Poems

শব্দগুলো হারিয়ে গেছে

শব্দগুলো হারিয়ে গেছে
কষ্ট নামক মেলায়
রঙিন ফিতে মিষ্টি ঝুটি
নাগরদোলা খেলায়

তোমরা তারে দেখলে কোথাও
নিয়ে এসো বাড়ি
আমার দুয়ার দখিন খোলা
সুখের সাথে আড়ি।

শব্দ সাথী
শব্দ সাথী
কোথায় আছো তুমি
জোনাক বাতি
জোনাক বাতি
জ্বালছে বনভূমি।

কষ্ট নামক মেলায় যদি
এমন হয়ে যায়
শব্দ কেন পড়লো ভেসে
দুখু কবির পায়?

উম্মে সালমা, ১৬/০৪/২০২৫

Poems

হে আল্লাহ্‌ মন ভালো নেই

মন ভালো নেই
শরীরো
ওদের কি আর দোষ দেবো
ভেতরে জমে থাকা অজস্র দুঃখ
কটকটির মতো শক্ত হয়ে উঠেছে
ভালোবাসার কোন উত্তাপ তাকে গলাতে পারেনি।

মন ভালো নেই
ঈদ এসেছে
মন ভালো নেই
সবাই ঘর গুছাচ্ছে
মন ভালো নেই
সবাই বেড়াতে যাচ্ছে
মন ভালো নেই
সবাই ছুটি কাটাচ্ছে
রক্ত কমে যাচ্ছে
হিমোগ্লোবিন আর অক্সিজেন নিয়ে ঘুরতে পারছে না শরীরে
মাথা ঘুরছে চারপাশ ঝিম ঝিম ঝিম
যেন চবির শাটল ট্রেন আমার পাশ দিয়ে চলে গেল

আমাকে পরিত্রাণ দাও হে আল্লাহ্‌
আমার মন ভালো করে দাও
আমার চোখের ভেতর অপার্থিব আলো জ্বেলে মন খারাপের নর্দমায় বৃষ্টি ঢেলে দাও
এক মুষুলধারের বৃষ্টি সবকিছু ধুয়ে মুছে সাফ করে দিক!
নিদারুণ রহমতের বৃষ্টি।

উম্মে সালমা
৬/৬/২০২৫

Poems

ভুলে গিয়ে ভালো থাকা

তোমার জন্য আমার ফটো এ্যলবাম
আলমারির এক তাকে
এবং
ফেসবুকের এক কোণে
আপলোড করে রেখেছি
যদি কখনো সময় হয় একটু ঘুরে এসো
আমার শেলফ
আমার ওয়াল
দেখে এসো
তুমি যে বার বার বলো,
“না, মনে নেই”
“সব ভুলে গেছি”
“আমার এত কিছু মনে থাকেনা”
সেটা আমার হৃদয়ে কতটুকু রক্তক্ষরণ করে
কতটুকু কান্না বিলাসী ভোমরার মতো উড়ে বেড়ায় চোখের অরণ্যে।

মানুষের জীবনে বর্তমান টা আর কতটুকু ই বা স্থায়ী!
সকালের স্বাদ কি তরতরিয়ে
দুপুরের তিক্ততা
বিকেলের ব্যস্ততা
আর রাত্তির মৌনতায় ডুবে যায় না?
একমুঠো নীলাকাশ কি এক লহমায়
একটি রংধনু হয়ে ওঠে না?
একটি সুশান্ত সাগর মূহুর্তেই কি অশান্ত হয়ে সব তছনছ করে দেয় না?

তাহলে?
তাহলে যা নিয়ে আমরা বাঁচি
তা কি বর্তমান?
নাকি তার নাম অতীত
প্রতিমুহূর্তে যার জন্ম প্রতি মূহুর্তে যার জমা জমায়েত স্মৃতি নামক এক দুঃসহ এ্যলবামে

স্মৃতি: কোথায় থাকে এই এলবাম?
কালবে? না মস্তিষ্কে?
আবেগে না যুক্তিতে?

স্মৃতি: কোথায় থাকে এই স্টোরেজ?
মনে না মননে
দৃষ্টিতে না দর্শনে?

আমি বুঝতে পারি না
আর এই না বুঝতে বুঝতে আর্তনাদ করি
তোমার ভুলে যাওয়ার মতো করে
আমি ভুলতে পারিনা কেন?
কেন আমার অশরীরের কোন খাঁজে ছোট ছোট ফাইল হয়ে জমে ওঠে
দিনযাপনের দিনগুলি

কেন আমি গেয়ে উঠি
দিনগুলি মোর সোনার খাঁচায় রইল না
কিংবা
জীবনের সোনাঝরা দিন গুলো হায় শীতের পাতার মতো ঝরে যায়
কেন আমি মোবাইলে ফেসবুকে অবিরত খুলতে থাকি স্মৃতির খাতা?

