জানালার পাশে বসে প্রায় প্রতিদিন কি যে দেখি ভাবি শুধু এত অমলিন কেন ঐ গাছটি: যে হলুদিয়া হয় শীতকাল এসে গেলে দুটি পাখি হেসে গেলে এমন প্রনয়? বারান্দায় বসে থাকি কখনো সখনো কি যে দেখি ভাবি শুধু মিষ্টি মাখানো কেন ঐ গাছগুলো? পাতাময় হয় শীতকাল এসে গেলে সব পাতা ঝেড়ে ফেলে জারুলে জড়ায়? ওরকম গাছ যদি আমি হয়ে উঠি পারবো কি নিতে, আহ, এই প্রস্তুতি? জীবনের শীত হবে কাজের সময় যা যাবার চলে যাবে যা না হবার না হবে আমি রব হাসি খুশি দুচোখের কোলে নেই সুখ অপচয়? আমি জানি, জানি জীবনের শীত মানুষ সইতে পারে না কষ্টের হিম-পাথর বইতে পারে না বসন্ত প্রিয় তার রোদেলা বিকেল তবু আমি চাই দুখের গভীর হিমে জীবনের শীতে বিপরীত পথে হেঁটে বহুদূর যেতে হয়ে উঠি সেই গাছ, সেই সব ফুল যারা ছাড়ে হিম দিনে মুক্তি মুকুল। ৫/০৯/২০২২
Tag: poems
একবার চলে গেলে মাটি আর রাখে না মনে
বাঁধার নীল গন্ডি পেরিয়ে যারা রঙিন ভুবনে পা রাখে তারাই ভুলে যায় তার অপেক্ষায় বসে আছে একটি ডানাভাঙা পাখি সকাল হয় রাত হয় আবার সকাল আবার রাত ইদের আমেজে ভেসে ওঠে বিদেশী জনপদ বৈশাখী বাতাস বইতে থাকে নীলাঞ্জনা চরিত্রে অভিনয় করে যায় বিধস্ত নারী ফেসবুকের ভার্চুয়াল পাতা ভরে ওঠে লেখায় লেখায় তবু তারা ফিরে তাকায় না। ডানাহীন হাঁটতে হাঁটতে হাঁটতে পাখিটি কোথায় যে যায়! ব্রিজবেনের অশীতিপর বৃদ্ধ রাস্তাটা বুঝতে পারেন না-- এই পথ দিয়ে হেঁটে গিয়েছিল কত মানুষ টারবাল মানুষেরা উশকো খুশকো চুলে কাঁধে বয়ে নিয়ে বোঝা চলে গিয়েছিল এ পথে কোন এক শীতে। মাঠ শুকিয়ে হয়েছে পাথর মাটি হয়েছে অফসলী পেটের ক্ষুধা তাদের নিয়ে গিয়েছে কত দূর! ও পাখি! তুমিও কি? যেওনা চলে যেওনা একবার চলে গেলে মাটি আর রাখে না মনে একবার নোঙর তুলে নিলে তার দাগ মুছে দেয় স্রোতের জল। একটি ফসল ফলে গেলে আরেকটি হাসতে থাকে একি মাটিতে একটি প্রেমের মৃত্যু হলে জন্ম হয় আরেকটির। এইভাবে বর্তমান নিয়ে বেঁচে থাকে মানুষ বর্তমানের পুতুল হয়ে। ব্রিজবেনের বৃদ্ধ রাস্তাটা হাঁপিয়ে উঠে, না, না, পাখি যেওনা হাল ছেড়োনা আরেকটু বস আরেকটু যুদ্ধ কর আরেকটু অধিকার করে নাও তোমার স্থান আরেকটু ডানা ঝাপটাও। অই মানুষ হাসুক। ঐ প্রতিবেশী ঠোঁট বাঁকিয়ে তুলুক। ফেসবুকে ট্রল কিংবা ড্রইংরুমের মুখরোচক গল্প হোক সব হোক তবু তুমি তোমার ন্যায্য অধিকার ফিরে পেতে জেনে নিতে তুমি কে তুমি কি হয়ে ওঠো মাটি কামড়িয়ে পড়ে থাকা এক ছুঁচো। উম্মে সালমা ২৪/০৭/২০২৩
একগাদা ভুল প্রশ্ন
কোথায় গিয়েছে তুমি
নিবেদিত প্রান?
