Poems

অস্ফুট ভাষা

কতটুকু গুছিয়ে বললে
কথাগুলো বলা হয় কিংবা হবে
জানিনা
কতটুকু যুক্তিযুক্ত ভাবে বললে
মনের ভেতর গুমরে থাকা ভাষা
পড়ানো যাবে
জানি না

তবু বলছি
কিবোর্ডে আঙুলে চলছি
এলোমেলো অক্ষর দলছি

ব্যস্ত সমস্ত মানুষ তুমি অ-নে-ক কাজ হাতে
হয়ত সময় হবে না আজকের এই প্রভাতে
আমার এই বারবার
ফিরে ফিরে আসা
কান্না গুলো শুনবার
কিংবা এমনো হতে পারে
একটি বিষয় নিয়ে এত
ন্যাগিং ! কেন বারবার ?
পাপ তো আমার?
রেগে যেতে পারো এই চিন্তায় এই ভাবনাতে

কিন্তু তারপরো
কথাগুলো বলতেই হবে আমারো
সকাল সন্ধ্যা হরতালের মতো
যে কথাগুলো আমার মানচিত্রের
আর্টারি ব্লক করে তুলছে
তাকে শুনতেই হবে তোমারো

আমিতো তোমাকে ভালোবেসে ই ছিলাম
দীর্ঘ সময় দীর্ঘ দিন দীর্ঘ বছর পেরিয়ে
আমাদের ভালোবাসা
পরিবার পরিজন পরিকল্পনা নিয়ে
হয়ে উঠেছিল বেশ একটা মহীরুহ
বড্ড আশা ভরসা
সেই মহীরুহের ছায়ায় জীবনের
সব লেনদেন সঁপে দিয়ে
আমি নিশ্চিন্ত মনে ঘুমিয়ে গেলাম
তুমিও বুঁদ হয়ে গেছ ভেবেছিলাম
আমাদের যে হাত ধরাধরি একবার
যে দৃষ্টি বিনিময় হয়েছে বারবার
সেই হাত অকেজো সেই দৃষ্টি অন্ধ
হয়ে রবে শেষতক জীবনের এপার ওপার

এই সব আশা

আমার ভালোবাসা
বরাবর ই ভাষাহীন ছিলো
যতটুকু বাসতাম অতটুকুতে
এত লজ্জা আর দ্বিধায় আসতাম
সব সমর্পণ ছিল নিঃশব্দের কিংশুক
সুগন্ধি জড়ানো এক কোমল ধুকপুক

আমি কখনোই বলতে পারিনি
কতটুকু ভালো লাগে তোমায়
চাঁদের আলোর মতো প্রতিমাসে
ভালো লাগা নবনীতা পরিণীতা হয়
আবার কাজ কর্মে সংসার সহবাসে
মিইয়ে মিইয়ে হয়ে যায় ক্ষয়

কিন্তু এই পালাক্রম; মানে এই না যে
তোমার জন্য আমার রাঁধা হয় না ভাত
পাতা হয়না বিছানায় রাত
সূইয়ের ফোঁড় তোলা আঙুল নিনাদ
এর মানে এই নয় যে কাবিনের কালে
যে মাতৃকুল
আমাকে বলিয়েছে কবুল কবুল
সেই বাঁধন সেই মনিহার হয়ে পড়েছে
অবহেলিত একঘেয়ে এক চুল

আর সেই ফাঁকে আমাদের ঘর
হয়ে উঠবে অবাধ অরক্ষিত বাসর
সেখানে ঢুকে পড়বে সাপ ফর্সা মতো
ফোঁস ফোঁস করে
কেঁদে কেঁদে শরীরী ওজরে

প্রিয় নীল
কতটুকু গুছিয়ে বললে
কথাগুলো বলা হয় কিংবা হবে
জানিনা
এটাও মানি না
কতটুকু বললে
তোমাকে বোঝাতে পারবো না
অনেক বদলের মাঝেও প্রিয়তি একি থাকে
দিনের আলোতে হাসনাহেনা ফোঁটে না
নতুন লতাপাতা কান্ডকে লুকিয়ে দেয়
কিন্তু সবাই যার যার মতো সব ঠিকঠাক রাখে

শুধু বুঝতে হয়

সবখানে হয়নাকো যেতে
কাতর যুবতীর নীর দেখে
তারা হীন মেঘের আড়তে
নদীর তীরে হাঁটতে হাঁটতে
কথা বলতে কথা শুনতে

হয়না

তোমার হৃদয়–মানি–ঘাস
আকাশের চেয়েও আকাশ
তাকে ভাগ দিয়ে দিলে
মরে যায় স্বর্ণের মতো স্বর্ণলতা
যার সত্যে প্রেমেতে নিবাস।

উম্মে সালমা
১২ ডিসেম্বর থেকে ২ ফেব্রুয়ারি ২০২৪-২০২৫

Poems

“অতীতের মতো সব”

১.