আর এইভাবে কি শিখা যায়?
কিভাবে ভুলে গিয়ে ভালো থাকা যায়
কিভাবে ভুলে গেলে জীবন স্বাভাবিক লাগে
কিভাবে মানুষ বরফের মতো বর্তমানে
হেসে খেলে বেঁচে থাকে!

উম্মে সালমা, ১১/০৬/২০২৫, টুঅং

Poems

তোমার চোখ যেন প্রতিদিনের কবিতা


তোমার চোখ যেন
প্রতিদিনের কবিতা
আমি পাঠ করি প্রতিদিন সকালে
যেমন আমার দাদা পাঠ করতেন:
সকালে উঠিয়া আমি মনে মনে বলি
সারাদিন আমি যেন ভাল হয়ে চলি

অথচ আমাদের পাঠশালার পাঠে কত ফারাক
দাদুর কবিতা দাদুকে ভরিয়ে তুলতো জীবনবোধে
আমার কবিতা আমাকে ভরিয়ে তুলে প্রশ্নবোধে

আর এভাবেই বুঝতে পারি
ভুল ভালোবাসা ভুল সম্পর্ক
ভুল জীবনদর্শনের জন্ম দেয়
ভুল পথে পরিচালিত করে।

উম্মে সালমা,২৬/০৬/২০২৫

সিজদায় মোনাজাতে, Poems

প্রজন্মান্তরে ফেব্রুয়ারি ২১

আজ
আমি
সময়ের নদী তীরে
একটুকু থামি

হিরোডাটাস
বলেছিলো
একজনো
পা দিতে পারে না
একি স্রোতে কখনো

বললে বলুক
তাকে পেরিয়ে আজ
আমাদের যাত্রা চলুক
প্রজন্ম থেকে প্রজন্ম জানুক

কিছু সময় হয় সময়াতীত
কিছু অতীত হয় বর্তমান
তারপর
তাদের পাশাপাশি রেখে
বুনতে হয় ঐতিহ্যের নিশান

তাই

আজ
আমি
অতীতের এখন স্রোতে
একটুকু থামি

একটি জাতি হয় দূর্বিনীত
ভাষা বৈষম্যের রাজনীতিতে
তারপর
জড়ায় দেহে তার রক্ত কাফন
হিম হয়ে অবিচারে মৃত্যুর শীতে

জীবনের সোনাঝরা গর্তে ঢুকেনি
হিসেবের খাতা ছিল শূন্য
কি পেলো কি পাবে গুণতে চায়নি
বিলালো জীবন, কি অনন্য!

আজ

আমি
তাই
পরের প্রজন্ম
বেশ একটা থমকে দাঁড়াই

কিছু নাম লিখে রাখি
অনামিকা বুকে আঁকি
প্রাণপণে দোয়া করি
এই অতীত কভু যেন
না ভুলে যাই
অতীতকে না বানাই
নীতিহীন রাজনীতির
একচুলো ছাই

আজ

আমি তাই
উঠে দাঁড়াই
৫২, ৭১, ৯০, ২৪
নামের ফলক টানাই
সবুজ সততা আর ভীষণ সাম্যের
প্রিয় একখান পতাকা ওড়াই

শিরা টান করে বলি
এই আমি এই বাংলাদেশ
আমার শরীরে কত রক্তান্জলি
দিয়ে গেছে মজলুম
জুলুমের প্রতিবাদে
অহরাত্র জেগে থাকা পাখপাখালি


এই দেখ
আমার ব-দ্বীপ শরীরে
প্রতিবাদী পদ্মা সাহসী যমুনা
অহর্নিশ কেমন প্রাগৈতিহাসিক
বয়ে বয়ে চলে তার নমুনা

স্রোতস্বিনী সময়কে ধরে রাখে বুকে
তরঙিত করে কিছু ইতিহাস
প্রিয় কত নাম বারবার ভাসে
মৃত্যুর জলে যারা সাদা রাজহাঁস ।‌

উম্মে সালমা
২১/০২/২০২৫, টুঅং

Poems

যে আমি বাংলাদেশ

আমি তোমাকে মন প্রাণ
আর বিশ্বাস দিয়েছিলাম
তুমি তাদের আহত করেছো
বিলাপ হয়েছে তার নাম।

যে শব্দ যে গোপনীয়তা
আমাদের ছিল
তাকে দিয়েছো খুলে
আমার সম্মান হানির
চাবির গোছা
প্রতিবেশীর অঞ্চলে
দিলে তুলে?