অবিচল নিষ্ঠা
নিকোনো উঠান?
একগোছা মৃদু হাসি এক ফালি চান
উঠলে আকাশ জুড়ে সুখের বয়ান?
কোথায় হারায়ে গেছো?
সে নাকি তোমার খোঁজে এই…গতকাল
গিয়েছিল রাষ্ট্রের সিঁড়ি ভেঙে দূরে
সে নাকি খুলেছিল কর্পোরেট দরোজা
আলোচনা করেছিল মিডিয়াপুরে
তুমি নেই তুমি নেই তুমি নেই
আর যা আছে তা রোবোটিক পেশী
হৃদয়ের গভীরে আছে শুকনো বেতার
ধকধক জ্বলে ওঠে লোভের বিদ্যুতে
ভেঙে দেয় জিঘাংসায় প্রেমের সেতার?
কোথায় নিখোঁজ হলে?
একমুঠো রোদ
সত্য ধরে রাখা
নৈতিক বোধ?
মানুষ হয়ে ওঠা ঝরনার আলো
ছড়ালে জীবন জুড়ে অগুনতি ভালো?
ড. উম্মে সালমা
১১/০৭/২০২৩
টুঅং
যাহা ব্যক্তিগত তাহাই রাজনৈতিক
উম্মে সালমা
১৮/০৫/২০২৩
জমিয়ে রেখো দুঃখগুলো জমিয়ে রেখো নীল উড়িয়ে দিয়ো একটি ঘুড়ি রঙিন ডানার চিল বললে তুমি এক সকালে বললে তুমি ক্লান্ত এক দিন পোহালে বুকের কোথাও ফেলে রেখো দুঃখগুলো, খুব আড়ালে কেউ দেখেনি কেউ শোনেনি অন্ধকারের বেড়াজালে মাথার ভেতর দপদপদপ মনের ভেতর কথা দু'চোখ জুড়ে কান্না ঘুম দারুন বিষন্নতা কেমন করে লুকিয়ে রাখি এক কুঠুরী এক আড়ালে কেমন করে প্রবোধ দিই এই আমাকে আহা, কিছু হয়নি বলে? ভাষা আছে শব্দ আছে আছে আমার ঠোঁট রক্ত আর মাংস চেঁচিয়ে ওঠে যখন আসে নষ্ট কথার চোট উড়িয়ে দেবো দুঃখগুলো ঊড়িয়ে দেবো নীল ঊড়িয়ে দেবো প্রতিবাদে সাতশো ডানার চিল। শুনছো তুমি এই সকালে? শুনছো তুমি সামাজিক অন্যায় সব গিলে গিলে? যে হয়েছো কাঠের পুতুল যে হচ্ছো একটু একটু ভ্রষ্ট তুমুল
............
মেয়েদের গল্প না কান্না!
