রাজনীতি শুরু হয়েছিল]
বাহির হতে খিল
আমার জগত আমার জগত
আমার জগত নীল
হঠাৎ দেখি আমার ঘরে
বাহির হতে খিল
বাহির হতে খিল দিয়েছে
বাহির হতে তালা
আমার হাতে কলম ছিলো
বুকের মাঝে ডালা।
বুকের মাঝে ডালা-ভরা তারার মত ফুল
চোখের মাঝে চমকে ওঠা হীরক রাজার দুল
হাতের মাঝে একটি কলম কালি ভরা পূর্ণ
ঘরের দুয়ার খোলা ছিল রোদে উঠোন চূর্ণ
ঠোটের উপর কথা ছিলো, ভাষায় ভাষায় ধাক্কা
অন্যায় আর অবিচারে সোজা কথা পাক্কা
আমার জগত আমার জগত
আমার জগত সাদা
হঠাত দেখি আমার ঘর
বাহির হতে বাঁধা।
বাহির হতে খিল দিয়েছে
বাহির হতে বন্ধ
আমার হাতের কলমটিকে
বলল হতে অন্ধ।
বলল হতে অন্ধ আর বলল হতে মূক
নীলগুলো সব গুটিয়ে নিয়ে ছাতাপড়া বুক।
হাতের কলম কেড়ে নিয়ে কালি দিলো লেপটে
ফুল্গুলোকে মাড়িয়ে দিয়ে পথে দিলো সেপটে
ঠোঁটের উপর কথাগুলো, বলল ”শালা ঢোক!
শব্দগুলো হজম কর, পেটে বেজায় ভোখ।”
আমার জগত আমার জগত
আমার জগত নস্যি
আমার স্বদেশ শব্দ ধরে
ছুঁড়ে বিশাল বড়শি।
যারা যারা শব্দ করেন
শব্দে ধরেন নীল
তাকিয়ে দেখুন সবার ঘরে
বাহির হতে খিল।
ঊম্মে সালমা, ৫ জুলাই ২০১৭
লিঙ্কস টু ফলোঃ