বুকের ভেতর যে ব্যথা
কোন ওষুধ তাকে
সারাতে পারে না
চোখের ভেতর যে জল
কোন রুমাল তাকে
সরাতে পারে না

ঠকে গেছি ভালোবেসে
কাছে এসে কাছে এসে
মরে গেছি ভালোবেসে
কাছে ঘেঁষে কাছে ঘেঁষে

কাবিনের কারুকাজে
বৌ সাজে আমি সেজে
যে ঘরে এসেছি
সে ঘরে এক শয়তান
সাদা মতো মুখখান
ডেকে এনেছি

তারপরের গল্প বেহুদা বলা
অন্যের ধনে যার চোখ
সাদাসিধে বেহুলা বোঝেনা
তার নিখুঁত ছলাকলা।

তোমাকে দিয়েছিলাম আমি
আমাকে আমার মানচিত্র
বলেছিলাম দূর্বল হইয়ো না প্রিয়
সাহসে সীমান্ত পাহারা দিও।‌

সীমান্ত দিয়েছো খুলে জলঢাকা
মানচিত্রের মুখ
প্রিয় তুমি অপরূপ বিশ্বাসঘাতক
তার বিচার চলুক…

উম্মে সালমা
২/২/২০২৫

Poems

আমার মুরুব্বীরা আমাকে নিয়ে যুদ্ধ করছে

আমার মুরুব্বীরা যুদ্ধে লিপ্ত, বাক আর সবাক যুদ্ধে
আমাকে নিয়ে
ক্ষণে ক্ষণে হুংকার ছাড়ছে রক্ত চোখে হুমকি দিচ্ছে একে অন্যকে
আমাকে নিয়ে
বিলিয়ে যাচ্ছে সর্বত্র আঞ্চলিক এবং বাংলিশ ভাষায় পচা-পাপড়ি
এই আমাকেই নিয়ে

আমি চুপচাপ বসে আছি
দুলছি সহায় অসহায়ত্তের দোলাচলে
দেখছি যা দেখার কথা নয়
শুনছি যা শোনার কথা নয়

একদল আমাকে ডাকল এবং যমুনার কাছে নিয়ে গেলো
স্রোতসিনী যমুনায় ভাসিয়ে দিলো কারুকার্যখচিত নৌকা
বলল নৌকার প্রয়োজনীয়তার কথা এই নদীমাতৃক বদ্বীপে

অন্যদল আমাকে নিয়ে গেল আবারিত ক্ষেতের ধারে
যেখানে তরঙ্গায়িত ধানের শীষ বাজিয়ে চলল নুপুরের সুর
যেখানে ধান ধান-ভানা খোরাকের কত কৃষক দিন আমলিন

আরেকদল আমাকে নিয়ে গেলো এক মুদি দোকানে
দাঁড়িপাল্লা আর বাটখারার বাটোয়ারায় ক্রেতাদের ভীড়ে
শোনালো ন্যায়বিচার আর অন্যায় পথের পরিক্রমা কেমন

"চলে এসো এ পথে"
একসাথে সবাই ছুঁড়ে দিলো একি আহবান

আমি পারলাম না
আমি কিছুই পারলাম না রক্ত বিভেদ আর হানাহানির ইতিহাসে
শুধু অনুনয় করে বললাম
"আমাকে সার্থক সাংস্কৃতিক সিন্থেসিস দিন
আমি থাকবো দুধে ভাতে।"

উম্মে সালমা
২০১৩ ফেব্রুয়ারি
[শাহবাগ বিভেদের সময় লেখা]
Poems

রাইটার্স ব্লক ২

“কাঁঠালিচাঁপা ফুটলে তোমারে খবর দেবো”… “ফোনে”
বলে সেই যে কবিতা চলে গেছে আর আসেনি
আমিও পথ চেয়ে থাকিনি
এনালগ ডিজিটাল এবং মোবাইল অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে
পার করে দিয়েছি বাইশ তেইশ পঁচিশ ছাব্বিশ …
কবিতা খবর দেয়নি
না এন্টিক মিডিয়া চিঠিতে
না ডিজিটাল ডিজুস ফোনে

কবিতার কথা মনে পড়েছে ডান আর ভন এর
মেটাফিসিকাল মোহগ্রস্ততায়
মনে পড়েছে পোপ, মাথু, আর ইয়েটসের পেলবতায়
-কবিতা তুমি চলে গেলে কেন?
-কবিতা,কাঁঠালিচাঁপা কি এখনো ফুটেনি?
-কবিতা, আর যোগাযোগ করনি কেন?

