সিজদায় মোনাজাতে, Poems

“অপার্থিব”

আমি জানি না
আমি কে?
তাই নিরন্তর খুঁজতে থাকি

আমি জানি না
আমি কি
তাই নিরন্তর খুঁজতে থাকি

আমি জানি না
আমি কোথা হতে এসেছি
তাই নিরন্তর খুঁজতে থাকি

কি খুঁজতে থাকি?

কিছু হাত
সহমর্মী কাঁধ
পূর্ণ মনোযোগ

ভালোবাসা
মায়া
মমতা
আনন্দ
প্রেরণা
প্রেম
মানুষের কাছে
প্রিয় মানুষদের কাছে

কিন্তু
মানুষতো…
মানুষতো মানুষের মতো করে ভালোবাসে
রাগ
ক্ষোভ
অভিমান
অভিযোগ
ঘৃণা
প্রবঞ্চনা
প্রতিশোধ
জিঘাংসা
দুধের ভিতরে কালো ময়লার মতো সাঁতরাতে থাকে

মানুষতো মানুষের মতো করে ভালোবাসে
এ ওকে ও ওকে স্মরণ করিয়ে দিতে দিতে
কে কার চেয়ে বেশি দিয়েছে
কিংবা পেতে হলে দিতে হয়
কিংবা দিবো যদি দাও

নিঃস্বার্থের অসীম আকাশ ছোট হয়ে আসে
রহমতের অবারিত হৃদয় সংকীর্ণ হয়ে ওঠে
ভ্রাতৃত্বের আদি নিবাস নড়বড়ে হয়ে যায়
শংকার মতো যন্ত্রণা ঝরিয়ে দেয় শান্ত শীতলতা যেমন শীত এলে পাতা ঝরে
হিমাংকের নীচে গিয়ে তাপমাত্রা মাইনাস হয়

ঠিক এই সময়
ঠিক সেই সময়ে
কোথাও উষ্ণতা নেই
কোথাও উষ্ণতা থাকে না
কাবার মালিকর আশ্রয় ছাড়া
যিনি ডেকে ডেকে বলেন,
আমি আছি
তোমার প্রভু
কন্ঠনালীর চেয়েও অনেক নিকটে
সেই উটহারা বেদুইনের চেয়েও অধিক খুশিতে যখন তুমি আমাকে খুঁজে পাও কালবের ভেতর।

উম্মে সালমা, টুঅং, ২১/০৭/২০২৬

সিজদায় মোনাজাতে, Poems

Shaeri 1

Friday Afternoon comes
Every week
Every week
I close my eyes
And pray
O Lord! Make this moment everlasting…
My prayer melts like a chunk of ice.

শায়েরী ১.


শুক্রবার বিকাল আসে
প্রতি সপ্তাহে
প্রতি সপ্তাহে
আমি চোখ বুজি
এবং দোয়া করি
“প্রিয় প্রভু! এই মুহূর্ত কে চির করে দাও…
আমার দোয়া এক খন্ড বরফের মতো গলে গলে যায়।

Salma, 8/5/2026 See less

সিজদায় মোনাজাতে, Poems

একজন বিপ্লবীর মৃত্যু এবং একজন লেখকের অক্ষমতা


শহীদ শরীফ ওসমান হাদী
শহীদ শরীফ ওসমান হাদী
শহীদ শরীফ ওসমান হাদী


কে নিয়ে কবিতা লিখবো ভাবতেই
আমার আঙুল অবশ হয়ে আসে
মনে হয় যুগ যুগ ধরে জমে থাকা
হিমাংকের নীচে বরফের মাঝে
আটকা পড়া আমি এক ব্লাক ফিশ
সূর্যের অপেক্ষায় বসে আছি
কখন বরফ গলবে কখন আমার রুপালি আইশ ঝিলিক মারবে রোইদের রশ্মিতে


শহীদ শরীফ ওসমান হাদী


কে নিয়ে কবিতা লিখবো ভাবতেই
আমার চোখ অকান্দনের কান্দনে অন্ধ হয়ে আসে
মনে হয় শত সহস্র জমে থাকা পাঁচ মহাসাগরের গভীরে আমাকে ছুড়ে ফেলা হয়েছে
গভীর নীল জল মৃত্যুর বিভীষিকা নিয়ে
আমার কান নাক মুখ দিয়ে ঢুকছে
আটকে নিচ্ছে আমার উচ্চারিত শব্দাবলি
কোন সাবমেরিন আসছে না এসওএস হয়ে