এই নাও এইখানে দিই খুলে দিই এই দেখ আর নেই বন্ধ দুয়ার তুমি আমি বহু কথা আজ বলবোই ফুলে ফুলে উঠবে দেখো কথার জোয়ার। এর পর হলো কি...এরপর এই... শব্দরা থেমে যায়! গলা ঠিক করি যত পারি স্হির হাত দুটো নাড়ি সোজা হয়ে রিজু হয়ে একটুকু বসি যা কিছু করি আমি ঠিক ভেসে যাই ! এই ই হয়... আমাদের গল্পে এত ব্যাথার বিনয়! ঠিক ঠিক কান্নারা এসে যায় ঝেপে যত ই বলনা তুমি কথাকলি মেপে গলাটা কেঁপে যায় ঠোঁট দুটো বেঁকে চাহনিতে উদাসীন মেঘমালা ডেকে কিছু মুখ আছে চেয়ে বুক কাঁপে সেই ভয়ে কি করে গল্প বলি কষ্ট দিনের? নির্ভয়ে ঠোঁট খুলে সত্যের ভাঁজ মেলে ইতিহাস হয়ে থাকা নষ্ট দিনের? মূল থেকে উপড়ে গিয়ে নতুন বাঁধনে কি চেয়েছি কি পেয়েছি হিসেব শ্রবনে কি হবে? হবে টা কি? নিজেকে যখন দেখি আয়নায় চোখ রাখি: ভাবনার আগুন চাপা জ্বালাময়ী মন অশ্রুর সাগরে ডোবা এক বিভীষণ। বলতে হয়না ছি...কি লজ্জা গল্প করবে? বিষয় থাকবে শুধু সাজ সজ্জা! উম্মে সালমা ৪/৫/২০২৩

কখনো কখনো ভালোবাসা
কখনো কখনো জড়িয়ে রাখা যায় কখনো বলা যায় ভালোবাসি ভালোবাসি কখনো কখনো কায় ক্লেশ গুলো ভুলে দিয়ে ফেলা যায় চোখ...না,না, গালভরা এক হাসি কখনো কখনো ভুলে যাওয়া যায় কি নেই কি পাইনি হায় সংসারী হতে গিয়ে কখনো কখনো ভুলে যাওয়া যায় কি গেছে জীবন জীবিকার চাকা ঘুরিয়ে ঘুরিয়ে । এই না? একটুকু জীবন...টুক করে হয় শেষ একটুকু জীবন ঘায়ে জমে কত পুঁজ একটুকু জীবন! বঞ্চিতের আহাজারি হাতিয়ে নেয়া অধিকারের অতিভূজ জানি আমি জানি যেমন জানো তুমি... তবুও কখনো না চেয়ে বসন্ত এসে গেলে প্রেমের কবিতা লিখে দিয়ো একখান ক্ষমা করো দিয়ো না-দেয়ার অপরাধ রাগে মিশিয়ো প্রেমময় জাফরান । চারদিকে দেখ যুদ্ধ যুদ্ধ যুদ্ধ চারদিকে,মানুষ:ক্ষুদ্ধ বিক্ষুব্ধ এর মাঝে যদি মায়াময় ক্ষন আসে চেখে দেখো তাকে জেনে নিয়ো তার স্বাদ সে ক্ষণকাল হৃদয় ভরিয়ে দেবে ভয় লাগে? বিশ্বাস নেই?? যদি হয় এক ফাঁদ? আমার জানো না কি ভীষণ ক্লান্ত লাগে যুদ্ধ যুদ্ধ খেলা দেখে দেখে আজ সব কিছু নিয়ে এত বেশি টানাটানি আঘাতের হাতে এত এত কারুকাজ। এরি মাঝে যদি একদিন ভোর হয় একদিন আসে সোনামুখী এক চাঁদ, প্রতিদিনের রাগ একটানে মুছে দিয়ে বেজার মুখে ছড়ালে আহ্লাদ? খুব কি ক্ষতি হয়? বসে বসে তুমি ভাবছো এখন জানি কেমনে হবে এত এত রাগ পানি ? এত এত কথা ফুটেছে বুকের চুলায় কি কঠিন রে,বাবা,মিশিয়ে দেয়া ধুলায়! কি কঠিন বাব্বা ওর সাথে হাসাহাসি যার সাথে বাস, যার সাথে ঘর আর সেখানেই? অভিযোগ রাশিরাশি। ০৫/০৫/২০২৩ টুওং

আজ আর কিছুতেই মন বসছে না
আজকে সত্যিই আর কিছুতে মন বসছে না
কয়েকটি শালিক এইতো কিছুক্ষণ হলো
বারান্দাটা ঘুরে গেলো
অতিরিক্ত রোদে শুকিয়ে যাওয়া মরিচ গাছগুলো
পানির ছোঁয়া পেয়েও পাতা এলিয়ে রাখলো
রোদ মরে গিয়ে একটা শীতার্ত সকাল পানসে হয়ে পড়ে রইলো।
এরকম মন না বসা দিন তোমার কি আসে?
তোমার কি মনে হয়
থাক আজ হাত পা না খুলি
নি:সাড় হয়ে পড়ে থাকি?