গতকাল-ঠাস করে
চলে গেলো
কি হতো তার, ধ্যাত,
যদি যেতো
আরেকটু স্লো
যে–তে যে–তে
থমকে দাঁড়াতো?

আজ কি হতাম তবে
নস্টালজিক ?
মন-ছুটা পাখি এদিক ওদিক ?

২.

নীল
তুমি কি অতীত মম
আঙুলের ক’রে
ফাঁক বেয়ে জলধারা
যেভাবে ঝরে বুকের পিঞ্জরে?

৩.

গতকালটা
আমার সাদা বিড়াল মিনি
কসবার লাল কৃষ্ণচূড়ার তলে
ফেলে এসেছি

গতকালটা
আমার চট্টগ্রাম কলেজ ৫৩৪
সময়-বাঁধাকপির পরতে পরতে
ঢেলে রেখেছি।

শিশিরের মতো
বেদনার মতো।

৪.

অতীতটুকু আমার
মন পাউচে একটি নদী নামার

নদীর ভেতর
ছোট্ট ছোট্ট নুড়ি
তুততুরানো মাছ
খুবলে খাওয়া একটি গাছের
গভীর বুকের কাছ।

৫.
চলে গেছে চলে গেছে একটু দাঁড়ায়নি
পকেটে লুকিয়ে হাত ভুলেও বাড়ায়নি

গতকালটা আমার

এই ভয়ে
যদি বলি
থেকে যাও
শিশিরের আলতা জড়ানো পদ
নিশীথের চাঁদনি ছড়ানো নদ
রেখে যাও
রেখে যাও ।

একটুকু থেকে যাও।

উম্মে সালমা
৯/২/২০২৫

Poems

অনেক কথা বলার ছিলো

আমার অনেক কথা বলার ছিলো তোমার কাছে

আমার অনেক সুখের প্লান ছিলো তোমার সাথে

আমার অনেক অশ্রু ছিলো পঞ্চপাতায়

আমার অনেক যতন করার মন ছিলো নির্জনতায়

আমিতো আর পাবো না সেই তেমন কোরে
নানাসময় নানা স্থানে যখন তখন হঠাত করে
হঠাত হোয়া চোখের কথা মনের কথা খুব কদাচিত

আমার যে খুব ইচ্ছে করে তোমায় একা ডেকে আনি
উগরে দিই ডাগর ব্যথা চোখের পানি

কিন্তু
আমি তোমায় দেখে থমকে দাঁড়াই
অই চোখের দুঃখ কাতরতা ভীষণ ডরাই
তাকে আমি স্পর্শ করে জড়িয়ে ধরে কাঁপন থামাই
যে কাঁপনে আমিও কাঁপি সেও কাঁপে ।

ঊম্মে সালমা, ২৬/১১/৯৮

Poems

অনু কবিতা

বাতাসে ছুটির গন্ধ শহরে কত আনন্দ…
সবুজ মিতালী ধূলোমাখা জামা
আধোয়া পড়ে রয়!
ডিসেম্বর নামে রোদ রঙা ফ্রক
অগোছালো হয়ে রয় !

উম্মে সালমা, ২৩/১২/২৪

Poems

এই কথাগুলো দিতে পারি

কথা দিতে পারিনা তোমায় দেবো রোদময় জীবন 
অঢেল ধন, মনিমানিক্য, রাশি রাশি সব সোনা;
কথা দিতে পারিনা তোমায় দেবো সহজ সরল পথ
যেখানে নেই বদল আর বয়সের দিন গোনা ।
কিন্তু আমি কথা দিতে পারি এই মন দেবো তোমায়;
চোখের জল সরিয়ে দেবো অমলিন হাসিতে;
প্রেম দেবো যা চির সত্য আর ক্রমাগত বেড়ে যায়;
হাত ধরে চলবো তোমার সাথে প্রতিটি আগামীতে ।

মূল লেখা: মার্ক টোয়েন

অনুবাদ: উম্মে সালমা, 01/01/2025

Poems

প্রত্যাশা এবং দোয়া

শুধু একবার
শুধু একবার
যদি এসে যেতো
আমার দুয়ারে
তার হাত ধরে
তার ই হাত ধরে
বলতাম আমি
কত কত দিন স্বপ্নে আমি
দেখেছি তার মুখ
তাহারে ।

তাহারে
আহ আহারে!
কত কত বার
বলতো সে
সবকিছু বোঝো
সব ভালোবাসা
সবটুকু প্রেম
অবিনাশ সুখ
রংধনু রঙ
বাহারে!