শহীদ শরীফ ওসমান হাদী


কে নিয়ে কবিতা লিখবো ভাবতেই
আমার নিঃশ্বাস হার্টের রোগীর মতো বন্ধ হয়ে আসে
মনে হয় যিলযাল শুরু হয়ে গেছে
পৃথিবী তার পেট খালি করে বমি করে দিচ্ছে সোনা দানা রুপা জহরত
আদম সন্তানেরা একহাত সূর্যের নীচে ছুটছে উলঙ শরীর ঘর নেই প্রিয়জন নেই
নেই নেককাজ নেই সৎকর্ম কিতাব


আমারতো মৃত হাদী কে কবিতা লেখার কথা ছিলো না
আমারতো সোশাল মিডিয়ার সামনে বসে গোনার কথা ছিলো না
কতলক্ষ লোক হয়েছে হাদীর জানাযায়
আমার তো কথা ছিল না কফিনের তীরে ঝুলে হাদী ছেলের বাবা বাবা ডাক শোনার
আমারতো কথা ছিলো না আততায়ীর ঠিকানা খুঁজতে গোটা দুনিয়া তোলপাড় করে
জল্লাদের আস্তিনের তলে চাপা পড়া সত্যে
ঠক ঠক ঠক করে কাঁপবার


কথা ছিলো দুস্তর বেশুমার
কথা ছিল ৫ আগস্টের পর
আজাদীর আঙরাখা পরবো
সত্যের বাজুবন্দ হাতে বেঁধে
উতল চুলে ঝুলিয়ে শাপলা
ইনকিলাবের উঠোনে বসবো
পড়বো বাংলাদেশী মন মানস আর
গাইবো বিপ্লবের হামদ
নতুন দিনের কাওয়ালী


কথা ছিল আমাদের মনগুলো হবে সীসা ঢালা প্রাচীর
কথা ছিল আমাদের বুঝগুলো শত্রুর সাথেও
ইনসাফের
কথা ছিল বাঙালিয়ানার এলিট গ্লাস সিলিং ভেঙে আমরা উদ্ধার করে আনবো
বাংলাদেশী হেরিটেজের তেরশত নীল পদ্ম
বাংলাদেশ কে বলবো,
আর কেঁদো না, মা, আগুনের দিন শেষ হয়েছে।


হে কাপুরুষ আততায়ী!
হে বিভৎস শয়তান!
আজ তুমি লুকিয়ে আছো কেন?
লজ্জা হয় না
যুদ্ধের ময়দান হতে পালিয়ে গিয়ে?
আমাদের রাজপথের সত্যস্বপ্ন ভেঙে দিয়ে তুমি হেজেমনির গুহায় লুকিয়ে থাকতে?
যদি সাহস থাকে,
কাবীলের মতো অবগুণ্ঠন উন্মোচিত কর।
সম্মুখ শত্রুর মতো শিনা টান করে
আমাদের সামনে এসে দাঁড়াও
বল, কৈফিয়ত দাও,
কেন ওসমানের শির তোমার প্রিয় পুরস্কার?
কেন ওসমানের রক্তে তোমার এত তৃষ্ণা?
কেন ওসমানের মস্তিষ্ক তোমার প্রিয় ভোজ?


আমাদের সম্মুখ সমরে দেখা হবার পর
জনতার আদালতে জবানবন্দির পর
আত্মগ্লানি আর আত্মসমর্পণের পর
অন্যায় হত্যার ন্যায় বিচারের পর


আমি কবিতা লিখবো
বাংলাদেশের আপামর জনসাধারণ কবিতা লিখবে
আমাদের
প্রতিটি কবিতার নাম হবে ওসমান হাদী
প্রতিটি ছন্দের নাম হবে ইনসাফ
প্রতিটি শব্দের নাম হবে ইনকিলাব


কারণ
ওসমান হাদী মানেই ইনসাফ
ওসমান হাদী মানেই আজাদী
একঝাঁক পায়রার খোলা আসমানে ওড়াওড়ি
মেঠো পথ মুক্ত বিহঙ্গ বাংলাদেশ।‌