নাকি তুমি সদা তৎপর মানুষের মত
সকাল হতে দৌড়াতে দৌড়াতে
একথা সবসময় জানান দিয়ে যাওঃ
জীবন কর্মমুখর?
কি জানি এসব কথা আজ কেন বলছি ?
জীবনের দৌড়ে পিছিয়ে পড়া মানুষ আমি
তবু তোমাদের দেখলে ক্লান্ত লাগে।
আমার শুধু মনে হয় যে মনজিল আমার
সেখানে আমি পৌঁছে যাবোই
হয়ত একটু দেরি হবে।
হয়ত গেটের দারোয়ান আমাকে দেখে বলবে,
“আপা কি পিঁপড়ের গতিতে এসেছেন নাকি?”
আমি শুধু ভাবি জীবনকে অর্থপূর্ণ না করতে চাইলে
সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত দৌড়েও
আমরা আটকা পড়ে থাকবো
জুলকারনাইনের প্রাচীরে বন্দী হয়ে থাকা ইয়াজুজ মাজুজের মতো।
হয়তো এতক্ষণে তোমার রাগ হচ্ছে
মনে মনে হয়তো আমাকে কিছু অপছন্দনীয় উপাধিও দিয়ে দিয়েছ।
কিন্তু মন যদি গতি নিয়ন্ত্রণ করতে না পারে কি হয় বলো?
লন্ডভন্ড হয়ে যায় না জীবন
দুর্দান্ত দূর্ঘটনায়?
হাতের কাজ একটু রেখে
এসো না একটু চুপচাপ বসি আজ
আকাশের তাকিয়ে বলি, আহ কি অমায়িক!
সমুদ্রের দিকে তাকিয়ে বলি, কি গভীর ভালো!
বাতাসের স্পর্শ নিয়ে বলি, কি মায়াবী আপায়্যন!
তারপর হৃদপিন্ডের মেশিনে হাত রেখে চোখ বন্ধ করে ভাবি,
কি করে চলছে এই ধুকপুক জীবন!
আজ না হয় আমার মতো তোমার হোক এক মন না বসা দিন।
তোমার হোক মোবাইলের টুইটার ফেলে
পাখিদের কলকাকলি শোনার দিন।
আমি সপ্নপারের মেয়ে
তোমায় দিকে হাত বাড়ালাম জীবন তরী বেয়ে।
আমি সপ্নপারের নারী
তোমার দিকে এগিয়ে দিলাম কলাপাতার শাড়ী। ভীষণ রকম উম, একলা দিনে জড়িয়ে রাখা বিকেল বেলার ঘুম। সকাল বেলার কথা। তোমার দৌড়ে একটু থামা নরম বিষণ্ণতা ।
২৩/২/২০২৩
টুঅং

যে তুমি বাংলাদেশ- a little Mag where my poem published
My poem in সৌধের সুরকি পরখ
My poems published in জলঘড়ি ১৯৯৮
খোয়াতে ভেজা ব্যথাতুর খোয়াব টুপটাপ সারারাত কেটে গেছে চোখ মুছে ঊহ! পাপড়ির তলে বিচ্ছেদের কঠিন খোয়াব। রোদ পোহাতে পোহাতে ধানকাটা বিচালী ছিঁড়েছি কত খালের কোমল কাদায় পা দাবিয়ে পায়ের মজা মাছরাঙার কমলা বুকে ভালোবাসার বিখারা খোলাঝাক পিঠেতে রাব মিশিয়ে খাওয়া চলে যাবোঃ ফেলে এক নির্মিত কালভারট এপারে আমি এক নাগুরে হাসি ওপারে চরের ধুলোয় ধুসরিত হৃদয়। চলে যেতে হবে বিস্তৃতির করতল ছুয়ে-- সিঁড়ি ভাঙ্গা, বই, নোট, রিকশার হাওয়া, নেক্রপোলিশ দালানের সুর। ফিচেল সময় একদিন ফিনফিনে স্মৃতির শাড়ী পরাবে গ্রাম্য ঢঙ্গে আমাকে, আমি হবো এক ব্যথাতুর খোয়াব সুখ-দুখের ফিরিস্তি। Written and published in 1998.