শুধু একবার
শুধু একবার
যদি এসে যেতো
সব দুখ ভেঙ্গে
তুলে নিয়ে প্রেম
বলতাম আমি
কত কত রাত স্বপ্নে আমি
দেখেছি তার ই মুখ
তাহারে।

উম্মে সালমা, জানুয়ারী ২৫, ২০১৬

Poems

কাসুন্দি

ঊম্মে সালমা, ৮/২/১৬
দুঃখগুলো
হুল ফোটালো বুকে চোখে
এলোমেলো।

দুঃখগুলো
হাত ছোঁয়াল ঠোঁটে মুখে
টলোটলো।

দুঃখ ক'টা
টেরাকোটা এঁকে বেঁকে
ঘনঘটা।

দুঃখ ক'টা
ছিটেফোঁটা জীবন জুড়ে
জটিল হাঁটা।

দুঃখ আমার কর্ণফুলীর নীড়
দুঃখ আমার ব্রিসবেনের তীর
দুঃখ আমার
উদলা মাথায় পাগলা চোখের নীর।
Poems

নতজানু আত্মাকে বিনম্র অনুরোধ

সত্যের একটি দুর্ভেদ্য চোখ আছে
সেটি সময় ফুঁড়ে সামনে আরো সামনে আরো সামনে
ছড়াতে পারে তার দৃষ্টি...
জানেনা আমার নতজানু আত্মা

সে সুযোগ খুঁজে
সুবিধা চায়
লাভ আর লোভের হিসাবে
এদিক ওদিক
এর কাছে অর কাছে
এ দুয়ার অ দুয়ারে ধর্না দেয় ।

জানেনা কি আমার নতজানু আত্মা
একটি পরাক্রম শক্তি
একটি আরাধ্য শক্তি
যার সাথী হয়
তার জন্য লাগে না কোন জাগতিক বৈঠা

সে অবলীলায় পাড়ি দিতে পারে
লোভের রাজপ্রাসাদ
মোহের বৃন্দাবন
খ্যাতির জলসা
প্রতিষ্ঠার মরুভূমি মরিচীকা

আত্মা আমার!
তুমি কি আকাশ হতে পারো না?
কিংবা সমুদ্র
অথবা পাহাড়!

উম্মে সালমা, ৮/২/১৬

Poems

ফুল এবং জেন্ডার বিষয়ক কচড়া

এই ফুলেরা ফোটে
এই ফুলেরা হাওয়ায় হাওয়ায় লোটে
এই ফুলেরা ফুটতে ফুটতে বাসি
তবু
এই ফুলেদের মুখের কাছে হাসি।‌

এই ফুলেরা দারুন রকম দলে
ফুটতে থাকে সবুজ রঙের ঘাসে
শুকিয়ে যায় রোদের ক্ষরা এলে
তুমুল বৃষ্টি ভাসিয়ে বাগান দিলে ।

এই ফুলেরা নারী!
গায়ে জড়ায় রঙিন রঙিন শাড়ি
দেহের বোঝা মনের ভারে নুয়ে
কি বলে যায় ?
আমি তুমি শুনতে কি আর পারি?

কে বলেছে নারীই হবে ফুল?
সুন্দর সুগন্ধ সংজ্ঞা হবে তার?
কঠিন পাথর শক্ত গ্রানাইটে
থাকে না বুঝি কাদামাটি জল ঝরনার?

তবে?

এই ফুলেরা নর?
গায়ে জড়ায় গ্রামীন পাঞ্জাবি
দেহের ভার মনের বোঝা বয়ে
বলে যায় কত
আমি তুমি এটটু কি আর ভাবি ?

জানিনা কেন
ফুলেদের কাছে এলে
সমাজের এই নরম/কঠিন ভাগ
মনে এসে যায় মনে পড়ে যায়
মানুষদের এলোমেলো মিল অমিলে
ফুলেরা সব প্রশ্ন হয়ে যায়

যদিও ফুলেরা প্রতি বসন্তে ফোটে
পৃথিবী পাহাড়ে দঙলে দঙলে জোটে
যদিও ফুলেরা ফুটতে ফুটতেই বাসি
ক্ষনিক মায়া অনেক বিভেদে, ভাবায় আসি আসি

উম্মে সালমা
২৮/০৯/২০২৩

Poems

ভালোবাসা স্লিপড অ্যাওয়ে

পুস্তিকায় ডুবে থাকি
জ্ঞানে গুণে মন
ভাবলে বন্ধু তুমি নও
আমার প্রিয়জন
তোমার মনে বাঁধল বাসা
হোয়াইট চকলেট
দুঃখ রাতে জোছনা জলে
ভরে আমার শ্লেট

ঐ শ্লেটে আঁকা আছে
তোমার প্রিয় শার্ট
কাপলিংকে জড়িয়ে রাখা
আমার শাড়ীর পার্ট
একটি সুতো আটকে যেতো
জড়িয়ে রাখা ক্ষনে
বলতে তুমি ছাড়তে চায়
কোন সে আপনজনে?

ফুটেছিল ফুল গন্ধে
সা-রা-ম-ন
লিখেছিলাম বন্ধু তুমি
কত না আপন

অথচ…

একটি চকোলেট কয়েকটি ভুলভাল শব্দ
ভুল বিনিয়োগ ভালো প্রেম মিষ্টি মায়া
কি অসহায় কি নিদারুন জব্দ!

উম্মে সালমা
১৫/১২/২০২৪