কান্নার হিক্কা চেপে ঘুরে এসেছি চট্টগ্রাম দক্ষিণ
ঘুরে এসেছি উত্তরের বিদ্যাপীঠ
মহাসড়কে অলি গলিতে যেখানে মানুষ দেখেছি
সেখানেই সারসের মত গলা বাড়িয়ে দেখেছি
কবিতা কি কমলা বুয়ার মতো ময়লা থালাবাটি নিয়ে
কামের বাসার দিকে ছুটছে কিনা
অথবা আমেনার মতো রংচঙা সালোয়ার কামিজ পরে
কাঁধে বাগ চাপিয়ে হাতে টিফিন বক্স নিয়ে
সে সাত সকালে যাচ্ছে কিনা গার্মেন্টসের দিকে

বরফ সময় আসর সময় গলে গলে গেলো
কত কামরাঙা ফুল বাজারে এলো
কত কচুপাতা শোপিজ হলো
কত কাঁঠালিচাঁপা ড্রইংরুমে শোভা পেলো
কবিতার দেখা মিললো না

কবিতা তো সাত সকালে ঊর্ধ্বশ্বাসে ছোটা
কমলা খাতুন আর আমেনা বেগম
এই সব নতুন রুপকল্প আমার বলা হল না ।

ঊম্মে সালমা, মূল রচনাকালঃ ২৬/০৮/২০০৪, পরিমার্জিতঃ ১৬/১২/২০২৪

oplus_32
Uncategorized

রাইটার্স ব্লক

আমাকে কবিতার কথা বলোনা, আমি বেচাইন হয়ে যাই
আমাকে কবিতা পড়তে বলোনা, আমি উচাটন হয়ে যাই
কবিতার পাপড়ি-ঝরা সৌরভে আমি মুখরিত
ছিলাম
একদিন
আর
আজ?
কবিতার পাপড়ি-পচা দুর্গন্ধে আমি জর্জরিত
আমি কি পচে গেছি
তাই
কবিতারা পচে গেছে
আমার?

কত কত দিন গেলো কেউ দ্বার ধরে হাসলো না
কেউ না- না রাত্রির চাঁদ না ভোরের রশ্মি
না মেঘের কচড়া না নিঃসীম নীপবন

আমি আর লিখতে পারিনা
আমার নার্ভগুলো যেন মরা জমি
সৃষ্টির যে মহানুভব নিষেক
সেটা আমার গর্ভের কোথাও নেই
ব্যথাগুলো গলা পর্যন্ত ঠাসা
আর কলমে ছাতা

আমি কাত হয়ে গেছি, উপুড় হয়ে গেছি
সাইক্লোন কবলিত এক বৃক্ষের মতো
এরপর আমাকে পদদলিত করে গেছে এবং যাচ্ছে
না-লেখা
কত কত দিন কত কত বছর

কবি এখন কাঁদবে
তোমরা এখন সবাই চলে যাও। যাও!

উম্মে সালমা
original writing time: ২০০৩, নাইট
[slightly edited in 2024]

oplus_32
Poems

হিসাব নিকাশের কাঠগড়ায়

পবিত্রতার আলো দিয়ে গড়িয়ে দিলাম তোকে 
অন্ধকারে ডাকতে চায় কোন সে
ভদ্দরলোকে?
রুপ যা আছে নষ্ট আর নষ্টামীতে ভরা
লোভ দেখিয়ে ঘরে আনে
প্রেম খেলার এক জ্বরা
উপর থেকে নীচতক বড্ড ভীষণ ক্ষুধা
সমাজ সংসার খেয়ে নেবে সাথে বসুন্ধরা

আর ওদিকে একটি দল এমন এমনতরো
সব দিয়ে দেয় নেক কাজে
দিতে চায় আরো
খুলবে যখন কাঠগড়া দাঁড়াবো যখন গিয়ে
বলবো প্রভু যে কেড়েছে আমার পৃথি
রঙিন রুপ দিয়ে
ফিরিয়ে দাও ওসব কিছু আমার সকল দেনা
বুঝুক আজ পঁচা মাংসের স্বাদ কেমন চেনা!

উম্মে সালমা
18 November 2024