এর আগ পর্যন্ত যা কিছু আমরা বলবো
সবকিছু গদ্য
বিরস কর্কশ সোজাসুজি

আমরা
সান্তনা শুনতে আসিনি

বিচার চাইতে এসেছি
বিচার চাইতে এসেছি
বিচার চাইতে এসেছি

ন্যায় বিচার
—×—
উম্মে সালমা, ২/৩/২০২৬, টুঅং

সিজদায় মোনাজাতে, Poems

অভীক্ষন দিনের কবিতা

নিভু নিভু আলো
দুচোখের কতিপয়
অশ্রু ঝরালো

মিট মিট দীপ
মিস করালো
কয়খান হার্টবিট

এই সময়ে

কেন বেঁচে আছি এই অংক
ফলাফল যেন শূন্য
যখন শিশুর বিদ্যালয় হয়
ছাইপোড়া জনারন্য

বিজ্ঞান বিশ্ব দৌড়ে যায়
বাংলাদেশ প্রিয় মুখখানা
বারবার বারবার পেছায়

হেলিকপ্টার উড়তে উড়তে
যুদ্ধবিমান পড়তে পড়তে
কচি কচি রুহ নিয়ে যায়

ভালো লাগে না
ভালো লাগে না

এই সময়ে
তাই সকাল থেকে সন্ধ্যা
শুধু মনে হয়

সবখানে যেন
নিভু নিভু আলো

এই কষ্ট
দুচোখের অজস্র
কান্না ঝরালো

নৈতিক দর্শনার্থী হয়ে
প্রার্থনায় নত করে
প্রশ্ন করালো

কে জ্বালবে অন্ধকার দেশে
স্বাভাবিক মৃত্যুর আলো?
স্বাভাবিক জীবনের আলো?
কে করবে এই দেশটার অসম্ভব ভালো?

উম্মে সালমা, টুঅং, ২৩/০৭/২০২৫

সিজদায় মোনাজাতে, Poems

প্রজন্মান্তরে ফেব্রুয়ারি ২১

আজ
আমি
সময়ের নদী তীরে
একটুকু থামি

হিরোডাটাস
বলেছিলো
একজনো
পা দিতে পারে না
একি স্রোতে কখনো

বললে বলুক
তাকে পেরিয়ে আজ
আমাদের যাত্রা চলুক
প্রজন্ম থেকে প্রজন্ম জানুক

কিছু সময় হয় সময়াতীত
কিছু অতীত হয় বর্তমান
তারপর
তাদের পাশাপাশি রেখে
বুনতে হয় ঐতিহ্যের নিশান

তাই

আজ
আমি
অতীতের এখন স্রোতে
একটুকু থামি

একটি জাতি হয় দূর্বিনীত
ভাষা বৈষম্যের রাজনীতিতে
তারপর
জড়ায় দেহে তার রক্ত কাফন
হিম হয়ে অবিচারে মৃত্যুর শীতে

জীবনের সোনাঝরা গর্তে ঢুকেনি
হিসেবের খাতা ছিল শূন্য
কি পেলো কি পাবে গুণতে চায়নি
বিলালো জীবন, কি অনন্য!

আজ

আমি
তাই
পরের প্রজন্ম
বেশ একটা থমকে দাঁড়াই

কিছু নাম লিখে রাখি
অনামিকা বুকে আঁকি
প্রাণপণে দোয়া করি
এই অতীত কভু যেন
না ভুলে যাই
অতীতকে না বানাই
নীতিহীন রাজনীতির
একচুলো ছাই

আজ

আমি তাই
উঠে দাঁড়াই
৫২, ৭১, ৯০, ২৪
নামের ফলক টানাই
সবুজ সততা আর ভীষণ সাম্যের
প্রিয় একখান পতাকা ওড়াই

শিরা টান করে বলি
এই আমি এই বাংলাদেশ
আমার শরীরে কত রক্তান্জলি
দিয়ে গেছে মজলুম
জুলুমের প্রতিবাদে
অহরাত্র জেগে থাকা পাখপাখালি


এই দেখ
আমার ব-দ্বীপ শরীরে
প্রতিবাদী পদ্মা সাহসী যমুনা
অহর্নিশ কেমন প্রাগৈতিহাসিক
বয়ে বয়ে চলে তার নমুনা

স্রোতস্বিনী সময়কে ধরে রাখে বুকে
তরঙিত করে কিছু ইতিহাস
প্রিয় কত নাম বারবার ভাসে
মৃত্যুর জলে যারা সাদা রাজহাঁস ।‌

উম্মে সালমা
২১/০২/২০২৫, টুঅং

সিজদায় মোনাজাতে, Poems

যুদ্ধ শেষ হলে সবাই বাড়ি ফিরতে পারে না


যুদ্ধ শেষ হলে সবাই বাড়ি ফিরতে পারে না
যুদ্ধ শেষ হলে একটা লাগেজ গুছিয়ে একদিন সকালে বলা যায় না, আমি আসছি।
যাপন করে আসা জীবন প্লাষ্টিকের গ্লাসের মতো বিনে ফেলে দেয়া যায় না
অনলাইন খুঁজে খুঁজে সবচেয়ে সস্তা টিকিট কিনে
বিমানের ফ্লাইট ধরার জন্য
উবার কল করা যায় না
মেয়েকে বলা যায় না তুই থাক আমি যাচ্ছি
সঙ্গীকে বোঝানো যায় না দেশ আমায় ডাকছে
লাইভে হাসতে হাসতে বলা যায় না
ভ্রাতা ভগিণীগণ মহোদয় মহোদয়া
দেশের মাটিতে দেখা হচ্ছে খুব শিগগিরই

যুদ্ধ শেষ হলে সব যোদ্ধা ঘরে ফিরতে পারে না
সব যোদ্ধা  লজ্জা শরমের মাথা খেয়ে বলতে পারে না
যুদ্ধ করতে করতে ক্লান্ত আমি
বলতে পারে না টিউব ওয়েলের  ঠান্ডা এক কোট্টা পানি খাব দেশে গিয়ে
বলতে পারা যায় না
ভাইগণ বন্ধুগণ, আমি অধিকারের ফেরী ওয়ালা
আপনাদের কাছে বেচবো ন্যায়ের গান
দেশমাতৃকার উনুনে রাঁধা হবে যে এক ঢেগ ভাত আর ইলিশের দোপেঁয়াজা
সেটা আমরা ভায়ে ভায়ে বোনে বোনে ভাগ করে খাবো

যুদ্ধ যখন শুরু হলো
যখন স্বৈরাচার দুরারোগ্য ব্যাধির মতো
ছড়িয়ে পড়েছিল বডিপলিটিকে
মা বলেছিলো
দেখিস একদিন এই ব্যাধি সেরে যাবে
বাবারা গুম হতে ফিরে আসবে
ভাইয়েরা সল্টেড বিস্কুট হাতে নিয়ে কলিং বেল বাজাবে
স্বামীরা ঘরে ঢুকে ত্রস্ত বিতস্র হয়ে বলে উঠবে
এই বাজারের থলে দাও কতদিন বাজার করিনা
তুই ছুটতে ছুটতে ব্যাংকে যাবি হাত খালি
আমি জায়নামাজ বসে দোয়া করতে করতে বলতে থাকবো
ফাবিআইয়ি আ'লা ই রব্বি কুমা তুকাজ্জিবান...

মা, পাশের বাড়ির কমল কি বাড়ি ফিরতে পেরেছিল? যে যুদ্ধে যেতে যেতে সীমানা পেরিয়ে পরে ডিজিটাল অস্তিত্ব হয়ে গেল
মাথার উপর হুলিয়া নিয়ে প্রতিদিন হাজির হতো মুসাফিরের মতো
প্রতিদিন ভাইয়া সবাইকে চুপ করিয়ে দিতো তার কবিতাময় যুদ্ধ শুনবে বলে?

মাগো, জরিনাপুরের সুমন কি বাড়ি ফিরতে পেরেছিল? ঐ যে সে যে যুদ্ধে গেল বলে
সাদাপোশাকে একদল মানুষ তার বোনকে ধরে নিয়ে গিয়েছিল পুলিশ রিমান্ড চেয়েছিল
তার ঘর তছনছ করে দিয়ে ছিলো

মা ও মা ঐ যে উওর পাড়ার উকিল ছেলেটা
মনে আছে ? সে কি বাড়ি ফিরতে পেরেছিল ?
যুদ্ধে নামবে বলে নিয়ত করাতেই
ওরা ওকে একদিন কোথায় যেন নিয়ে গিয়েছিল আর ওর স্ত্রী কাঁদতে কাঁদতে বলেছিলো
অন্ততপক্ষে আমাকে ওর লাশ দাও। আমি দাফন করি।

যুদ্ধ শেষ হলে সবাই বাড়ি ফিরতে পারে না
সিস্টেম চুরমার করে দিতে পারে না
আমলাতন্ত্র ধোয়া তুলসী পাতা হয় না
সংবিধানের চোখে চোখ রেখে বলা যায় না
তোর সাথে ছাড়াছাড়ি
কোকিল কে বলা যায় না কাকের ঘরে ডিম পাড়িস ক্যান
রাঘব বোয়ালদের বলা যায় না তোর হা এত বড় কেন
শিং মাগুর কে বলা যায় না আঙি দিস কেন
ছুরি কে বলা যায় না কাটিস না
আগুন কে বলা যায় না জ্বালাস না
কালো কে বলা যায় না
বহুত হয়েছে বাপ এবার সাদা হ!

যুদ্ধ শেষ হলে বাড়ি ফেরা যায় না
যুদ্ধ শেষ হলে শুধু আরেকটি যুদ্ধ শুরু হয়....

উম্মে সালমা
২/১১/২০২৪

সিজদায় মোনাজাতে, Poems

তাঁর জন্য অনুরণন

Continue reading “তাঁর জন্য অনুরণন”